সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড – খরচ, থাকা, খাওয়া, যাতায়াত বিস্তারিত

কক্সবাজারে সুগন্ধা, লাবনী, কলাতলী বিচের বালুময় অস্বচ্ছ পানি দেখে অনেকে নীল পানির খোঁজে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে আসে। কেউবা আসে দেশের সর্ব দক্ষিনের শেষ প্রবালটিতে বসে ছবি তুলতে, সমুদ্রের গর্জন শুনতে। কেউ আসে নদী-সাগর পেরিয়ে দ্বীপটিতে কি রহস্য আছে তার সন্ধান করতে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের বিস্তারিত সব তথ্য আজ আমরা এই পোস্ট থেকে জেনে নিবো।

  • কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর
  • ভ্রমণ প্ল্যান
    • দিনে দিনে ঘুরে আসা
    • এক বা একাধিক রাত থাকা
  • যাওয়ার উপায়
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন
    • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন
    • চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন
  • পরিবহন ব্যবস্থা
    • বাস
      • ঢাকা থেকে টেকনাফ
      • চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ
      • কক্সবাজার থেকে টেকনাফ
      • বাস সম্পর্কিত তথ্য
    • জাহাজ
      • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন
      • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন
      • চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন
      • জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য
  • হোটেল ও রিসোর্ট
  • খাবার
    • খরচ
    • খাবার সম্পর্কিত পরামর্শ
  • দ্বীপের দর্শনীয় স্থান
  • দ্বীপে যা যা করা যায়
  • ছেঁড়াদ্বীপ
    • যাওয়ার উপায়
    • পায়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ
  • ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ

কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর

  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময় কখন?
    • নভেম্বের থেকে মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়। তখন টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল করে। এছাড়া সারাবছরই লোকাল ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়।
  • সেন্টমার্টিনে কি আগে থেকে হোটেল বুকিং করে যেতে হয়?
    • টানা বন্ধের দিন এবং শুক্র-শনিবার ছাড়া আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। তবে ভালো রিসোর্টগুলোতে থাকতে চাইলে বুকিং করা যাওয়াটাই শ্রেয়। পরিবার বা বড় গ্রুপ নিয়ে গেলে অবশ্যই আগে বুকিং করে যাবেন।
  • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়?
    • কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এবং বে-ওয়ান দুইটি জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করে। এছাড়া বাসে টেকনাফ এসে এরপর জাহাজে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়।

ভ্রমণ প্ল্যান

দিনে দিনে ঘুরে আসা

  • টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন নামবেন আনুমানিক ১২.৩০ টার দিকে।
  • যেহেতু আপনি বিকালের জাহাজে চলে যাবেন তাই সময় নষ্ট না করে জেটি থেকে নেমে ডান পাশের বিচ ধরে হাঁটা শুরু করুন অথবা অটো নিয়ে প্রিন্স হ্যাভেন হোটেলে চলে যান।
  • গোসল করবেন প্রিন্স হ্যাভেন বা ব্লু মেরিন হোটেলের সামনের বিচে।
  • এইদিকে সমুদ্রে ঢেউ তুলনামূলক বেশি থাকে তাই এখানে গোসল করে মজা।
  • গোসল করতে না চাইলে একটা ভ্যান রিজার্ভ নিয়ে নিন।
  • ভ্যানে করে পুরো দ্বীপ ঘুরবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই পশ্চিম বিচে যাবেন।
  • চাইলে হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাস ঘুরে আসতে পারেন।

মনে রাখবেন,

যাই করেন না কেনো ২টার মধ্যে করতে হবে। এরপর খাওয়া-দাওয়া করে জাহাজে উঠবেন। জাহাজ ঠিক ৩টার সময় ছেড়ে দেয় তাই দেরি করলে বিপদে পড়বেন। এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এক বা অধিক রাত থাকা

টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন নামবেন। যেহেতু আপনি এক বা একাধিক রাত থাকবেন আপনার তাড়াহুড়া নেই। প্রথমে হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন। এরপর গোসল করতে সমুদ্রে নেমে পড়ুন। বিকালে ছেঁড়াদ্বীপ চলে যেতে পারেন তাহলে সূযার্স্ত দেখে আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন ৪টার মধ্যে রওনা দিতে। রাতে জেটিঘাটে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনুন। পরদিন সকালে খুব ভোরে বের হয়ে পশ্চিম বিচ ধরে হাঁটতে থাকুন। যত দূর যাবেন ততই নানা সৌন্দর্য দেখা দিবে। সাইকেল নিয়েও ঘুরতে পারেন। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে ৩ টার জাহাজে উঠে পড়ুন।

প্রথমদিন ছেঁড়াদ্বীপ যেতে না চাইলে দ্বিতীয় দিন খুব সকালে সূর্যোদয়ের পর পর চলে যাবেন। তাহলে ঘুরে মজা পাবেন। রোদের তেজ বেড়ে গেলে ঘুরে মজা পাওয়া যায় না।

টিপসঃ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ভীড় থেকে বাঁচতে জাহাজে ২টা ১০ এর মধ্যে উঠে পড়বেন। নাহলে দীর্ঘ সময় লাইন দিয়ে জাহাজে উঠতে হবে।

সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার ট্যুর প্যাকেজ এবং সকল ধরনের সার্ভিস আমি দিয়ে থাকি। ফ্যামিলি, কর্পোরেট, বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ প্যাকেজের জন্য ফেসবুক অথবা সরাসরি ম্যাসেঞ্জারে নক দিতে পারেন অথবা ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে।

ফেসবুকে যোগাযোগ করতে ক্লিক করুন

ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে নক দিন

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। টেকনাফ থেকে জাহাজ মার্চ মাস পর্যন্ত চালু থাকলেও তখন গরম পড়ে যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়। এছাড়া ট্রলারে করে সারাবছরই টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ সার্ভিস চালু হওয়ায় সারা বছরই সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে।

কয়েকভাবে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। কেউ শুধু সেন্টমার্টিন যায়, কেউ সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার দুই জায়গাতে ঘুরতে যায়। সবগুলো উপায়ই বলছি।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০ টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনে যতদিন ইচ্ছা থেকে অথবা দিনে দিনেই বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাস/রিজার্ভ মাইক্রোতে করে কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে খুব ভোরে টেকনাফের বাস, রিজার্ভ মাইক্রো/জীপে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০টার বাসে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে চড়ে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে নিজ নিজ বাসস্থান।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন

কক্সবাজার থেকে বর্তমানে সেন্টমার্টিনের শীপ চালু রয়েছে। তাই টেকনাফ হয়ে জাহাজ না উঠে সরাসরি কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজে উঠতে পারবেন। বর্তমানে কর্ণফুলী শীপ নিয়মিত কক্সবাজার জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন চলাচল করছে।

চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন

চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস, দামপাড়া থেকে কিছু বাস রাত ১২/১ টায় চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া এখন বে-ওয়ান জাহাজে করে সরাসরি চট্রগাম থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ বা কক্সবাজার হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ঢাকা থেকে টেকনাফের বাস

হানিফ, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সেন্টমার্টিন ট্রাভলস, গ্রীন সেন্টমার্টিন, রিলাক্স সহ আরো বেশ কিছু বাস।

বাস ভাড়া

  • নন-এসিঃ ৯০০
  • নন-এসিঃ ১০০০ (শ্যামলী বিজনেস ক্লাস)
  • নন-এসিঃ ১১০০ (সেন্টমার্টিন পরিবহন বিজনেস ক্লাস)
  • এসিঃ ১২০০-১৬০০ টাকা (ইকোনমি ক্লাস)
  • এসিঃ ১৮৫০ টাকা (রিলাক্স বিজনেস ক্লাস)
  • গ্রিনলাইন এসিঃ ২০০০ টাকা (বিজনেস ক্লাস)

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া

জাহাজের নামনিচতলাদোতলাবিজনেস ক্লাস
কেয়ারী সিন্দাবাদ৭০০/-৮০০/-৯০০/-
এমভি ফারহান৯০০/-১০০০/-১২০০/-
কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন১০০০/-১০০০/-১৪০০/-
বে ক্রুজ১৩০০/-১৪০০/-১৬০০/-
আটলান্টিক ক্রুজ
(এলসিটি কুতুবদিয়া)
৯০০/-১০০০/-১২০০/-
১৫০০/-
গ্রীন লাইন১৬০০/-২০০০/-
টিকেট কিনতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে

জাহাজ টিকেট বুকিং

যেকোন জাহাজের টিকেট আমার কাছ থেকে নিতে পারবেন। ফোন করুন, 01831551904 নাম্বারে। টিকেট আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

জাহাজের টিকেট বুকিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া ও বুকিং পোস্টটি পড়ুন।

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • আমার ব্যক্তিগত পছন্দ কেয়ারী সিন্দাবাদ, এমভি ফারহানের ওপেন ডেক।
  • কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন, বে ক্রুজ, গ্রীন লাইন এসি জাহাজ।
  • কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন সবার পড়ে পৌছায়। এসিও ভালো না। অন্য জাহাজের টিকেট পেলে কখনো এটা নেওয়ার দরকার নেই।
  • ছুটি বা অতিরিক্ত ভীড়ের দিন ব্যতীত জাহাজের টিকেট ঘাটে গিয়েই নিতে পারবেন। ভীড়ের দিনে আগে থেকে টিকেট করে রাখতে হবে। নাহলে ঘাটে গিয়ে টিকেট নাও পেতে পারেন।
  • পরিবার না থাকলে জাহাজের স্ট্যান্ডিং টিকেটে সমস্যা হয় না। ২.৩০ ঘন্টার জার্নি নদী, সমুদ্র দেখতে দেখতে কেটে যায়। তবে পরিবার থাকলে অবশ্যই সিট আছে এমন টিকেট কাটবেন।
  • কেয়ারী সিন্দাবাদ ও এমভি ফারহান সিট নাম – মেইন ডেক, ওপেন ডেক, বিজনেস ডেক।
  • কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন সিট নাম – কোরাল লাউঞ্জ(নিচতলা), এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জ, পার্ল লাউঞ্জ।
  • বে ক্রুজ সিট নাম – রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, কৃষ্ণচূড়া।
  • দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ সিট নাম – ইকোনমি ডেক, ওপেন ডেক, রয়েল লাউঞ্জ, লাক্সারি লাউঞ্জ।

কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ ভাড়া

সিট নামভাড়া (আপ-ডাউন)
ইকোনমি ক্লাস চেয়ার
(Lavender/Marigold)
২২০০/-
বিজনেস ক্লাস চেয়ার
(Gladiolus)
২৭৫০/-
ওপেন ডেক চেয়ার
(Open Deck)
২৭৫০/-
লিলাক লাউঞ্জ
(Lilac Lounge)
২৭৫০/-
ভিআইপি/ক্রিসানথেমাম লাউঞ্জ
(Chrysanthemum Lounge)
৩৩০০/-
সিঙ্গেল কেবিন
(Single Cabin)
৫৫০০/-
টুইন কেবিন
(Twin Cabin)
৮৮০০/-
ভি আই পি কেবিন
(VIP Cabin)
১৬,৫০০/-
ভি ভি আই পি কেবিন
(VVIP Cabin)
২২,০০০/-
টিকেট কিনতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ক্রুজ শিপ কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া (এয়ারপোর্ট রোড) বি আই ডব্লিও টিএ ঘাট থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যায়।
  • কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল জোন থেকে নুনিয়ার ছড়া বিআইডব্লিউটিসি ঘাট দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। পৌঁছাতে মোটামুটি ৩০ মিনিট সময় লাগে।
  • সময় সুচী:
    • কক্সবাজার বি আই ডব্লিও টি এ ঘাট থেকে ছাড়ে সকাল ৭টায়। এই সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল। জোয়ারের সময়ের উপর নির্ভর করে ভোর ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে জাহাজ ছাড়ে।
    • সেন্টমারটিন থেকে ছাড়বে বিকাল ৩.৩০ মিনিটে।
    • উভয় দিক থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে আনুমানিক ৫ ঘন্টা (+/-)
  • কক্সবাজার থেকে যেদিন যাবেন তার আগের দিন ফোন করে জেনে নিবেন জাহাজ কয়টার সময় ছাড়বে।
  • সেন্টমার্টিন পৌঁছে জাহাজ জেটি ঘাট পর্যন্ত যেতে পারে না। ট্রলার দিয়ে জাহাজ থেকে মূল জেটি ঘাটে যাত্রী নেওয়া হয়।
  • সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সময় বিকালে মূল জেটি ঘাট থেকেই জাহাজে উঠা যায়।
  • সিঙ্গেল কেবিন ব্যতীত, প্রতিটি টুইন বেড, ভি আই পি ও ভি আই পি কেবিন দুই (২) জন এর জন্য প্রযোজ্য। অতিরিক্ত জনপ্রতি আলাদা টিকেট কেটে নিতে হবে।
  • ছোট বাচ্চা ৫ বছরের নিচে ফ্রি।
  • আপনার ফেরার (রিটার্ন) তারিখ টিকেট করার সময় উল্লেখ করতে হবে। মাহলে সিট পাবেন না।
  • প্রতিবার যাত্রায় এম ভি কর্নফুলী এক্সপ্রেস এর পক্ষ থেকে থাকছে হালকা স্ন্যাকস/ নাস্তা।
  • সমুদ্র যাত্রা পথে ছোট বাচ্চাদের সব সময় সাবধানে ও কাছে রাখুন।
  • নাস্তার খালি প্যাকেট, চিপস / জুস এর খালি প্যাকেট, কফি/ চা এর ওয়ান টাইপ কাপ সহ সকল ময়লা আবর্জনা পানিতে ও জাহাজের যেখানে সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন। প্রতিটি ফ্লোরেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন দেয়া আছে।
  • জাহাজের টিকেট কিনতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে। টিকেট আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম থেকে বে-ওয়ান জাহাজ ভাড়া

সিট নামভাড়া (আপ-ডাউন)ভাড়া
(চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন
ওয়ান ওয়ে)
The Ocean’s Heaven
(Only Night Stay)
ইকোনমি চেয়ার
(Deck E & Deck F –
1st and 2nd Floor)
৩৩০০/-২২০০/-
বিজনেস ক্লাস চেয়ার
(Deck D – 3rd Floor)
৪৪০০/-২৭৫০/-
বাংকার (১ জন)
Bunker Bed
(Deck C – 4th Floor)
৬৬০০/-৪৪০০/-৭৭০০/-
প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজ (২ জন)
(Presidential Suite)
(Deck B – 5th Floor)
৩৩,০০০/-
(Complementary
Breakfast & Dinner)
২২,০০০/-১৬,৫০০/-
রয়্যাল প্যাকেজ (২ জন)
(Royal Suite)
(Deck A – 6th Floor)
৪৯,৫০০/-
(Complementary
Breakfast & Dinner)
২৭,৫০০/-২২,০০০/-
ভিভিআইপি প্যাকেজ (২ জন)
(VVIP Cabin)
(Deck A – 6th Floor)
৫৫,০০০/-
(Complementary
Breakfast & Dinner)
৩৩,০০০/-২৭,৫০০/-
ফ্যামিলি কেবিন (৪ জন)
Special Class Bunker Bed
(Deck A – 6th Floor)
৫৫,০০০/-
(Complementary
Breakfast & Dinner)
৩৩,০০০/-২৭,৫০০/-
টিকেট কিনতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • এম ভি বে ওয়ান চট্টগ্রাম পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট, পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট নিকট থেকে ছাড়ে।
  • জাহাজটি প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে। সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৭ টায়। চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৮ ঘণ্টা।
  • সেন্টমার্টিন থেকে যাত্রা করবে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। চট্টগ্রাম পৌঁছাবে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। সেন্টমার্টিন থেকে চট্টগ্রাম ফেরার পথে সময় লাগবে প্রায় ৭ ঘণ্টা।
  • চট্টগ্রাম রাতে অবস্থান করবে প্রতি রবি, সােম, মঙ্গল, বুধবার।
  • পরিবারের সাথে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ফ্রি থাকতে পারবে।
  • জাহাজের টিকেট কিনতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে। টিকেট আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

*এমভি কর্ণফুলী এবং বে-ওয়ান জাহাজের বিভিন্ন তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই আপটুডেট তথ্য জেনে যাবেন।

হোটেল ও রিসোর্ট

সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটের সাথে বাজারে অনেক হোটেল আছে। দামাদামি করে সেখান থাকতে পারেন। ছুটির দিন, অতিরিক্ত ভীড়ের দিন গেলে অবশ্যই আগে বুকিং দিয়ে যাবেন।

নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে পশ্চিম বিচের দিকে চলে যেতে হবে। সেখানে বেশ কিছু বিচ ভিউ রিসোর্ট আছে। সমুদ্রের পানি রিসোর্টের উঠানে এসে বাড়ি খায়। ভাড়া সময়ভেদে ১৫০০-৪৫০০ পর্যন্ত।

পশ্চিম বিচের কিছু রিসোর্ট

  • আটলান্টিক রিসোর্ট (পূর্ব নাম-লাবিবা বিলাস) (Atlantic Resort)
  • পান্না রিসোর্ট (Panna Resort)
  • ড্রিম নাইট রিসোর্ট (Dream Night Resort)
  • সায়রী ইকো রিসোর্ট (Shayari Eco Resort)
  • নোনাজল বিচ রিসোর্ট (Nonajol Beach Resort)
  • কিংশুক রিসোর্ট (Kingshuk Resort)
  • সীমানা পেরিয়ে রিসোর্ট (Simana Periye Resort)

সেন্টমার্টিনের রিসোর্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে, সেন্টমার্টিনের জনপ্রিয় ১০টি রিসোর্ট আর্টিকেলটি পড়ুন।

কি খাবেন

  • ডাব
  • মাছের বারবিকিউ (বাজারে সব হোটেলেই মাছ সাজিয়ে রাখা হয় যেটা বলবেন বারবিকিউ করে দিবে)
  • জেটি থেকে বাজারের রাস্তা ধরে শেষ মাথায় হাতের বামে পেয়াজু,সিঙ্গারা, সমুচার দোকান আছে। ওদের পেয়াজু। সন্ধ্যা ৭.৩০ মধ্যেই শেষ হয়ে যায় তাই আগে আগে যাবেন।
  • চিংড়ি, ক্র্যাব ফ্রাই

খাবার খরচ

  • সকালের নাস্তা – ৫০-১০০ টাকা
  • দুপুরের খাবার প্যাকেজ – ১২০-২০০ টাকা
  • রাতের বারবিকিউ প্যাকেজ – ২৫০-৩৫০ টাকা

খাবার সংক্রান্ত পরামর্শ

  • খাবার পূর্বে দাম জেনে নিবেন
  • জেটি ঘাটের কাছে অনেক হোটেল আছে। সেখানে লাইভ ফিশ কিনে বারবিকিউ খেতে পারেন। মাছ কেনার সময় দামাদামি করে কিনবেন।
  • পশ্চিম বিচের রিসোর্টে থাকলে রিসোর্টের হোটেলে খাবার খেতে হবে। নাহলে প্রতিবার খাবার জন্য জেটিঘাটের কাছে আসতে হবে। রিসোর্টের হোটেলের খাবার খেতে ভালো হয় তাই চিন্তার কোন কারন নেই। আর দামও তুলনমূলকভাবে বেশি না।

সেন্টমার্টিন ২০২০-২০২১ ট্যুর প্যাকেজ

প্যাকেজ নামরেগুলার প্যাকেজকাপল প্যাকেজযা থাকছে
ইকোনমি-১
(১ রাত থাকা)
৪৫০০/-৯৪০০/-নন-এসি বাস,
শীপ, রিসোর্ট
ইকোনমি-২
(১ রাত থাকা)
৪৯০০/-১০৯০০/-নন-এসি বাস, শীপ, এক্সক্লুসিভ রিসোর্ট রুম
ল্যাক্সারী-১
(১ রাত থাকা)
৫৯০০/-১৩৬০০/-এসি বাস, শীপ, এক্সক্লুসিভ রিসোর্ট রুম
লাক্সারী-২
(১ রাত থাকা)
৬৭০০/-১৫১০০/-এসি বিজনেস ক্লাস বাস, শীপ,
এক্সক্লুসিভ রিসোর্ট রুম
প্যাকেজ বুকিং করতে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে

প্যাকেজ সম্পর্কিত তথ্য,

  • রেগুলার প্যাকেজ সর্বনিম্ন চারজনের জন্য প্রযোজ্য
  • প্যাকেজে বাস, শীপ এবং হোটেল খরচ অন্তর্ভুক্ত
  • প্যাকেজে কোন খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়
  • ১ রাতের অধিক থাকতে চাইলে দিন প্রতি ৩৫০০ টাকা করে যুক্ত হবে। ইকোনমি প্যাকেজ-১ – এ দিনপ্রতি ২০০০ টাকা করে যুক্ত হবে।
  • প্যাকেজ বুকিং বা যেকোন জিজ্ঞাসায় ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে অথবা ফেসবুকে যোগাযোগ করুন।

দ্বীপের দর্শনীয় স্থান 

  • দ্বীপের উত্তর পাশের নারিকেল জিঞ্জিরা (জেটি থেকে বাম পাশের বিচ ধরে হাঁটলেই পাবেন)
  • পশ্চিম পাশের কোরাল দ্বীপ
  • জেটি ঘাট (সকালে সমুদ্রের পানির রঙ দেখে অবাক হয়ে যাবেন। আর রাতে জেটির সিঁড়িতে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনে)
  • গলাচিপা (দ্বীপের সবচেয়ে সরু অংশ)
  • ছেঁড়াদ্বীপ (বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের শেষ স্থলভাগ)
  • পশ্চিম বিচে বসে সূর্যাস্ত
  • জেটিঘাটে বসে সূর্যোদয়
  • রাতের পরিষ্কার আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা অথবা ভরা পূর্ণিমা
  • বিকালে জেটির বাম পাশের বিচে জেলেদের সাথে জাল টেনে মাছ ধরা
  • বাজার থেকে পাকা রাস্তা ধরে হেঁটে অবকাশ হোটেল পর্যন্ত স্থানীয়দের বাসস্থান, জীবন ধারা
  • সন্ধ্যা/রাতে বাজার

সেন্টমার্টিনে যা যা করা যায়

  • সাইকেল চালানো
  • হেঁটে/স্পিডবোট/মাছ ধরার ট্রলার/লাইফবোটে ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া
  • নানা ধরনের মাছের বার বি কিউ খাওয়া
  • খুব ভোরে উঠে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনা
  • বিকেলে জেলেদের সাথে জাল টেনে মাছ ধরা (ভাগ্য ভালো হলে ফ্রি মাছও পেয়ে যেতে পারেন)
  • ক্যাম্প ফায়ার
  • স্কুবা ড্রাইভিং করা

ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়ার উপায়

  • ভাটার সময় হেঁটে/সাইকেলে। সাইকেল ভাড়া প্রতি ঘন্টা ৪০/৫০ টাকা।
  • জেটি ঘাট থেকে প্যাকেজে (২০০ টাকা)। যেতে ৩০ মিনিট, আসতে ৩০ মিনিট আর ঘোরার সময় ১ ঘন্টা
  • মাছ ধরার ট্রলার রিজার্ভ করে। লোক ভেদে ভাড়া ১৫০০-২৫০০ নিবে। যতক্ষন ইচ্ছা থাকবেন।

পায়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ

  • হেঁটে যেতে দেড়-দুই ঘন্টা লাগে যদি পশ্চিম বিচ ধরে যান। আমি এটাই সাজেস্ট করবো। এপাশ দিয়ে যাওয়াটা একটু কষ্টকর কিন্তু যাওয়াটা বৃথা হবে না।
  • আরামে এবং দ্রুত যেতে চাইলে পূর্ব বিচ ধরে যাবেন।
  • জোয়ারের সময় পরিবর্তন হয়। তাই যেদিন যাবেন স্থানীয় লোক বা রিসোর্টের ম্যানেজারের জাছে জিজ্ঞাসা করে নিবেন।
  • আসার সময় ট্রলার পাওয়া যাবে না। সবাই রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে যায়। যদি কাউকে অনুরোধ করে উঠতে পারেন তাহলে হয়তো পেতে পারেন।
  • হেঁটে যেতে, পশ্চিম বিচ দিয়ে যাবেন এবং পূর্ব বিচ দিয়ে আসবেন তাহলে ভালো মত দেখতে পারবেন।

কিছু সতর্কতা

  • টেকনাফ জাহাজ ৯.৩০ টার সময় সব একসাথে ছেড়ে যায়। শুধু গ্রীন লাইন ১০ টায় ছাড়ে। তাই জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না।
  • টেকনাফে জাহাজ মিস করলে ট্রলারে যেতে পারেন। ঘাটের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেই তারা ট্রলার ঘাট কোথায় দেখিয়ে দিবে।
  • সেন্টমার্টিন থেকে সব জাহাজ বিকাল ৩টায় ছেড়ে দেয়। শুধু গ্রীন লাইন কিছুটা দেরি করে। তাই এখানেও জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না। এবং ট্রলারও পাবেন না। সেদিন সেন্টমার্টিনেই থাকতে হবে।

কিছু পরামর্শ

  • হেঁটে বা সাইকেলে গেলে স্থানীয়/রিসোর্ট থেকে জেনে যাবেন ভাটার সময় কখন।
  • পশ্চিম বিচ থেকে বিকালে ট্রলার রিজার্ভ করে গেলে আসার সময় সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আসতে পারবেন।
  • চেষ্টা করবেন ২টার মধ্যে ছেঁড়াদ্বীপের উদ্দ্যেশ্য ট্রলারে রওণা দিতে তাহলে বেশি সময় কাটাতে পারবেন।
  • প্যাকেজ ট্রলারে করে গেলে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।
  • ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া সবচেয়ে ভালো হয় যদি ভোরবেলা সূর্য উঠার পর পর যেতে পারেন। সূর্যের তেজ বাড়ার আগে আগে ঘুরে চলে আসতে পারবেন। তখন মানুষও কম থাকে।

বিশেষ অনুরোধ

  • প্রবাল নিয়ে আসবেন না। ১ জন মানূষ ১টা করে প্রবাল আনলেও ১ লাখ মানুষ ১ লাখ প্রবাল নিয়ে আসবে। সিজনে কয়েক লাখ মানুষ সেন্টমার্টিনে যায়!
  • যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। দ্বীপটি আমাদের। ময়লা ফেলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।
  • স্থানীয়দের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনে ফোন করুন 01831551904 নাম্বারে

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে আমার কিছু কথা

২০১০-২০২০ দীর্ঘ ৮ বছরে অনেকবার দ্বীপটিতে যাওয়া হয়েছে। কখনো ১ রাত, কখনো ২ রাত থেকেছি। কিন্তু এখনো মনের তৃপ্তি মিটে নি। অফুরন্ত প্রাণের ভান্ডার এই দারুচিনি দ্বীপ। দ্বীপের আয়তন ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার। হেঁটে পুরো দ্বীপ ঘুরতে চাইলে হাঁটতে হবে প্রায় ১১/১২ কিলোমিটার। পুরো দ্বীপটি হেঁটে না ঘুরলে প্রকৃত অর্থে সেন্টমার্টিনের আসল সৌন্দর্যই দেখা সম্ভব হয় না।

দ্বীপের উত্তর পাশে নারিকেল জিঞ্জিরা। মাঝে দ্বীপের সবচেয়ে সরু স্থান গলাচিপ যেখানে পূর্ব এবং পশ্চিম দুই পাশের সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়। এবং সর্ব দক্ষিনে ছেড়াদিয়া বা ছেঁড়াদ্বীপ।

জেটি থেকে নেমে হাতের বামে বিচ ধরে হেঁটে গেলে দেখা যাবে সমুদ্রের এক ধরনের রূপ। এপাশ দিয়ে ভাটার সময় হাঁটতে থাকলে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়। সাগর তুলনামূলক শান্ত পূর্বপাশের এদিকটাতে।

জেটির ডান পাশের বিচে মূলত সবাই গোসল করতে নামে। বাজারের আশেপাশের রিসোর্টে যারা থাকে তারাও এই বিচের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে। এই বিচ ধরে পশ্চিম দিকে যেতে থাকলে কেন দ্বীপের নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ তার সত্যতা মিলবে।

কোরাল দ্বীপ নামের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে পশ্চিম বিচে। ভাটার সময় পশ্চিম বিচ ধরে যত ছেঁড়াদ্বীপের দিকে হাঁটা যায় তত বাহারী কোরালের দেখা মিলবে। বিশালাকার, ক্ষুদ্রাকৃতি, অদ্ভুতাকার কি নেই এখানে।

গলাচিপা সেন্টমার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে সরু অংশ। পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকের বিচ ধরেই যান গলাচিপায় আসলে আপনি অবাক হতে বাধ্য। কেন তা নিজে ভ্রমণ করেই আবিষ্কার করুন!

ছেঁড়াদ্বীপ হেঁটে বা সাইকেলে গেলে যে অংশটা জোয়ারের সময় ডুবে যায় তার ঠিক আগে আগে ম্যানগ্রোভ বনের দেখা মিলবে যেন। দ্বীপের কি রূপ দেখলেন আর এখানে এসে কি দেখতেছেন! নিজের চোখকে বিশ্বাস হতে চাইবে না।

ছেঁড়াদ্বীপ অংশটুকু আরেক বিস্ময়। এখানের প্রবালগুলোকে আমার কাছে বেশি প্রানবন্ত মনে হয়। ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিম পাশের বিচ দেখা পাবেন প্রাকৃতিক একুরিয়ামের। অদ্ভুত এক গাছ রয়েছে কেওড়ার বনে। খুঁজে দেখবেন অবশ্যই। দিনের বেলাতেও গাঁ গাঁ ছম ছম অনুভূতি হয় সেখানে।

ছেঁড়াদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, শেষ মাথায় বসে সমুদ্রের ঢেঊ দেখতে দেখতে ঢেঊয়ের গর্জন শুনতে। মূল দ্বীপ থেকে যা সম্পূর্ণ আলাদা। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়। যারা ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাদের জন্যও ছেঁড়াদ্বীপ স্বর্গ।

আরো পড়ুন

আপনার মতামত জানান
SHARE