মাতৃভান্ডারের রসমালাইয়ের খোঁজে কুমিল্লা – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-২)

হুট করেই মন চাইলো রসমালাই খেতে হবে। যেন তেন রসমালাই না, কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের রসমালাই। সখের তোলা আশি। ১৮ মার্চ, ২০১৬ তারিখ সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইনের বাসে করে রসমালাই খেতে চললাম…

কুমিল্লা মনোহরপুরের আসল মাতৃভান্ডারের রসমালাই
কুমিল্লা মনোহরপুরের আসল মাতৃভান্ডারের রসমালাই

আমার জন্ম ঢাকায়। দাদাবাড়ি, নানাবাড়ি দুটোই কুমিল্লায়। তবে দাদাবাড়ি গিয়েছি হাতে গোনা ৮-১০ বার আর নানাবাড়ি মোটে ২ বার। গ্রামের মাটির সাথে তাই আমার কোন পরিচয় নেই। আমার বেড়ে উঠা শহরের ইট-পাথর-বালুকে ঘিরে।

ঢাকার বাসা থেকে প্রথম দূরে কোথাও যাওয়া হয় দাদাবাড়ি কুমিল্লাতে। তখন থেকেই ঢাকা-কুমিল্লা বাসের ভ্রমণ আমার খুব পছন্দ। কখনো নদী, কখনো মাঠের পর মাঠ, কখনো দু’পাশ জুড়ে সারি সারি গাছ। ছোট্ট মনে যে দাগ কেটেছিলো, সেই দাগ যত বড় হয়েছি ততই গাঢ়ো হয়েছে।

এস.এস.সি পরীক্ষার পর নানুর সাথে তার বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন নতুন নতুন এমপিথ্রি কিনেছি। আমার এখনো মনে আছে দুপাশ জুড়ে সবুজ আর কানে বাজছে পারভেজের যাবি যদি উড়ে দূরে গান। সেই থেকে কুমিল্লা যাওয়ার সময় বাসে এই গান আমার মাথায় ঘুরবেই…

যাবি যদি উড়ে দুরে নীল অজানাতে
মনে করে আমায় মনে রেখে
কখনো ফুরাবে না সে গতিহীন পথে

শাসনগাছা নেমে রিকশা নিয়ে ছোট মামার বাসায় চলে গেলাম। আমার হঠাৎ এই আগমনের কারন জানতে চাইলে বললাম, রসমালাই খেতে আসছি! আমার এইরকম উদ্ভট পাগলামী সম্পর্কে মামার ধারনা আছে তাই কিছু বললো না।

বিকেলে গেলাম গোমতী নদীর পাড়ে। কুমিল্লা গেলে আর সময় থাকলে আমি সবসময় গোমতী নদীতে যাই। সেখানে আমার পছন্দের একটা জায়গা আছে। ছোট একটা ঘাটের মত, একটা ছোট নৌকা থাকে। আমি চুপচাপ সেই ঘাটের কাছে বসে থাকি। মানুষের পারাপার দেখি। গোমতী নদীকে দেখতে শান্ত মনে হলেও এ এক স্রোতস্বিনী নদী।

আমাদের জীবনও তো এমনই। দুইপাশে দুই পাড় আর মাঝখানে স্রোতস্বিনী নদী। নদী পারাপার হওয়ার জন্য আছে ছোট নৌকা। একটু ভুল হলেই নৌকা উলটে যাবে, স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে দূরে, বহুদূরে। তবু ওপাড়েতে যাওয়ার তাড়না। থেমে থাকার, পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই…

পরদিন সকাল সকাল রসমালাই কিনতে মাতৃভান্ডার চলে গেলাম। মাতৃভান্ডারের সবসময়ই ভীড় লেগে থাকে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা না করে কোনদিন রসমালাই কিনতে পারি নি। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। রসমালাই যুদ্ধে জয়ী হয়ে মামাকে ফোন দিলাম, মামা রসমালাই পাইছি।

বাসায় গিয়ে আচ্ছামত রসমালাই খেয়ে উপকূল বাসে চড়ে বসলাম। এবার অবশ্য একা না। মামাও সাথে আছে…

ভ্রমণকালঃ ১৮-১৯ মার্চ, ২০১৬

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ sondesh24.com, localguidesconnet.com

ভ্রমণের স্মৃতিকথা পর্বসমূহ,

কাঞ্চনজঙ্ঘার খোঁজে পঞ্চগড় – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-১)

আপনার মতামত জানান
SHARE