ফেসবুক এড ম্যানেজার দিয়ে বুস্টিং (ভিডিওসহ)

বর্তমানে ফেসবুক মার্কেটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং অনেকেই ফেসবুকে বুস্ট করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। আজকের পর্বে লিখবো কিভাবে ফেসবুক এড ম্যানেজার (Ads Manager) এর মাধ্যমে ফেসবুক পেজ বুস্ট করতে হয়।

ফেসবুক মার্কেটিং জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে অন্যান্য যেকোন মাধ্যম থেকে অনেক কম খরচে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া যেহেতু মানুষ ফেসবুকে বেশি সময় ব্যয় করে তাই এখানে বিজ্ঞাপন দেওয়াটাই বুদ্ধিদীপ্ত কাজ।

অনেক ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে যার পুরোটাই ফেসবুক পেজ কেন্দ্রিক। ফেসবুকে বুস্টিং এর জন্য অনেকে থার্ড পার্টি এজেন্সির সাহায্য নিচ্ছে অথবা কার্ড ম্যানেজ করে নিজেই বুস্ট করছে। নিজে বুস্ট করার জন্যই হোক বা কোন এজেন্সি দিয়ে কাজ করানোর সময় তারা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা বোঝার জন্যই হোক সঠিকভাবে বুস্ট করতে জানাটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুক বুস্টের জন্য ফোন করুন, 01755238181 নাম্বারে। মাসে মিনিমাম ৫০ ডলার বুস্ট করার বাজেট থাকতে হবে।

প্রথমেই সতর্কতাবানী,
পেজের সকল জায়গাতে বুস্ট করার জন্য ফেসবুক বাটন দিয়ে রেখেছে কিন্তু পেজ থেকে কখনোই সরাসরি বুস্ট করা উচিত নয়। কেনো উচিত নয় তা অন্যকোন পোস্টে বিস্তারিত বলবো। আজকের পর্ব শুরু করা যাক,

ফেসবুক এড ম্যানেজার দিয়ে বুস্ট করার আদ্যোপান্ত

যদি আপনার ফেসবুক এড ম্যানেজার থাকে তাহলে খুবই ভালো আর যদি না থাকে তাহলে এই লিংকে গিয়ে একাউন্ট খুলে নিন। এড ম্যানেজার একাউন্ট খোলার পর প্রথম ধাপ হচ্ছে ক্যাম্পেইন তৈরি করা।

ফেসবুকে এড দেওয়ার জন্য তিনটি সেগমেন্ট রয়েছে,

  • Ad Campaign
  • Ad Set
  • Ad

যারা আজ প্রথম এমন কিছু দেখলেন ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আমি একে একে সবগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করবো।

Facebook Ad Campaign (ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন)

ফেসবুকে এড দেওয়ার প্রথমেই একটি এড ক্যাম্পেইন তৈরি করতে হয়। এড ক্যাম্পেইনের ভিতর অনেকগুলো এডসেট, এড থাকতে পারে। প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক,

এড ক্যাম্পেইন কি? এড ক্যাম্পেইন হচ্ছে, যেখানে আপনার এডের অবজেক্টিভ কি তা ফেসবুককে বলে দিবেন।

উদাহরন দিচ্ছি, ধরুন আপনি চাচ্ছেন আপনার পেজে লাইক বাড়াতে। তাহলে এড ক্যাম্পেইন অবজেক্টিভ হবে, পেজ লাইক। এই অবজেক্টিভ নির্বাচন করার কারনে ফেসবুক বুঝতে পারবে আপনি পেজ লাইকের এড দিতে চাচ্ছেন। তখন সে এডসেট এবং এড ডিজাইন পেজ লাইকের জন্য করবে।

এবার এড ক্যাম্পেইন নিয়ে কিছু তথ্য এবং কিভাবে এড ক্যাম্পেইন তৈরি করবেন তা জেনে নেওয়া যাক,

  • এড ক্যাম্পেইন সেগমেন্টে Awareness, Consideration, Conversion ৩টা ক্যাটাগরিতে মোট ১১টি অবজেক্টিভ রয়েছে। আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী Marketing Objective সিলেক্ট করে নিবেন।
  • ক্যাম্পেইন নাম দিবেন। নাম দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে যখন অনেক ক্যাম্পেইন হয়ে যাবে তখন নাম দেখে ক্যাম্পেইন সম্পর্কে ধারনা পাবেন। ধরুন, আপনার Campaign Objective, Page Likes এবং পেজের নাম XYZ. তাহলে ক্যাম্পেইন নাম দিন, XYZ – Page Likes.

ফেসবুক বুস্টের জন্য ফোন করুন, 01755238181 নাম্বারে। মাসে মিনিমাম ৫০ ডলার বুস্ট করার বাজেট থাকতে হবে।

Ad Set (এড সেট)

এড সেট হচ্ছে যেখানে অডিয়েন্স(কাদের কাছে বিজ্ঞাপন দেখাতে চান), বাজেট(কত টাকা খরচ করতে চান), সিডিউল(কতদিন ধরে বিজ্ঞাপন দেখাতে চান) তা নির্ধারন করা হয়ে থাকে। একটি এড সেটের ভিতর অনেকগুলো এড তৈরি করা যায়।

কিভাবে এড সেট তৈরি করবেন তা জেনে নেওয়া যাক,

  • এড সেটের প্রথমেই পাবেন Audience. আপনাকে স্থান, বয়স, জেন্ডার, ডিটেইলড টার্গেটিং নির্বাচন করার মাধ্যমে অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে।
  • Locations সেকশনে আপনি সর্বোচ্চ 25 Countries, 200 States/Provinces/Regions, 250 Cities, 2500 Zip codes/Postal Codes সেট করতে পারবেন।
  • বাংলাদেশের Zip code/Postal Code ফেসবুক সাপোর্ট করে না। তবে ম্যাপের Drop Pin ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লোকেশন বাছাই করে দিতে পারবেন।
  • Age, Gender, Language নিজের প্রয়োজন মত সিলেক্ট করে নিবেন।

উদাহরন দেওয়া যাক তাহলে বুঝতে সুবিধে হবে। ধরুন আপনার প্রোডাক্ট হচ্ছে ছেলেদের ঘড়ি এবং আপনি চাচ্ছেন ঢাকায় যারা থাকে তাদের কাছে বিক্রি করতে। তাহলে আপনি যা করবেন,

Location: Dhaka
Age: 18-45
Gender: Male
Language: English, Bengali

এইরকম একটা অডিয়েন্স তৈরি করতে পারেন।

Detailed Targeting (ডিটেইলড টার্গেটিং)

  • একটি এড কতটা ভালো ফলাফল দিবে তা নির্ভর করছে আপনি এই সেকশনে কতভালো টার্গেট করতে পারছেন তার উপর।
  • এডে ভালো ফলাফল পেতে আপনার অডিয়েন্স সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে। আপনার ক্লায়েন্ট/কাস্টমার সম্পর্কে যত বিস্তারিত আপনি জানবেন, তত ভালো টার্গেটিং করতে পারবেন। অডিয়েন্স নিয়ে বিস্তারিত ধারনা পাওয়ার জন্য ফেসবুক পেজের Insights অপশনটি ভালোভাবে রিসার্চ করুন।
  • ধরুন, আপনি ছেলেদের ব্র্যান্ডের শার্ট বিক্রি করেন। আপনার কাজ হবে যারা ব্র্যান্ডের শার্ট পড়তে পছন্দ করে তাদের সম্পর্কে জানা। এখানে যত বেশি সময় ব্যয় করবেন আপনার প্রোডাক্ট সেলিং সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।
  • অডিয়েন্স তৈরি করার পর অবশ্যই সেভ করে নিবেন। তাহলে পরবর্তীতে বার বার অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে না।
  • Placements সাধারনত Automatic দিয়ে দিবেন। তবে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স যদি নির্দিষ্ট কোন প্ল্যাটফর্মের প্রতি বেশি এনগেজইড হয়ে তাহলে পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

Budget & Schedule (বাজেট এবং সিডিউল)

  • এই সেকশনে যে ভুলটা হয়, না বুঝে বাজেট ঠিক করার ফলে টাকা খরচ হয় ঠিকই কিন্তু কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যায় না।
  • প্রথমেই বেশি বাজেট না দিয়ে অল্প খরচ করে টেস্ট করবেন। অনেকেই বলে থাকে, একটি এড যদি ১০ ডলার খরচ করার পরও ভালো রেজাল্ট না দেয় তাহলে সেই এডের পিছে আর ব্যয় করার দরকার নেই। তবে এটা বিভিন্ন নির্ণায়কের উপর নির্ভরশীল। আপনি আপনার মত করে তৈরি করে নিবেন।
  • কোন এড যদি ভালো ফলাফল দেয় তাহলে তার বাজেট বাড়িয়ে দিবেন, যদি খারাপ ফলাফল দেয় তাহলে এড বন্ধ করে দিবেন।
  • এড সেটের নাম দিন। কোন এড ভালো পারফরমেন্স দিচ্ছে তা বুঝতে নাম দরকার হবে। ধরুন, আপনার Ad Location Dhaka, Age 18-40 তাহলে এভাবে দিতে পারেন,
  • Page Name – Campain Objective | Location | Age | Set No
  • Example: XYZ – Page Like | Dhaka | 18-40 | Set-1

Facebook Ad (ফেসবুক এড)

এড হচ্ছে আমাদের নিউজফিডে স্পন্সরড লেখা যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখি সেগুলো। এখানে আপনি যে ছবি/ভিডিও/লেখা দিবেন বিজ্ঞাপনটি নিউজফিডে ঠিক তেমনই দেখাবে।

এখন কিভাবে এড তৈরি করবেন তা জেনে নেওয়া যাক,

  • এডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কন্টেন্ট। ছবি বা ভিডিও যত আকর্ষণীয় ভাবে তৈরি করবেন এড পারফরমেন্স ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।
  • ভিডিও এর ক্ষেত্রে থাম্বনেইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেখেই মানুষ ভিডিওতে ক্লিক করবে।
  • আপনি চাইলে পেজের পুরনো পোস্ট সিলেক্ট করতে পারেন অথবা নতুন পোস্ট তৈরি করতে পারেন।
  • সবশেষে এডের একটি নাম দিন। যেমনঃ Page Name – Campaign Objective | Ad No এমন হবে, XYZ – Page Like | Ad-1

Confirm করার আগে Review তে ক্লিক করে দেখে নিন সব ঠিক আছে কিনা। ঠিক থাকলে কনফার্ম করে দিন। ব্যস হয়ে গেলো এড দেওয়া।

এডে ভালো রেজাল্ট পাওয়ার জন্য A/B Testing করতে হয়। Location, Targeting, Ad creative Change করে দেখতে হয় কোনটি সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট দিচ্ছে। তাই টেস্টিং এর জন্য কিছু বাজেট রাখুন। এই অতিরিক্ত খরচ, পরবর্তীতে অধিক মুনাফা এনে দিবে।

ফেসবুক এড নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে Facebook Business Ads Guide পড়তে পারেন।

আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য ফেসবুক এড ম্যানেজার নিয়ে একটি ভিডিও করে দিলাম

বাংলা এবং ইংরেজি ভাষার সংমিশ্রনের জন্য দুঃখিত। বোঝার সুবিধার্থে এভাবে লিখতে হয়েছে।

বিনা অনুমতিতে Copy-Paste না করার অনুরোধ রইলো।

আমি ফেসবুক মার্কেটিং সার্ভিস দিয়ে থাকি। প্রয়োজনে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে।

আরো পড়ুনঃ রেডিট কি এবং কিভাবে রেডিট কারমা বাড়ানো যায়? (ভিডিওসহ)

আপনার মতামত জানান
SHARE