হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৮ঃ আজিমপুর টু মিরপুর-১

গতকাল ট্রাস্ট মিলনায়তনে এক বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে ভরপেট খাওয়ার পরে ভেবেছিলাম আজকে হেঁটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যাবো। কিন্ত সারাদিনে আলস্যের কারনে আর যাওয়া হয় নি। সন্ধ্যায় এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ভাবলাম যাই বাইরে থেকে ঘুরে আসি। টিএসসি যাওয়ার পর সিন্ধান্ত নিলাম আড্ডা শেষে আজ হেঁটে বাসা যাবো।

আড্ডা দিয়ে যখন বাসার উদ্দ্যেশে রওনা দিবো তখন সম্রাটকে বললাম তুইও আমার সাথে হেঁটে চল। ল্যাব এইড থেকে রিকশা নিয়ে নিস। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বললো আচ্ছা চল। রাত ১০.৩১ মিনিটে আমরা আজিমপুর বাসষ্ট্যান্ড কলোনীর প্রথম গেট থেকে রওনা দিলাম। শুরুতে আস্তে আস্তে হাঁটতেছিলাম। ল্যাব এইড আসার পর সম্রাট বললো চল কলাবাগান পর্যন্ত যাই তোর সাথে। রাত ১১.১৩ মিনিটে কলাবাগান ওভার ব্রিজের কাছে চলে আসলাম। এরপর সম্রাট ওর রাস্তায় আমি আমার রাস্তায়।

সম্রাট চলে যাওয়ার পর আমি আমার আসল হাঁটা শুরু করলাম। এতক্ষন আস্তে হাঁটার কারনে পা কামড়াচ্ছিলো। বলতেছিলো জোরে হাঁট, জোরে হাঁট। কিছুক্ষন হাঁটার পরই দৌড় শুরু করলাম, হাঁপানোর আগ পর্যন্ত থামলাম না। আবার কিছুক্ষন হাঁটলাম আবার দৌড়। ভালোই মজা পাচ্ছিলাম।

রাতের রাস্তায় হাঁটার মজা আছে। কোন গ্যাঞ্জাম নেই, মানুষের ভিড় নেই, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় বিরক্ত লাগে না। রাতের রাস্তাও অনেক সুন্দর। ল্যামপোস্টের নিয়ন আলো আর সাথে শোঁ শোঁ ছুটে চলা গাড়ির সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে বেশ লাগছিলো। কোন বিরতি ছাড়া হেঁটে হেঁটে আসাদ গেট চলে আসলাম। এই রাস্তায় এসে একা একা লাগতেছিলো। মনে হচ্ছিলো সাথে কোন সঙ্গী থাকলে মন্দ হত না। গল্প করতে করতে হাঁটা যেত। রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, নাহ আমি একা নই চাঁদ আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে। হঠাৎ করেই মাথায় নতুন একটা প্ল্যান আসলো, সারারাত হাঁটবো। কোন এক রাতে বাসায় ফিরবো না। হেঁটে হেঁটে এই শহরটাকে দেখবো। সাথে কোন সঙ্গী থাকলে ভালো, না থাকলেও সমস্যা নেই।

কলেজ গেট এসে মনে মনে ঠিক করতে থাকলাম কোন রোড দিয়ে যাবো। রাত বাজে প্রায় ১২টা। কোন রোডই খুব একটা সুবিধার না। ছিনতাইয়ের ভয় তো আছেই সাথে আছে কুকুরের ভয়। রাতের রাস্তা হচ্ছে কুকুরদের স্বর্গ। সেখানে তারা আমাকে মেনে নিবে কিনা সেই ভয় কাজ করছিলো। কল্যানপুর এসে দেখলাম ১১টা ৫১ বাজে। আল্লাহর নাম নিয়ে মেইন রোড ছেড়ে ভিতরের গলিতে ঢুকে পড়লাম। যা থাকে কপালে।

কল্যানপুর গার্লস স্কুল পর্যন্ত কোন সমস্যা হলো না। রাস্তায় মানুষ ছিলো। কিন্তু এরপর আর মানুষ নাই। মনে একটু একটু ভয় নিয়ে এগোতে থাকলাম। নতুন বাজার এসে আবার মানুষের দেখা পেয়ে মনে সাহস খুঁজে পেলাম। মধ্য পাইকপাড়া আসার পর আবার চিন্তা করতে থাকলাম এখন কোন রোড দিয়ে যাবো। এখানে ছিনতাইয়ের ভয় নেই কিন্তু কুকুর ছাড়া এমন কোন গলি নেই যেখান দিয়ে যেতে পারবো।

অনেক সাহস নিয়ে হাবুলের পুকুর পাড় রোডে ঢুকলাম। তখন সম্রাট ফোন দিলো ওর সাথে কথা বলতে বলতে ওই রাস্তা পার হয়ে গেলাম। কিন্তু ও ফোন রাখার পরই হলো গ্যাঞ্জাম। রাস্তায় কোন মানুষ নেই। দূরে কুকুরের চিৎকার শোনা যাচ্ছে আর আমার সামনেও কুকুর হাঁটাহাঁটি করতেছে। কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেলাম। পরক্ষনেই বুঝলাম এখানে দাঁড়িয়ে কোন লাভ নেই। হাঁটতে হবে, হাঁটতে থাকলাম। একটু সামনে গিয়ে মানুষের দেখা পেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ভয়ে ভয়ে হেঁটে যখন বাসার গেটে আসলাম তখন সময় ১২.১৭ মিনিট। যদিও অনেক ভয়ে ছিলাম কিন্তু হেঁটে অনেক মজা পেয়েছি। গুগল ম্যাপে চেক করে দেখলাম প্রায় ৯ কিলোমিটারের মত হাঁটা হয়েছে।

আজকের হাঁটার রুট,
আজিমপুর বাসষ্ট্যান্ড কলোনীর প্রথম গেট-> নীলক্ষেত মোড়-> ল্যাব এইড-> কলাবাগান-> ধানমন্ডি ২৭-> আসাদ গেট-> কলেজ গেট-> শ্যামলী-> কল্যানপুর-> কল্যানপুর গার্লস স্কুল-> নতুন বাজার-> মধ্য পাইকপাড়া-> হাবুলের পুকুর পাড়-> বাসা

রোজ রবিবার
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

Feature Image by Gareth Photography

আপনার মতামত জানান
SHARE