পদ্মা দেখতে পাটুরিয়া, নদী পার হয়ে ফরিদপুর

ফেরীর তিনতলায় বসে পদ্মা দেখার শখ হয়েছে। গাবতলী গিয়ে দেখি ঝকঝকে চকচকে সেলফী পরিবহন, গাবতলী-পাটুরিয়া রুটে চলাচল করে। বাসে চড়ে বসলাম। কত দিন, কতগুলো দিন পর বাসে উঠা। কি করবো, কই যাবো জানিও না। ঠিক যেমনিভাবে আগে একা ঘুরে বেড়াতাম। ভিতরে ভিতরে দারুন রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম।

আমিন বাজার পার হয়ে বাস টানা শুরু করতেই সারা শরীরে সুখের স্পন্দন টের পেলাম। বাসে সিট পেয়েছি পেছনের দিকে। গতির সাথে সাথে বাস ঝাঁকি খাচ্ছে। আহা, কি সুখ। কি সুখ।

পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে বেশ অবাক হলাম। সবকিছুই যেন নতুন। কিছুই চিনতে পারছি না। যোহরের ওয়াক্ত থাকায় প্রথমে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে ফেরী ঘাটে যাওয়ার জন্য রিকশা নিলাম। ভাড়া জিজ্ঞাসা করতেই বললো, ২০ টাকা। আমিও উঠে পড়লাম। ৩০ সেকেন্ড পরেই ঘাটে নামিয়ে দিতেই আক্কেল গড়ুম হয়ে গেলো। ১ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ২০ টাকা খসিয়ে নিলো!

দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ফেরীতে উঠলাম। ফেরীর তিনতলা থেকে গাড়ি লোড-আনলোড দেখার যে সুখ, তা যারা না দেখেছে তাদের বলে বুঝানো সম্ভব না। অবশ্য সবাই এতে সুখ খুঁজে নাও পেতে পারে। আমি খুব ক্ষুদ্র কিছুতেই সুখ খুঁজে নিতে পছন্দ করি।

Paturia-Faridpur

পদ্মার মনকাড়া বাতাস খেতে খেতে আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেলো। নামাজ পড়ে নিলাম। আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর সূর্য। সবাই বলে, চাঁদ সুন্দর। জোছনা সুন্দর। সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়ের খাতিরে সূর্যের কিছুটা নাম-ডাক থাকলেও এমনিতে প্রকৃতি পূজারী ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে সূর্যের তেমন দাম নেই। কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সূর্য যে কতটা অপরূপ তা যারা চোখে দেখে নি বা খুঁজতে চায় নি তারা জানবেই বা কিভাবে?

সে যাই হোক। আমি কি দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশের ক্ষুদ্র অপচেষ্টা করা যাক। পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে বেশ আগেই। সূর্যাস্তের তখনো ঢের বাকি। না শীত, না গরম আমরা যাকে বসন্ত বলি; সেই ঋতুর খপ্পরে পড়ে আকাশের মনোভাব বোঝা দায়। এই যেমন আজ কেমন মেঘ মেঘ করেছে। কি এক চাঁদর দিয়ে ঢেকে সব তেজ শুষে নিয়েছে। সেই তেজহীন দীপ্ত আলো পদ্মার বুকে পড়ে তৈরি করেছে এক মোহনীয় আলো। যে আলোয় চলা বাড়ন। যে আলোয় থমকে থাকতে হয়। দিগন্ত বিস্তৃত পদ্মার অগাধ জলে নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে আমিও থমকে গিয়েছিলাম। বেরসিক ফেরী মাস্টার ঘাটে না ভিড়ালে সে যাত্রা থেকে মুক্তি নিতাম সে সাধ্য আমার ছিলো না।

Paturia-Faridpur

ফেরী থেকে নেমে রিকশা নিয়ে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল চলে গেলাম। এর আগে একবার এমনই হুট করে রাজবাড়ি চলে গিয়েছিলাম। এবার আর সেদিকে যেতে ইচ্ছা করলো না। ফরিদপুরের দূরত্ব দেখলাম ৩৩ কিলো। আমি আগে ফরিদপুরে যাই নি। তেমন কিছু দেখা হবে না জানি। তবু সন্ধ্যায় কিছুটা সময় কাটানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। তাছাড়া আমার শান্ত হয়ে থাকা তেমন পছন্দ না। আমার একা ভ্রমণের বেশির ভাগ সময় প্রায় ৭০-৮০% জুড়ে থাকে ছুটে চলা।

ঘন্টাখানেক পর ফরিদপুর নেমে কয়েকটা দোকানে ঢুঁ মেরে হালকা নাস্তা করে আবার বাসে চড়ে বসলাম। বাড়ি ফিরতে হবে। বাড়িতে অসুস্থ মা অপেক্ষা করে আছে। তাঁর ছেলে বাড়ি ফিরবে। তাকে দেখবে…

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।
আপনার মতামত জানান
SHARE