বালিশিরা রিসোর্ট (খরচসহ সব তথ্য)

বালিশিরা রিসোর্টটি (Balishira Resort) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগরে প্রকৃতির মাঝে ১.৫ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত।

বালিশিরায় পাচ্ছেন আধুনিক সব সুযোগ সুবিধাসহ আরামদায়ক প্রশস্ত রুম, নিজস্ব রেস্তোরা, প্রাইভেট সুইমিং পুল, শিশুদের জন্য প্লে জোন, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করার জন্য একটিভিটি প্লে জোনসহ নিরিবিলি প্রকৃতির সান্নিধ্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক রিসোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টের পরিবেশ
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রুম ক্যাটাগরি ও ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা
  • রিসোর্টের আশেপাশে দর্শণীয় স্থানসমূহ

রিসোর্টের অবস্থান

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন/বাসস্ট্যান্ড থেকে ভানুগাছ রোড হয়ে প্রায় ৫ কিলো দূরে রাধানগরে বালিশিরা রিসোর্টটি অবস্থিত।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

বাস বা ট্রেনে প্রথমে শ্রীমঙ্গল আসতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে করে প্রায় ৫ কিলো দূরে বালিশিরা রিসোর্ট।

  • বাস
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল
    • যেসব বাস চলেঃ এনা, হানিফ, শ্যামলি
    • ভাড়াঃ ৫৭০ টাকা (নন এসি)
  • ট্রেন
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল
    • যেসব ট্রেন চলেঃ পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী
    • ভাড়াঃ (ঢাকা – শ্রীমঙ্গল)
      • শোভন চেয়ারঃ ২৪০ টাকা
      • স্নিগ্ধাঃ ৪৬০ টাকা (এসি)
      • এসি সিটঃ ৫৫২ টাকা

বি.দ্র. ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার পূর্বে আপডেটেড ভাড়া জেনে নিবেন।

  • গাড়ি
    • ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে ভোর সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ৫-৬ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন।
    • নিজস্ব গাড়ি না থাকলে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন গাড়ি চাই রেন্ট-এ-কার (Gari Chai Rent-A-Car) থেকে। প্রতি মাসে নিয়মিত আমাদের গাড়ি নিরাপত্তার সাথে গেস্ট পৌঁছে দিচ্ছে।
    • ফোন করুনঃ 01755-238181 নাম্বারে
    • পরামর্শঃ গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে সকাল ৬ টার মধ্যে রওনা দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

Balishira Resort - বালিশিরা রিসোর্ট 2

রিসোর্টের পরিবেশ

বালশিরা শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি, সংরক্ষিত বন এবং চা বাগান এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত প্রকৃতি বান্ধব বিলাসবহুল একটি রিসোর্ট। এই রিসোর্টের ভিলা এবং কটেজগুলি প্রকৃতি উপভোগ করার নিমিত্তেই তৈরি করা হয়েছে। আরো দারুন বিষয় হচ্ছে রুমগুলোর ঠিক পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া)।

রিসোর্টের পাশ দিয়ে বয়ে চলা প্রাকৃতিক ছড়া
রিসোর্টের পাশ দিয়ে বয়ে চলা প্রাকৃতিক ছড়া

বুকিং নাম্বার

ডিসকাউন্টে রুম বুকিং করতে ফোন করুন: 01755-238181

বালিশিরা রিসোর্টে থাকা এবং শ্রীমঙ্গল ট্যুর প্যাকেজ নিতে ফোন করুনঃ 01755-8181। এই পোস্টের নিচে প্যাকেজের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।

বালিশিরা রিসোর্টের রাতের ভিউ
বালিশিরা রিসোর্টের রাতের ভিউ

রিসোর্ট সুযোগ সুবিধা

Balishira Resort
প্রাইভেট পুল

রিসোর্টের সুবিধা সমূহ,

  • প্রাইভেট সুইমিং পুল
  • জগিং ট্রেক
  • লাইব্রেরী
  • বই এবং নিউজপেপার লাউঞ্জ
  • লন্ড্রি
  • পার্কিং
  • ওয়ালকাম ড্রিংক্স
  • ওয়াই-ফাই
  • বাচ্চাদের প্লে জোন
  • ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস
  • রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
  • ইনডোর এবং আউটডোর স্পোর্টস

রুম ক্যাটাগরি ও ভাড়া

প্রাইভেট পুল ভিলা (৪টি)

  • কালবেলা/গায়ত্রী সন্ধ্যা/এইসব দিনরাত্রি/অগ্নিবীনা
    • রুম সাইজঃ ৬৫৭ স্কয়ার ফিট
    • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
    • রুম ভাড়াঃ ১৩,৯০০ টাকা (রেগুলার রেট) 
      • রুমের সুবিধা সমূহ
        • প্রাইভেট সুইমিংপুল
        • হিল ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
        • কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
        • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি

সুপেরিয়র কাপল ডিলাক্স (৪টি)

  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
  • রুম ভাড়াঃ ৯৯০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের অবস্থানঃ দ্বিতীয় তলা (টাওয়ার বিল্ডিং)
    • রুমের সুবিধা সমূহ
      • হিল ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
      • কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
      • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি

কাপল ডিলাক্স (৪টি)

  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
  • রুম ভাড়াঃ ৮০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের অবস্থানঃ দ্বিতীয় তলা (টাওয়ার বিল্ডিং)
    • রুমের সুবিধা সমূহ
      • কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
      • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি

সিঙ্গেল কটেজ (৪টি)

  • অরণ্যের দিনরাত্রি
    • রুম সাইজঃ ৩৪০ স্কয়ার ফিট
    • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
    • রুম ভাড়াঃ ১১,৯০০ টাকা (রেগুলার রেট) 
      • রুমের সুবিধা সমূহ
        • বাঁশ বাগান ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
        • ১টি কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
        • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি
  • শেষের কবিতা
    • রুম সাইজঃ ৪০৫ স্কয়ার ফিট
    • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
    • রুম ভাড়াঃ ১১,৯০০ টাকা (রেগুলার রেট) 
      • রুমের সুবিধা সমূহ
        • প্রাইভেট ফ্যামিলি বাংলো (১টি বেড রুন)
        • বাঁশ বাগান ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
        • ১টি কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
        • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি

ফ্যামিলি কটেজ (২টি)

  • লাল নীল দীপাবলি-১/লাল নীল দীপাবলি-২
    • রুম সাইজঃ ৩৪০ স্কয়ার ফিট
    • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন এডাল্ট, ১ চাইল্ড
    • রুম ভাড়াঃ ১১,৯০০ টাকা (রেগুলার রেট) 
      • রুমের সুবিধা সমূহ
        • প্রাইভেট ফ্যামিলি বাংলো (১/২ রুমের অপশন সহ)
        • বাঁশ বাগান ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
        • কিং সাইজ বেড, ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
        • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি
Balishira Resort
ফ্যামিলি ভিলা

ফ্যামিলি টুইন ভিলা (৪টি)

  • মাধুকরী/সোনালি কাবিন/নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে/প্রজাপতি
    • রুম সাইজঃ ৫৮৭ স্কয়ার ফিট
    • গেস্ট সংখ্যাঃ ৪ জন এডাল্ট, ২ চাইল্ড
    • রুম ভাড়াঃ ১৩,৯০০ টাকা (রেগুলার রেট)
    • রুমের অবস্থানঃ দোতলা 
      • রুমের সুবিধা সমূহ
        • প্রাইভেট সিঙ্গেল রুম
        • হিল ভিউ এবং প্রাকৃতিক জল-স্রোত(ছড়া) ভিউ
        • ১টি কিং সাইজ বেড ও ১টি কুইন সাইজ বেড
        • ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি, ফ্রি ওয়াইফাই, মিনি বার, এসি, হাউজকিপিং
        • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, ইলেকট্রিক কেটলি, পানি

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টে ১টি রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে রয়েছে। যেখানে ইংলিশ এবং কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট, স্ন্যাক্স, লাঞ্চ, ডিনার খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সেট মেন্যুও রয়েছে।

  • সকালের নাস্তা
    • ফ্রেশ সিজনাল ফ্রুট জুস, ব্রেড, বাটার, জ্যাম/জেলি, ডিম, রুটি, পরোটা, মিক্সড সবজি, চা (র অথবা দুধ)
  • স্টার্টার
    • স্যুপ(চিকেন কর্ণ, ভেজিটেবল ক্লিয়ার, হট এন্ড সাওয়ার, সুইট এন্ড সাওয়ার, ক্রিম অফ মাশরুম), স্প্রিং রোল, চিকেন উইংস, ফিশ ফিঙ্গার, উনথুন
  • মেইন কোর্স (দেশী)
    • মিক্সড সালাদ, ভর্তা(আলু/বেগুন/ডাল/শুটকি/টমেটো), ডাল(নরমাল/ঘন/বাটার ফ্রাই), মাছ, মাংস, ভেজিটেবল কারি, সাদা ভাত, ভুনা খিচুড়ী
  • মেইন কোর্স (শাহী)
    • বিরিয়ানী(মাটন/চিকেন/বিফ/ভেজিটেবল), পোলাও, রোস্ট, কারি
  • থাই এন্ড চাইনিজ
    • বিভিন্ন থাই/চাইনিজ আইটেম
  • ডেজার্ট এন্ড ড্রিংক্স
    • ফ্রেশ ফ্রুটস মিক্স, আইসক্রিম, ইয়োগার্ট, মিষ্টি, পানি, সফট ড্রিংক্স
  • লাইট রিফ্রেশার
    • ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পটেটো ওয়েজেস, ঝালমুড়ি, ছোলাবুট, সিজনাল ফল, পেঁয়াজু, পাকোড়া, সিঙ্গারা, সমুচা
  • অন্যান্য
    • ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ব্যবস্থা
    • বার-বি-কিউ

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং লেখা গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থানসমূহ (রিসোর্টের আশেপাশে)

  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  • মাধবপুর লেক
  • নীলকন্ঠ চা কেবিন (সাত রঙের চা)
  • চা গবেষণা ইন্সটিটিউট
  • মনিপুরী পাড়া
  • চা বাগান
আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ গাইড (খরচ, থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সব তথ্য)

নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল, টাঙ্গুয়ার হাওর। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হাওরটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বেশ সুপরিচিত। ২০২২ সালে এর জনপ্রিয়তা আরো বহুগুনে বেড়েছে বিলাসবহুল এবং আকর্ষণীয় হাউজবোটের কল্যাণে। চলুন জেনে নেওয়া যাক টাঙ্গুয়ার হাওর, বিলাসবহুল হাউজবোট এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ পরিকল্পনার বিস্তারিত খুঁটিনাটি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই পোস্ট থেকে কি কি তথ্য জানা যাবে,
  • ভ্রমণের সময়
  • হাওরের দর্শনীয় স্থান
  • যাওয়ার উপায়
    • সুনামগঞ্জ/তাহেরপুর হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর
    • নেত্রকোণা->মোহনগঞ্জ->ধর্মপাশা->মধ্যনগর হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর
  • ট্রলার ভাড়া
  • রাতে থাকার ব্যবস্থা
  • খাওয়ার ব্যবস্থা
  • ভ্রমণ প্ল্যান
    • দিনে দিনে ঘুরে আসা
    • ২ দিন ১ রাত
      • সুনামগঞ্জ হয়ে
      • তাহিরপুর হয়ে
  • হাউসবোট ট্যুর প্ল্যান
  • হাউসবোটের বৈশিষ্ট ও সুযোগ-সুবিধা সমূহ
  • ভ্রমণ খরচ
  • ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ

টাঙ্গুয়ার হাওর

মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর অবস্থিত।

মেঘালায় পাহাড়ের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য হাওরের রূপকে করে তুলেছে আরো মহিমাময়। সুন্দরবনের পরে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। যারা জানেন না তাদের জন্য, রামসার হচ্ছে বিশ্বব্যাপী জৈবপরিবেশ রক্ষার একটি সম্মিলিত প্রয়াস।

টাঙ্গুয়ার হাওরের মোট আয়তন প্রায় সাত হাজার একর। বর্ষাকালে যা বেড়ে প্রায় তিনগুন বড় হয়ে থাকে। ভারতের মেঘালয় থেকে প্রায় ৩০টিরও বেশি ঝর্ণার পানি টাঙ্গুয়ার হাওরে মিশে। জীববৈচিত্র্যের বিশাল এই আধারে রয়েছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখি, ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২’র বেশি প্রজাতির ব্যাঙ, ১৫০’র বেশি প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১০০০-এরও বেশি প্রজাতির অমেরুদন্ডী প্রাণী।

এছাড়াও শীতকালে সদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত পরিযায়ী পাখিদের আবাসস্থলও এই হাওর।

Tanguar Haor in Autumn - টাঙ্গুয়ার হাওর
শরৎ এর টাঙ্গুয়ার হাওর। ছবি – অপু নজরুল

ভ্রমণের সময়

বর্ষাকালে মেঘালয়ের ঝর্ণাগুলো থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওর কানায় কানায় ভরে উঠে। সাধারনত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

এছাড়া শীতকালে এই হাওরে অনেক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। পাখিপ্রেমীদের জন্য, শীতকাল টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ।

আসল কথা হচ্ছে, যে সময়েই যান টাঙ্গুয়া তার রূপ, মাধুর্য এবং বৈচিত্র্য দিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে।

দর্শনীয় স্থান সমূহ

টাঙ্গুয়ার হাওরের পুরোটা জুড়ে রয়েছে বৈচিত্র্যতা। তবু আলাদা করে যেসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন,

  • ছোট ছোট সোয়াম্প ফরেস্ট
  • ওয়াচ টাওয়ার
  • নীলাদ্রি লেক (শহীদ সিরাজ লেক)
  • লকমাছড়া
  • বারিক্কা টিলা
  • শিমুল বাগান
  • বাঁশ বাগান
  • যাদুকাটা নদী
  • লাউয়ের গড়
  • হাওরের অপূর্ব সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত
  • চাঁদনী রাতে জোছনা

যাওয়ার উপায়

টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়ার দুটি পথ।

  • সুনামগঞ্জ/তাহেরপুর হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর
  • নেত্রকোণা->মোহনগঞ্জ->ধর্মপাশা->মধ্যনগর হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ

ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী থেকে প্রতিদিন মামুন, শ্যামলী, হানিফ এবং এনা পরিবহনের সরাসরি বাস সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসের ভাড়া ৭৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ছয় ঘন্টা।

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ

সিলেটের কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ড থেকে সুনামগঞ্জের বাস ভাড়া ১০০ টাকা। সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা। এছাড়া শাহজালাল মাজারের সামনে থেকে লাইট গাড়ির ভাড়া ২০০ টাকা।

সুনামগঞ্জ থেকে টাঙ্গুয়া

সুনামগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে নেমে সুরমা ব্রিজের উপর তাহিরপুর যাওয়ার সিএনজি, লেগুনা এবং বাইক পাওয়া যায়। সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘন্টা।

তাহিরপুর নেমে ঘাট থেকে দলের লোক সংখ্যা অনুযায়ী ছোট বা বড় ট্রলার ভাড়া করে নিতে পারবেন।

এখন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সম্বলিত অনেক হাউজবোট পাবেন। তবে হাউজবোটের জন্য আগে থেকে বুকিং করে যেতে হবে।

বর্ষাকালে সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে হাউজবোট/ট্রলার রিজার্ভ করতে পারবেন। এতে করে সড়ক পথে দেড় ঘন্টা জার্নি করে তাহিরপুর যেতে হবে না।

শীতকালে বাইক/সিএনজি/লেগুনায় সোলেমানপুর পর্যন্ত যেতে হবে। সেখান থেকে ট্রলার ভাড়া করতে পারবেন।

নেত্রকোণা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর

ট্রেনে গেলে,

ঢাকা থেকে রাতের হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে মোহনগঞ্জ। মোহনগঞ্জ থেকে অটো/লেগুনা/বাইকে ধর্মপাশা বা সরাসরি মধ্যনগর।

মধ্যনগর থেকে রিজার্ভ ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় লাগবে। টাঙ্গুয়া যেতে অনেকগুলো ছোট, বড় বিল ও হাওর পাড়ি দিতে হবে।

খুব কাছে দেখতে পারবেন ভাটির দেশের মানুষের জীবন সংগ্রাম। এই পথেই চোখে পড়বে হাওরের প্রকৃত রূপ।

বাসে গেলে,

ঢাকা থেকে বাসে নেত্রকোণা। এরপর বাইকে মধ্যনগর বাজার। অথবা বাসে সরাসরি মোহনগঞ্জ/ মধ্যনগর বাজার। মধ্যনগর থেকে ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওর।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ উপরে উল্লেখিত ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় তখনকার ভাড়া জেনে যাবেন।

ট্রলার ভাড়া

ট্রলার ভাড়া মূলত চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

  • ট্রলারের আকার ও ধারন ক্ষমতা
  • সুযোগ-সুবিধা
  • সিজন
  • ভ্রমণের দিন (শুক্র-শনি বা টানা ছুটিতে এক ভাড়া, সপ্তাহের মাঝে আরেক ভাড়া)

ট্রলার ভাড়া করার সময় যা যা দেখে নিবেন,

  • টয়লেট
  • সোলার প্যানেল
  • লাইট ও ফ্যান
  • লাইফ জ্যাকেট
  • সামিয়ানা

সোলার প্যানেল ও লাইফ জ্যাকেট না থাকলে তাহিরপুর বাজার থেকে আইপিএস ও লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নিবেন।

ট্রলারের আকার ভেদে,

সারাদিনের জন্য, ছোট ট্রলার ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, মাঝারি ট্রলার ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা এবং বড় ট্রলার ৫০০০ থেকে ৭৫০০ টাকায় ভাড়া করতে পারবেন।

১ রাত নৌকায় থাকলে, ছোট ট্রলার ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা, মাঝারি ট্রলার ৬৫০০ থেকে ৭৫০০ টাকা এবং বড় ট্রলার ৮০০০ থেকে ১২০০০ টাকায় ভাড়া নিতে পারবেন।

এখানে হাউসবোটের ভাড়ার হিসাব দেওয়া হয় নাই। হাউসবোট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে পাবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ উল্লেখিত ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় তখনকার ভাড়া জেনে যাবেন।

টাংগুয়ার হাওরে নৌকা নয় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ব্যবহার করা হয়। অনেকেই ট্রলারকে নৌকা ভেবে ভুল করে।

রাতে থাকার ব্যবস্থা

টাঙ্গুয়ার হাওর গেলে সাধারনত ট্রলারে রাত্রিযাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়া টেকেরঘাটে হাওর বিলাশ নামে কাঠের বাড়িতে কম খরচে থাকতে পারবেন। তাছাড়া তাহিরপুর বাজার, সুনামগঞ্জে থাকার মত বেশ কিছু বোর্ডিং ও হোটেল রয়েছে। তবে রাতে ট্রলারে থাকলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হবে।

খাবার ব্যবস্থা

দিনে দিনে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরলে তাহিরপুর/টেকের ঘাটে খাবার হোটেলে খেতে পারবেন। হাওরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, দেশী হাঁস/মুরগি দিয়ে অনায়াসে আহার পর্ব সেরে নিতে পারবেন।

রাতে ট্রলারে থাকলে যে কয়দিন থাকবেন সে হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার করে নিবেন। মানুষ বেশি হলে বাবুর্চি নিতে পারেন, কম হলে মাঝি নিজেই রান্না করে খাওয়াতে পারবে।

খাবার জন্য নিতে পারেন হাওরের তাজা মাছ, দেশী হাঁস কিংবা শুটকি। নিজেরা রান্না করতে না চাইলে টেকেরঘাটে যদি রাত্রিযাপন করেন তাহলে সেখানে হোটেলে খেতে পারবেন। তাজা মাছ কেনার জন্য হাওরের মাঝে ছোট বাজারে যেতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

  • হাউসবোট এবং অন্যান্য অনেক সাধারন মানের ট্রলারে রাতে থাকা এবং খাওয়ার বেশ ভালো ব্যবস্থা করা থাকে। ভাড়া করার সময় কি কি সার্ভিস পাচ্ছেন তা নিশ্চিত করে জেনে নিবেন।
  • এখানে ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনের রুট বলা হয়েছে। আপনি অন্য জেলা থেকে গেলে আপনার সুবিধামত কাছের কোন স্পটে চলে যাবেন। সেখান থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে টাঙ্গুয়ার হাওর।
  • সুনামগঞ্জ/তাহিরপুর/সোলেমানপুর/মধ্যনগর যেখান থেকেই ট্রলার রিজার্ভ করবেন, প্রথমে কোন কোন স্পটে যাবেন তা ঠিক করে নিবেন।
  • মধ্যনগর থেকে ট্রলার ভাড়া করার সময় চুলা, প্লেট, সামিয়ানা (রোদ থাকলে কাজে দিবে), লাইফজ্যাকেট, বাজার সব ঠিকঠাক মত নেওয়া হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিবেন।
  • টেকেরঘাটে বাইক ভাড়া করে বিভিন্ন স্পট (লকমাছড়া, নীলাদ্রি লেক, শিমুল বাগান, বারিক্কা টিলা, জাদুকাটা নদী) যেতে হবে। এক বাইকে ২ জন বসতে পারবেন (চালকসহ তিনজন)।
  • মধ্যনগর থেকে ট্রলার রিজার্ভ করলে ফেরার সময় আবার মধ্যনগর আসতে পারেন। অথবা তাহিরপুর/সুনামগঞ্জ নামিয়ে দিবে এভাবে ঠিক করতে পারেন।
  • বাসে বা ট্রেনে নেত্রকোণা গেলে একদিন সময় বেশি নিয়ে দুর্গাপুর, বিরিশিরি ঘুরে দেখতে পারেন।
  • এখানে উল্লেখিত ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তিত হতে পারে তাই ভ্রমণের পূর্বে ভাড়া সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

ভ্রমণ প্ল্যান

২ দিন ১ রাত (টাঙ্গুয়ার হাওরে থাকা) তাহিরপুর হয়ে,

দেশের যেকোন জেলা থেকে প্রথমে সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। চেষ্টা করবেন সকাল ৭টার মধ্যে থাকার।

সকালের নাস্তা করে সুরমা ব্রিজ থেকে সিএনজি/বাইক/লেগুনায় চড়ে তাহিরপুর। সময় লাগবে ১-১.৫ ঘন্টা। ঘাট থেকে ট্রলার ঠিক করে ২ দিন ১ রাতের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করে নিবেন। মাছ এখান থেকে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। হাওরের ছোট বাজারগুলো থেকে তাজা মাছ কিনতে পারবেন।

সকাল ৯/১০ টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে প্রথমে চলে যাবেন ওয়াচ টাওয়ার। ওয়াচ টাওয়ারের আশেপাশের জলাবনে ঘুরে বেড়াবেন, হাওরের পানিতে গা ভাসাবেন। ওয়াচ টাওয়ার ঘুরে চলে যাবেন হাওরের মাঝে নিজেদের মত করে সময় কাটাতে।

দুপুরের পর পর যাত্রা করুন টেকেরঘাটের উদ্দেশ্যে। নীলাদ্রি লেকে বিকেল-সন্ধ্যা কাটাবেন। যদি হাওরে গোসল করে না থাকেন এখানে গোসল করতে পারেন। হাওর বা লেক যেখানেই গোসল করুন অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিবেন।

টেকেরঘাট থেকে লকমাছড়া কাছে। বাইক বা পায়ে হেঁটে ঘুরে আসতে পারবেন। স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞাসা করলে দেখিয়ে দিবে। রাতে টেকেরঘাটে থাকবেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চলে যাবেন বারিক্কা টিলা ও যাদুকাটা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। টেকেরঘাট থেকে বাইক নিয়ে যেতে হবে। চাইলে ট্রলারে যেতে পারেন তবে তা ট্রলার ভাড়া করার সময়ই বলে নিবেন।

শিমুল ফুলের সময় গেলে শিমুল বাগান ঘুরে দেখবেন। টেকেরঘাট ঘুরে বিকেলের মধ্যে তাহিরপুর চলে আসুন। আগের মত সিএনজি/বাইক/লেগুনায় সুনামগঞ্জ শহর। সেখান থেকে সুবিধামত পরিবহণে(বাস/ট্রেনে) নিজ বাসা।

সুনামগঞ্জ হয়ে

এখানে সব কিছু আগের প্ল্যানের মতই হবে শুধু ট্রলারে উঠার জন্য ১-১.৫ ঘন্টার জার্নি করে তাহিরপুর যেতে হবে না। সুনামগঞ্জ শহরে সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ট্রলারে উঠবেন।

দিনে দিনে ঘুরে আসা

হাওরে রাতে থাকতে না চাইলে তাহিরপুর ঘাট থেকে বিকাল পর্যন্ত ট্রলার ভাড়া করে নিবেন। মাঝির সাথে কথা বলে ঠিক করে নিবেন কোন কোন জায়গায় যাবেন। দুপুরের খাবার খেতে পারেন হাওর বিলাস রেস্টুরেন্টে। সেক্ষেত্রে আগে থেকে অর্ডার করে গেলে ভালো।

সারাদিন ঘুরে বিকালে চলে আসবেন তাহিরপুর। এরপর আগের মতই নিজ গন্তব্য যাওয়া। ট্রলার ঠিক করার সময় অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন।

মোহনগঞ্জ হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর

ঢাকা থেকে রাত ১১.৫০ মিনিটের হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে মোহনগঞ্জ।

মোহনগঞ্জ থেকে অটো/লেগুনা/বাইকে মধ্যনগর। মধ্যনগর থেকে রিজার্ভ ট্রলারে টাঙ্গুয়ার হাওর। সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টা।

ওয়াচ টাওয়ার ঘুরে চলে যান টেকেরঘাট। টেকেরঘাটে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন।

নীলাদ্রি লেক ঘুরে বাইকে করে চলে যান লকমাছড়া। সব স্থান ঘুরে ৬টার মধ্যে মধ্যনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করুন।

মাঝিকে মধ্যনগরে অটো/লেগুনা/বাইকে ঠিক করে রাখতে বলবেন। নাহলে রাতে সমস্যা হতে পারে। নেত্রকোণা পৌঁছে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে ঢাকা।

হাউসবোট ট্যুর প্ল্যান

আপনি যদি হাউজবোট দিয়ে ট্যুর প্ল্যান করে থাকেন তাহলে আপনার কাজ হবে শুধু সুনামগঞ্জ বা তাহিরপুর পৌঁছানো। এরপর বাকি ঘোরাঘুরির দায়িত্ব হাউসবোটের। তারাই আপনাকে নিয়ে সম্পূর্ণ ট্যুরে গাইড করবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হাউসবোট সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি ঘাট থেকে ছাড়বে নাকি তাহিরপুর থেকে ছাড়বে তা আগে জেনে নিবেন।

হাউসবোট বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা সমূহ

  • কেবিন রুম
  • কমন এট্যাচড ওয়াশরুম
  • হাই-কমোড, লো-কমোড
  • ইনডোর লাউঞ্জ
  • জানালা, ফ্যান, লাইট, চার্জিং পয়েন্ট
  • ওপেন লাউঞ্জ (যেখানে শুয়ে বসে আড্ডা দেওয়া যাবে)
  • রুফটপ ডাইনিং
  • পুরো বোটে সোজা হয়ে হাঁটার মতো যথেষ্ট উচ্চতা
  • লাইফ জ্যাকেট
  • ছাঁদে উঠার জন্য সিঁড়ি
  • লাইফ বয়া
  • ফিল্টার পানির ব্যবস্থা
  • সার্বক্ষণিক চা/কফি
  • জেনেরেটর সার্ভিস
  • সাবান, শ্যাম্পু, হ্যান্ডওয়াশ, টিস্যু
  • নামাজের স্থান
  • রুম সার্ভিস
  • অভিজ্ঞ গাইড
  • সুবিশাল প্রশস্ত বিছানা
  • সুবিশাল ছাদ

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হাউসবোট ভেদে সুযোগ-সুবিধা সমূহের তারতম্য হতে পারে। তবে মোটামোটি বেশিরভাগ সুবিধাই সব হাউসবোটে পাবেন।

ভ্রমণ খরচ

ঢাকা সুনামগঞ্জ আসা যাওয়া বাস ভাড়া ১৫০০ টাকা।

সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সিএনজি/বাইক ভাড়া আসা যাওয়া জনপ্রতি ৩০০-৬০০ টাকা।

ট্রলার ভাড়া ৫০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা। দলের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ট্রলার ভাড়া ভাগ হবে।

খাবার খরচ জনপ্রতি প্রতিবেলায় ১২০-২০০ টাকা। এছাড়া খুচরা আরো ১৫০-২৫০ টাকা জনপ্রতি খরচ হতে পারে।

ট্রলারভেদে আনুমানিক ৪৫০০-৫৫০০ টাকা খরচ হবে দশ জনের গ্রুপ গেলে।

হাউসবোটে ভ্রমণ করলে সুনামগঞ্জ আসা যাওয়ার খরচ ব্যতীত বাকি প্রায় সব খরচ প্যাকেজের ভিতর অন্তর্ভূক্ত থাকে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পরিবহন ও ভ্রমণে খরচের যেসকল হিসাব দেওয়া হয়েছে তা পরিবর্তনশীল। ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে তখনকার খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিবেন।

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ পরামর্শ

  • লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে নামবেন না। (হাওর, নীলাদ্রি লেক, জাদুকাটা নদী কোন জায়গাতেই না)
  • বজ্রপাত বা ভারী বর্ষণের সময় ট্রলারের ভিতর অবস্থান করুন। ছাদে থাকবেন না।
  • ছাতা, গামছা সাথে রাখুন। অতিরিক্ত গরমের সময় বেশ কাজে দিবে।
  • কোন কিছু কেনার পূর্বে আগে থেকে দাম ঠিক করে নিন।
  • গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে।
  • সপ্তাহের মাঝখানে গেলে খরচ কম হবে, পাশাপাশি অতিরিক্ত ভীড় এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঘুরে আসতে পারবেন।
  • উচ্চ শব্দে কোন মাইক, স্পিকার বাজাবেন না।
  • রাতে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করবেন না।
  • স্থানীয়দের সমস্যা হয়ে এমন কোন কাজ বা আচরণ করবেন না।
  • প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করবেন না।
  • কোন ধরনের অপচনশীল দ্রব্য হাওরের পানিতে ফেলবেন না।

আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ Apu Nazrul – অপু নজরুল

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট (খরচসহ সব তথ্য)

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ (Grand Sultan Tea Resort and Golf) বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একমাত্র পাঁচ তারকা হোটেল। রিসোর্টটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবস্থিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক রিসোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টের পরিবেশ
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রুম ক্যাটাগরি ও ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা
  • রিসোর্টের আশেপাশে দর্শণীয় স্থানসমূহ
  • রিসোর্টের ভ্রমণ প্যাকেজ

রিসোর্টের অবস্থান

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন থেকে ভানুগাছ রোডে হয়ে ৪-৫ কিলো দূরে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টটি অবস্থিত।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

বাস বা ট্রেনে প্রথমে শ্রীমঙ্গল আসতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে করে ৪-৫ কিলো দূরে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ (Grand Sultan Tea Resort and Golf).

  • বাস
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল
    • যেসব বাস চলেঃ এনা, হানিফ, শ্যামলি
    • ভাড়াঃ ৫৭০ টাকা (নন এসি)
  • ট্রেন
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল
    • যেসব ট্রেন চলেঃ পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী
    • ভাড়াঃ (ঢাকা – শ্রীমঙ্গল)
      • শোভন চেয়ারঃ ২৪০ টাকা
      • স্নিগ্ধাঃ ৪৬০ টাকা (এসি)
      • এসি সিটঃ ৫৫২ টাকা

বি.দ্র. ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার পূর্বে আপডেটেড ভাড়া জেনে নিবেন।

  • গাড়ি
    • ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে ভোর সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে ৫-৬ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন।
    • নিজস্ব গাড়ি না থাকলে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন গাড়ি চাই রেন্ট-এ-কার (Gari Chai Rent-A-Car) থেকে। প্রতি মাসে নিয়মিত আমাদের গাড়ি নিরাপত্তার সাথে গেস্ট পৌঁছে দিচ্ছে।
    • ফোন করুনঃ 01755-238181 নাম্বারে
    • পরামর্শঃ গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে সকাল ৬ টার মধ্যে রওনা দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।
Grand Sultan Tea Resort and Golf
গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট ভিউ

রিসোর্টের পরিবেশ

আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিলাসবহুল গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট টি তৈরি করা হয়েছে সবুজ প্রকৃতি ও চা বাগানকে ঘিরে। প্রায় ১৩.২ একর জায়গার জুড়ে গড়ে উঠে এই রিসোর্টে রয়েছে বিনোদনের সব সুব্যবস্থা। একই সাথে মিলবে সবুজের সমারোহে প্রকৃতির সান্নিধ্য।

Grand Sultan Tea Resort and Golf

বুকিং নাম্বার

        ডিসকাউন্টে রুম বুকিং করতে ফোন করুন: 01755-238181

        গ্র্যান্ড সুলতানে থাকা এবং শ্রীমঙ্গল ট্যুর প্যাকেজ নিতে ফোন করুনঃ 01755-8181

রিসোর্ট সুযোগ সুবিধা

Grand Sultan Tea Resort and Golf
রাতের নৈসর্গিক সুইমিং পুল ভিউ

রিসোর্টের সুবিধা সমূহ,

  • সুইমিং পুল (Swimming Pool)
  • আউটডোর জাকুজি (Outdoor Jacuzzi)
  • লাইব্রেরী (Library)
  • ওয়াই-ফাই (Wi-fi)
  • জিম (Gym)
  • বাচ্চাদের প্লে জোন (Children Play Zone)
  • ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস (24 Hours Room Service)
  • রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফে (৫ ধরনের) (Restaurant)
  • মিটিং রুম (৩টি হল) (Meeting Room)
  • স্পা (Spa)
  • মুভি থিয়েটার (Movie Theatre)
  • আউটডোর স্পোর্টস (Outdoor Sports)
    • গলফ কোর্স (Golf Course)
    • বাস্কেট বল কোর্স (Basket Ball Course)
    • টেনিস কোর্ট (Tennis Court)
    • ব্যাডমিন্টন কোর্ট (Badminton Court)
  • ইনডোর স্পোর্টস (Indoor Sports)
    • পুল (Pool)
    • গেম সেন্টার (Game Centre)
      • পিএসফোর (PS4)
      • নিন্টেন্ডো (Nintendo)

রুম ক্যাটাগরি ও ভাড়া

কিং ডিলাক্স (King Deluxe)

  • রুম সাইজঃ ৩৮২ স্কয়ার ফিট (৩৬ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন
  • রুম ভাড়াঃ ২৭,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ৭*৭ কিং সাইজ বেড, ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (২ বোতল)

কুইন ডিলাক্স (Queen Deluxe)

  • রুম সাইজঃ ৩৮২ স্কয়ার ফিট (৩৬ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন
  • রুম ভাড়াঃ ২৭,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ৭*৫ কুইন সাইজ বেড, ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (২ বোতল)

থ্রিপল ডিলাক্স (Triple Deluxe)

  • রুম সাইজঃ ৩৮২ স্কয়ার ফিট (৩৬ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ৩ জন
  • রুম ভাড়াঃ ২৭,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ৩টি ৭*৩ সাইজ সিঙ্গেল বেড, ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (৩ বোতল)

এক্সিকিউটিভ স্যুট কিং (Executive Suite King)

  • রুম সাইজঃ ৫৬৯ স্কয়ার ফিট (৫৩ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন
  • রুম ভাড়াঃ ৩৮,৩০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ১টি মাস্টার বেড রুম এবং ১টি লিভিং রুম
    • ৭*৭ কিং সাইজ বেড, ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (২ বোতল)

এক্সিকিউটিভ স্যুট কুইন (Executive Suite Queen)

  • রুম সাইজঃ ৫৬৯ স্কয়ার ফিট (৫৩ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ২ জন
  • রুম ভাড়াঃ ৩৮,৩০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ১টি মাস্টার বেড রুম এবং ১টি লিভিং রুম
    • ৭*৫ কুইন সাইজ বেড, ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (২ বোতল)

রয়্যাল স্যুট ডিলাক্স (Royal Suite Deluxe)

  • রুম সাইজঃ ৯২০ স্কয়ার ফিট (৮৬ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ৪ জন
  • রুম ভাড়াঃ ৫৮,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ১টি কিং ডিলাক্স রুম, ১টি কুইন ডিলাক্স রুম এবং ১টি লিভিং রুম
    • ২টি আলাদা প্রবেশ দরজা, ডাইনিং স্পেস
    • ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, ৩টি মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, ২টি সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (৪ বোতল)

রয়্যাল স্যুট সুপেরিয়র (Royal Suite Superior)

  • রুম সাইজঃ ১১৬০ স্কয়ার ফিট (১০৮ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ৪ জন
  • রুম ভাড়াঃ ৬৯,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ১টি কিং ডিলাক্স রুম, ১টি কুইন ডিলাক্স রুম এবং ১টি লিভিং রুম
    • ৩টি আলাদা প্রবেশ দরজা, ডাইনিং স্পেস
    • ৩২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, ৩টি মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, ২টি সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (৬ বোতল)

প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট – রাজ প্রাসাদ (Presidential Suite – Raj Prasad)

  • রুম সাইজঃ ১৩৫০ স্কয়ার ফিট (১২৫ স্কয়ার মিটার)
  • গেস্ট সংখ্যাঃ ৪ জন
  • রুম ভাড়াঃ ৮৮,০০০ টাকা (রেগুলার রেট)
  • রুমের সুবিধা সমূহ
    • ১টি মাস্টার বেড রুম, ১টি চিল্ড্রেন বেড রুম এবং ১টি লিভিং কাম ডাইনিং রুম
    • ২টি আলাদা প্রবেশ দরজা
    • ৪২ ইঞ্চি এলসিডি টিভি, ৩টি মিনি বার, সেন্ট্রাল এসি, ২টি সেফটি ডিপোজিট বক্স
    • ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রুট বাস্কেট, রুমে চা এবং কফি বানানোর সরঞ্জাম, পানি (৬ বোতল)

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টে ২টি রেস্টুরেন্ট এবং ২টি ক্যাফে রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন দেশের কুজিন পাওয়া যায়। প্রতিটি রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। এছাড়াও ১টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে শুধুমাত্র অগ্রিম বুকিং এর মাধ্যমে যেখানে খাওয়া সম্ভব।

ফোয়ারা ডাইন (Fowara Dine)

  • কুজিন (Cuisine): কন্টিনেন্টাল, মেক্সিকান, সি ফুড, এরাবিক, থাই, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান এবং দেশীয় খাবার। চিল্ড্রেন ক্লাব মেন্যুও থাকছে।
  • পরিবেশ (Atmosphere): ফ্রেন্ডলি এবং ইনফরমাল
  • সার্ভিস স্টাইল (Service Style): ব্যুফে এবং আ-লা-কারটে
  • সার্ভিস সময় (Service Hours)
    • সকালের নাস্তা (Breakfast): সকাল ৭টা থেকে ১০.৩০টা
    • দুপুরের খাবার (Lunch): দুপুর ১২.৩০টা থেকে ৩টা
    • রাতের খাবার (Dinner): সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০.৩০টা
  • অবস্থান (Location): লবি লেভেল

অরণ্য বিলাশ (Oronno Bilash)

  • কুজিন (Cuisine): কন্টিনেন্টাল, ইরানিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, বার-বি-কি
  • পরিবেশ (Atmosphere): ফ্রেন্ডলি এবং ইনফরমাল
  • সার্ভিস স্টাইল (Service Style): আ-লা-কারটে
  • সার্ভিস সময় (Service Hours): দুপুর ১২.৩০টা থেকে রাত ১০.৩০টা
  • অবস্থান (Location): হিল টপ এরিয়া

শাহী ডাইন (Shahi Dine)

  • কুজিন (Cuisine): কন্টিনেন্টাল, এরাবিক, থাই, চাইনিজ
  • পরিবেশ (Atmosphere): ফরমাল
  • সার্ভিস স্টাইল (Service Style): ব্যুফে এবং এক্সক্লুসিভ ডেডিকেটিভ মিল কোর্স
  • সার্ভিস সময় (Service Hours): শুধু মাত্র বুকিং করে এখানে খাওয়া যাবে
  • অবস্থান (Location): লেভেল-৬

ক্যাফে মঙ্গল (Cafe Mongal)

  • কুজিন (Cuisine): চা, কফি, জুস, ফাস্ট ফুড, প্যাস্ট্রি, বেকারি
  • পরিবেশ (Atmosphere): ফ্রেন্ডলি এবং ইনফরমাল
  • সার্ভিস স্টাইল (Service Style): আ-লা-কারটে
  • সার্ভিস সময় (Service Hours): সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত
  • অবস্থান (Location): লবি লেভেল

পুল ডেক ক্যাফে (Pool Deck Cafe)

  • কুজিন (Cuisine): চা, কফি, জুস, মকটেল, ফাস্ট ফুড
  • পরিবেশ (Atmosphere): ফ্রেন্ডলি এবং ইনফরমাল
  • সার্ভিস স্টাইল (Service Style): আ-লা-কারটে
  • সার্ভিস সময় (Service Hours): সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত
  • অবস্থান (Location): সুইমিং পুলের পাশে

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং লেখা গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থানসমূহ (রিসোর্টের আশেপাশে)

  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  • মাধবপুর লেক
  • নীলকন্ঠ চা কেবিন (সাত রঙের চা)
  • চা গবেষণা ইন্সটিটিউট
  • মনিপুরী পাড়া
  • চা বাগান

রিসোর্ট ভ্রমণ প্যাকেজ

 
প্যাকেজ মূল্য
  • জনপ্রতি মাত্র ৯৯৯৯ টাকা (৩ জন শেয়ারিং রুম)
  • জনপ্রতি মাত্র ১১৯৯৯ টাকা (২ জন শেয়ারিং রুম)
যা যা পাচ্ছেন
  • এসি ট্রান্সপোর্টে আসা-যাওয়া
  • রিসোর্টে একরাত থাকা (এসি ডিলাক্স রুম)
  • ব্যুফে ও প্রিমিয়াম খাবার
  • দর্শনীয় স্থানে ঘুরে দেখা
  • প্রবেশ মূল্য (যেখানে প্রয়োজন হবে)
  • গাইডেন্স
সবই যখন হবে এত কম টাকায়, তো হয়ে যাক একটি ট্যুর। শ্রীমঙ্গলে চা বাগান বেষ্টিত লাক্সারি এই রিসোর্টে।
সুইমিংপুলে হৈচৈ, সাতরঙের চা, মনিপুরী পাড়া, অভয়ারণ্য, সুবিশাল লেক সবকিছু পাবেন এক ট্যুরে।
 
দর্শনীয় স্থানসমূহ
  • মনিপুরী পাড়া
  • নীলকন্ঠ চা কেবিন
  • লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট (খোলা থাকা সাপেক্ষে)
  • মাধবপুর লেক (খোলা থাকা সাপেক্ষে)
  • চা বাগান

বিশেষ দ্রষ্টব্য

  • আমাদের মাধ্যমে রুম বুকিং এর ক্ষেত্রে রয়েছে স্পেশাল ছাড়।
  • ফোন করুন – 01755-238181
  • ফুল বোর্ড প্যাকেজ এর উপর ছাড়
ভ্রমণ বিস্তারিত
 
১ম দিন
  • সকাল ৭ টার মধ্যে সকলের বাসা/নিকটবর্তী স্থান হতে পিক করে শ্রীমঙ্গল এর উদ্দেশ্যে যাত্রা
  • দুপুর ১২ টার মধ্যে শ্রীমঙ্গলের কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে পৌছানো
  • ফ্রেশ হয়ে লাঞ্চ সেরে রিসোর্ট এর দিকে রওনা
  • পৌছে রুমে চেক-ইন ও ফ্রেশ হওয়া
  • সুইমিংপুলে ঝাপাঝাপি অথবা অবসর সময় কাটানো
  • বিকাল ৫ টার দিকে লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট ঘুরতে যাওয়া
  • ঘোরা শেষে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে রিসোর্টে ফিরে আসা ও ফ্রী টাইম
  • রাত ৯ টার দিকে রিসোর্ট এর কাছাকাছি রেস্টুরেন্টে ডিনার
  • রিসোর্টে ফিরে এসে রাত্রি যাপন
২য় দিন
  • সকাল ১০ টার মধ্যে নাস্তা সেরে নেওয়া
  • ফ্রী টাইম, রিসোর্ট ঘুরাঘুরি বা সুইমিং করা
  • দুপুর ১২ টার দিকে শহরে ফিরে পানসীতে দুপুরের খাবার গ্রহণ
  • খাওয়া শেষে মাধবপুর লেকে রওনা
  • সেখান থেকে নীলকন্ঠ চা কেবিন আসা
  • সাত কালার চা খেয়ে বিকাল ৬ টার মধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা
  • ইনশাআল্লাহ্‌ রাত ১১ টার মধ্যে বাসা/নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছানো ও ট্যুর এর পরিসমাপ্তি
বিঃদ্রঃ যদি লাউয়াছড়া ও মাধবপুর লেক খোলা না থাকে সেক্ষেত্রে দুপুরের দিকে চেকআউট করে শহরে এসে লাঞ্চ করে চা বাগান ও নীলকন্ঠ চা কেবিন ঘুরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হবে।
 
নোটঃ যেকোন সময় ১০ জনের গ্রুপ হলেই প্যাকেজটি নিতে পারবেন একই খরচে।
 
খাবার মেন্যু (পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)
 
১ম দিন
  • সকালের নাস্তা (হোমমেড/রেস্টুরেন্ট)
    • মিনি চিকেন স্যান্ডউইচ, ভেজিটেবল রোল, ডিম, স্লাইস কেক, ফ্রুটস, পানি
    • অথবা
    • পরটা, সবজি, ডিমের ওমলেট, চা, পানি
  • দুপুরের খাবার (কুটুমবাড়ি/লন্ডন রেস্টুরেন্ট)
    • ভাত, ভর্তা, সবজি, চিকেন ঝাল ফ্রাই, সাতকরা মাটন, তরকা ডাল, পানি
  • রাতের খাবার ((দহলিজ/খান’স ক্যাফে/শান্তিবাড়ি/রাজু রেস্টুরেন্ট)
    • পরটা, সবজি/রোস্টেড পাইনএপল, চিকেন/ফিশ বার-বি-কিউ, সফট ড্রিংক্স, সালাদ, পানি
    • অথবা
    • ভাত, ৬ আইটেম ভর্তা, হাঁস ভুনা, ডাল, সালাদ, পানি
২য় দিন
  • সকালের নাস্তা (রিসোর্ট এর বুফে ব্রেকফাস্ট)
    • নানান ধরনের কন্টিনেন্টাল খাবারের আয়োজন
  • দুপুরের খাবার (চামুং রেস্টুরেন্ট)
    • ভাত, ভর্তা, সাতকরা চিকেন, ডাল, পানি
    • অথবা চাইনিজ সেট মেন্যু
    • অথবা ট্রাডিশনাল ফুড
    • অথবা খাবছা বিরিয়ানি ও ড্রিংক্স
– জেনারেল টার্মস এন্ড কন্ডিশন এপ্লিকেবল (বুকিং এর সময় জানিয়ে দেয়া হবে)
– বুকিং, ক্যান্সেলেশন ও রিফান্ড পলিসি (বুকিং এর সময় জানানো হবে)
– কিডস পলিসি ও আরও বিস্তারিত জানতে ফোন করুন
– আলোচনা সাপেক্ষে যেকোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার ক্ষমতা ট্যুরে যাবো কর্তৃপক্ষ রাখে
– যেকোন প্রয়োজনে ফোন করুনঃ ০১৭৫৫-২৩৮১৮১

 

আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

এক বইয়ে ১৩০০+ দর্শনীয় স্থানের তালিকা

২০২০ সালে ‘অদেখা বাংলার খোঁজে’ নামে ফেসবুক অ্যালবাম তৈরি করেছিলাম। যেখানে ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান নিয়ে পোস্ট করতাম। দুই বছরে সেই তথ্যগুলোকেই আরেকটু গুছিয়ে, আরো তথ্যবহুল করে ই-বুক হিসেবে পাবলিশ করেছি।
বইটি কিভাবে পাবেন?
  • আপনাকে বইঘরের ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে।
  • মাত্র ৫০ টাকা বিকাশ / নগদ / রকেট বা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে পেমেন্ট করুন।
  • বইটি কেনার পর সেটি অ্যাপের মাই লাইব্রেরি সেকশনে যুক্ত হয়ে যাবে, ১ ক্লিকে ১০ সেকেন্ডের কম সময়ে ডাউনলোড করে নিন।
  • এরপর অনলাইন বা অফলাইন, যে কোনো অবস্থায় বইটি পড়তে পারবেন

Saint Martin Ship Ticket Price and Booking Details (2022-2023)

In this article, you will know all the details about saint martin ship and ticket booking.

Saint Martin Ship FAQ

  • When ship from teknaf will start?
    • No date has been announced yet.
  • When will the ship start its Journey from CoxBazar to Saint Martin?
    • From CoxBazar, depends on Tide 5 AM to 9.30 AM.
    • From St. Martin 3.30 to 4.30 PM
  • When will the ship start its Journey from Chittagong to Saint Martin?
    • From Chittagong at 10 PM, Reach at 7/8 AM
    • From Saint Martin at 9 AM, Reach at 7/8 PM

St. Martin Ship Time Schedule

CoxBazar to Saint Martin Karnafuly Ship Ticket Price

Karnafuly Express Ship

Seat Name Price (Up-Down)
Economy Class Chair
(Lavender/Marigold)
3000/-
Business Class Chair
(Gladiolus)
4000/-
Open Deck Chair 4000/-
Lilac Lounge 4000/-
VIP/Chrysanthemum Lounge 4500/-
Single Cabin 7500/-
Twin Cabin 12,000/-
VIP Cabin 20,000/-
VVIP Cabin 28,000/-

 

For Karnafully Ship Ticket booking Please Call, 01755238181

Teknaf to St Martin Ship Ticket Price (This route this Close Now)

All Ship Ticket Price

জাহাজের নাম নিচতলা দোতলা বিজনেস ক্লাস
Keari Sindbad
Keari Cruise and Dine (AC)
MV Farhan 2
Sukanto Babu
Green Line (AC)
Karnafuly Express 3000 – 28,000 Tk
Bay One 7500 – 50,000 Tk

Keari Sindbad (Off NOW)

Keari Sindbad

First and Most popular ship of Teknaf-St Martin Route is Keari Sindbad Ship. My favorite seat is Open Deck. This ship has 346 Seats.

Seat Name Price (Up-Down) Location
Main Deck Ground Floor
Open Deck 1st Floor
Bridge Deck 1st Floor

Keari Cruise and Dine (Off Now)

Keari Cruise & Dine

Keari Cruise and Dine is a AC Ship.

Seat Name Price (Up-Down) Location
Main Deck (Exclusive Lounge) Ground Floor
Open Deck (Coral Lounge) 1st Floor
Bridge Deck (Pearl Lounge) 1st Floor

ST Shahid Sukanto Babu (Off Now)

Sukanta Babu Ship

Seat Name Price (Up-Down) Location
Main Deck Ground Floor
Open Deck 1st Floor

MV Farhan Ship Ticket Price (Off Now)

MV Farhan 2

Seat Name Price (Up-Down) Location
Economy Ground Floor
Business 1st Floor

Green Line (Off Now)

Green Line

Seat Name Price (Up-Down) Location
Economy Ground Floor
Business 1st Floor

Dhaka Office

Rajarbagh
9/2 Outer Circular Road,
Momenbagh, Rajarbagh.
+880-2-8315380
+880-2-9339623
+880-2-8331302

Kallayanpur – 1
4 South Kallayanpur,
Sohrab Petrol Pump
+880-2-9008694
+88-01730060080

Kallayanpur – 2
9 South Kallayanpur,
Khaleq Petrol Pump.
+880-2-8032957

Kalabagan
69 Sheikh Rasel Square, Kalabagan, Panthapath.
+880-2-9133145
+88-01730060006
+880-2-9112287

Arambagh
167/1 Eden Complex, Arambagh, Motijheel.
+880-2-7192301
+88-01730060009

Fakirapool
12 Fakirapool, Hotel Estern.
+880-2-7191900

Sayedabad
35/9 Brammanchiran, Golapbagh
+8804478660011

Uttara
House # 4, Road #12, Sector #6,
House Building
+88-01970060075

Badda
Kha/195, Middle Badda
Opposite of Lion Eye Hospital, Gulshan.
+88-01970060074

NADDA
Abid Ali Market, Opposite of Jamuna Future Park
Nadda, Gulshan.
+88-04478660021

Chittagong to Saint Martin Bay One Ship Ticket Price

Bay One Cruise Ship

Seat Name Price (Up-Down) Price (One Way)
Economy Class Chair
(Deck E & Deck F –
1st and 2nd Floor)
5000/- 2800/-
Business Class Chair
(Deck D – 3rd Floor)
7000/- 3700/-
Open Deck Chair
(Deck A – 6th Floor)
7500/- 4500/-
Bunker Bed (1 Person)
(Deck C – 4th Floor)
8000/- 5000/-
(VIP Presidential Suite (2 Person)
(Deck B – 5th Floor)
38,000/- 20,000/-
Royal Suite (2 Person)
(Deck A – 6th Floor)
40,000/- 23,000/-
VVIP Cabin (2 Person)
(Deck A – 6th Floor)
45,000/- 25,000/-
Family Bunker Bed (4 Person)
(Deck A – 6th Floor)
35,000/- 19,000/-
VIP Presidential Plus (4 Person)
(Deck A – 6th Floor)
45,000/- 25,000/-
The Emperor Cabin (2 Person)
(Deck A – 6th Floor)
50,000/- 28,000/-

For Bay-One Ship Ticket Please Call, 01755238181

Saint Martin Ship FAQ

  • When ship start Journey from Teknaf to Saint Martin?
    • From Teknaf 9.30 AM, Reach at 12-12.30 PM
    • From Saint Martin 3 PM, Reach at 5.30-6.30 PM
  • When ship start Journey from CoxBazar to Saint Martin?
    • From CoxBazar, depends on Tide 5AM to 9.30 AM.
    • From Teknaf 3.30 to 4.30 PM
  • When ship start Journey from Chittagong to Saint Martin?
    • From Chittagong 10 PM, Reach at 7/8 AM
    • From Saint Martin 9 AM, Reach at 7/8 PM

Read More

দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (খরচসহ সব তথ্য)

সেন্টমার্টিন দ্বীপের অসাধারণ সুন্দর এক রিসোর্ট দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (Dwipantor Beach Resort)। চলুন রিসোর্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রিসোর্টের ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা
  • রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

রিসোর্টের অবস্থান

Dwipantor Beach Resort
দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্টে হ্যামকে দোল খেতে খেতে সমুদ্র দর্শন

দীপান্তর রিসোর্টটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম বিচে অবস্থিত। রিসোর্টের চারিদিকে রয়েছে প্রচুর নারিকেল গাছ। রিসোর্টের ঠিক সামনেই সমুদ্র সৈকত। জোয়ারের সময় রিসোর্টের দোরগোড়ায় পানি আছড়ে পড়ে।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

ঢাকা বা দেশের যে কোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে ভ্যানে করে দীপান্তর বিচ রিসোর্ট যাওয়া যাবে।

রিসোর্ট সুযোগ সুবিধা

রুমঃ ইকো রুম, তাঁবু।

ওয়াশরুমঃ প্রতিটি কটেজে স্ট্যান্ডার্ড ওয়াশরুম (ইংলিশ/হাই কমোড) করা হয়েছে।

রিসোর্টে যেসব সুবিধা পাবেন,

  • কমপ্লিমেন্টারি সকালের নাস্তা
  • ব্র্যান্ডের টয়লেটারিজ
  • সি-ভিউ রুম
  • রিসোর্টের সামনের বিচ থেকে নৈসর্গিক সূর্যাস্ত দেখা
  • নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ‘Charcoal’
দিপান্তর বিচ ভিউ রিসোর্ট
দ্বীপান্তরের অবসন্ন দুপুর

রিসোর্ট ভাড়া

রিসোর্টটিতে ১৩টি কটেজ।

  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম কাপল কটেজঃ ৩টি (এক রুমে ২ জন থাকতে পারবে)
  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম ডুপেক্স কটেজঃ ২টি (স্ট্যান্ডার্ড-৪ জন। এক্সট্রা বেডসহ সর্বোচ্চ ৬ জন থাকতে পারবে)
  • এক্সক্লুসিভ কাপল কটেজঃ ৩টা (এক রুমে ২ জন থাকতে পারবে)
  • স্টুডিও রুমঃ ৫টি (৪টা কাপল রুম(২ জন), ১টা ফ্যামিলি রুম(৪ জন))
  • স্ট্যাটার্ড ওয়েতে, একইদিনে সর্বমোট ৩২ জন থাকতে পারবে।
  • এক্সট্রা বেড সহ একই দিনে সর্বোচ্চ ৪২-৪৪ জন থাকতে পারবে।

ভাড়ার তালিকা নিচে দিয়ে দিলাম,

  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম কাপল কটেজঃ ৬০০০ টাকা
  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম ডুপেক্স কটেজঃ ৮০০০ টাকা
  • এক্সক্লুসিভ কাপল কটেজঃ ৫০০০ টাকা
  • স্টুডিও কাপল রুমঃ ৪০০০ টাকা
  • স্টুডিও ফ্যামিলি রুমঃ ৪৫০০ টাকা
  • এক্সট্রা বেডঃ ৭৫০ টাকা 
  • এক্সট্রা বেডসহ সবার জন্য কমপ্লিমেন্টারি নাস্তার ব্যবস্থা থাকবে।
Dwipantor Beach Resort
বিচ ভিউ প্রিমিয়াম ডুপ্লেক্স কটেজ
বিচ ভিউ প্রিমিয়াম সিঙ্গেল কটেজ
বিচ ভিউ প্রিমিয়াম সিঙ্গেল কটেজ

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট রয়েছে। নাম – ‘Charcoal’

রিসোর্টে না থাকলেও প্রি-অর্ডারের ভিত্তিতে রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া যাবে। ফোন নাম্বার – 01310183464

রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

ডিসকাউন্টেড প্রাইসে রুম বুক করতে ফোন করুনঃ 01755238181

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য দীপান্তর বিচ রিসোর্ট ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

সেন্টমার্টিণ ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে অথবা ফেসবুকে ম্যাসেজ করুন।

পদ্মা দেখতে পাটুরিয়া, নদী পার হয়ে ফরিদপুর

ফেরীর তিনতলায় বসে পদ্মা দেখার শখ হয়েছে। গাবতলী গিয়ে দেখি ঝকঝকে চকচকে সেলফী পরিবহন, গাবতলী-পাটুরিয়া রুটে চলাচল করে। বাসে চড়ে বসলাম। কত দিন, কতগুলো দিন পর বাসে উঠা। কি করবো, কই যাবো জানিও না। ঠিক যেমনিভাবে আগে একা ঘুরে বেড়াতাম। ভিতরে ভিতরে দারুন রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম।

আমিন বাজার পার হয়ে বাস টানা শুরু করতেই সারা শরীরে সুখের স্পন্দন টের পেলাম। বাসে সিট পেয়েছি পেছনের দিকে। গতির সাথে সাথে বাস ঝাঁকি খাচ্ছে। আহা, কি সুখ। কি সুখ।

পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে বেশ অবাক হলাম। সবকিছুই যেন নতুন। কিছুই চিনতে পারছি না। যোহরের ওয়াক্ত থাকায় প্রথমে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে ফেরী ঘাটে যাওয়ার জন্য রিকশা নিলাম। ভাড়া জিজ্ঞাসা করতেই বললো, ২০ টাকা। আমিও উঠে পড়লাম। ৩০ সেকেন্ড পরেই ঘাটে নামিয়ে দিতেই আক্কেল গড়ুম হয়ে গেলো। ১ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ২০ টাকা খসিয়ে নিলো!

দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ফেরীতে উঠলাম। ফেরীর তিনতলা থেকে গাড়ি লোড-আনলোড দেখার যে সুখ, তা যারা না দেখেছে তাদের বলে বুঝানো সম্ভব না। অবশ্য সবাই এতে সুখ খুঁজে নাও পেতে পারে। আমি খুব ক্ষুদ্র কিছুতেই সুখ খুঁজে নিতে পছন্দ করি।

Paturia-Faridpur

পদ্মার মনকাড়া বাতাস খেতে খেতে আসরের ওয়াক্ত হয়ে গেলো। নামাজ পড়ে নিলাম। আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর সূর্য। সবাই বলে, চাঁদ সুন্দর। জোছনা সুন্দর। সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়ের খাতিরে সূর্যের কিছুটা নাম-ডাক থাকলেও এমনিতে প্রকৃতি পূজারী ভ্রমণপিয়াসুদের কাছে সূর্যের তেমন দাম নেই। কিন্তু স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সূর্য যে কতটা অপরূপ তা যারা চোখে দেখে নি বা খুঁজতে চায় নি তারা জানবেই বা কিভাবে?

সে যাই হোক। আমি কি দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশের ক্ষুদ্র অপচেষ্টা করা যাক। পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে বেশ আগেই। সূর্যাস্তের তখনো ঢের বাকি। না শীত, না গরম আমরা যাকে বসন্ত বলি; সেই ঋতুর খপ্পরে পড়ে আকাশের মনোভাব বোঝা দায়। এই যেমন আজ কেমন মেঘ মেঘ করেছে। কি এক চাঁদর দিয়ে ঢেকে সব তেজ শুষে নিয়েছে। সেই তেজহীন দীপ্ত আলো পদ্মার বুকে পড়ে তৈরি করেছে এক মোহনীয় আলো। যে আলোয় চলা বাড়ন। যে আলোয় থমকে থাকতে হয়। দিগন্ত বিস্তৃত পদ্মার অগাধ জলে নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে আমিও থমকে গিয়েছিলাম। বেরসিক ফেরী মাস্টার ঘাটে না ভিড়ালে সে যাত্রা থেকে মুক্তি নিতাম সে সাধ্য আমার ছিলো না।

Paturia-Faridpur

ফেরী থেকে নেমে রিকশা নিয়ে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল চলে গেলাম। এর আগে একবার এমনই হুট করে রাজবাড়ি চলে গিয়েছিলাম। এবার আর সেদিকে যেতে ইচ্ছা করলো না। ফরিদপুরের দূরত্ব দেখলাম ৩৩ কিলো। আমি আগে ফরিদপুরে যাই নি। তেমন কিছু দেখা হবে না জানি। তবু সন্ধ্যায় কিছুটা সময় কাটানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। তাছাড়া আমার শান্ত হয়ে থাকা তেমন পছন্দ না। আমার একা ভ্রমণের বেশির ভাগ সময় প্রায় ৭০-৮০% জুড়ে থাকে ছুটে চলা।

ঘন্টাখানেক পর ফরিদপুর নেমে কয়েকটা দোকানে ঢুঁ মেরে হালকা নাস্তা করে আবার বাসে চড়ে বসলাম। বাড়ি ফিরতে হবে। বাড়িতে অসুস্থ মা অপেক্ষা করে আছে। তাঁর ছেলে বাড়ি ফিরবে। তাকে দেখবে…

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

সাংগ্রাই হিল রিসোর্ট (খরচসহ সব তথ্য)

সাজেকের রুইলুই পাড়ায় সাংগ্রাই হিল রিসোর্ট (Sangrai Hill Resort) অবস্থিত। চলুন রিসোর্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রিসোর্টের ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা
  • রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

রিসোর্টের অবস্থান

সাজেকে ভারতের লুসাই পাহাড় যে পাশে সাংগ্রাই হিল রিসোর্টটি সেই পাশে অবস্থিত। রিসোর্টের বারান্দা বা রুম থেকেই অপরূপ সূর্যোদয় দেখা যায়।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

ঢাকা বা দেশের যে কোন স্থান থেকে প্রথমে সাজেক যেতে হবে। সাজেক গিয়ে রুইলুই পাড়াতে সাংগ্রাই হিল রিসোর্ট। সাজেক কিভাবে যাবেন এবং কি কি দেখবেন তা জানতে সাজেক ভ্রমণের বিস্তারিত গাইড পড়ে নিতে পারেন। 

Sangrai Hill Resort
সাংগ্রাই হিল রিসোর্ট রুম ভিউ

রিসোর্ট সুযোগ সুবিধা

রুমঃ প্রতিটি রুম কাঠ+ছন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ভাবে তৈরী করা হয়েছে।

ওয়াশরুমঃ প্রতিটি কটেজে স্ট্যান্ডার্ড ওয়াশরুম (ইংলিশ/হাই কমোড) করা হয়েছে।

Sangrai Hill Resort
মেঘ দেখবো, বৃষ্টি দেখবো নাকি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিবো

রিসোর্টে যেসব সুবিধা পাবেন,

  • বুকসেলফ (অবশ্যই বই থাকবে)
  • বিছানায় শুয়ে সূর্যোদয় দেখা
  • অসাধারন দৃশ্য সম্বলিত বারান্দা
  • হাই কমোডে বসে মেঘ বা বৃষ্টি দেখার সুযোগ!

রিসোর্ট ভাড়া

রিসোর্টটিতে ৫টি কটেজ রয়েছে। প্রতিটি কটেজে ২ জন থাকতে পারবে। এবং এক বেডে শেয়ার করে সর্বোচ্চ ৩জন থাকা যাবে। কোন অতিরিক্ত পেমেন্ট করতে হবে না।

  • শুক্র এবং শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিনঃ ৫০০০ টাকা
  • রবি-বৃহস্পতিবারঃ ৪৫০০ টাকা

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টে কোন খাবার ব্যবস্থা নেই। বাইরের রেস্টুরেন্টে খেতে হবে। এবং সাজেকে খাবারের ক্ষেত্রে প্রি-অর্ডার করতে হয়।

ডিসকাউন্টে রুম বুক করতে ফোন করুন – 01755-238181

সাজেকে গ্রুপ ট্যুর, কাপল ট্যুর, ফ্যামিলি ট্যুর, কর্পোরেট ট্যুরের জন্য ফোন করুনঃ 01755238181 নাম্বারে

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং লেখা সাংগ্রাই ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

রাতারগুল হলিডে হোম (খরচসহ সব তথ্য)

সিলেটের রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের সন্নিকটে রাতারগুল হলিডে হোম (Ratargul Holiday Home) অবস্থিত। চলুন রিসোর্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টের পরিবেশ
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রিসোর্টের ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা
  • রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

রিসোর্টের অবস্থান

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার মহিষখের গ্রামে এয়ারপোর্ট-হরিপুর রোডে রাতারগুল হলিডে হোম অবস্থিত।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

সিলেট এয়ারপোর্ট/বাস স্টেশন/রেল স্টেশন থেকে রিজার্ভ সিএনজি, রেন্ট-এ-কার নিয়ে সরাসরি রিসোর্টে যাওয়া যাবে।

রিসোর্টের পরিবেশ

আপনি যদি শহুরে ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য বিরতি নিতে চান তাহলে হলিডে হোম হতে পারে একটি উপভোগ্য গন্তব্য। এখানে রয়েছে শান্ত লেক, অমাবস্যার রাতে আকাশ ভরা তারাদের মেলা কিংবা চাঁদনি রাতে অবাক করা জোছনা উপভোগের সুযোগ। রিসোর্টের ছাদ থেকে দেখতে পারবেন রাতারগুল জলাভূমি এবং ভারতের মেঘালয় পাহাড়।

রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা

  • ত্রিপল ডুপ্লেক্স রিসোর্ট
  • ৫টি এটাচ ওয়াশরুম সহ এসি রুম । প্রতিটি রুম আলাদাভাবে বুকিং করা যায় আবার চাইলে পুরো ভিলাও কম খরচে বুকিং করা যায়।
  • কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট
  • নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
  • বার-বি-কিউ
  • ওপেন স্পেস
  • বাচ্চাদের জন্য প্লে গ্রাউন্ড
  • লেকে বোট চালানোর ব্যবস্থা
  • রাতারগুল ফরেস্টে কায়াকিং করার ব্যবস্থা
  • রিসোর্ট থেকে রাতারগুল ফরেস্ট খুবই কাছে
  • আশেপাশে ঘুরে দেখার মত আকর্ষনীয় কিছু স্থান
    • রাতারগুল
    • বিছানাকান্দি
    • খাদিমনগর ন্যাশনাল পার্ক
    • চা বাগান
  • বন্ধু, ফ্যামিলি আউটিং, পিকনিক, পার্টি, অফিসিয়াল প্রোগ্রাম অথবা শুটিং সব কিছুই সম্ভব রাতারগুল হলিডে হোমে।

রিসোর্টের ভাড়া

রুম ভাড়া
পুরো রিসোর্ট ৩০,০০০ + ১৫% ভ্যাট
নিহারিকা (তৃতীয় তলা) ৬০০০ + ১৫% ভ্যাট
কদম ( দ্বিতীয় তলা) ৫০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
হিজল ( দ্বিতীয় তলা) ৪০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
তমাল ( দ্বিতীয় তলা) ৪০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
জোনাকি ( নিচতলা) ৫০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
  • সম্পুর্ণ ভিলা
    • ভাড়াঃ ৩০,০০০ টাকা (ত্রিশ হাজার) + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ১২ জন
    • সর্বোচ্চ ১৮ জন থাকতে পারবে। অতিরিক্ত থাকতে চাইলে ৫০০ টাকা ম্যাট্রেস চার্জ দিতে হবে।
    • অফারঃ সম্পূর্ণ ভিলা বুকিং দিলে অফার প্রাইস থাকে। বুকিং দেওয়ার সময় জেনে নিবেন।

আলাদা রুম বুকিং নিতে চাইলে,

  • নিহারিকা (তৃতীয় তলা)
    • ভাড়াঃ ৬০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ৪ জন
    • ১টি ডাবল বেড
    • ব্যালকনি
    • এটাচড টেরেস
Kodom - Ratargul Holiday Home Resort
  • কদম ( দ্বিতীয় তলা)
    • ভাড়াঃ ৫০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ২ জন
    • ১টি ডাবল বেড
    • এটাচড ব্যালকনি
  • হিজল ( দ্বিতীয় তলা)
    • ভাড়াঃ ৪০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ২ জন
    • ২টি সিঙ্গেল বেড
    • এটাচড ব্যালকনি
Tomal - Ratargul Holiday Home Resort
  • তমাল ( দ্বিতীয় তলা)
    • ভাড়াঃ ৪০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ২ জন
    • ২টি সিঙ্গেল বেড
    • ব্যালকনি
Jonaki - Ratargul Holiday Home Resort
  • জোনাকি ( নিচতলা)
    • ভাড়াঃ ৫০০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট
    • ক্যাপাসিটিঃ ২ জন
    • ১টি ডাবল বেড
    • এটাচড ব্যালকনি

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

বুকিং এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে কল করুন : 01810 011 141

ফেসবুক পেজঃ রাতারগুল হলিডে হোম – Ratargul Holiday Home

ওয়েবসাইটঃ https://ratargulholidayhome.com

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং লেখা রাতারগুল হলিডে হোম ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

রিসোর্ট রিভিউ – পেটুক কাপল

আরো পড়ুন

ভ্রমন শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে যাবো না।

সেন্টমার্টিন ট্যুর প্যাকেজ

সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট এক দ্বীপ চারপাশে স্বচ্ছ নীল পানি। দ্বীপে যেতে হয় জাহাজে করে নদী-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। ভাবতেই কেমন রোমাঞ্চ অনুভব হচ্ছে, তাই না? ছোট্ট দ্বীপটির নাম সেন্ট মার্টিন (Saint Martin)। সমুদ্রের ডাকে ঘুরে আসুন সেন্টমার্টিন থেকে।

ভ্রমণ খরচ

  • ৪ জনের প্যাকেজ,
    • ১ রাত সেন্ট মার্টিন থাকা
      • ৫৪৯৯/- টাকা জনপ্রতি (নন-এসি বাস)
      • ৬৬৯৯/- টাকা জনপ্রতি (এসি বাস)
      • ৭৬৯৯/- টাকা জনপ্রতি (বিজনেস ক্লাস এসি বাস )
    • ২ রাত সেন্ট মার্টিন থাকা
      • ৬৯৯৯/- টাকা জনপ্রতি (নন-এসি বাস)
      • ৮১৯৯/- টাকা জনপ্রতি (এসি বাস)
      • ৯১৯৯/- টাকা জনপ্রতি (বিজনেস ক্লাস এসি বাস )
    • নূন্যতম ৪জন হলে এই প্যাকেজটি যেকোন সময় নিতে পারবে
  • কাপল প্যাকেজ
    • ১ রাত সেন্ট মার্টিন থাকা
      • ৬১৯৯/- টাকা জনপ্রতি (নন-এসি বাস)
      • ৭৩৯৯/- টাকা জনপ্রতি (এসি বাস)
      • ৮৩৯৯/- টাকা জনপ্রতি (বিজনেস ক্লাস এসি বাস )
    • ২ রাত সেন্ট মার্টিন থাকা
      • ৮১৯৯/- টাকা জনপ্রতি (নন-এসি বাস)
      • ৯৩৯৯/- টাকা জনপ্রতি (এসি বাস)
      • ১০৩৯৯/- টাকা জনপ্রতি (বিজনেস ক্লাস এসি বাস )
  • চাইল্ড পলিসি
    • ০-৩ বছর পর্যন্ত বাচ্চা ফ্রি
    • ৩+ বয়সের বাচ্চার ক্ষেত্রে যেসব সার্ভিস আলাদা নিবে সেগুলো পেমেন্ট করতে হবে (আলোচনা সাপেক্ষে)

ভ্রমণ প্যাকেজের সেবাসমূহ

  • ঢাকা-টেকনাফ-ঢাকা নন-এসি/এসি বাস টিকেট
  • টেকনাফ-সেন্টমার্টিন-টেকনাফ জাহাজ টিকেট
  • সেন্টমার্টিনে রিসোর্টে থাকা
  • টেকনাফে নাস্তা
  • সেন্টমার্টিনে নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার

খাবার মেন্যু

  • ১ম দিন (টেকনাফে সকালের নাস্তা)
    • পরোটা, সবজি/ডাল, ডিম, পানি
  • সেন্টমার্টিনে দুপুরের খাবার
    • সাদা ভাত, সামুদ্রিক মাছ/মুরগী, ডাল, সবজি/ভর্তা, সালাদ।
  • সেন্টমার্টিনে রাতের খাবার
    • পরোটা, মাছ/মুরগী বার-বি-কিউ, ড্রিংকস, সালাদ।
  • ২য় দিন (সেন্টমার্টিনের সকালের নাস্তা)
    • ডিম খিচুড়ি
  • সেন্টমার্টিনে দুপুরের খাবার
    • সাদা ভাত, সামুদ্রিক মাছ/মুরগী, ডাল, সবজি/ভর্তা, সালাদ।
  • সেন্টমার্টিনে রাতের খাবার
    • পরোটা, মাছ/মুরগী বার-বি-কিউ, ড্রিংকস, সালাদ।
  • ৩য় দিন (সেন্টমার্টিনের সকালের নাস্তা)
    • ডিম খিচুড়ি
  • সেন্টমার্টিনে দুপুরের খাবার
    • সাদা ভাত, সামুদ্রিক মাছ/মুরগী, ডাল, সবজি/ভর্তা, সালাদ।

যেসব খরচ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত নয়

  • ছেঁড়াদ্বীপে যাতায়াত খরচ
  • প্যাকেজে বলা খাবার ব্যতীত অন্য খাবার খরচ
  • ব্যক্তিগত কোন খরচ (শপিং, ওষুধ ইত্যাদি)
  • বাস বিরতিতে খাবার খরচ

প্যাকেজ কনফার্মেশন পলিসি

  • সরাসরি আমাদের অফিসে এসে বুকিং মানি দিয়ে কনফার্ম করতে পারেন।
  • বিকাশ/নগদ/রকেটে পেমেন্টের মাধ্যমে কনফার্ম করতে পারেন।
  • কনফার্মেশনের জন্য টোটাল খরচের ৫০% এডভান্স করতে হবে(অফেরতযোগ্য)।

অফিসের ঠিকানা

Road-14/1, Block-G, H-62, Niketon, Gulshan-1, Dhaka, Bangladesh 1212 (Near Anik Tower/Brac Bank Bhaban)

এছাড়াও,

  • কর্পোরেট ট্যুর
  • কাস্টমাইজ ট্যুর
  • স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি বড় গ্রুপের ট্যুর আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

যেকোন ধরনের অনাকাঙ্খিত দুর্যোগ, যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপত্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে জাহাজ চলাচল বন্ধের কারনে অতিরিক্ত খরচ বা ভ্রমণে ব্যাঘাত ঘটলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এবং এজেন্সির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হিসেবে গন্য হবে।

সম্মানিত ক্লায়েন্টদের প্রতি অনুরোধ

  • নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত ময়লা ফেলবেন না
  • জাহাজ থেকে চিপস প্যাকেট, চা/কফির কাপ, বোতল নদী বা সমুদ্রে ফেলবেন না
  • প্রবাল পাথর স্যুভনির হিসেবে নিয়ে আসবেন না
  • স্থানীয়দের সাথে বিবাদে জড়াবেন না

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে যাবো না।

টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ রিসোর্ট (খরচসহ সব তথ্য)

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম টিলাগাঁও। সেই গ্রামেই গড়ে তোলা হয়েছে টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ রিসোর্ট (Tilagaon Eco Village Resort).

চলুন রিসোর্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

  • রিসোর্টের অবস্থান
  • রিসোর্টে যাওয়ার উপায়
  • রিসোর্টের পরিবেশ
  • রিসোর্টে সুযোগ সুবিধা
  • রিসোর্টের ভাড়া
  • রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টের অবস্থান

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার টিলাগাঁও গ্রামে টিলাগাঁও রিসোর্টটি অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল থেকে সিএনজিতে (ভানুগাছ রোডে) ১২ কিলো দূরে বটেরতল। বটেরতল থেকে ৩ কিলো ভেতরে টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ।

রিসোর্টে যাওয়ার উপায়

বাস বা ট্রেনে প্রথমে শ্রীমঙ্গল আসতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে করে ১৫ কিলো দূরে টিলাগাঁও রিসোর্ট।

শ্রীমঙ্গল থেকে বটেরতল যাবার রাস্তাটা অসাধারণ। গাড়ি ছাড়ার পরেই রাস্তার ২ ধারে চা বাগানের দেখা মিলবে। তার একটু পরেই লাউয়াছড়া বন। বনের মধ্যে দিয়ে রাস্তা হওয়ায় রাস্তার ২ পাশে ঘন জঙ্গল আর উঁচু-নিচু কঠিন কঠিন বাক ঘুরেফিরে গাড়ি এগিয়ে যাবে। হঠাৎ করেই শীতলতা অনুভব করতে থাকবেন। অনেকটা ডুয়ার্স এর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে রাস্তা যেমন, তেমন অনুভূতি পাওয়া যাবে। আঁকাবাঁকা রাস্তার দু পাশের সবুজের সমারোহের সম্মোহন কাটতে কাটতে পৌঁছে যাবেন টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ রিসোর্ট।

শ্রীমঙ্গল থেকে গাড়িতে ২০ মিনিট সময় লাগে টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ রিসোর্ট পৌঁছাতে। লাউয়াছড়া বন পার হলে বটের তল নামে জায়গা পাওয়া যাবে। সেখানে থেকে ডানে মোড় নিলে ৩ কিলোমিটার দূরে রিসোর্টের অবস্থান।

  • বাস
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল – লাউয়াছড়া বন – বটের তল – টিলাগাঁও
    • যেসব বাস চলেঃ এনা, হানিফ, শ্যামলি
    • ভাড়াঃ ৫৭০ টাকা (নন এসি)

বি.দ্র. ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার পূর্বে আপডেটেড ভাড়া জেনে নিবেন।

  • ট্রেন
    • রুটঃ ঢাকা – শ্রীমঙ্গল – লাউয়াছড়া বন – বটের তল – টিলাগাঁও (ট্রেন থেকে শ্রীমঙ্গল নামলে)
    • রুটঃ ঢাকা – ভানুগাছ – টিলাগাঁও (ট্রেন থেকে ভানুগাছ নামলে)
    • যেসব ট্রেন চলেঃ পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন, কালনী
    • ভাড়াঃ (ঢাকা – শ্রীমঙ্গল)
      • শোভন চেয়ারঃ ২৪০ টাকা
      • স্নিগ্ধাঃ ৪৬০ টাকা (এসি)
      • এসি সিটঃ ৫৫২ টাকা
    • ভাড়াঃ (ঢাকা – ভানুগাছ)
      • শোভন চেয়ারঃ ২৫০ টাকা
      • স্নিগ্ধাঃ ৪৮৩ টাকা (এসি)

বি.দ্র. ভাড়া যেকোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। যাওয়ার পূর্বে আপডেটেড ভাড়া জেনে নিবেন।

Tilagao Eco Village Resort
হ্যামকে দোল খেতে খেতে শান্তি খুঁজে নেওয়া

রিসোর্টের পরিবেশ

নির্জন সবুজের অরণ্যর মাঝে মাটি এবং কাঠের তৈরি প্রতিটি কটেজ। বানরের বাঁদরামি আর শেয়ালের ডাক এখানটায় খুব অতি সাধারন ব্যাপার। ক্ষেতের টাটকা সবজি-ফল আর মাটির চুলায় রান্না করা দেশি মুরগি আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে ভাত। এখানে রাতের আবহ নিয়ে আসে ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর শেয়ালের ডাক। রিসোর্টে রয়েছে লাভ শেইপের একটি পুকুর। পূর্ণিমায় সেই পুকুরে চাঁদের ছায়া পরে । চাঁদের আলোতে আলোকিত হয় দুরের চা বাগান পর্যন্ত। সে চাঁদের আলোয় ভেসে যেতে বাধ্য যে কেউ। অবাক হয়ে দেখতে হবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাঝে ছোট্ট এই টিলাগাঁও ইকো ভিলেজ কি সুন্দর।

Tilagao Eco Village Resort
পূর্ণিমা রাতে টিলাগাঁও

রিসোর্ট সুযোগ সুবিধা

রুমঃ প্রতিটি রুম মাটি+কাঠ+ছন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ভাবে তৈরী করা। রুমে রয়েছে বাশের তৈরী খাট, সোফা, ড্রেসিং টেবিল, টি টেবিল, আলমারি সহ প্রয়োজনীয় সব এমিনিটিজ।

ওয়াশরুমঃ প্রতিটি কটেজে স্ট্যান্ডার্ড ওয়াশরুম (ইংলিশ/হাই কমোড) করা হয়েছে।

Tilagaon Eco Resort
প্রাইভেট পুল
Tilagaon Eco Resort
নৈসর্গিক প্রাইভেট পুল ভিউ

রিসোর্টের সুবিধা সমূহ,

  • সুইমিং পুল (কমন) এবং সুইমিং পুল (প্রাইভেট ভিলা)
  • লেক ভিউ ওপেন রেস্টুরেন্ট
  • হ্যামক
  • গাছগাছালিতে ভরপুর টিলা বেষ্টিত খোলামেলা পরিবেশ
  • লাভ শেপের পুকুর ( দারুন সব ছবি তোলা যাবে)
  • মাটির ঘর
  • পাখির কিচির মিচির
  • কাছেই চা বাগান
  • ব্যাকপ্যাকার্স ট্রাভেলার্সদের জন্য তাঁবু সুবিধা

খাবার ব্যবস্থা

    • রেস্টুরেন্ট
    • অর্গানিক এবং স্থানীয় ফ্রেশ ফল
    • স্ন্যাকস (আগে থেকে জানাতে হবে)
    • বার-বি-কিউ

রিসোর্ট ভাড়া

রিসোর্টটিতে রয়েছে ৫টি মাটির ঘর, ৪টি এসি ভিলা এবং একটি প্রাইভেট পুল ভিলা।

সাথে আছে একটি কমন সুইমিংপুল এবং একটি লেক ভিউ ওপেন রেস্টুরেন্ট।

প্রতিটি কটেজে ২ জন করে থাকতে পারবে। অতিরিক্ত ম্যাট্রেস নিলে আরো ২ জন থাকতে পারবে। মানে, এক রুমে ৪ জন।

কটেজের রেগুলার ভাড়া,

  • মাড হাউজঃ ৫৫০০ টাকা
  • এসি ভিলাঃ ৭০০০ টাকা
  • প্রাইভেট পুল ভিলাঃ ১১০০০ টাকা (সর্বোচ্চ ৩জন থাকতে পারবে)

বিভিন্ন সময় ডিসকাউন্ট অফার থাকে। বুকিং করার সময় কোন ডিসকাউন্ট রয়েছে কিনা জেনে নিবেন।

*প্রতিটি কটেজের সাথে কমপ্লিমেন্টারি পাবেন,

  • ওয়েলকাম ড্রিংক্স
  • সুইমিংপুল
  • সকালের নাস্তা
  • মিনারেল ওয়াটার

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা

রিসোর্টের নিজস্ব রান্নাঘর রয়েছে। প্রি-অর্ডারের ভিত্তিতে খাবার পাওয়া যাবে। খাবারে গ্রামীণ স্বাদ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

  • সকালের নাস্তা
    • ভুনা খিচুড়ি, ডিম ভাজি, চাটনি, চা = ১২০ টাকা
    • পরোটা, ডিম ভাজি, সবজি, চা – ৮০ টাকা
  • দুপুরের খাবার
    • সাদা ভাত, বেগুন ভর্তা, আলু ভর্তা, সবজি, ডাল, গরু/খাসি/হাঁসের মাংস = ৩৫০ টাকা
    • সাদা ভাত, বেগুন ভর্তা, আলু ভর্তা, সবজি, ডাল, মুরগী/রুই মাছ/পাবদা মাছ = ৩০০ টাকা
  • রাতের খাবার
    • সাদা ভাত, লাউ চিংড়ি, সবজি, ডাল, মুরগী/গরু/রুই মাছ/পাবদা মাছ = ৩০০ টাকা
    • বারবিকিউ(১/৪), পরোটা(৩ পিস), সবজি/বুটের ডাল, সালাদ, সফট ড্রিংকস = ৩০০ টাকা
  • খাবারের মেন্যু এবং মূল্য পরিবর্তন হতে পারে। বুকিং এর সময় জেনে নিবেন।

রিসোর্ট বুকিং নাম্বার

ডিসকাউন্টে রুম বুকিং করতে ফোন করুন 01755238181

বি.দ্র. ছবি, রিসোর্ট সম্পর্কিত তথ্য এবং লেখা টিলাগাঁও ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদিত।

আরো পড়ুন

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে জড়াবো না।

সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া ও টিকেট বুকিং [সব তথ্য] (২০২৩)

সেন্টমার্টিনের জাহাজ ভাড়া নিয়ে সবার মধ্যেই অনেক প্রশ্ন থাকে। এই পোস্টে সেন্টমার্টিনগামী সকল জাহাজের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে।

সেন্টমার্টিনের জাহাজ সম্পর্কিত কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর

  • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হয় কবে থেকে?
    • ২০২২ সালে টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের তারিখ এখনো ঠিক হয় নাই।
  • কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী জাহাজ কখন ছাড়ে?
    • জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯.৩০টার মধ্যে।
  • সেন্টমার্টিন থেকে কর্ণফুলী জাহাজ কখন ছাড়ে?
    • জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে বিকাল ৩.৩০টা থেকে সকাল ৯.৩০টার মধ্যে।
  • আসা-যাওয়ার জন্য কি আলাদা টিকেট কাটতে হয়?
    • জাহাজের টিকেট আপ-ডাউন একসাথে হিসেব করে দেওয়া হয়। আলাদা করে কাটতে হয় না। আপনি যাওয়ার দিন, কবে আসবে জানিয়ে দিলে আপনার জন্য সিট বরাদ্দ থাকবে। তবে আপনি চাইলে অন্যদিনও আসতে পারবেন কিন্তু সেক্ষেত্রে বসার সিট পাবেন কিনা তার নিশ্চয়তা থাকে না।

জাহাজের সময়সূচী ও ভাড়া

কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ ভাড়া

Karnafuly Express Ship

কক্সবাজার এয়ারপোর্টের সাথে বি আই ডাব্লিউ জেটি ঘাট থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (Karnafully Express) জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে জাহাজ সাধারনত ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯.৩০টার মধ্যে ছেড়ে যায়। তাই সময়ের ব্যাপারে আগে থেকে জেনে নিবেন।

সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজ বিকাল ৩.৩০ থেকে ৪.৩০ টায় ছেড়ে আসে। কক্সবাজার পৌছায় আনুমানিক রাত ৯টার দিকে। (জোয়ার-ভাটার কারনে রাত ১১/১২টাও বাজতে পারে। সময়ের ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে তাই প্ল্যান করবেন)

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন)
ইকোনমি ক্লাস চেয়ার
(ল্যাভেন্ডার/মেরিগ্লোড) (Lavender/Marigold)
৩০০০/-
ওপেন ডেক চেয়ার (Open Deck Chair) ৩৭০০/-
বিজনেস ক্লাস চেয়ার
(গ্লাডিওলাস) (Gladiolus)
৪০০০/-
লিলাক লাউঞ্জ ( Lilac Lounge) ৪০০০/-
ভিআইপি/ক্রিসান্থেমাম লাউঞ্জ (Chrysanthemum Lounge) ৪৫০০/-
সিঙ্গেল কেবিন (Single Cabin) (১ জন, One Person) ৭৫০০/-
টুইন কেবিন (Twin Cabin) (২ জন, Two Person) ১২,০০০/-
ভিআইপি কেবিন (VIP Cabin) (২জন, Two Person) ১৮,০০০/-
ভিভিআইপি কেবিন (VVIP Cabin) (২ জন, Two Person) ২২,০০০/-

 

কর্ণফুলী জাহাজের টিকেটের জন্য ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া

এক নজরে সব জাহাজের ভাড়া (টেকনাফ থেকে এখনো জাহাজ চলাচল শুরু হয় নাই)

জাহাজের নাম নিচতলা দোতলা বিজনেস ক্লাস
কেয়ারী সিন্দাবাদ
কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন (এসি)
এম ভি পারিজাত
এম ভি ফারহান ২
সুকান্ত বাবু
বে ক্রুজ
গ্রীণ লাইন (এসি)
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ৩০০০ – ২৮,০০০ টাকা    
বে-ওয়ান ৭৫০০ – ৫০,০০০ টাকা    
আটলান্টিক ক্রুজ    

সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার ট্যুর প্যাকেজ এবং সকল ধরনের সার্ভিস আমি দিয়ে থাকি। ফ্যামিলি, কর্পোরেট, বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ প্যাকেজের জন্য ট্যুরে যাবো ফেসবুক পেজে নক করুন অথবা 01755238181 নাম্বারে ফোন করুন।

কেয়ারি সিন্দাবাদ (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

Keari Sindbad

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রুটের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ (Keari Sindabad)। নন-এসটি জাহাজটির ভাড়া অন্য জাহাজের থেকে সবচেয়ে কম। এই জাহাজের ওপেন ডেক সবার পছন্দের। এই জাহাজের আসন সংখ্যা ৩৪৬টি। জাহাজে ক্যান্টিন রয়েছে।

আমার ব্যক্তিগত পছন্দের জাহাজ। এই জাহাজের ওপেন ডেকে সিট পেলে আমি এটাতেই যাই।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
মেইন ডেক নিচতলা
ওপেন ডেক দোতলা
ব্রিজ ডেক দোতলা

 

কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

Keari Cruise & Dine

কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন (Keari Cruise and Dine) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাহাজ।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
মেইন ডেক (এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জ) নিচতলা
ওপেন ডেক (কোরাল লাউঞ্জ) দোতলা
ব্রিজ ডেক (পার্ল লাউঞ্জ) দোতলা

 

এম ভি পারিজাত জাহাজ (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

পারিজাত জাহাজটি বে-অব-বেঙ্গল ট্যুরিমজের পরিচালনাধীন একটি জাহাজ।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
ইকোনমি নিচতলা
বিজনেস দোতলা

 

এম ভি ফারহান ২ জাহাজ (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

MV Farhan 2

এমভি ফারহান ২ (MV Farhan 2) জাহাজটি এখন টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ রুটে চলাচল শুরু করেছে।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
ইকোনমি নিচতলা
বিজনেস দোতলা

এস.টি শহীদ সুকান্ত বাবু জাহাজ (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

Sukanta Babu Ship

Farhan Express Tourism পরিচালনাধীন সুকান্ত বাবু (ST Sukanto Babu) জাহাজটি এই বছর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে জাহাজটি তুলনামূলকভাবে ছোট।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
মেইন ডেক নিচতলা
ওপেন ডেক দোতলা

 

বে ক্রুজ (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটের জাহাজগুলোর মধ্যে দ্রুতগামীর জাহাজ হচ্ছে এমভি বে ক্রুজ (MV Bay Cruiser-1)। জাহাজটি সম্পূর্ণরুপে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

Bay Cruiser 1
সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
রজনীগন্ধা নিচতলা (মাঝখান থেকে পেছনের অংশ)
হাসনাহেনা নিচতলা (মাঝখান থেকে সামনের অংশ)
কৃষ্ণচূড়া দোতলা

 

গ্রিন লাইন (এখনো চলাচল শুরু হয় নাই)

Green Line

গ্রিন লাইন (Green Line) পরিবহনের জাহাজ এটি। বে ক্রুজের মত এই জাহাজটিও দ্রুত চলে। সম্পূর্ণ জাহাজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
ইকোনমি নিচতলা
বিজনেস দোতলা

বুকিং ঠিকানা

গ্রীন লাইন জাহাজের টিকেট যেকোন গ্রীন লাইনের কাউন্টার থেকে নিতে পারবেন।

ঢাকা অফিস
Rajarbagh
9/2 Outer Circular Road,
Momenbagh, Rajarbagh.
+880-2-8315380
+880-2-9339623
+880-2-8331302

Kallayanpur – 1
4 South Kallayanpur,
Sohrab Petrol Pump
+880-2-9008694
+88-01730060080

Kallayanpur – 2
9 South Kallayanpur,
Khaleq Petrol Pump.
+880-2-8032957

Kalabagan
69 Sheikh Rasel Square, Kalabagan, Panthapath.
+880-2-9133145
+88-01730060006
+880-2-9112287

Arambagh
167/1 Eden Complex, Arambagh, Motijheel.
+880-2-7192301
+88-01730060009

Fakirapool
12 Fakirapool, Hotel Estern.
+880-2-7191900

Sayedabad
35/9 Brammanchiran, Golapbagh
+8804478660011

Uttara
House # 4, Road #12, Sector #6,
House Building
+88-01970060075

Badda
Kha/195, Middle Badda
Opposite of Lion Eye Hospital, Gulshan.
+88-01970060074

NADDA
Abid Ali Market, Opposite of Jamuna Future Park
Nadda, Gulshan.
+88-04478660021

চট্টগ্রাম থেকে বে-ওয়ান জাহাজ ভাড়া

Bay One Cruise Ship

বে-ওয়ান (Bay One) জাহাজটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ১৫ নাম্বার ঘাট থেকে জাহাজটি ছেড়ে যায়।

জাহাজ ছাড়া-পৌঁছানোর সময়

  • চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে রাত ১০ টায়। সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৭/৮ টায়।
  • সেন্টমার্টিন থেকে ছাড়বে সকাল ৯ টায়। চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ৭/৮ টায়।
সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) মুল্য (ওয়ান ওয়ে)
ইকনোমি ক্লাস চেয়ার
ডেক ই এবং এফ
২য় এবং ৩য় তলা
৪৫০০/- ২৫০০/-
বিজনেস ক্লাস চেয়ার
ডেক ডি
৪র্থ তলা
৬০০০/- ৩৩০০/-
ওপেন ডেক চেয়ার
ডেক এ
৭ম তলা
৬৩০০/- ৩৫০০/-
বাঙ্কার বেড (১জন)
ডেক বি
৫ম তলা
৬৫০০/- ৩৭০০/-
ভিআইপি প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট(২জন)
ডেক বি
৬ষ্ঠ তলা
৩২,০০০/- ১৭,৫০০/-
রয়্যাল সুইট (২জন)
ডেক এ
৭ম তলা
৩৪,০০০/- ১৯,০০০/-
ভিভিআইপি কেবিন (২জন)
ডেক এ
৭ম তলা
৪০,০০০/- ২২,০০০/-
ফ্যামিলি বাংকার বেড (৪জন)
ডেক এ
৭ম তলা
৩০,০০০/- ১৬,০০০/-
ভিআইপি প্রেসিন্ডেন্সিয়াল প্লাস(৪জন)
ডেক বি
৬ষ্ঠ তলা
৪০,০০০/- ২২,০০০/-
দ্যা এম্পেরর’স কেবিন (২জন)
ডেক এ
৭ম তলা
৪৫,০০০/- ২৫,০০০/-

বেওয়ান জাহাজের টিকেটের জন্য ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে

দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ (পূর্বনাম এল সি টি কুতুবদিয়া) (এখনো চলাচল শুরু করে নাই)

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটের সবচেয়ে বড় জাহাজ দ্যা আটলান্টিক ক্রজ (The Atlantic Cruise)। জাহাজটিতে এসি এবং নন-এসি দুই ধরনের সিটের ব্যবস্থা রয়েছে।

সিটের নাম মূল্য (আপ-ডাউন) অবস্থান
ইকোনমি ডেক নিচতলা
ওপেন ডেক দোতলা
রয়েল লাউঞ্জ দোতলা
লাক্সারি লাউঞ্জ দোতলা

ট্রলারে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

টেকনাফ থেকে সকালের জাহাজ মিস করলে ট্রলারে করেও সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ শহরের লামার বাজার ঘাট থেকে জোয়ারের সময় বড় ট্রলার ছেড়ে যায়। জোয়ারের সময় নিয়মিত পরিবর্তন হয়। সকাল ৯টা থেকে ১টার মধ্যে। টেকনাফ নেমে প্রথমে ট্রলার ছাড়ার সময় জেনে নিতে হবে। ট্রলার ভাড়া জনপ্রতি ২২০-৩৫০ টাকার মধ্যে থাকে।

অতি সাহসী না হলে ট্রলারে ভ্রমণ করা উচিত নয়। সমুদ্রের ঢেউয়ের কারনে ট্রলারে অনেক দুলনির সৃষ্টি হয় এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। পরিবার নিয়ে ট্রলারে ভ্রমণ না করাই শ্রেয়।

  • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন কোন জাহাজ যায়?
  • কক্সবাজার টু সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া কত?
  • কর্ণফুলী জাহাজের ভাড়া কত?
  • কর্ণফুলী জাহাজ কখন ছেড়ে যায়?
  • বে-ওয়ান জাহাজের ভাড়া কত?
  • জাহাজ সম্পর্কিত কমন কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর।
  • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন কোন জাহাজ যায়?
  • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া কত?
  • সেন্টমার্টিন জাহাজ টিকেট বুকিং কিভাবে দিবো?

সেন্টমার্টিনের জাহাজ সম্পর্কিত কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর

  • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হয় কবে থেকে?
    • ২০২২ সালে টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের তারিখ এখনো ঠিক হয় নাই।
  • কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী জাহাজ কখন ছাড়ে?
    • জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯.৩০টার মধ্যে।
  • সেন্টমার্টিন থেকে কর্ণফুলী জাহাজ কখন ছাড়ে?
    • জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে বিকাল ৩.৩০টা থেকে সকাল ৯.৩০টার মধ্যে।
  • আসা-যাওয়ার জন্য কি আলাদা টিকেট কাটতে হয়?
    • জাহাজের টিকেট আপ-ডাউন একসাথে হিসেব করে দেওয়া হয়। আলাদা করে কাটতে হয় না। আপনি যাওয়ার দিন, কবে আসবে জানিয়ে দিলে আপনার জন্য সিট বরাদ্দ থাকবে। তবে আপনি চাইলে অন্যদিনও আসতে পারবেন কিন্তু সেক্ষেত্রে বসার সিট পাবেন কিনা তার নিশ্চয়তা থাকে না।
  • টেকনাফ থেকে জাহাজ মিস হয়ে গেলে কি করবো?
    • টেকনাফ থেকে জাহাজ না পেলে ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। তবে পানিভীতি, সাথে লাইফ জ্যাকেট না থাকলে ট্রলারে ভ্রমণ করা উচিত নয়।
  • জাহাজে সিট না পেলে কি করবো?
    • প্রতিটি জাহাজে সিট না পেলেও দাঁড়িয়ে যাওয়া যায়। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে আড়াই ঘন্টার মত সময় লাগে বিধায় দাঁড়িয়ে যেতেও খুব একটা অসুবিধা হয় না।
  • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ কখন ছাড়ে?
    • সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে।

আরো পড়ুন

রেলে টিকেট বিড়ম্বনা

দিনাজপুর থেকে ট্রেনে ঢাকা আসবো। ট্রেন রাত ১১টায়। ১০টার দিকে রেল স্টেশনে গিয়ে
কাউন্টারে জিজ্ঞাসা করলাম,

– টিকেট আছে? (যদিও ভালো করে জানি নেই বলবে)
– নাই।
– স্টেশন ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা একটু দেখেন না?
– নাই।

আরো বেশ কয়েকবার অনুরোধ করলাম কথার পাত্তাই দিলো না। শীতের রাত ১০ ঘন্টার বিশাল জার্নি না বসে স্ট্যান্ডিং যাওয়া অসম্ভব এবং ভালো করেই জানি কোথায় গেলে টিকেট পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,

– ভাই টিকেট আছে?
– কয়টা লাগবে?
– একটা।
– ৭৫০ টাকা। আসল দাম (৪৬৫ টাকা)
– ভাই কিছু কম রাখা যায় না?
– ৭০০ টাকা।
– ৪৬৫টাকা টিকেটের দাম এত বেশি রাখবেন আরেকটু কমান না ভাই?
– ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়ানোর পর আপনার সামনেই ৯০০ টাকায় বিক্রি করবো দেখবেন!
– আচ্ছা দেন।

টিকেট হাতে নিয়ে দেখলাম ক্রয় ২২ তারিখ দেওয়া। বগিতে উঠার পর আশেপাশের সবার কাছে শুনলাম সবাই ৭০০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটেছে এবং একটু আগেই। কিন্তু উনারা সবাই নাকি ৪ দিন আগ থেকেই টিকেটের জন্য স্টেশনে খোঁজ নিয়েছে এবং বলা হয়েছে টিকেট শেষ। তাহলে কথা হচ্ছে, ২২ তারিখে ক্রয়ের তারিখ হয় কিভাবে?

আমার মত বাজেট ট্রাভেলদের জন্য রেল পছন্দের পরিবহন। একইসাথে সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক। কিন্তু বাধ্য হয়ে যদি অবৈধ পথে টিকেট কিনতে হয়ে তাহলে কিভাবে হবে?

ট্রেনের এক যাত্রী বললো, আমরা সবাই যদি ১সপ্তাহ ব্ল্যাকে টিকেট না কাটি তাহলেই তাদের এই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে? আসলেই কি হবে? নাকি যাত্রীদের কোনঠাসা করার জন্য নতুন কোন পন্থা বের করা হবে।

ঢাকা, সিলেট, কুলাউড়া, আখউড়া, দিনাজপুর এইসব স্টেশনে আমি নিজে ব্ল্যাকে টিকেট ক্রয়-বিক্রয় দেখেছি। প্রায় সব বড় বড় স্টেশনেই এই দালাল চক্র সক্রিয়।

রোজ শনিবার
২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে হজরতপুর ইউনিয়ন

বিশিষ্ট গরু প্রেমী নাফিজ আর রাঘিবের সাথে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্ল্যান হচ্ছিলো হজরতপুর ইউনিয়ন ঘুরতে যাবো। কিন্তু কারো সবার সময় মিলে না। অনেক হিসাব নিকাশের পর কালকে সিদ্ধান্ত হলো আজকে(২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬) আমি আর নাফিজ যাবো।

মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে দুইজন একত্রিত হলাম। সিনেমা হলে সিনেমা না দেখে আমরা রওনা হলাম গাবতলী যাবার টেম্পুস্ট্যান্ড মিরপুর-১ এরদিকে। শনিবার হওয়ায় রাস্তা বেশ ফাঁকা ছিলো। খুব তাড়াতাড়ি গাবতলী পর্বত পৌঁছে গেলাম। গাবতলী থেকে আমরা হেমায়েতপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম। হেমায়েতপুর বাজার থেকে লেগুনাতে করে আমাদের গন্তব্যস্থল হজরতপুর ইউনিয়ন।

হেমায়েতপুর বাজার থেকে হজরতপুর যাবার রাস্তাটা বেশ সুন্দর। শীতকাল হওয়ায় দুপুর বেলাতেও বেশ কুয়াশা ছিলো। তবে তেমন ঠান্ডা ছিলো না। আবহাওয়া এতটা আরামদায়ক ছিলো যে রাস্তার পাশের ইটের ভাটাকেও বেশ মাধুর্য্যময় কোন কিছু মনে হচ্ছিলো। বেশ কিছুক্ষন লেগুনা চলার পরে আমরা গ্রাম্য পরিবেশে ঢুকে পড়লাম। রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন সবজির ক্ষেত। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা সুন্দর পরিবেশ। ঢাকার যানজটপূর্ন কোলাহলের এতকাছে এত সুন্দর কোন গ্রাম আছে ভাবা যায় না। তবে আমার অবাক করার মত আরো অনেক কিছু দেখার তখনো বাকি ছিল।

আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই সরিষা ক্ষেতের সন্ধান করছিলাম। রাস্তার দুইপাশে সরিষা ক্ষেতের সন্ধানও পাওয়া গেল। তবে পুরো মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ হচ্ছে এমন না। খন্ড খন্ড ভাবে কয়েকটা জমিতে। তা সে যাই হোক হলুদ রঙের সরিষা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।

প্রায় ৩০ মিনিট পর আমাদের কাঙ্খিত হজরতপুর বাজারে চলে আসলাম। টেম্পু যেখানে নামিয়ে দিলো সেখান থেকে বাজারের রাস্তার শেষ মাথায় যেয়ে দেখি, নদী। আশেপাশে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম নদীর নাম, কালীগঙ্গা।

নদীর পাড়ের বাজার আমাকে বেশ আকৃষ্ট করলো। বাজারের সাথে গরুর হাট। প্রতি শনিবার এই হাট বসে। দূর দূরান্ত থেকে ট্রলারে করে গরু এই হাটে নিয়ে আসা হয়। বেশ বড়সড় হাট। গাভী, ষাড় গরু, বাছুর, ছাগল, ইন্ডিয়ান বলদ, অস্ট্রেলিয়ান গাভী সব ধরনের গরু-ছাগল এই হাটে বিক্রি করা হয়।

শীতকাল হওয়ায় নদীতে পানি ছিলো অনেক কম। বর্ষাকালে পানি নাকি একেবারে রাস্তার কাছে চলে আসে। তখনকার দৃশ্য কল্পনা করে বেশ কষ্ট পেলাম। বর্ষাকালে আসলে আরো ভালো হতো। সতেজ, সবুজ সবকিছু দেখতে পারতাম।

গরুর হাট ঘোরা শেষে হাটের পাশে এক মুড়ির দোকান দেখলাম। বড় এক থালায় মুড়ি বিক্রি হচ্ছে। দুই প্রকার মশলা, বুট, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ, শশা, টমেটো দিয়ে মাখানো হয়। কেউ হাত দিয়ে মাখিয়ে খায়, কেউ চামচ দিয়ে মাখিয়ে খায়। দেখে বেশ লোভ লাগায় এক বোল নিয়ে নিলাম। ২০ টাকা বোল। স্বাদ এক কথায় অসাধারন। ২০ টাকার মুড়ি একটানে একাই খেয়ে ফেললাম। স্বাদ এত ভালো ছিলো যে খেতে কোন কষ্টই হয় নি।

মুড়ি খাওয়া শেষে আবার বাজারে চলে আসলাম। এক দোকানে বসে তিন রঙের মিষ্টি খেলাম- সাদা, লাল, কালো। এরমধ্যে আমার প্রিয় কালো মিষ্টি ছাড়া বাকি দুইটার স্বাদ ভালো। এরপর খেলাম পেঁয়াজু। ২ টাকা পিস। গ্রাম হিসেবে ব্রিক্রি করে। ১০ টাকার দিতে বললে ৫ টা দেয়। ঘন্টা দুয়েকের ঘুরাঘুরিতেই জায়গাটা বেশ পছন্দ হলো। মনে মনে ঠিক করলাম আবার আসতে হবে।

এক সন্ধ্যায় জামগড়া বাজার

শীত চলে আসার পর সোলো ট্যুর দেওয়ার জন্য মন আরো বেশি করে তাগাদা দেওয়া শুরু করলো। কনকনে শীতের রাতে বাসে বা ট্রেনে করে দূরে কোথাও যাবো। শীতে দাঁত কাপাকাপি অবস্থা হবে। লম্বা জার্নিতে ঘুমিয়ে পড়বো। ঘুমের মধ্যেও শীতভাব টের পাবো। মোটকথা শীত উপভোগ করবো।

আজকে সকালের প্ল্যান ছিলো কেরানীগঞ্জে সরিষা ক্ষেত দেখতে যাবো কিন্তু দুপুর ২টায় ঘুম থেকে উঠার পর সেই প্ল্যান আশংকার মধ্যে পরে যায়। এরপর টুকটাক কাজ করে বের হতে হতে যখন ৪.৩০টার বেশি বেজে যায় তখনই কেরানীগঞ্জ যাওয়ার প্ল্যান ভেস্তে যায়। বের তো হয়ে পড়েছি এখন তাহলে কই যাওয়া যায়!

মিরপুর-১ নাম্বারে হাঁটাহাঁটি করতে করতে চিন্তা করতেছিলাম। এরমধ্যেই মাথায় আসে মিরপুর বেড়িবাঁধ রোড হয়ে বেশ কয়েকটা বাস চন্দ্রা যায়, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি তাহলে সেদিকেই যাওয়া যাক।

মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের অপজিট থেকে মোহনা বাসে উঠে পড়ি। বাস হেল্পারকে জিজ্জাসা করে জানলাম বাস চন্দ্রা পর্যন্ত যাবে না, ঠিক করলাম ফ্যান্টাসি কিংডম পর্যন্ত যাবো।

খালি বাস অল্প সময়ের মধ্যে ভরে গেল। সিটিং বাস সার্ভিস নামক লোকাল বাস চলা শুরু করলো। বেড়িবাঁধ রোডে উঠার পরই গায়ে বাতাস লাগা শুরু করলো। শীতের বাতাস; যে বাতাস গায়ে লাগানোর জন্য মনের এত আর্তনাদ। গেঞ্জির উপর হুডি পড়া তাতেও বেশ ঠান্ডা লাগছিলো। মজাই পাচ্ছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই বিপত্তি। সামনে এক্সিডেন্ট হয়েছে, পুরো রোডে জ্যাম লেগে গেছে। কোথায় ভাবলাম বেড়িবাঁধের জ্যামহীন ফাঁকা রাস্তা সাঁই সাঁই করে বাস চলবে তা আর হলো না।

জ্যাম পার হতে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট লেগে গেল। এক্সিডেন্ট করা যানবাহন দুটো দেখলাম। খাবারবাহী পিকআপ আর এমবুল্যান্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ। দুইটা যানবাহনের সামনের পার্ট দুমড়ে মুচড়ে গেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে যা বুঝলাম পিকআপের ভিতর চালক আটকা পড়ে আছে। মানুষজন চালককে বের করার চেষ্টা করতেছে। চালক বেঁচে আছে কিনা সেটা অবশ্য জানতে পারি নাই। আশুলিয়ার এই রোডটা আমি এমনিতেও বেশ ভয় পাই। এই রোডে প্রতিনিয়তই এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে। কয়েক বছর আগে এক বন্ধুর গাড়িতে করে এই রোড দিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের প্রথম “Near Death Experience” হয়েছিলো।

জ্যাম পার হওয়ার পর বাস আবার জোরে টানা শুরু করলো। জ্যামের মধ্যে তন্দ্রাভাব চলে আসলেও বাস চলা শুরু করায় আবার সজাগ হয়ে গেলাম। আশেপাশের সবকিছু লক্ষ্য করা শুরু করলাম। মজার মজার সব জায়গার নাম।

জিরাবো বাজার। বেশ জমজমাট একটা বাজার। জিরাবো বাজার থেকে একটু সামনে এগুতেই নিশ্চিন্তপুর। এখানকার মানুষজন বোধহয় সবসময় নিশ্চিন্ত থাকে। তবে রাস্তার ব্যস্ততা দেখে সেরকম কিছু মনে হলো না। নিশ্চিন্তপুরের পরেই নরসিংহপুর। এখানে হয়তো নর সিংহদের বসবাস ছিলো। অন্য কোন সময় গিয়ে এই নামের রহস্য বের করতে হবে। এরপরেই বেরন। এটা কেমন নাম সেটা বুঝি নাই। যাই হোক বেরন পার হয়েই জামগড়া। এইখানে মনে হয় অনেক জাম গাছ ছিলো আগে। এখন তো বড় বড় বিল্ডিং এ ভরা। আমি নামবো জামগড়ে। জামগড়েই ফ্যান্টাসি কিংডম। যদিও আমার ইচ্ছা ছিলো বাসের শেষ স্টপেজ পর্যন্ত যাওয়া কিন্তু জামগড়া বাজার কোন কারনে বাসে বসেই পছন্দ হয়ে যাওয়ায় নেমে পড়লাম।

জামগড়া বাজার ঘুরলাম বেশ কিছুক্ষন। বেশ ব্যস্ত একটা বাজার। সবকিছুই পাওয়া যায়। বাজার ঘুরতে ঘুরতে এরপর চলে গেলাম ভিতরের দিকে। হাঁটতে হাঁটতে অনেকদূর যাওয়ার পর যেখানে আর ইলেক্ট্রিক বাতি নেই সেখানে থেমে গেলাম। রাত ৮টার দিকে অন্ধকারে অপরিচিত কোন এলাকায় ঢুকতে ইচ্ছা করলো না। আবার হেঁটে প্রধান রাস্তায় চলে আসলাম।

প্রধান রাস্তায় ফিলিং স্টেশনের পাশের একটা চায়ের দোকান পছন্দ হলো। ব্যস্ত রাস্তার পাশের টং দোকান। চা খেতে খেতে গাড়ি দেখা যাবে এই ভেবে দোকানে বসলাম। দোকানে দেখলাম একটা টিভি আছে সেখানে কেরালা-কোলকাতার ফুটবল খেলা চলতেছে। দোকানদার মামা কেরালার সাপোর্টার। কেরালা গোল দিতেই তার সে কি উচ্ছাস! অল্প কিছুক্ষনের ব্যবধানে কোলকাতাও ফিরতি গোল দেওয়ায় তার উচ্ছাস কমে গেল। যাই হোক, সচরাচর আমি চা খাই না তবু দোকানে বসবো ভেবে রং চায়ের অর্ডার দিলাম। কড়া লিকারের চা খেতে খুব একটা খারাপ লাগলো না। চা খেতে খেতে দোকানদার মামার কাহিনী আর একটু পর পর ভারী ভারী বাস, ট্রাকের চলাচল দেখতে খারাপ লাগছিলো না। মনে হচ্ছিলো ঢাকা থেকে অনেকদূরে কোন এক হাইওয়ে রাস্তার পাশের টং দোকানে বসে আছি।

টং দোকানটা আমার বেশ পছন্দ হলো। আবার সময় করে দোকানটাতে আসবো এই বাসনা মনে নিয়ে উঠে পড়লাম। রাত বেশ হয়েছে এবার বাড়ি ফেরা যাক। রাস্তার পাশে দাঁড়াতেই কিছুক্ষনের মধ্যে মোহনা বাস চলে আসলো। আমিও চড়ে বসলাম। এবারের চালকটা মারাত্মক। কাউকে সাইড দিতে চায় না, টানেও অনেক জোরে। পুরো বাস নাড়িয়েই চালাচ্ছিলো। এমন ড্রাইভার আমার অনেক বেশি পছন্দ(যদিও অনেক রিস্কি) সাথে শীতের ঠান্ডা বাতাস, ঘুম চলে আসলো। নিশ্চিন্তপুরে ঘুম দিয়ে ঘুম থেকে উঠে দেখি বিরুলিয়া চলে আসছি। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই মিরপুর-১ চলে আসলাম। বাস থেকে নামার সময় মন জুড়ে ছিলো তৃপ্তি।

বিকাল ৪.৩০ টা থেকে রাত ৯.১৫ টার ছোট্ট একটা ট্রিপ। কিন্তু শীত নিয়ে আমার মন বাসনার প্রায় সবটুকুই পূরন করতে সক্ষম হয়েছে ট্রিপটা।

রোজ রবিবার
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

Never lose hope, never stop travelling

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে যাবো না।

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১৫ঃ মিরপুর-১ টু বাংলানগর

ঢাকার রাস্তায় দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দেওয়ার শুরু সেই ১৩ নভেম্বর, ২০১৫ তে। সেসময় কয়েকমাস বেশ হাঁটাহাঁটি হয়েছিল। হঠাৎ ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখের পর থেকে দীর্ঘদিন শহুরে রাস্তায় দীর্ঘক্ষন হাঁটা হয় না। মনের ভিতর তাড়না ছিলো কিন্তু জীবনের তাগিদে সে তাড়ানো চাপা পড়ে রয়েছিলো।

১১ জানুয়ারী, ২০১৭ দুপুরবেলা ‘এনামুল হাসান’ ভাইয়ের লেখা আমার অতি প্রিয়, “হেল দ্য হাইওয়ে (পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম…)” পড়তে বসি। এই লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েই আমার ঢাকার রাস্তায় হন্টন প্রজেক্ট শুরু হয়। কয়েক প্যারা পড়েই মাথায় আসে অনেকদিন হাঁটা হয় না। তবে আজই একটা হন্টন হয়ে যাক।

হাঁটা এক আজব নেশা! ঢাকার ধূলোবালিময়, ভাঙাচোরা রাস্তায় হাঁটার মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়া আজবই বটে। যে পথ গাড়ি চড়ে পাড়ি দেওয়া যায় সে পথে হেঁটে বেড়ানো পাগলামি ছাড়া আর কি! তবে এ পাগলামি মনে শান্তি আনে, এ পাগলামি চোখ মেলতে শেখায়, এ পাগলামি তুচ্ছ বিষয়গুলোকেও ভালোভাবে বুঝতে শেখায়, নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

সরিষার মৌসুম শুরু হয়েছে ঢাকার আশেপাশে সরিষা চাষ হয় এমন জায়গা খুঁজতেছিলাম। সমস্যা হলো ঢাকার কাছেপিঠে নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ছাড়া কোথাও ব্যাপকহারে সরিষার চাষ হয় না। সেদিন ‘টিওবি’র এক পোস্টে দেখলাম কেরানীগঞ্জের বাংলানগর গ্রামে সরিষার চাষ হয়। বাংলানগর আমার বাসা থেকে হাঁটা পথে তিন ঘন্টার রাস্তা। রথ দেখা হবে, কলাও বেঁচা হবে এই কথা চিন্তা করে ঠিক করলাম বাংলানগর হেঁটে যাবো।

দুপুর ১টা ৩৬ মিনিট। বেশ তাড়াহুড়ো করেই বাসা থেকে বের হলাম। তিন ঘন্টার রাস্তা দ্রুত না গেলে যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে তখন আর সরিষা ফুল দেখতে পারবো না। আমার বাসা থেকে চাইনিজ বাস স্টপেজ যেতে সাধারনত সময় লাগে ১০-১১ মিনিট। আজ সেখানে ৮ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম। এখন চাইনিজ থেকে কয়েকভাবে আটিঁবাজার যেতে পারি;

  1. টেকনিক্যাল-> আসাদ গেট-> মোহাম্মদপুর বাসষ্ট্যান্ড-> বসিলা ব্রিজ-> আটিঁবাজার
  2. টেকনিক্যাল-> শ্যামলি-> মোহাম্মদপুর বাসষ্ট্যান্ড-> বসিলা ব্রিজ-> আটিঁবাজার
  3. টেকনিক্যাল-> গাবতলী-> গাবতলী-সদরঘাট লিংক রোড-> বসিলা ব্রিজ-> আটিঁবাজার
  4. মিরপুর-১-> মাজার রোড-> গাবতলী-সদরঘাট লিংক রোড-> বসিলা ব্রিজ-> আটিঁবাজার

আমি ৪নং পথে রওনা হলাম। মাজার রোড দিয়ে আগে কখনো হাঁটা হয় নাই বিধায় এই পথকে পছন্দ করা। চাইনিজ থেকে ১০ মিনিটে মাজার রোডের মাথায় চলে আসলাম। রাস্তা থেকে মিরপুর মাজারের ভিতরের কিছুটা দেখা যায়। ভিতরে একটা বড় গাছ দেখা যাচ্ছিলো। ভর দুপুরে দূর থেকে দেখতে কেমন রহস্যময় গুমোট লাগে। রহস্যময়তা এড়িয়ে পা বাড়ালাম। আরো অনেকদূর যাওয়া বাকি।

মাজার রোডটা বেশ দীর্ঘ। এক মাথা থেকে আরেক মাথা দেখা যায় না। মাজার রোড দিয়ে হাঁটার সময় মিরপুর বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধ দেখা যায়। এই স্মৃতিসৌধে প্রথম আসা হয়েছিলো স্কুলে পড়ার সময়। বন্ধুদের সাথে স্কুল ফাঁকি দিয়ে এসেছিলাম যতদূর মনে পড়ে। জায়গাটা বেশ সুন্দর। আবার আসতে হবে ভাবতে ভাবতে পা চালাতে থাকলাম। হাঁটার গতি ধরে রাখার জন্য একটা পন্থা বের করেছিলাম। সামনের পথচারীকে অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়ে হাঁটা। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিটি পথচারীকে অতিক্রম করা। এতে করে হাঁটার গতি কখনোই কমে না। জোরে জোরে পদক্ষেপ দিতে দিতে একধরনের ছন্দের সৃষ্টি হয়। পা তখন সেই ছন্দে চলতে থাকে।

মাজার রোডের ফুটপাত মসৃন না হলেও হেঁটে বেশ আরাম। এমন ফুটপাতের সুবিধা হচ্ছে সর্বক্ষন নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয় না। চারপাশ দেখা যায়। বেশ অনেকগুলো বড় বড় বিল্ডিং দেখলাম রাস্তার দু’পাশে। কত দ্রুত বদলে গেছে সবকিছু চিন্তাই করা যায় না। শেলটেকের সবচেয়ে বড় প্রকল্প দেখলাম এই রাস্তার পাশেই। ব্যানারে যা দেখাচ্ছে তা যদি বাস্তবায়ন করে তাহলে আসলেই অনেক বড় প্রজেক্ট হবে।

মাজার রোডের লম্বা রাস্তা শেষ করতে সময় লাগলো ১৬ মিনিট। ২টা ১০ মিনিটে গাবতলী পাম্পের সামনে এসে দাঁড়ালাম। গাবতলী থেকে রাস্তার পাশের বাসস্ট্যান্ড উঠিয়ে দেওয়ার পর এর চেহারাই বদলে গেছে। প্রশস্ত রাস্তা। প্রচুর ধূলো থাকলেও কোন আবর্জনা নেই। এমন রাস্তায় হেঁটে শান্তি। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দেখে বেশ অবাক হলাম। বিশাল বাস টার্মিনাল। এই রাস্তায় তো কম আসা হয় নি কিন্তু কখনো বাস টার্মিনাল খেয়াল করি নাই। এজন্য আমার হাঁটা পছন্দ। অনেক কিছু নজরে আসে। গাড়ি দিয়ে প্রতিদিন চলাচলের রোডকেও হাঁটার সময় বড় অচেনা মনে হয়। নতুন নতুন কতকিছু যে আবিষ্কার করা যায়।

দুপুর ২টা ১৯ মিনিট। গাবতলী-সদরঘাট লিংক রোডের মাথায় চলে আসছি। এখন শুরু হবে আসল যাত্রা। দীর্ঘ এই রাস্তা পাড়ি দিয়ে আমাকে বসিলা যেতে হবে। এই রাস্তায় হাঁটা তো দূরে থাক আমি কখনো বাসেও চড়ি নি। গরুর হাট যখন বসে তখন যতদূর পর্যন্ত হাট থাকে ততদূর পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে। হাটের সময় যেখানে গরু থাকে এখন সেখানে ইটের স্তূপ।

আমার আগের সব হাঁটার সাথে এবারের একটা পার্থক্য আছে। আগের হাঁটাগুলো ছিলো নিশ্চিন্ত। উদাস মনে চারিদিক দেখে দেখে হাঁটতাম। এবার মনে মনে নানা হিসাব কষতে কষতে হাঁটছিলাম। এতে করে চারপাশ দেখা হচ্ছিলো না ঠিক মত। অবশ্য এ রাস্তায় দেখার মত তেমন আহামরি কিছু নজরে আসছিলো না। তবু দৃষ্টি আরেকটু প্রখর করলে হয়ত অনেক কিছুই নজরে আসতো।

ধূলোর সাগরে পা ডুবিয়েই যেন হাঁটছিলাম। কংক্রিটের রাস্তায় হাঁটবো সে সাহসও করতে পারছিলাম না। গায়ের পাশ ঘেষে যেভাবে গাড়িগুলো যাচ্ছিলো কখন যে গায়েই উঠিয়ে দেয় তার কোন ঠিক নেই। তারচেয়ে ধুলোভরা পথই ভালো। কিন্তু এতে করে কষ্ট যেমন বেশি হচ্ছিলো তেমনি চলার গতিও কমে যাচ্ছিলো। তবুও নিরাপত্তার কথা ভেবে সেভাবেই এগোতে থাকলাম।

১ ঘন্টা ১৯ মিনিট একটানা হাঁটার পর রাস্তার পাশের এক টং দোকানে পানি খেতে থামলাম। বসার সাথে সাথে পা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। দুই গ্লাস পানি খাওয়ার পর একটা মিনিপ্যাক চানাচুর নিলাম। ৭ মিনিটের মত জিরিয়ে নিয়ে আবার পথচলা শুরু। যখন মনে হচ্ছিলো আর বোধহয় বসিলার দেখা পাবো না ঠিক তখনই দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে চার রাস্তার মোড়ের দেখা পেলাম। ৫১ মিনিট লাগলো এই পথটুকু আসতে।

চার রাস্তার মোড় থেকে এবার গন্তব্য বসিলা ব্রিজ। সেখান থেকে আটিঁবাজার। ১৯ মিনিট হাঁটার পরই বসিলা ব্রিজের মাথায় চলে আসলাম। ব্রিজের উপর উঠে একটু জিরিয়ে নিলাম। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে বড় বড় মালবাহী ট্রলারের আনাগোনা দেখতে বেশ লাগছিলো। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার দেখে ইচ্ছা করছিলো নিচে নেমে ট্রলার দিয়ে ঘুরে বেড়াই কিছুক্ষন।

বসিলা ব্রিজে প্রথম আসা হয় কয়েকমাস আগে এক বৃষ্টির দিনে। প্রথম দেখাতেই ব্রিজটা পছন্দ হয়েছিলো। মন ভালো করে দেবার মত একটা জায়গা। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে নদী দেখলে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হয়। জীবনের সব কষ্টগুলোকে তখন তুচ্ছ মনে হয়। শেষ বিকেলের পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যটা কষ্টে থাকা মানুষের সব কষ্টগুলোকে শুষে নিয়েই যেন ঘুমিয়ে পড়ে। বসিলা ব্রিজ; কষ্ট ভুলে যাওয়ার এক জায়গা।

আটিঁখাল ব্রিজের উপর এসে আমি অবাক। খাল শুকিয়ে পানি নেই বলতে গেলে। কয়েকমাস আগে বর্ষার সময় কত পানি দেখে গিয়েছিলাম। সরু ব্রিজ থেকে নেমেই আটিঁবাজারের বিখ্যাত হালিমের দোকান। হালিম খেতে থামলাম। আটিঁবাজার আসলে হালিম খাওয়া বাদ যায় না কখনো। ঢাকার অন্য সব হালিমের থেকে এখানের হালিমের স্বাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন। হালিম খেয়ে রওনা হলাম বাংলানগর গ্রামের দিকে। যেখানে গেলে দেখা পাবো হলুদের রাজ্যের।

আটিঁবাজার ছাড়িয়ে কিছুদূর হাঁটতেই গ্রাম্যভাব চলে এলো। মনে হচ্ছিলো আমি যেন দূরের কোন গ্রামে চলে আসছি। গ্রামের মেঠো পথের সাথে এখানের পার্থক্য পাকা রাস্তা। বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে চলে আসলাম কাঙ্খিত গন্তব্য বাংলানগর গ্রামে। কিন্তু হায়, সরিষা কোথায়। গ্রামের কোথাও সরিষা খুঁজে পেলাম না। তবে সময় খারাপ যায় নি। গ্রামের জীবনধারা দেখতে দেখতে সময় ভালোই কেটে গিয়েছিলো। অসাধারন একটা হোটেলের সন্ধান পেলাম সেখানে। পুকুরের পাড়ে হোটেল। হোটেলের পিছনের অংশে বারান্দার মত আছে সেখানে মাটিতে ম্যাট বিছানো। বিকেলে পেঁয়াজু, চপ, বুট দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে বসে বসে খেতে দারুন লাগবে। এবার সংগীর অভাবে চেয়ারে বসে চপ খেয়েই চলে আসলাম। আবার যাবো বাংলানগর গ্রামে। ভালো লেগে গেছে গ্রামটা। আজ প্রায় সাড়ে তিনঘন্টায় ১৪-১৫ কিলোমিটার হাঁটা হয়েছে।

আজকের হাঁটার রুট,
বাস-> চাইনিজ-> মিরপুর-১-> মাজার রোড-> গাবতলী-> গাবতলী-সদরঘাট লিংক রোড-> বসিলা চার রাস্তার মোড়-> বসিলা ব্রিজ-> আটিঁবাজার-> বাংলানগর

রোজ বুধবার
১১ জানুয়ারি, ২০১৭

Feature Image by freepik

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১৪ঃ মানিকদী টু বাউনিয়া

মিরপুর ফ্লাইওভার হওয়ার পর ভার্সিটি যাওয়ার জন্য কালসী রুটটা ইউজ করতাম। তো এই পথে যাওয়ার সময় ইসিবি চত্বরে দেখতাম মানিকদীর দিকে একটা রাস্তা আছে। তখন থেকেই খুব আগ্রহ ছিলো এই পথ দিয়ে কই যাওয়া যায় তা জানার। ঢাকার রাস্তায় লং ডিস্টেন্স হাঁটাহাঁটি শুরু করার পর থেকে ঠিক করি হেঁটেই একদিন এক্সপ্লোর করে আসবো। অনেকদিন থেকে ইচ্ছাটা থাকলেও পূরন হচ্ছিলো না। অবশেষে সেই দিন আসলো।

সাজেক ট্যুর থেকে আসার পর টানা তিনদিন ঘর থেকে বের হই নাই। মাথা এমনিতেই হ্যাং হয়ে ছিলো। চতুর্থদিনে এসে আর পারলাম না। বিকালে বের হয়ে গেলাম। বাসা থেকে ইসিবি পর্যন্ত হাঁটার ইচ্ছা না থাকায় মিরপুর ১০ পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে এরপর বাসে উঠবো ঠিক করলাম। সারাদিন অনেক রোদ থাকলেও বিকালের দিকে আবহাওয়া ভালোই ছিলো। বিআরটিসির আর্টিকুলেটেড বাসে উঠে ফেসবুকিং শুরু করলাম। আজ কোন তাড়া নেই। বাস ধীরে সুস্থেই যাক।

বিআরটিসি বাস মানেই নানা কাহিনী। মিরপুর-১০ থেকে ইসিবি চত্বর আসতে আসতেই কতকিছু দেখে ফেললাম। সে যাই হোক ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদীর পথে হাঁটা শুরু করলাম বিকাল ৪ টা ৪৯ মিনিটে। প্রথমে কানে হেডফোন লাগিয়ে কিছুক্ষন হাঁটলেও যেই রোড তাতে এইভাবে হাঁটা যাবে না বুঝে হেডফোন খুলে ফেললাম। রাস্তার অবস্থা চরম বাজে। ঠিকমত হাঁটার উপায় নেই। রিকশা, অটো, সিএনজি পারলে গায়ে উঠিয়ে দেয়। আর ভাঙা রাস্তায় পানি জমে এমন অবস্থা হয়েছে যে একজনের পিছে আরেকজন লাইন দিয়ে হাঁটতে হয়।

রাস্তার এমন খারাপ অবস্থায় রাস্তার আশপাশ দেখবো কি, রাস্তার দিকে তাকিয়েই কুল পাচ্ছিলাম না। তাও যতটা সম্ভব এদিক ওদিক দেখছিলাম। কিছুদূর হাঁটাতেই সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট চোখে পড়লো। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢোকার উপায় নেই। নাহলে হয়ত ঢুঁ মেরে আসতাম। এর কিছুক্ষন পরে মানিকদী বাজারে চলে আসলাম। বাজারের রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ। অটোগুলো কিভাবে চলতেছে তা এক বিস্ময়!

মানিকদী পার হলে বালুঘাট। এই বালুঘাটের নাম কত দেখেছি বিভিন্ন বাসে। কিন্তু কোথায় যে এই বালুঘাট তা জানতাম না। আজকে জানতে পারলাম। যদিও জানাটা তেমন সুখকর হলো না। রাস্তার অবস্থা খুবই বাজে। বৃষ্টির পানি জমে অবস্থা আরো খারাপ। বালুঘাট পার হয়ে দেখলাম বিভিন্ন দোকানে নাম লেখা বারনটেক। এই জায়গায় হঠাৎ হঠাৎ খোলা জায়গার দেখা মিলছিলো। যদিও বেশি বড় জায়গা না। তবে যতটুকু দেখা যায় তাতেই দূর আকাশে পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছিলো।

হাঁটতে হাঁটতে এবার আসলাম বাইগারটেক। কি অদ্ভুত অদ্ভুত সব নাম। বাইগারটেকে বাউনিয়ার মত বিশাল বাউন্ডারী দেওয়া রোড আছে। আমি জানতাম যে এইপথ দিয়ে বাউনিয়া যাওয়া যায়। তাই বিশাল ওয়াল দেখে ভাবলাম বাউনিয়া চলে আসছি। পরে আবার হিসাব মেলাই এয়ারপোর্ট রোড দিয়ে গেলে বাউনিয়া তো বহুদূর, এদিক দিয়ে তো এতকাছে হওয়ার কথা না।

বাইগারটেকে কিছুদূর হাঁটার পর দেখলাম বিশাল এক ঘরের মত জায়গা। বাইরে সাইনবোর্ড টানানো “সিদ্দিক ব্যডমিন্টন ইনডোর স্টেডিয়াম।” এত ভিতরে এই জায়গা দেখে অবাক হলাম। রাস্তা থেকে নেমে ভিতরে গিয়ে দেখি স্টেডিয়ামটা বেশ ভালোই বড়। তবে কেউ নাই। এক ছেলে চেয়ারে বসে বসে ঝিমাচ্ছে। আমি ছবি তুলতেছি দেখে একবার তাকালো। আমি ভাবলাম কিছু হয়ত বলবে কিন্তু কিছু বললো না। আমিও ছবি তুলে আবার হাঁটা দিলাম।

বাইগারটেক পার হতে চোখে পড়লো দোকানের ঠিকানায় বাউনিয়া লেখা। বাউনিয়া রোড দিয়ে যাওয়া টেম্পুগুলোরও দেখা পেলাম। বুঝতে পারলাম যে আমি ঠিক পথেই আছি। অবশ্য এতক্ষন ধরে আমি অটো ফলো করেই হাঁটছি। কারন পথে অনেক গলি ছিলো কোনটার পর কোনটায় যাবো বুঝার জন্য অটো দেখছি। অটোর রাস্তা দিয়ে গেলে বাউনিয়া পাওয়া যাবে আমার এই থিওরী ঠিক ছিলো।

মধ্য বাউনিয়ায় এসে দেখি প্রায় আধাঘন্টা হাঁটা হয়ে গেছে। একটা দোকানে চিংড়ির মাথা আর হালিম বিক্রি করতে দেখে সেই দোকানে ঢুকলাম। হালিম দিতে বলে বসতে যাবো তখন বললো, হালিম ৬০ টাকা। হালিম ৬০ টাকা শুনে জিজ্ঞাসা করলাম, হালিমে কি দেন? বলে গরুর মাংস। অপরিচিত এলাকায় ৬০ টাকা দামের হালিম খেয়ে রিস্ক নিতে চাইলাম না। গরু দেয় না কি দেয় কি জানে। আর দোকানে কোন কাস্টমারও ছিলো না। তবে মাত্র বিকাল হওয়ায় হয়ত কাস্টমার ছিলো না। তবে আমি রিস্ক নিলাম না। বের হয়ে আবার হাঁটা দিলাম।

হাঁটতেছি হাঁটতেছি কিন্তু বাউনিয়া আর আসে না। কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়লাম। যা দেখি তা দেখেই মনে হয় এইতো মনে হয় বাউনিয়া চলে আসছি। কোন গলি দেখলে মনে হয় এই গলির শেষ মাথায় গেলেই হয়ত বাউনিয়ার দেখা পাওয়া যাবে। প্রায় ৫০ মিনিট পর বিকাল ৫ টা ৪০ মিনিটে হুট করেই বাউনিয়া চলে আসলাম। একটু অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছিলাম। সামনে দেখি জ্যাম। সিএনজি, অটো, রিকশা, বাইক এমনকি মানুষও দাঁড়িয়ে আছে। আর সবার সামনে পুলিশ দাঁড়ানো। ঘটনা কি বুঝতে সামনে গিয়ে দেখি বাউনিয়া চলে আসছি।

আজকে আমেরিকান কূটনৈতিক জন ক্যারি আসবে। তার ফ্লাইট এখন নামবে/উঠবে এমন কিছু। তাই পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে রাখছে। মানুষও যেতে দিচ্ছে না। আমিও কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম। এরপর পুরি খেতে একটা দোকানে ঢুকলাম। পুরি খেয়ে বের হয়ে দেখি রাস্তা ছেড়ে দিবে এমন ভাব। কিছুক্ষন পরেই ছেড়ে দিলো। বাউনিয়ার যেখান থেকে দাঁড়িয়ে প্লেন মাথার উপরে দেখা যায় সেখানে গিয়ে দেখি আজকে মানুষ অনেক কম। কিন্তু পুলিশ আর পুলিশ। বাউনিয়া যখন আসছি তখন প্লেন দেখে যাই চিন্তা করে দাঁড়িয়ে পড়লাম। অনেকগুলো প্লেনের ল্যান্ডিং দেখে অবশেষে বাসার পথ ধরলাম।
আজ প্রায় ৫০ মিনিটে হাঁটা হয়েছে ৩ কিলোমিটারের বেশি পথ।

আজকের হাঁটার রুট,
মানিকদী(ইসিবি চত্বর)-> বালুঘাট-> বারনটেক-> বাইগারটেক-> মধ্য বাউনিয়া-> বাউনিয়া

রোজ সোমবার
২৯ আগস্ট, ২০১৬

Feature Image by depositphotos

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১৩ঃ আফতাবনগর টু মিরপুর-১

১৮ দিন আগে প্রায় ১১ কিলোর বেশি হাঁটলেও মনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে খুঁতখুঁত করছিলো; কতদিন হাঁটি না, কতদিন হাঁটি না। গতকাল রাতে তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে ভার্সিটি থেকে হেঁটে বাসায় যাবো। ৩ টায় পরীক্ষা দিতে ঢুকে যথারীতি বাঁশ খেলাম(কিছু পড়ি নাই তাই)। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে হালকা নাস্তা করলাম। তেলে ভাজা জিনিস খাওয়ায় বেশ অস্বস্তি লাগতেছিলো কিন্তু পাত্তা দিলাম না।

আজকের রুট হিসেবে ঠিক করলাম কালসী এবং পূর্বাচল ফ্লাইওভারের রুট। এই রুটে অনেকদিন ধরে হাঁটার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু হচ্ছিলো না। ভার্সিটির সামনে থেকে ঠিক ৫ টায় রওনা করলাম। হাঁটা শুরু করার আগে মোবাইলে এন্ডোমন্ডো চালু করে নিলাম। কতদূর কি হাঁটলাম ট্রেক রাখা যাবে।

বিকাল হয়ে আসলেও রোদ ছিলো বেশ। তবে বাতাস থাকায় তেমন গরম লাগছিলো না। শুরু হিসেবে ধীরে ধীরে হাঁটছিলাম। সমস্যা হলো ফুটপাত। রামপুরা থেকে বাড্ডা যাওয়ার পথে ফুটপাত বলতে কিছু নেই। হাঁটতে হচ্ছিলো বেশ ঘুরে ঘুরে। বাড়তি পরিশ্রম হচ্ছিলো। মধ্যবাড্ডার কাছে এসে যে পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম সে পাশে আর হাঁটাই যাচ্ছিলো না। রাস্তা পার করে ওপর পাশে চলে গেলাম। এপাশে তাও হাঁটার মত কিছুটা অবস্থা আছে। এইরকম ফুটপাতে হাঁটলে আমার ক্যান্টমেন্টের ফুটপাতের কথা মনে পড়ে। ওদের ফুটপাতগুলো কত সুন্দর। হেঁটেও মজা, পায়েরও শান্তি।

হাঁটতে হাঁটতে হোসেইন মার্কেটের অপজিটে কুয়েতী মসজিদের ওইখানে অসম্ভব মজাদার ডাল পুড়ি আর সস পাওয়া যায় সেটাই শুধু মাথায় ঘুরতেছিলো। এটার সামনে দিয়ে যখন যাবো তখন খেয়ে যাবো সিদ্ধান্ত নিলাম। ২৪ মিনিটের মাথায় পুড়ির দোকানে হাজির হলাম। গরম গরম পুড়ির অর্ডার দিয়ে বসে পড়লাম। হোটেলের বাইরে তাকিয়ে মন ভরে গেলো। বেশ কয়েকজন মুরব্বী বয়সী আংকেল মনে খুলে আড্ডা দিচ্ছে আর বাইরে দাঁড়িয়ে পুড়ি খাচ্ছে। পুড়ি খাওয়া শেষে এরপর গেল টং দোকানে চা খেতে। চা খেতে খেতে একে অপরের সাথে দুষ্টমিও করছে। ঘুনে ধরা শহরে এসব ছোটখাটো ঘটনা দেখে বড়ই শান্তি লাগে।

খাওয়া শেষে ১০ মিনিটের মধ্যে আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটু আগেই পুড়ি খেয়ে আবার পুড়ি খাওয়ায় গ্যাসের চাপে বুকে ব্যাথার মত শুরু হয়ে গেল। তেমন পাত্তা না দিয়ে হাঁটা বজায় রাখলাম। সুভাস্তু টাওয়ার পার হওয়ার পর মনে হলো জোরে হাঁটা দরকার। হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম। নতুন বাজার থেকে নর্দা যাওয়ার ফুটপাতটা বেশ ভালো। আর রাস্তা চওড়া হওয়ায় হেঁটে শান্তি। একেবারে গাঁ ঘেষে গাড়ি যায় না। যদিও সে শান্তি বেশিক্ষন ছিলো না। কিছুক্ষনের মধ্যে পায়ের তলা বিদ্রোহ ঘোষনা করলো। আমার পায়ে যে স্যান্ডেল সেটা জোরে হাঁটলেই আর সুবিধা হয় না। পায়ের তলা গরম হয়ে যায়। কি আর করা, পায়ের সাথে যুদ্ধ চালিয়েই হাঁটতে থাকলাম।

সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে আমার কাঙ্ক্ষিত ফ্লাইওভারের কাছে চলে আসলাম। এই ফ্লাইওভার হেঁটে পার হওয়ার ইচ্ছা বহুদিনের। ফ্লাইওভারে উঠে দেখি অনেক মানুষ ফ্লাইওভারের উপর দাঁড়িয়ে আছে। সূর্যের অস্তমিত আলোয় চারপাশ দেখতেও সুন্দর লাগেছিলো। ৭ মিনিটেই ফ্লাইওভার থেকে নেমে গেলাম। এবার পায়ের বিশ্রাম দরকার।

ফ্লাইওভার থেকে নেমে হাতের বামে রেললাইনের উপর যাওয়ার একটা রাস্তা আছে। সেই রাস্তা দিয়ে রেললাইনের উপর গিয়ে বসলাম। আপনমনে মোবাইলে ফেসবুক চালাচ্ছি হঠাৎ এক লোক বললো ভাই উঠেন। ট্রেন আসতেছে। শুনেই লাফ দিয়ে উঠে গেলাম। পিছে তাকিয়ে দেখলাম ট্রেন বহুদূর। একটু দূরে গিয়ে ট্রেনের ভিডিও করার জন্য দাঁড়ালাম। ট্রেন আসার পর দেখি বেশি কাছেই দাঁড়িয়ে পড়েছি। ট্রেনের বাতাসে ছিটকে পড়লাম মনে হলো। মিনিট পাঁচেক বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা ধরলাম।

রেডিসনের সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চিন্তা করলাম অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে, মাটিকাটা রোডে রাতে হাঁটা কি ঠিক হবে? আর ফ্লাইওভারের উপর তো পুলিশ থাকে যদি হেঁটে পার হতে না দেয়। এসব চিন্তা করতে করতে ফ্লাইওভারে উঠে গেলাম। শান্ত নির্জন ফ্লাইওভারের অন্যরকম এক মাধুর্য আছে যদিও বেশিক্ষন নির্জন থাকে না। উপর থেকে শহরটাকে দেখতেও বেশ লাগে। এই ফ্লাইওভার আমি আগেও হেঁটে পার হয়েছি। সেবার ইসিবি থেকে কুর্মিটোলার দিকে যাচ্ছিলাম আর এবার উল্টোটা। পুলিশ ধরবে যেই ভয় পাচ্ছিলাম সেরকম কিছু হলো না। পুলিশ কিছু বললো না। তারা বাইক ধরায় ব্যস্ত।

এই ফ্লাইওভারে হাঁটার সমস্যা হচ্ছে, বেশি সংকীর্ণ। হাঁটতে ভয় লাগে। কখন গাড়ি বা বাস এসে উড়িয়ে দেয়। একেবারে রেলিংএর ধার ধরে হাঁটতে গিয়ে বেশ কয়েকবার পিছলা খেলাম। মাটি ভিজে পিছলা হয়ে আছে। ফ্লাইওভারে হাঁটার শর্ত হচ্ছে সবসময়ই সাবধানে থাকতে হবে। একটু বেখেয়াল হলেই বিপদ। আজকে কয়েকবার বেখেয়াল হয়ে হাঁটতে গিয়ে মাইক্রো একেবারে গাঁ ঘেষে গিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে আমি ফুটপাতে নই তাদের রাজ্যে আছি।

পুলিশ না ধরলেও অর্ধেক রাস্তা যাওয়ার পর আর্মির গাড়ি এসে পাশে থামলো। জিজ্জাসা করলো,

কি করেন?
জ্বি, স্টুডেন্ট।
কোথা থেকে আসছেন?
রামপুরা।
কই যাবেন?
মিরপুর-১।
হাঁটতেছেন কেন?
আমার সরল উত্তর, আমি হাঁটি। মাঝেমধ্যেই হেঁটে বাসায় যাই।
একটু মুচকি হেসে, আপনি হাঁটেন?
আমি বললাম, জ্বি।
প্রশ্ন করলো, এই অন্ধকারে ফ্লাইওভারে একা হাঁটা ঠিক?
জ্বি না। আসলে বুঝি নাই যে অন্ধকার হয়ে যাবে।
এরপর বললো আচ্ছা ঠিক আছে। অন্ধকারে হাঁটবেন না।

আমি আশা করছিলাম বলবে চলেন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসি। আমি ভাব নিয়ে বলবো, না আমি যাবো না। আমি হেঁটেই যাবো। তেমন কিছু হলো না দেখে দুঃখ পেলাম।

আগের বার এই ফ্লাইওভার পার হতে ২২ মিনিট লেগেছিলো, এবার লাগলো ১৬ মিনিট। কিন্তু পায়ের অবস্থা যা তা। পায়ের তলা আর হাঁটুতে মনে হচ্ছে যেন আগুন জ্বলতেছে। ইসিবি চত্বরের এক টং দোকানে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে একটু জিরিয়ে নিলাম। হাঁটতে মন চাচ্ছিলো না আর কিন্তু আমি সংকল্পবদ্ধ। হেঁটেই বাসায় যাবোই।

মিনিট দশেক হাঁটার পর আর পারলাম না। বসে পড়তে হলো। মাটিকাটা রোডের এই অংশটাতে বাতাসও ছিলো বেশ। প্রায় ২০ মিনিট বাতাস খাওয়ার পর যখন প্রথম পা ফেললাম মনে হলো যেন পায়ের তলা কেটে ফেলে দেই। আর হাঁটা সম্ভবই না। কিন্তু আমার থামাথামি নেই। হাঁটবোই…

কালসী মোড়ে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম একটানে হেঁটে বাসায় যাবো তা সে যত কষ্টই হোক। এই মনোবলে এগিয়ে চললাম কিন্তু বাসা দূরে থাক পূরবী বাসষ্ট্যান্ডকেই মরিচীকা মনে হচ্ছিলো। যত হাঁটি কাছে আর আসে না। পূরবী বাসষ্ট্যান্ড এসে নতুন মরিচীকা পেলাম কেএফসি। কেএফসি পার হওয়ার পর মনে আবার জোর পেলাম। কাছাকাছি চলে আসছি। আর ৩০-৩৫ মিনিট হাঁটলেই হবে।

ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে এসে মন খুশি খুশি হয়ে গেল। এইতো এখান থেকে আর বেশি দূর না।
মিরপুর-১০ গোলচক্কর এককালে কত শান্ত জায়গা ছিলো। আর এখন হাঁটাই মুশকিল। এত মানুষ, এত মানুষ। গাড়ির জ্যাম তো আছেই, এখানে মানুষেরও জ্যাম লেগে যায়। আর ফুটপাত তো নয় যেন দোকান। হাঁটার জায়গা নেই। রাস্তায়ও হাঁটার উপায় নেই। চারিদিকে বাস, রিকশা, মোটর সাইকেলে গিজগিজ করছে। চরম বিরক্তি নিয়ে ৬০ ফিট রোডে ঢুকলাম। এরপর কিভাবে কিভাবে যে নিজেকে টেনে বাসায় আসলাম নিজেও জানি না।প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের মত টানা হাঁটছি। বাসার সামনে এসে গেটে দাঁড়িয়ে মোবাইল বের করে দেখি ৪ ঘন্টা হতে এখনো ৩ মিনিট বাকি! ৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিটে আজ হাঁটা হয়েছে প্রায় ১৬.৯৩৭ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি-> মেরুল বাড্ডা-> মধ্য বাড্ডা-> উত্তর বাড্ডা-> নতুন বাজার-> নর্দা-> বসুন্ধরা-> পূর্বাচল ফ্লাইওভার-> কুর্মিটোলা-> কালসী ফ্লাইওভার-> পূরবী-> মিরপুর-১১-> মিরপুর-১০-> ৬০ ফিট রোড-> মনিপুর স্কুল-> কাশেমের দোকান-> জোনাকি রোড-> বাসা

রোজ শুক্রবার
১২ আগস্ট, ২০১৬

Feature Image by istock

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১২ঃ রামপুরা টু ডেমরা

দুই মাসের কাছাকাছি হয়ে গেছে লম্বা কোন হাঁটা দেই না। বেশ কয়েকদিন থেকে বিষয়টা মনে মনে খোঁচাচ্ছিলো। আজকে ভার্সিটি যাওয়ার সময় যখন মনে মনে প্ল্যান করছিলাম, ডেমরা যাবো। তখনই মাথায় আসলো হেঁটে গেলেই তো পারি। যেই ভাবা সেই কাজ। ক্লাস শেষ করে হাঁটা শুরু।

আজকের আবহাওয়া অসম্ভব রকম ভালো ছিলো। মেঘলা আকাশ সাথে মৃদু মন্দ ঠান্ডা বাতাস। হাঁটার জন্য এরচেয়ে ভালো আবহাওয়া হতে পারে না। ভার্সিটি থেকে যখন রওনা দিলাম তখন ঘড়িতে ২টা বেজে ০৮ মিনিট। রোদের বদলে আকাশে মেঘেদের খেলা দেখতে দেখতে হাঁটতে বেশ লাগছিলো। আফতাব নগরের ভিতর দিয়ে হেঁটে ডি ব্লকের বাঁশের সাঁকো দিয়ে বনশ্রী রোডে ঢুকলাম। বামপাশে বেগুনবাড়ি খাল আর ডানপাশে ইট-পাথরের বাড়ি। বাস-ট্রাকের মাঝ দিয়ে আমি হেঁটে চলছি।

বর্ষাকাল হওয়ায় লেকের পাশের গাছগুলো ছিলো প্রাণবন্ত সবুজ। দেখেও চোখের শান্তি। শুধু লেকের পরিবেশ ভালো হলেই একবারে ১০০ তে ১০০ হয়ে যেত। অনেকদিন পর হাঁটায় বেশ হেলেদুলে হেঁটে নতুন হওয়া রাস্তার মাথায় আসলাম ২.৩৬ মিনিটে। স্টাফ কোয়াটারের এই রোড হওয়ার পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। কত যে বাস এখন চলে এই রোডে। ডেমরা থেকে আমার বাসা মিরপুর পর্যন্ত সরাসরি বাস আছে। বছরখানেক আগেও যেটা চিন্তা করা যেত না।

কিছুদূর হাঁটতে দূরে একটা ব্রিজ চোখে পড়ে। দূর থেকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিলো। ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখি নিচের পানি কচুরিপানা দিয়ে ভরা। ব্রিজের পাশে ষ্টাফ কোয়াটার ৬ কি.মি. রোড সাইন।

যেদিকে দুচোখ যায় শুধু পানি আর পানি। বর্ষার আগমনে চারিদিকে সাজ সাজ রব। একটু পর পর পুকুর/খাল/জলাশয় দেখা যাচ্ছিলো। মেঘলা আকাশ আর বাতাসের সাথে এই দৃশ্য দেখতে দেখতে হাঁটতে বড়ই শান্তি।

বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর আরেকটা ছোট ব্রিজের কাছে চলে আসলাম। জায়গার নাম নগদার পাড়, খিলগাঁও। দেখে অবাক হলাম। রামপুরা-ডেমরা সংযোগ রোডের এই অংশটা খিলগাঁও। রাস্তার পাশে চটপটির দোকান দেখে ঢুকে পড়লাম। অনেক বেশি ধনে পাতা দিয়ে বানানো চটপটি খেয়ে বহুদিন পর তৃপ্তি পেলাম। ঢাকাতেও এত ভালো চটপটি অনেকদিন খাই নাই। দোকানদার সাজু ভাইয়ের কাছে জানলাম এই ধনে পাতা তিনি নিজেই চাষ করেন। দোকানটাও বেশ সুন্দর। বিকালবেলা আড্ডা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গা। চটপটি খেয়ে আবার হাঁটা ধরলাম।

অনেকক্ষন ধরে থেমে থেমে হাঁটায় এবার ঠিক করলাম থামাথামি বাদ দিয়ে একটানা হাঁটবো। কিন্তু চারপাশের পানির দৃশ্য আমাকে বার বার থামিয়ে দিচ্ছিলো। নদীর পাড়ের মত বাতাস। সে বাতাসে হাঁটতে ইচ্ছা হয় না। ইচ্ছে হয় পাড়ে বসে থাকি, নয়তো নৌকা নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে পড়ি। ঢাকার মাঝে এত সুন্দর জায়গা কল্পনা করা যায় না। বর্ষার বৃষ্টি যেন নিজ হাতে রাস্তার দুপাশকে সাজিয়ে তুলেছে।

ষ্টাফ কোয়াটার থেকে দুই কিলোমিটার আগে পা ব্যাথা করা শুরু করলো। অনেক হাঁটা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে কোন বিরতিও নেই নাই। মনের জোরে এগিয়ে চললাম। যখন রাস্তার পাশে ১ কি.মি. লেখা সাইনটা দেখলাম তখন পায়ের গতি বেড়ে গেল। ১২ মিনিটে সেই পথটুকু পাড়ি দিয়ে আমার কাঙ্ক্ষিত ব্রিজের উপর চলে আসলাম। সময় তখন বিকাল ৪.৩২ মিনিট। প্রায় ২.৩০ ঘন্টা ধরে হাঁটা হয়েছে ১১ কিলোমিটারেরও বেশি পথ।

আজকের হাঁটার রুট,
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি-> বনশ্রী-> ত্রিমোহিনী সেতু-> নাগদার পাড়-> মস্তমাঝি-> আমুলিয়া-> ষ্টাফ কোয়াটার

রোজ সোমবার
২৫ জুলাই, ২০১৬

Feature Image by pinterest

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১১ঃ মিরপুর-১ টু শাহবাগ | গ্রীনরোড টু মিরপুর-১

আজকে আসলে হাঁটার কোন প্ল্যান ছিলো না। এক বন্ধুর বাসায় ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দুপুরে সেই প্ল্যান বাতিল হয়ে যায়। গত পরশু সার্জিল ভাইয়ের পোস্টে দেখলাম জাগৃতি প্রকাশনীর বইয়ে ডিসকাউন্ট চলতেছে। ভাবলাম যাই শাগবাগ থেকে ঘুরে আসি সাথে হাঁটাও হবে। গোসল করে ৪.৩৪ মিনিটে বের হয়ে পড়লাম। আজকের রুট হিসেবে ঠিক করলাম লেগুনা যেই রোডে ফার্মগেট যায়। তারপর বাসের রুটে শাহবাগ।

বাসা থেকে বের হয়ে ভিতরের অলিগলি দিয়ে কিছুটা পথ শর্টকাট করে ৬০ ফিট রোডে উঠলাম। আমার ইচ্ছা আছে একদিন ৬০ ফিট রোডের শুরুর মাথা থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত হাঁটাবো। সে যাই হোক আজকের বাইরের আবহাওয়া ছিলো চমৎকার। হাঁটার জন্য পারফেক্ট। জোরে জোরে হাঁটার পরও ঘাম হচ্ছিলো না তেমন।

২৪ মিনিট হাঁটার পর একটু একটু ক্ষুধা অনুভূত হচ্ছিলো। দুপুরে কিছু খাওয়া হয় নাই। ইচ্ছা ছিলো ১ ঘন্টা হাঁটার কিছুক্ষন রেস্ট নিবো সাথে হালকা কিছু খেয়ে নিবো। কিন্তু হাঁটতে হাঁটতে আগাঁরগাও এর কাছে এক টং দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পা অটোমেটিক দোকানে ঢুকে পড়লো। দুই হাত রুটি-কলা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো। খাওয়া শেষে বের হয়ে দেখি ক্ষুধা মিটে নাই। আবার এক হোটেলে ঢুকে পড়লাম। এইখানে খাওয়ার পর পেট ভরলো। আবার হাঁটা শুরু করলাম।

আগাঁরগাও-শ্যামলী লিঙ্ক রোডের মাথায় যাত্রী ছাউনির কাছে এসে পিছনে ফিরে অস্ত যাওয়া সূর্যের দিকে তাকিয়ে আর হাঁটতে ইচ্ছা হলো না। এক ইট-পাথরের দালানের পিছনে সূর্যের হারিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সেখানেই বসে থাকলাম। আধা ঘন্টার মত বিরতি নেওয়ার পর এবার মনে হলো না ঠিকমত হাঁটা দরকার। অনেক বিশ্রাম করা হয়ে গেছে।

এই শহরের ফুটপাত গুলোর নিজস্ব গল্প আছে। আমি যখন হাঁটি তখন একেক দিন এক এক ফুটপাত দিয়ে হাঁটি। শেরে বাংলার সামনের মাঝখানের যে ফুটপাত। সেটার গল্পটা অনেক বেশিই সুন্দর। পুরো ফুটপাত জুড়ে বড় বড় গাছ। গাছ কেটে নয় বরং গাছ রেখেই ফুটপাতটা বানানো হয়েছে। দেখেও শান্তি, হেঁটেও শান্তি। ইদানিং আবার ফুটপাত গুলোতে কিছুদূর পর পর ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। এটা দেখেও ভাল্লাগে। আগে ময়লা ফেলার জন্য জায়গা খোঁজা লাগতো এখন হাতের কাছে ডাস্টবিন। যদিও ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও অনেক রাস্তাতে ময়লা ফেলছিলো। আশা করা যায় কয়েকদিন পর সবাই এই নতুন ডাস্টবিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। শহরের রাস্তা হবে ময়লা মুক্ত।

দ্বিতীয় দফা হাঁটা শুরু করার পর থেকে কোন ক্লান্তি লাগছিলো না। একটানে হেঁটে শাহবাগ চলে আসলাম। আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে জাগৃতিতে বই দেখলাম। কোন বই পছন্দ না হওয়ায় কেনা হয় নাই। এরপর গেলাম গন গ্রন্থাগারে। সেখানে বই উৎসব চলতেছে। বিভিন্ন প্রকাশনীর বই ঘেঁটে গাছতলায় বসে পড়লাম। প্রায় ৫.৫ মাইল হাঁটা হইছে পা দুটোকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার।

এক বন্ধু আসলো টিএসসিতে। ওর সাথে আড্ডা দিয়ে আমাকে গ্রীন রোড নামিয়ে দিলো। এবার বাসায় ফেরার যাত্রা। রওনা দিলাম রাত ৯টা ৫৪ মিনিটে। মনে মনে হিসাব কষলাম বিশ্রাম সহ হয়ত ১২ টা বেজে যাবে বাসায় যেতে যেতে। কিন্ত আমার হিসাব ভুল ছিলো।

পান্থপথ মোড় পার হয়ে চিন্তা করা শুরু করলাম কোন রোড দিয়ে যাবো। আসার সময় তো খামার বাড়ি হয়ে আসছি। আবার একই পথে যাবো। সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে হাঁটতে থাকলাম। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে এসে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম নভো থিয়েটারের সামনে দিয়ে যাবো। এবং চরম একটা ভুল করলাম।

নভো থিয়েটারের সামনে আসার পর এক পুলিশ ইশারায় ফুটপাত ছাড়তে বললো। ফুটপাত ছেড়ে নিচে দিয়ে হেঁটে সামনে যাওয়ার পর বললো এখন যাওয়া যাবে না ভিআইপি যাবে। প্রধানমন্ত্রী আর কোন এক দেশের প্রধানমন্ত্রী মিটিং শেষে এখন ফিরবেন। গাড়ি, পথচারী সব আটকে রাখা হয়েছে। এক পুলিশ ভাই বলতেছিলো আমাদেরও আপনাদের আটকে রাখতে ইচ্ছে করে না কিন্তু কি করবো বলেন, ডিউটি। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর সব গাড়ি গেল আর আমরাও ছাড়া পেলাম।

ছাড়া পাওয়ার পর পা যেন অসীম শক্তি পেয়ে গেছে। জোরে জোরে হাঁটতে লাগলাম। শেরে বাংলার সামনে এসে ভয় ভয় করতে লাগলো। এখনই না কে এসে ঠেক দিয়ে বসে। আল্লাহর অশেষ রহমতে কেউ ঠেক দেয় নাই। রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে সুস্থ সবল অবস্থাতে বাসায় ফিরতে পেরেছি।

বাসায় ঢুকার পর আম্মুর প্রথম কথা, “এত টাকা দিয়ে তোরে পড়ালেখা করাইয়া কি লাভ যদি রাস্তাতেই পইড়া মইরা থাকোস।” এই কথা নাকি আব্বু আম্মুকে বলছে। আজকে টোটাল হাঁটা হইছে প্রায় ১৭-১৮ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
বাসা-> ৬০ ফিট-> আগাঁরগাও-> খামার বাড়ি-> ফার্মগেট-> বাংলা মোটর-> শাহবাগ
গ্রীনরোড-> পান্থপথ-> ফার্মগেট-> নভোথিয়েটার-> আগাঁরগাও-> তালতলা-> শ্যাওড়াপাড়া-> কাজীপাড়া-> ৬০ ফিট-> মোল্লাপাড়া-> বাসা

রোজ বুধবার
০৪ মে, ২০১৬

Feature Image by pinterest

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১০ঃ মিরপুর-১ টু টিএসসি

সূর্যের তীব্র দাবদাহে জীবন যেখানে অতিষ্ঠ সেখানে শুধু শখের বসে লং ওয়াক করাটা বোকামি। আজ সকালে Tracks নামক একটা মুভি দেখতেছিলাম। এক মহিলা চারটা উট আর একটা কুকুর নিয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে ১৭০০ মাইল রাস্তা ট্রেক করে। মুভির শেষে এসে আমার মধ্যে চিন্তা আসলো মরুভূমিতে যদি কেউ ১৭০০ মাইল রাস্তা হাঁটতে পারে তাহলে এই শহরে কি এমন গরম পড়েছে যে আমি হাঁটতে পারবো না!!! বিকালে তাই সিদ্ধান্ত তাই আমার অনেক প্রিয় একটা জায়গা টিএসসি তে হেঁটে যাবো। রুট হিসেবে বেছে নেই বাস যেই রুটে যায়।

গোসল করে মনে মনে নিজেকে তৈরি করে ৫.৩২ মিনিটে বাসা থেকে বের হই। শুরুতে আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকি। অনেক দিন লম্বা হাঁটা দেই না। তাই শুরুতেই প্রেশার দিতে চাচ্ছিলাম না। আর ইচ্ছা ছিলো যাওয়া-আসা দুইটাই হেঁটে করবো। যদিও পরে সেটা হয় নাই।

আজ বাইরে ভালোই বাতাস ছিলো। গরম লাগলেও বাতাসের কারনে অস্বস্তি লাগতেছিলো না। ১০ মিনিট হাঁটার পর মেইন রোডে উঠি। তাপহীন হেলে পড়া সূর্যকে পশ্চিম দিকে রেখে হাঁটতে থাকি। রাস্তার পাশে হঠাৎ হঠাৎ কৃষ্ণচূড়া গাছ চোখে পড়ে। সারাগাছ ফুল দিয়ে ছাওয়া। যেন গাছে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কল্পনা করতে থাকি চারিদিকে আর কিছু নেই। আমার দুপাশে শুধু কৃষ্ণচূড়ার গাছ। আমি আগুন রাঙ্গা পথের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এ জগতে শুধু আমি আর কৃষ্ণচূড়া ফুল সত্য বাকি সব মিথ্যা। এ এক অন্যরকম ঘোর। মনে মনে কল্প ডায়েরীতে নানা কথা লিখতে থাকি. . .

তিন রাস্তার মোড়ে এসে বামে মোচড় নিতেই সূর্য পিছনে পড়ে যায়। ততক্ষনে সূর্য ডুবেও গেছে শুধু আভা ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে আমি ছিলাম। আধা ঘন্টা হাঁটার পর শরীর বিশ্রাম নিতে চাচ্ছিলো। কিন্তু আমি নাছড়বান্দা এক ঘন্টার আগে কোন বিশ্রাম নেই তা যত কষ্টই হোক। সারাদিনে তেমন কিছু খাওয়াও হয় নাই। পেটও সেটা জানান দেওয়া শুরু করলো। অবশেষে এক ঘন্টা পরে কলেজ গেট এসে রাস্তার পাশে বসলাম। ৫ মিনিটের বিশ্রাম নিতেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম সব ঘাম শুকিয়ে গেছে, বেশ ফুরফুরা লাগছে নিজের কাছে। আবার হাঁটা শুরু করলাম। আসাদ গেট এসে আর পারলাম না, মুখে কিছু দিতেই হলো।

খাওয়ার পর হাঁটতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম আমার হাঁটার গতি অনেক বেশিই কম। তাই লক্ষ্য ঠিক করলাম। টিএসসি যাওয়ার আগে আর কোন থামাথামি নেই সাথে গতিও বাড়াবো। কলাবাগান পার হওয়ার পর ডান পায়ের রগে ব্যাথা শুরু করলো। পাত্তা দিলাম না। এত ছোটখাট জিনিসে পাত্তা দিলে হয় না। আমার তখন একটাই লক্ষ্য কখন টিএসসি পৌঁছাবো। কলাবাগান, ল্যাব এইড, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত একটানে হেঁটে চলে আসলাম। পা ব্যাথা থাকলেও পাত্তা না পেয়ে আর বেশি বিরক্ত করে নি।

নীলক্ষেত মোড় থেকে বামে মোড় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢোকার পর মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠে। বাসা থেকে যখন বের হয়েছিলাম তখনও ১০০% নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি আসতে পারবো কিনা। আর এখন ২ ঘন্টার ব্যবধানে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে। এ অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব না। এটা যে আমার প্রথম হাঁটা বা এত বেশি আমি কখনো হাঁটি নাই তা না। তবুও প্রতিবার আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে আগে মুখে হাসি ফুটে উঠে। অন্যরকম এক প্রশান্তি কাজ করে। এ প্রশান্তির দরকার আছে। মনের এতটুকু শান্তির জন্যই তো আসলে বেঁচে থাকা. . .

টিএসসির মোড়ে গিয়ে যখন বসি তখন ঘড়িতে সময় ৭.৫৫ মিনিট। ইচ্ছা ছিলো ১ ঘন্টা ঘুরে ফিরে আবার হেঁটে বাসায় যাবো। কিন্তু আশু ভাইয়ের সাথে দেখা হওয়ায় সেটা আর সম্ভব হয় নি। তার সাথে শ্যাওড়াপাড়া পর্যন্ত এসে তারপর আবার হেঁটে বাসায় আসি। হাঁটা হয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
বাসা-> চায়নিজ-> টেকনিক্যাল-> কল্যানপুর-> শ্যামলী-> কলেজ গেট-> আসাদ গেট-> ধানমন্ডি-২৭-> ধানমন্ডি-৩২-> কলাবাগান-> সায়েন্স ল্যাব-> নিউ মার্কেট-> নীলক্ষেত-> টিএসসি

রোজ শনিবার
৩০ এপ্রিল, ২০১৬

Feature Image by deviantart

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৯ঃ মালিবাগ মোড় টু মিরপুর-১

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ এর পর আর তেমন হাঁটাহাঁটি করা হয় নাই, আর হলেও নোট লেখা হয় নাই। দুই মাস চার দিন পর আজকে আবার নোট লিখতে বসলাম। অনেকদিন থেকেই ইচ্ছা করছিলো যে আবার আগের মত হাঁটাহাঁটি করি কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তা হয়ে উঠছিলো না।

আজ যখন মালিবাগ মোড় থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করলাম তখনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম, যাই হোক না কেনো আজ হেঁটেই বাসায় যাবো। ৮টা ৫৩ মিনিটে হাঁটা শুরু করলাম। শুরুতেই অনেক জোরে জোরে হাঁটা শুরু করলাম। হেঁটে মজাও পাচ্ছিলাম আজ। মগবাজার ফ্লাইওভারের কাজ করা দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকলাম। ফুরফুরা মনে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ এক ইটে জোরে পাড়া দিলাম আর মনে হলো আমার ডান পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল শেষ। অন্যদিন হলে সাথে সাথে রিকশা বা বাসে উঠে পড়তাম কিন্তু আজ প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হেঁটেই বাসায় যাবো। আঙ্গুলে বেশ ব্যাথা করলেও হাঁটতে থাকলাম আর কখন যে বাংলা মোটর পৌঁছে গেলাম নিজেও টের পাই নাই। আঙ্গুলের ব্যাথাও ততক্ষনে কমে গেছে।

ফার্মগেট এসে আরেক ইটের সাথে বাড়ি খেয়ে এবার বাম পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল ছিলে গেল, রক্ত বের হলো দেখে আঙ্গুলে পানি দিলাম। পানি দিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটু পরেই টের পেলাম রক্ত এখনো বের হচ্ছে। স্যান্ডেলে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে কিন্তু আমার কোন থামাথামি নেই। আরো দ্বিগুন উৎসাহে আমি হেঁটে যাচ্ছি।

কলেজ গেটের কাছে এসে আবার পায়ে বাড়ি খেলাম। এতদিন ধরে হাঁটাহাটি করতেছি কোনদিন এত বাধার সম্মুখীন হই নাই। পায়ে এত ব্যাথা করছিলো, মনে হচ্ছিলো রাতে জ্বর আসবে। এতকিছুর পরও আমার চিন্তা ছিলো একটাই আজ হেঁটে বাড়ি যাবো।

একটানা প্রায় ২ ঘন্টা হেঁটে কল্যানপুর আসার পর পা গুলো এবার বলা শুরু করলো, আর তো পারছি না। এবারতো ক্ষমা করো। আমি ওদের কথা পাত্তা দিলাম না। শরীরটাকে একরকম টেনেই নিয়ে চললাম। অবশেষে ১১.২০ মিনিটে বাসায় এসে পৌঁছালাম। হাঁটা হয়েছে প্রায় ১১ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
মালিবাগ মোড়-> মৌচাক মোড়-> মগবাজার মোড়-> বাংলা মোটর মোড়-> কাওরানবাজার মোড়-> ফার্মগেট মোড়-> খামার বাড়ি মোড়-> সংসদ ভবন-> আসাদ গেট-> কলেজ গেট-> শ্যামলী-> কল্যানপুর-> মধ্য পাইকপাড়া-> মর্নিং স্টার স্কুল-> বাসা

রোজ শুক্রবার
০৪ মার্চ, ২০১৬

Feature Image by deviantart

পায়ে হেঁটে লালাখাল

কুলাউড়ায় বড় আপুর বাসায় যাবো। সুরমা মেইল ট্রেনে যাবো ঠিক করলাম। কম খরচে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার মেইল ট্রেনে চড়ে মেইল ট্রেনের ভক্ত হয়ে গেছি। মেইল ট্রেনে নানা শ্রেনীর, নানা মানুষের গল্প খুব কাছ থেকে দেখা যায়। কম খরচে জীবনমুখী এমন দারুন স্কুলের ভক্ত না হয়ে উপায় আছে।

লালাখাল ভ্রমণের বিস্তারিত গাইডের লিংক নিচে দেওয়া আছে

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখ রাতে সময়মত কমলাপুর রেলস্টেশন চলে গেলাম। টিকেট ছাড়াই ট্রেনে চড়ে বসলাম। কুলাউড়ার ভাড়া ১০০ টাকা। ভেবেছিলাম ট্রেনে টিটি আসলে তাকে দিয়ে দিবো। কিন্তু পুরো জার্নিতে টিটির দেখা মিলে নাই। বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমণের শাস্তি পাই ঢাকা ফেরত যাওয়ার পর। কি শাস্তি পাই তা গল্পের শেষে জানতে পারবেন।

মেইল ট্রেন চলছে। ট্রেন ভর্তি গল্প। আমি মন ভরে সেই গল্প দেখছি। রাতটা বেশ মজায় মজায় কেটে গেলো। দিনের শুরু হওয়ার পর বিরক্তি লাগা শুরু করলো। ট্রেন যতটা না চলে তারচেয়ে বেশি বসে থাকে। আমার গন্তব্যস্থল কুলাউড়া থেকে ১৪ কিলো আগে শমসেরনগরে ট্রেন ঝাড়া দুই ঘন্টা বসে থাকলো। ঘড়িতে সময় তখন দুপুর ১টা। আমার তখন মেজাজ তুঙ্গে। মনে মনে বার বার বলছিলাম আর যেই ট্রেনেই উঠি, জীবনে কোনদিন সুরমা মেইলে উঠছি না।

কুলাউড়ায় আপুর বাসায় কাজ শেষ করে এবার সিলেটের বাসে চড়ে বসলাম। মামার বাসায় যাওয়ার পর মামা অবাক। এতো রাতে আমি কোথা থেকে আসলাম। বললাম, সকালে লালাখাল ঘুরতে যাবো। তাই তোমার বাসায় রাতের বিরতি। আমার উড়ালচন্ডী স্বভাব সম্পর্কে জানা থাকায় কিছু বললো না।

আপুর বাসায় যাওয়ার সময়ই চিন্তা করছিলাম সিলেট শহরে তো অনেক ঘোরা হয়েছে, এবার কই যাওয়া? ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে লালাখালের স্বচ্ছ নীল রঙের পানি দেখে ঠিক করলাম লালাখাল যাবো। কিন্তু লালাখাল তো নৌকা ছাড়া ঘোরা যায় না। আমি একা মানুষ নৌকা রিজার্ভ করে ঘুরবো না। ফেসবুকে সার্চ দিয়ে পায়ে হেঁটে লালাখাল ঘুরার রুট প্ল্যান পেয়ে গেলাম। ব্যস, আর কি লাগে!

মামার বাসা থেকে সকালে বের হয়ে প্রথমে বন্দর বাজার গেলাম। বন্দর বাজার থেকে টিলাগড়। সেখান থেকে জাফলংগামী লেগুনায় চড়ে সারিঘাট বাজার। সারিঘাট বাজারে নেমেই সবুজাভ স্বচ্ছ পানির দেখা মিললো। যেই পানির জন্য লালাখাল ঘুরতে আসা। সারিঘাট বাজার থেকে লালাখাল জিরো পয়েন্ট যাওয়ার ট্রলার পাওয়া যায়। বাহারী রঙের ট্রলার দেখে চড়তে মন চাইলেও রিজার্ভ ভাড়া ৮০০ টাকা শুনে হাঁটা দিলাম।

সারি নদীর সেতু
সারি নদীর সেতু

ট্রলার ঘাট পার হয়ে একটু সামনে গেলে সারি নদীর সেতু। সেতুটা বেশ পছন্দ হলো। সেতু থেকে নদীর পানির নিচের কাঁদা মাটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো, পানি এতটাই স্বচ্ছ। সেতু থেকে একটু সামনে নাজিমগড় রিসোর্টে যাওয়ার রাস্তা। রিসোর্টের রাস্তা পার হয়ে আরকেটু সামনে গেলে রাস্তা দুইভাগ হয়ে দুইপাশে চলে গেছে। ডানের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলে লালাখাল অটোস্ট্যান্ড পড়বে। আমি ডানের রাস্তা ধরে এগোতে থাকলাম। হুট করে রাস্তার মাঝখানে অদ্ভুত এক বাড়ি দেখলাম। কাছে গিয়ে দেখলাম এটা বাড়ি না, মসজিদ। রাস্তার নিচে অর্ধেক ঢুকে আছে। মানে হচ্ছে মসজিদকে অক্ষত রেখে রাস্তা বানানো হয়েছে। আশেপাশে কেউ ছিলো না। নাহলে আরো বিস্তারিত জানা যেত হয়তো।

রাস্তার মাঝে মসজিদ অক্ষত রেখে রাস্তা বানানো হয়েছে
এই মসজিদটিকে অক্ষত রেখে রাস্তা বানানো হয়েছে

লালাখাল অটোস্ট্যান্ডে গিয়ে লোকাল অটোতে চড়ে বসলাম। ভাড়া ১৫ টাকা। লোকাল হওয়ায় বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হলো। আমার সময়ের তাড়া না থাকায় বসে থাকলাম। লালাখাল যাওয়ার পথে কয়েকটা গ্রাম পড়লো। ইচ্ছে করছিলো নেমে কিছুক্ষন ঘুরে দেখি। লোকাল অটো হওয়ায় তা সম্ভব হলো না। প্রায় ২০ মিনিটের সুন্দর অটো জার্নি শেষে লালাখাল চলে আসলাম।

লালাখালের পাড়ে দাঁড়িয়ে মন জুড়িয়ে গেলো। স্বচ্ছ নীলাভ জল দেখে মন জুড়াতে বাধ্য। বেশ অনেকটা সময় নিয়ে চারপাশ দেখতে লাগলাম। চারিদিকে বেশ ব্যস্ততা। পর্যটক নিয়ে ট্রলার ঘুরে বেড়াচ্ছে, লোকাল নৌকায় করে স্থানীয়রা নদী পারাপার করছে, ছোট ছোট একদল শিশু পাথর কুড়াচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছিলো বাকিটা সময় এখানে বসেই কাটিয়ে দেই।

লালাখালের এখান থেকেও ট্রলার রিজার্ভ করে ঘুরে বেড়ানো যায়। এখানে রিজার্ভ ট্রলার ভাড়া ৩০০-৪০০ টাকা। আমি যেহেতু পায়ে হেঁটে ঘুরবো তাই নদী পার হওয়ার জন্য লোকাল নৌকায় উঠলাম। ৫ টাকায় নদী পার হয়ে লালাখাল চা বাগান চলে আসলাম।

নৌকায় নদী পারাপার
৫টাকায় নদী পারাপার

লালাখাল চা বাগান ফ্যাক্টরি ঘাট থেকে আমার হাঁটা শুরু হলো। নিশ্চিন্তপুর স্কুল পার হয়ে লালাখাল চা বাগানে প্রবেশ করলাম। ফ্যাক্টরিতে তালা মারা থাকায় ভিতরে ঢুকতে পারলাম না। সিলেট, শ্রীমঙ্গলে অনেক চা বাগান দেখা হয়েছে। এছাড়া এবছরের ফেব্রুয়ারীতে পঞ্চগড় গিয়ে সমতলের চা বাগানও দেখে আসছি। চা বাগান তাই নতুন করে কোন উত্তেজনা সৃষ্টি করলো না। কিন্তু তখনও যে আরো অনেক কিছু দেখার বাকি আছে তা কে জানতো।

চা বাগানের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সুপারী বাগানের কাছে চলে আসলাম। দেখার মত আহামরি তেমন কিছু নেই। আরেকটু সামনে এগুতেই চক্ষু চড়কগাছ। চা বাগানের ঠিক পাশেই লালাখালের সবুজাভ নীল পানি দেখা যাচ্ছে। অনেক চা বাগান দেখলেও চা বাগানের পাশে এমন দৃশ্য তো আগে কখনো দেখি নাই। আমি ছিলাম চা বাগানের বেড়ার ভিতর। পানি দেখে বেড়ার নিচের ফাঁক গলে নদীর পাড়ে চলে আসি।

নদীর পাড়ে ডিবি
নদীড় পাড়ে ঢিবি

নদীর মাঝে ছোট ছোট ডিবি দেখে উঠা শুরু করি। ডিবির উপর থেকে চারপাশের দৃশ্য আরো মনোরম। বেশ অনেকটা সময় সেখানেই বসে থাকলাম। এমন সময় এক নৌকার মাঝি ভাই আমাকে ডিবির উপর একা বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করলো আমি নৌকায় করে জিরো পয়েন্ট যাবো নাকি? জানালাম হেঁটে যাবো। বেশ অবাক হলেও আর কিছু বললো না।

লালাখালের পানি কতটা স্বচ্ছ তার একটা উদাহরন দেই। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে পানির নিচের মাছ একদম স্পষ্ট দেখা যায়। মনে হয় চাইলেই হাত দিয়ে ধরা যাবে। খালি হাতে মাছ ধরার ব্যর্থ চেষ্টাও করি!

পানিতে মাছ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে
স্পষ্ট মাছ দেখা যাচ্ছে

শীতের তাপহীন রোদে আবার চা বাগানের ভিতর ঢুকলাম। জিরো পয়েন্ট যাবো। শুরুতে যেই চা বাগান আহামরি কিছু লাগে নাই, তাই এখন বেশ ভালো লাগা শুরু করলো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আমি ছাড়া পুরো চা বাগানে কেউ নাই। একা একা ঘুরতে আরো বেশি ভালো লাগছিলো।

লালাখাল চা বাগান পার হয়ে আফিফা চা বাগান চলে আসলাম। এইখানে লালাখাল অনেক নিচুতে। টিলার আঁকাবাঁকা পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ হঠাৎ গাছগাছালির ফাঁক ফোঁকর নিয়ে নীল পানি দেখা যায়। তখন মন্ত্রমুগ্ধের মত কিছুক্ষন ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকি।

চা বাগানের গাছের ফাঁক দিয়ে লালাখাল
চা বাগানের ভিতর হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হই

লালাখাল জিরো পয়েন্টের প্রায় কাছাকাছি চলে আসছি এমন সময় বিস্তীর্ণ সোনালী মাঠের সাথে দেখা। ধান কাটা শেষ। মাঠ জুড়ে গরুর পাল ঘাস খাচ্ছে। এমন কোন দৃশ্য দেখবো কল্পনাও করি নাই। আবারও প্রমান হলো কোন জায়গায় হেঁটে গেলে এমন সব দৃশ্যের সন্ধান পাওয়া যায় যা অন্য কোন উপায়ে সম্ভব না!

বিস্তৃণ সোনালী মাঠ
বিস্তীর্ণ সোনালী মাঠ

জিরো পয়েন্টে এসে বিপদে পড়লাম। এখানে নদী পার হয়ে অপর সাইডে যেতে হবে। স্থানীয়রা নদীর মধ্যে দিয়ে হেঁটে গেলেও আমার সাহসে কুলাচ্ছিলো না। সাঁতার পারি না। কোথায় পানি কতটুকু তাও জানি না। তাই বেশি সাহসিকতা দেখালাম না।

দূরে বালু দেখে ভাবলাম সামনে গিয়ে বালুর মাঠ পার হয়ে ঐপাড়ে যাবো। নদীর পাড় ধরে হাঁটছি হঠাৎ জোরে হাক শুনলাম। জিরো পয়েন্টে আছি দেখে সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেলাম। বোঝার চেষ্টা করলাম কে ডাক দিচ্ছে। আমি দাঁড়ানোর পর ডাক থেমে গেলো। আমি আর সামনে না গিয়ে পিছনে এসে এক নৌকার মাঝিকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম আমি যেই পাশ ধরে হাঁটছি সেটা বাংলাদেশ কিন্তু যেই বালুর মাঠ পার হয়ে ঐপাড় যেতে চাচ্ছি তা ভারতে। আশেপাশে বিডিআর না থাকায় আমি এতদূর আসতে পারছি। বিডিআর থাকলে এই পাড় ধরে এতদূর আসতে দিতো না।

ঐপাড়ে যাওয়া হবে না বুঝতে পেরে এইপাড়ের নদীর পাড়ে বসে পড়লাম। মনমত সময় কাটিয়ে আবার ফিরতি পথ ধরলাম। যেই পথে এসেছি সেই পথেই হেঁটে যাবো। আসার সময় চারপাশ দেখতে দেখতে আসায় কতটা পথ হাঁটা লাগছে টের পাই নাই। কিন্তু এখন ফিরতি পথে বেশ টের পাচ্ছি, অনেক পথ হাঁটা হয়েছে।

লালাখাল অটোস্ট্যান্ডে এসে বিপদে পড়লাম। পর্যটকরা সবাই রিজার্ভ অটো নিয়ে আসছে। আর লোকাল অটো ছিলো না। বেশ অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। আগের মতই লালাখাল অটোস্ট্যান্ড নেমে হেঁটে সারিঘাট বাজার আসলাম। বাজার থেকে জাফলং থেকে আসা এক লেগুনায় চড়ে বসলাম। লেগুনা সরাসরি বন্দর বাজার নামিয়ে দিলো।

সারাদিনের অভুক্ত পেট তারপর হাঁটা হয়েছে অনেক। পেটে ছুঁচো দৌড়াচ্ছিলো। দেরি না করে জিন্দাবাজার পাঁচ ভাই হোটেলে চলে গেলাম। পেট চুক্তি ভাত, ভর্তা, মাংস খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললাম। এবার বাড়ি ফেরার পালা।

কদমতলী গিয়ে হানিফ বাসের টিকেট কাটলাম। বাসে উঠেই ঘুম। সারাদিনের হাঁটাহাটিতে বেশ ক্লান্ত ছিলাম। ভোর রাতে বাস ফকিরাপুল নামিয়ে দিলো। বাস থেকে নামার সময় মাথায় হাত। এক পায়ের স্যান্ডেল পাই না। পুরো বাস খুঁজেও কোথাও স্যান্ডেল পেলাম না। বাধ্য হয়ে খালি পায়ে নামলাম। তখনও মনে হলো সিলেট যাওয়ার দিন গাফিলতি করে ট্রেনের টিকেট কাটি নাই। তারই আক্কেল সালামী।

আমার লালাখাল ভ্রমণের রুটঃ

সিলেট শহর-> বন্দর বাজার -> সারিঘাট বাজার -> সারি সেতু পার হয়ে লালাখাল অটো স্ট্যান্ড-> লালাখাল-> লালাখাল চা বাগান-> লালাখাল জিরো পয়েন্ট

লালাখাল ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে লালাখাল ভ্রমণ গাইড পড়ুন।

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে যাবো না।

আরো পড়ুন

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৮ঃ আজিমপুর টু মিরপুর-১

গতকাল ট্রাস্ট মিলনায়তনে এক বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে ভরপেট খাওয়ার পরে ভেবেছিলাম আজকে হেঁটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যাবো। কিন্ত সারাদিনে আলস্যের কারনে আর যাওয়া হয় নি। সন্ধ্যায় এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ভাবলাম যাই বাইরে থেকে ঘুরে আসি। টিএসসি যাওয়ার পর সিন্ধান্ত নিলাম আড্ডা শেষে আজ হেঁটে বাসা যাবো।

আড্ডা দিয়ে যখন বাসার উদ্দ্যেশে রওনা দিবো তখন সম্রাটকে বললাম তুইও আমার সাথে হেঁটে চল। ল্যাব এইড থেকে রিকশা নিয়ে নিস। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বললো আচ্ছা চল। রাত ১০.৩১ মিনিটে আমরা আজিমপুর বাসষ্ট্যান্ড কলোনীর প্রথম গেট থেকে রওনা দিলাম। শুরুতে আস্তে আস্তে হাঁটতেছিলাম। ল্যাব এইড আসার পর সম্রাট বললো চল কলাবাগান পর্যন্ত যাই তোর সাথে। রাত ১১.১৩ মিনিটে কলাবাগান ওভার ব্রিজের কাছে চলে আসলাম। এরপর সম্রাট ওর রাস্তায় আমি আমার রাস্তায়।

সম্রাট চলে যাওয়ার পর আমি আমার আসল হাঁটা শুরু করলাম। এতক্ষন আস্তে হাঁটার কারনে পা কামড়াচ্ছিলো। বলতেছিলো জোরে হাঁট, জোরে হাঁট। কিছুক্ষন হাঁটার পরই দৌড় শুরু করলাম, হাঁপানোর আগ পর্যন্ত থামলাম না। আবার কিছুক্ষন হাঁটলাম আবার দৌড়। ভালোই মজা পাচ্ছিলাম।

রাতের রাস্তায় হাঁটার মজা আছে। কোন গ্যাঞ্জাম নেই, মানুষের ভিড় নেই, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় বিরক্ত লাগে না। রাতের রাস্তাও অনেক সুন্দর। ল্যামপোস্টের নিয়ন আলো আর সাথে শোঁ শোঁ ছুটে চলা গাড়ির সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে বেশ লাগছিলো। কোন বিরতি ছাড়া হেঁটে হেঁটে আসাদ গেট চলে আসলাম। এই রাস্তায় এসে একা একা লাগতেছিলো। মনে হচ্ছিলো সাথে কোন সঙ্গী থাকলে মন্দ হত না। গল্প করতে করতে হাঁটা যেত। রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, নাহ আমি একা নই চাঁদ আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে। হঠাৎ করেই মাথায় নতুন একটা প্ল্যান আসলো, সারারাত হাঁটবো। কোন এক রাতে বাসায় ফিরবো না। হেঁটে হেঁটে এই শহরটাকে দেখবো। সাথে কোন সঙ্গী থাকলে ভালো, না থাকলেও সমস্যা নেই।

কলেজ গেট এসে মনে মনে ঠিক করতে থাকলাম কোন রোড দিয়ে যাবো। রাত বাজে প্রায় ১২টা। কোন রোডই খুব একটা সুবিধার না। ছিনতাইয়ের ভয় তো আছেই সাথে আছে কুকুরের ভয়। রাতের রাস্তা হচ্ছে কুকুরদের স্বর্গ। সেখানে তারা আমাকে মেনে নিবে কিনা সেই ভয় কাজ করছিলো। কল্যানপুর এসে দেখলাম ১১টা ৫১ বাজে। আল্লাহর নাম নিয়ে মেইন রোড ছেড়ে ভিতরের গলিতে ঢুকে পড়লাম। যা থাকে কপালে।

কল্যানপুর গার্লস স্কুল পর্যন্ত কোন সমস্যা হলো না। রাস্তায় মানুষ ছিলো। কিন্তু এরপর আর মানুষ নাই। মনে একটু একটু ভয় নিয়ে এগোতে থাকলাম। নতুন বাজার এসে আবার মানুষের দেখা পেয়ে মনে সাহস খুঁজে পেলাম। মধ্য পাইকপাড়া আসার পর আবার চিন্তা করতে থাকলাম এখন কোন রোড দিয়ে যাবো। এখানে ছিনতাইয়ের ভয় নেই কিন্তু কুকুর ছাড়া এমন কোন গলি নেই যেখান দিয়ে যেতে পারবো।

অনেক সাহস নিয়ে হাবুলের পুকুর পাড় রোডে ঢুকলাম। তখন সম্রাট ফোন দিলো ওর সাথে কথা বলতে বলতে ওই রাস্তা পার হয়ে গেলাম। কিন্তু ও ফোন রাখার পরই হলো গ্যাঞ্জাম। রাস্তায় কোন মানুষ নেই। দূরে কুকুরের চিৎকার শোনা যাচ্ছে আর আমার সামনেও কুকুর হাঁটাহাঁটি করতেছে। কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেলাম। পরক্ষনেই বুঝলাম এখানে দাঁড়িয়ে কোন লাভ নেই। হাঁটতে হবে, হাঁটতে থাকলাম। একটু সামনে গিয়ে মানুষের দেখা পেয়ে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ভয়ে ভয়ে হেঁটে যখন বাসার গেটে আসলাম তখন সময় ১২.১৭ মিনিট। যদিও অনেক ভয়ে ছিলাম কিন্তু হেঁটে অনেক মজা পেয়েছি। গুগল ম্যাপে চেক করে দেখলাম প্রায় ৯ কিলোমিটারের মত হাঁটা হয়েছে।

আজকের হাঁটার রুট,
আজিমপুর বাসষ্ট্যান্ড কলোনীর প্রথম গেট-> নীলক্ষেত মোড়-> ল্যাব এইড-> কলাবাগান-> ধানমন্ডি ২৭-> আসাদ গেট-> কলেজ গেট-> শ্যামলী-> কল্যানপুর-> কল্যানপুর গার্লস স্কুল-> নতুন বাজার-> মধ্য পাইকপাড়া-> হাবুলের পুকুর পাড়-> বাসা

রোজ রবিবার
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

Feature Image by Gareth Photography

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৭ঃ মিরপুর-১ টু উত্তরা

পরীক্ষার কারনে বেশ কয়েকদিন হাঁটাহাঁটি করা হচ্ছিলো না। দুই দিনের ছুটি পেয়ে তাই ভাবলাম আজকে হেঁটে আসা যাক। হন্টন প্রোজেক্টের শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিলো আমার বাসা থেকে হেঁটে উত্তরা যাবো। গুগল ম্যাপে ঘাটাঘাটি করে দেখলাম ১৬-১৭ কিলোমিটারের মত হবে রাস্তা। তাছাড়া উত্তরাতে অনেক ফ্রেন্ড থাকে আড্ডা দেওয়া যাবে। এই ভেবে উত্তরা যাবো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।

দুপুর ২.১৪ মিনিটে বিসমিল্লাহ বলে ঘর থেকে বের হয়ে পড়লাম। অনেক দূরের পথ তাই শুরুতেই জোরে হেঁটে পথ এগিয়ে রাখতে চাচ্ছিলাম। আমার বাসা থেকে মিরপুর-১০ হেঁটে যেতে সময় লাগে ২২-২৫ মিনিট। সেই টার্গেটে হেঁটে ২২ মিনিটেই চলে গেলাম। শীতকাল তাই ঘন ঘন “ছোট কাজের” বেগ আসে কিন্তু কাজ সাড়ার জায়গা নেই দেখে গ্যালাক্সী হাসপাতালে ঢুকলাম। রেস্টরুমের খোঁজে পাঁচতলায় গিয়ে দেখলাম দরজায় তালা দেওয়া! দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে কাজ না সেরেই আবার হাঁটা দিলাম।

আজ হাঁটতে কোন ক্লান্তিবোধ করতেছিলাম না। একটানা একঘন্টার মত হেঁটে দুপুর ৩.১৬ মিনিটে ইসিবি চত্বর চলে আসলাম। ইসিবি চত্বর থেকে ফ্লাইওভারে উঠবো নাকি নিচ দিয়া যাবো বুঝতেছিলাম না। নিচ দিয়ে রাস্তা চিনি না দেখে ফ্লাইওভারের উপরে উঠলাম। আর মস্ত এক বোকামি করলাম। শরীর ঘেষে বাস, গাড়ি, সিএনজি, বাইক সোঁ সোঁ শব্দ তুলে যাচ্ছিলো আর আমি ভয়ে শেষ হচ্ছিলাম। হাঁটার গতি একদম কমে গেল। একটু পর পর পিছনে ফিরে দেখতেছিলাম গাড়ি আসতেছে কি না। রেলিং ঘেঁষে হাঁটায় রেলিং এর ময়লা জামায় লাগতেছিলো কিন্তু আমার সেদিকে খেয়াল নেই। আমার মনে শুধু একটা ভয় কাজ করতেছিলো, কোন গাড়ি এসে না গায়ে লাগিয়ে দেয়। হঠাৎ সামনের দিক থেকে দুইটা ছেলেকে আসতে দেখে মনে একটু সাহস পেলাম। ওরা যাচ্ছে গাড়ি চলাচলের বিপরিত দিক দিয়ে মানে ওরা দেখতে পাচ্ছিলো সামনে থেকে কি গাড়ি আসতেছে কিন্তু আমি সেটা পারতেছিলাম না। নানারকম উদ্ভট দুর্ঘটনার চিন্তা মাথায় আসতে থাকলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে ২২ মিনিট পর ফ্লাইওভার শেষ হলো। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। ফ্লাইওভার দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম নিচ দিয়েও যাওয়ার রাস্তা আছে। নেক্সট টাইম নিচ দিয়েই যাবো, আর উঠতেছি না ফ্লাইওভারে।

শ্যাওড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছালাম বিকাল ৪.০২ মিনিটে। তেমন ক্লান্তি না লাগলেও জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বসলাম সাথে রুটি-কলা খেয়ে পেটকেও শান্তি দিলাম। ৪.১৪ মিনিটে আবার হাঁটা শুরু করলাম।

হাঁটতে হাঁটতে আমার উত্তরার ফ্রেন্ডদের কে ফোন দিলাম। প্রথমে রায়হান নাঈমকে ফোন দিলাম, বললো ফাইনাল প্রেজেন্টেশনের কাজ করতেছে বের হতে পারবে না। এরপর ফোন দিলাম ইমনকে, বললো অনেক ক্লান্ত আজকে বের হওয়া সম্ভবই না। এরপর ফোন দিলাম উত্তরার জাহিদকে, বললো সে ঢাকায় নাই। তিনজন না বলে দেওয়ায় আর কাউকে ফোন দিতে ইচ্ছা হলো না। একাগ্র মনে হাঁটতে থাকলাম।

দুই ঘন্টার উপর হয়ে যাওয়ায় ক্লান্তি লাগা শুরু করলো। মনের জোরে হাঁটতে থাকলাম। এয়ারপোর্টের আগে আর থামবো না সিদ্ধান্ত নিলাম। খিলখেতের রাস্তায় এসেই মনে হতে থাকলো, “এয়ারপোর্ট আর কত দেরি পাঞ্জেরি।” এয়ারপোর্টের নিজস্ব সম্পত্তি দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকলাম। বিশাল বিশাল সব জলাশয়। দেখতেছি আর হাঁটতেছি কিন্তু রাস্তা আর শেষ হয় না। অবশেষে পা যখন আর পারতেছেই না তখন ৫.০১ মিনিটে এয়ারপোর্ট পৌঁছালাম।

রাস্তার পাশে যাত্রী ছাউনি দেখে সেখানেই বসে পড়লাম। চিন্তা করতে থাকলাম এখন কি করবো। উত্তরাতে তো কেউ নাই, উত্তরায় কি যাবো নাকি এখান থেকে বাসে উঠে বাসায় চলে যাবো। অনেক হিসাব নিকাশের পর ঠিক করলাম উত্তরাতে যাওয়ার জন্য যখন বের হইছি তখন উত্তরাতেই যাবো। এতচিন্তা করতে করতে কখন যে ২০ মিনিট পার হয়ে গেছে টেরই পায় নি।

৫.২১ মিনিটে এয়ারপোর্ট থেকে উত্তরার উদ্দ্যেশে হাঁটা দিলাম। জসীমউদ্দিন রোডে আসার পর ভাবতে থাকলাম উত্তরাতে তো চলেই আসলাম, কোথায় গিয়ে থামবো। নর্থ টাওয়ার, হাউস বিল্ডিং হবে শেষ স্টপেজ মনে মনে ঠিক করলাম। একটা সময় গিয়ে পা আর চলে না। চলেই না। টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে হাউসবিল্ডিংও যেন মরুভূমির মরীচিকা হয়ে গেল। যেই বিল্ডিং দেখি সেটাই নর্থ টাওয়ার মনে হয়। কাছে গিয়ে দেখি সবই ভুল। মরীচিকার পিছে হাঁটতে হাঁটতে শেষ পর্যন্ত ৬.০১ মিনিটে নর্থ টাওয়ার গিয়ে পৌঁছালাম আর হাঁটাও শেষ হইলো।

গুগলের হিসাব মত প্রায় ১৬-১৭ কিলোমিটারের মত হাঁটা হয়েছে। পেসার এপসের হিসাব অনুযায়ী ২২ হাজারের বেশি স্টেপ নেওয়া হয়েছে। ঘড়ির হিসাব মতে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘন্টা।

আজকের হাঁটার রুট,
আমার বাসা(মিরপুর-১) -> কাশেমের দোকান ->৬০ ফিট রাস্তা -> ফলপট্টি রোড -> ১০ নাম্বার গোল চত্বর -> মিরপুর-১১ -> কেএসসির পাশের রোড -> কালসীর মোড় -> ইসিবি চত্বর -> মাটিকাটা ফ্লাইওভার -> কুর্মিটোলা হাসপাতাল -> শেওড়া -> খিলখেত -> এয়ারপোর্ট -> জসীমউদ্দীন রোড -> নর্থ টাওয়ার

রোজ শুক্রবার
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

Feature Image by scgshow

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৬ঃ ধানমন্ডি-২৭ টু মিরপুর-১

দুপুরে পোলাও, গরুর গোশত, মুরগীর গোশত দিয়ে জম্পেশ খাওয়া দাওয়ার পর রাতে যখন আবার লাইভ কিচেনের বার্গাহোলিক সারপ্রাইজ খেতে বসি তখনই মনে মনে ডিসিশন নিয়ে নেই আজকে হেঁটে বাসায় যাবো। তাছাড়া ১ তারিখের পর আর হাঁটা হয়নি তেমন।

বার্গার খেয়ে উদরপূর্তি করে ৯.৪১ মিনিটে ধানমন্ডি-২৭ মিনা বাজার থেকে হাঁটা শুরু করি। আজকের হাঁটার শুরুটা ছিলো মন্থর। আস্তে আস্তে গতি বাড়তে থাকে। ২৭ নাম্বার রাপা প্লাজার সামনে আসতে আসতে হাঁটার গতি পুরোদম পায়।

গনভবনের সামনে এসে দেখি একটু দূরে দূরে কয়েকজন করে প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে। মনে ভয়(কেন ভয় লাগছে নিজেও জানি না) কাজ করতে থাকে যদি ডেকে জিজ্জাসা করে এতরাতে গনভবনের সামনে দিয়ে কই যাচ্ছি। ভয় তাড়াতে হাঁটার গতি বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি গনভবন পার হই। আমার ভয়কে মিথ্যা প্রমান করে কেউ ডাক দেয় নি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের সামনে এসে সময় কত দেখতে ফোন বের করে দেখি মোবাইল লক হয়ে গেছে। ব্যাকআপ পিন নাম্বার চাচ্ছে। পিন নাম্বার দেই বলে ইনভেলিড পিন নাম্বার। যত পিন মাথায় আসছে সব ট্রাই করলাম, একটাও কাজ করে না। মাথা নষ্ট অবস্থা। যা আছে কপালে চিন্তা করে মোবাইল পকেটে রেখে দেই। বাসায় গিয়ে কাহিনী কি দেখা যাবে! এতকিছুর মাঝে হাঁটা বন্ধ ছিলো না। হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন পিন নাম্বার ট্রাই করতেছিলাম।

কল্যানপুর এসে মেইনরাস্তা ছেড়ে ভিতরের রাস্তায় ঢুকার পর মনে মনে হিসাব করতে থাকলাম আর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগতে পারে। এদিকে মোবাইলের টেনশন। পা আরো জোরে জোরে ফেলতে লাগলাম।

বাসায় ঢুকার সময় ঘড়িতে দেখি ১০.৪৫ মিনিট। গুগল ম্যাপ চেক করে দেখি বেশি না মাত্র ৫.৫ কিলোমিটারে মত পথ হাঁটা হইছে।

আজকের হাঁটার রুট,
ধানমন্ডি-২৭(মিনা বাজার)-> আসাদ গেট -> কলেজ গেট -> শিশু মেলা -> শ্যামলী ->কল্যানপুর -> নতুনবাজার -> মধ্যপাইকপাড়া -> ছাপাখানার মোড় -> বাসা

রোজ শনিবার
১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

Feature Image by hipwallpaper

লালাখাল ভ্রমণ গাইড (খরচ, থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সব তথ্য)

লালাখাল (Lalakhal) সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার একটি উল্লেখযোগ্য ভ্রমণ স্থান। লালাখালের পানির রঙের জন্য ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পানি কোথাও নীল, কোথাও নীলচে সবুজ আবার কোথাও আকাশী নীল। তবে এই নীল রঙ দেখতে হলে যেতে হবে শীতকালে (ডিসেম্বর থেকে মার্চ)। বর্ষায় পানি ঘোলা থাকায় দেখার মত কিছু থাকে না। নীল পানি ছাড়াও নদীর দুইপাশে পাহাড়ি বন, চা-বাগান এবং নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি লালাখাল ভ্রমণকে আনন্দময় করে তোলে। সারিঘাট থেকে লালাখাল জিরো পয়েন্টের দূরত্ব বেশি নয়। পায়ে হেঁটে বা ট্রলার দুইভাবেই জিরো পয়েন্ট যাওয়া যায়। পর্যটকরা সাধারনত জিরো পয়েন্টে পানিতে নেমে থাকে।

আজকের পোস্টে লালাখাল ভ্রমণ সম্পর্কে সব তথ্য আমরা জানবো।

  • লালাখালের পানি নীল কেনো
  • কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর
  • কিভাবে যাবেন
    • ঢাকা থেকে সিলেটঃ বাস, ট্রেন, বিমান
    • চট্টগ্রাম থেকে সিলেটঃ বাস, ট্রেন, বিমান
    • সিলেট থেকে লালাখাল
  • কম খরচে ট্রলার রিজার্ভ করতে
  • পায়ে হেঁটে লালাখাল
  • কোথায় থাকবেন
  • কি খাবেন
  • আনুমানিক খরচ
  • লালাখাল ভ্রমণ টিপস

লালাখালের পানি নীল কেনো

লালাখানের অবস্থান ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে। চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন এই নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে আসা প্রবাহমান পানির সাথে মিশে থাকা খনিজ এবং নদীর তলদেশ কাদার পরিবর্তে বালুময় হওয়ার কারনে পানির রঙ নীল দেখায়।

কমন কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

  • লালাখাল ভ্রমণের সেরা সময় কখন?
    • শীতকাল। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। তখন লালাখালের পানি নীল থাকে। বর্ষায় নদীর পানি ঘোলা হয়ে যায়।
  • লালাখাল কোথায় অবস্থিত?
    • লালাখাল সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে জাফলং যাওয়ার পথে সারিঘাট বাজার থেকে লালাখাল যাওয়া যায়।

লালাখাল কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেট

  • ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন, প্লেন করে সিলেট আসতে পারবেন।
    • বাস,
      • সায়েদাবাদ, গাবতলী থেকে সিলেটগামী বাস ছেড়ে যায়।
      • নন-এসি বাসঃ ইউনিক, এনা, হানিফ, শ্যামলী ইত্যাদি। ভাড়া – ৪৮০ টাকা
      • এসি বাসঃ গ্রিন লাইন, লন্ডন এক্সপ্রেস, শ্যামলী ইত্যাদি। ভাড়া – ৮০০-১৬০০ টাকা
    • প্লেন,
      • বিমান বাংলাদেশ, নভো-এয়ার, ইউএস বাংলা প্লেন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে সিলেট যায়
      • প্লেনের ভাড়া আনুমানিক ২৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে
    • ট্রেন,
      • উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত, কালনী ট্রেন ঢাকা কমলাপুর বা বিমান বন্দর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়
সিটের নাম ভাড়া
শোভন চেয়ার ৩৮০ টাকা
প্রথম চেয়ার/সিট ৪৪৫ টাকা
স্নিগ্ধা ৬৩০ টাকা
এসি সিট ৭৫৬ টাকা
এসি বার্থ ১১৬৯ টাকা

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট

  • চট্টগ্রাম থেকে বাস, ট্রেন, প্লেন করে সিলেট আসতে পারবেন।
    • বাস,
      • দামপাড়া, কর্ণেল হাট থেকে সিলেটগামী বাস ছেড়ে যায়।
      • নন-এসি বাসঃ এনা, সৌদিয়া, মামুন ইত্যাদি। ভাড়া – ৭০০ টাকা
      • এসি বাসঃ গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, লন্ডন এক্সপ্রেস ইত্যাদি। ভাড়া – ৯০০-১২০০ টাকা
    • প্লেন,
      • বিমান বাংলাদেশ, নভো-এয়ার, ইউএস বাংলা
      • প্লেনের ভাড়া আনুমানিক ৫০০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে
    • ট্রেন,
      • উদয়ন, পাহাড়িকা ট্রেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায়
সিটের নাম ভাড়া
শোভন চেয়ার ৩৯৫ টাকা
স্নিগ্ধা ৭৩৯ টাকা
এসি সিট ৮৭৭ টাকা
এসি বার্থ ১৩৫৮ টাকা

সিলেট থেকে লালাখাল

সিলেট শহরের সোবহানী ঘাট/টিলাগড় থেকে জাফলংগামী বাস/লেগুনায় উঠে সারিঘাট বাজার নামবেন। ভাড়া নিবে ৪০-৬০ টাকা। সারিঘাট বাজার থেকে লালাখাল ঘুরে বেড়ানোর জন্য ট্রলার রিজার্ভ করতে পারবেন। ঘন্টা প্রতি ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা নিবে। কয়েকঘন্টার জন্য ঘুরলে খরচ কিছুটা কম হবে। ট্রলার করে ঘুরলে লালাখাল চা বাগান, সুপারী বাগান, আফিফা চা বাগান, লালাখাল জিরো পয়েন্ট সব ঘুরিয়ে দেখাবে। সবগুলো ঘুরে দেখতে ৩ ঘন্টার বেশি সময় লেগে যাবে।

সিলেট ট্যুর প্যাকেজ এবং সকল ধরনের সার্ভিস আমি দিয়ে থাকি। ফ্যামিলি, কর্পোরেট, বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ প্যাকেজের জন্য ফোন করুন 01755-238181 নাম্বারে।

কম খরচে ট্রলার রিজার্ভ করতে

সারিঘাট বাজার থেকে ট্রলার রিজার্ভ না করে কম খরচে ট্রলারে রিজার্ভ করতে হলে সারি নদীর ব্রিজ পার হয়ে আরো সামনে গেলে ডানপাশে লালাখাল অটোস্ট্যান্ড পাবেন। লোকাল অটোতে করে লালাখাল। লোকাল ভাড়া নিবে ১৫ টাকা। এখানে ট্রলার ভাড়া তুলনামূলক অনেক কম হবে। ছাউনিছাড়া নৌকাতে ভাড়া হবে সবচেয়ে কম। দামাদামি করে ২০০-৩০০ টাকাতে রাজি করিয়ে ফেলতে পারবেন। লালাখাল চা বাগান, সুপারী বাগান, আফিফা চা বাগান, লালাখাল জিরো পয়েন্ট সব ঘুরিয়ে দেখাবে।

পায়ে হেঁটে লালাখাল

সিলেট শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে সোবহানী ঘাট/টিলাগড়। সেখান থেকে বাস/লেগুনাতে করে সারিঘাট বাজার। সারিঘাট বাজার থেকে একটু সামনে এগিয়ে সারি নদীর ব্রিজ। ব্রিজ পার হয়ে আরো কিছুদূর এগুলেই হাতের ডানে লালাখাল অটোস্ট্যান্ড। লোকাল অটোতে করে লালাখাল। লালাখাল থেকে ৫ টাকা দিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে লালাখাল চা বাগান। লালাখাল চা বাগান থেকে বাগানের ভিতর দিয়ে হেঁটে লালাখাল জিরো পয়েন্ট যাওয়া যায় আবার নদীর পাশ দিয়ে হেঁটেও যাওয়া যায়।

আমার পায়ে হেঁটে লালাখাল ভ্রমণ গল্প পড়ে দেখতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

লালাখাল ঘুরে সাধারনত সবাই জাফলং যায় অথবা জাফলং ঘুরে সিলেট শহরে আসার পথে লালাখাল দেখে যায়। রাতে থাকার জন্য সিলেট শহরে চলে আসবেন। শহরের কদমতলী, দরগা রোডে অনেক হোটেল পাবেন।

কি খাবেন

লালাখালের আশেপাশে খাবার তেমন ভালো কোন হোটেল নেই। খাবার জন্য সিলেট শহরে চলে আসবেন। শহরের বিখ্যাত পাঁচ ভাই, পানসী, পালকি রেস্টুরেন্টে পছন্দ অনুযায়ী খাবার খেতে পারবেন।

সিলেট ঘুরতে গেলে পর্যটকরা পাঁচ ভাই এবং পানসী রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন প্রকারের ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে থাকেন। এছাড়া পাঁচ ভাই হোটেলের কালাভুনা বেশ বিখ্যাত। এসব রেস্টুরেন্টের বাহারী পদের ভর্তা এবং খাবারের জন্য সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও চাইলে নিজের পছন্দমত অন্য রেস্টুরেন্টেও খাবার খেতে পারেন।

আনুমানিক খরচ

  • ঢাকা-সিলেট নন-এসি বাসঃ ৪৮০ টাকা
  • টিলাগড় থেকে সারিঘাট, লেগুনা/বাসঃ ৪০-৬০ টাকা
  • লালাখাল অটোস্ট্যান্ড থেকে লালাখাল, অটোঃ ১৫ টাকা
  • ট্রলার রিজার্ভ ঘন্টা প্রতিঃ ৩০০-১০০০ টাকা
  • সিলেট-ঢাকা নন-এসি বাসঃ ৪৮০ টাকা
  • ১৫০০-২০০০ টাকার ভিতর ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে লালাখাল ঘুরে আসা সম্ভব। কয়জন যাচ্ছেন, কিভাবে যাচ্ছেন তার উপর খরচ নির্ভর করবে।
  • পায়ে হেঁটে লালাখাল ভ্রমণে খরচ
    • টিলাগড় থেকে সারিঘাট, লেগুনা/বাসঃ ৪০-৬০ টাকা
    • লালাখাল অটোস্ট্যান্ড থেকে লালাখাল, অটোঃ ১৫ টাকা
    • নৌকা পারাপারঃ ৫ টাকা
    • ট্রলার না নেওয়ায় ট্রলারের খরচ বেঁচে যাবে। এছাড়া বাস/খাবার কিভাবে যাবেন, খাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে।

ভ্রমণ টিপস

  • পায়ে হেঁটে ঘুরলে কষ্ট হয়ত একটু বেশি তবে নিজের ইচ্ছে মত পুরোটা ঘুরে দেখা যায়। এখানে বুদ্ধিটা হচ্ছে মানুষ বেশি না হলে(১-৩ জন) জিরো পয়েন্ট থেকে কোন ট্রলার মাঝি/ভ্রমণ গ্রুপকে পটিয়ে আসার সময় ট্রলারে করে আসা।
  • সারিঘাট থেকে ৭০০-১০০০ টাকার ট্রলার রিজার্ভ করার আসলে দরকার নেই। ৩০ মিনিটের পথের জন্য ভাড়া অনেক বেশি। চেষ্টা করবেন লোকাল অটোতে করে লালাখাল গিয়ে এরপর ট্রলার/নৌকা রিজার্ভ করতে।
  • পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ানোতে যেমন মজা তেমনি নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর আরেক মজা। দুটোতে দুইরকম আনন্দ।
  • সকালে জাফলং বা বিছানাকান্দি/রাতারগুল ঘুরে বিকালে লালাখাল ঘুরতে পারেন। শুধু লালাখাল ঘুরে দেখার জন্য পুরো দিনের প্রয়োজন হয় না।

ভ্রমণ শপথ

  • প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, নোংরা করবো না।
  • স্থানীয় মানুষদের সম্মান করবো, বিবাদে যাবো না।

আরো পড়ুন

Feature Image by Oronno Dhrubo

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৫ঃ রামপুরা টু মিরপুর-১

এক সপ্তাহের উপর হন্টন প্রোজেক্ট বন্ধ ছিলো তাই ভাবলাম আজকে আবার হাঁটা যাক। ভার্সিটি থেকে বেরিয়েও পড়েছিলাম তাড়াতাড়ি। সময় তখন বিকাল ৪.০২ মিনিট। রামপুরা ব্রিজের উপর এসে একটু দোটানায় ছিলাম আসলেই কি হেঁটে যাবো! চিন্তা করতে করতে বাড্ডা রোড ধরে গুলশান লিংক রোডের দিকে হাঁটতে থাকলাম। মনে মনে রুট ঠিক করতে থাকলাম আজকে কোন পথ দিয়ে যাবো। এর আগেও একদিন রামপুরা থেকে বাসায় হেঁটে যাওয়ায় প্রথমেই চিন্তা ছিলো যে আজকে ভিন্ন পথে যাবো।

৪০ মিনিটের মত টানা হেঁটে গুলশান লিংক রোড, গুলশান-১ সার্কেল হয়ে ব্র্যাক ভার্সিটি পার হওয়ার পর মাথা একটু একটু ঘুরতে লাগোলো। সারাদিন তেমন কিছু খাই নাই। বুঝলাম এখন কিছু না খেলে হেঁটে যেতে পারবো না। এক টং দোকানে বসে বনরুটি, কলা আর তিন গ্লাস পানি খেলাম। খাওয়ার পর হাঁটা শুরু করে শরীরে বেশ জোর পেলাম।

নতুন উদ্যমে হাঁটা শুরু করার পর সিদ্ধান্ত নিলাম কোন ব্রেক ছাড়াই বাসায় যাবো। জাহাঙ্গীর গেট হয়ে ক্যান্টনমেন্ট ঢোকার পর শান্তি অনুভব করলাম। কোন কোলাহল নেই। ধুলাবালি নেই, সুন্দর ফুটপাত। রাস্তার পাশে গাছের সারি, পরিষ্কার রাস্তা। হেঁটেও শান্তি। কিন্তু এই শান্তির রাস্তাই যেন শেষ হতে চায় না। কয়েকবার ভাবলাম একটু রেস্ট নেই। কিন্তু নিলাম না। চিন্তা করতে থাকলাম বান্দরবানে যখন একটানা পাঁচ ঘন্টার উপর হাঁটতে পারছি, ঢাকার এই সমতল রাস্তা আর এমন কি। নিজেকে এইভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে মিরপুর-১৪ নাম্বার চলে আসলাম।

মিরপুর-১৪ থেকে মিরপুর-১০ গোল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটা অনেক বড় আর বোরিং একটা রাস্তা। এই রাস্তায় হাঁটতে হবে ভেবেই কেমন কেমন লাগা শুরু করলো। তাড়াতাড়ি রাস্তা শেষ করার জন্য জোরে জোরে পা চালাতে লাগলাম। ২৫ মিনিটের মত লাগলো এই রাস্তা পার হতে।

মিরপুর-১০ এ এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। এখান থেকে বাসায় যেতে সর্বোচ্চ ২৫-৩০ মিনিট লাগবে। কিন্তু পা তো আর সায় দেয় না। কোন ব্রেক ছাড়াই এতক্ষন হাঁটতেছি। একটু বিশ্রামের জন্য পা জোড়া আকুপাকু করতেছে। কিন্তু মন সেদিকে নাই। তার চিন্তা একটাই, কখন বাসায় যাবো। বিনা বিশ্রামে শুধুমাত্র মনের জোরে একটানা ২ ঘন্টা হেঁটে বাসায় চলে আসলাম। দরজা দিয়ে ঢোকার সময় ঘড়িতে দেখলাম সময় ৬.৪৩ মিনিট। হাঁটা হয়েছে প্রায় ১৩ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
রামপুরা -> গুলশান লিংক রোড -> গুলশান-১ সার্কেল -> ব্র্যক ইউনিভার্সিটি -> আমতলা -> মহাখালী রেল ক্রসিং -> জাহাঙ্গীর গেট -> ক্যান্টনমেন্ট -> কচুক্ষেত -> মিরপুর-১৪ -> মিরপুর-১০ সার্কেল -> মিরপুর স্টেডিয়াম -> ৬০ ফিট -> বড় বাগ -> জোনাকি রোড -> বাসা

রোজ মঙ্গলবার
০১ ডিসেম্বর, ২০১৫

Feature Image by grafxart/Shutterstock

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৪ঃ গ্রীনরোড টু মিরপুর-১

সন্ধ্যায় গ্রীন রোডে সম্রাটের বাসায় গিয়েছিলাম। কথা ছিলো আমি যাওয়ার পর দুইজন বের হবো। কিন্তু আমি যাওয়ার পর বলে শরীর খারাপ লাগতেছে বের হবে না। ও যখন আর বের হবে না ভাবলাম আমি তাহলে হেঁটেই বাসায় যাই।

৮.২০ মিনিটে ওর বাসা থেকে বের হলাম। ৮.৩৩ মিনিটে ফার্মগেট কোচিং পাড়ায় রাস্তার পাশের দুই টাকা দামের ছোট্ট ছোট্ট সিঙ্গারা আর পেঁয়াজু দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। গপাগপ ১০ টা পেটে চালান করে দিলাম। একটু সামনে গিয়ে জাম্বুরা আর আমড়ার ভর্তা খেলাম। বাহারি পদের ভর্তা দেখে চিতই পিঠা খেতে ইচ্ছা হচ্ছিলো কিন্তু নিজেকে কন্ট্রোল করলাম!

৮.৪৫ মিনিটে একদম ফুল ফোর্সে আবার হাঁটা শুরু করলাম। ইন্দিরা রোড হয়ে সংসদ ভবনের সামনে এসে মনটা খারাপ হয়ে গেল। জোড়া জোড়ায় কপোত-কপোতি সংসদ ভবনের দিকে মুখ করে মহাসুখে প্রেমে ব্যাস্ত। মনে মনে বললাম, “আহা! আমিও যদি পারতাম!” আফসোস করতে করতে পা আরো দ্রুত চালালাম। আসাদ গেট, কলেজ গেটের মিরপুরে যাওয়ার সময় হাতের বামপাশের ফুটপাত খুব ভালো। হেঁটে আরাম পাওয়া যায়। শ্যামলী পর্যন্ত তাই বেশ জোরেসোরেই হাঁটলাম। এরপর থেকে ফুটপাত খারাপ। আমার হাঁটার গতি কমে গেল। দারুস সালাম থেকে বাংলা কলেজ পর্যন্ত রাস্তার পাশে ফুটপাত নাকি মূত্রস্থান তাতে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।

বাংলা কলেজ এসে মেইন রোড ছেড়ে নতুন বাজার যাওয়ার ভিতরের রাস্তায় ঢুকে পড়লাম। হঠাৎ দৌড়াতে ইচ্ছা করায় অর্ধেক রাস্তা দৌড়ে পার হলাম। এরপর আবার ফুল ফোর্সে হাঁটা।

মধ্য পাইকপাড়ার কাছাকাছি আসতে একটা ঘটনা ঘটলো। বেশ ভয় পাইছিলাম। আমি জোরে জোরে হাঁটতেছিলাম তাই খেয়াল করি নাই। রাস্তার পাশেই বালুর উপর একটা কুকুর শুয়ে ছিলো আমি পাশ দিয়ে যেতেই হঠাৎ আমাকে আক্রমণ করলো। কি জন্য করলো, কি হইলো কিছুই বুঝলাম না। প্রথমে পা দিয়ে আমার পায়ে আঁচড় দিলো। রক্ত বের হয় নাই যদিও। এরপর কামড় দিতে আসালো। জোরে ধমক দিলাম। তখন দূরে সরে গেল। অনেক ভয় পাইছি, অনেক। রাতের বেলা হাঁটাহাঁটি করার সময় এমনিতেই কুকুরের ভয়ে থাকি। মনে হয়, কোনদিন না জানি আমাকে আক্রমণ করে। আজকে সেটাই হলো। এরপর বাকি রাস্তা আস্তে আস্তেই হাঁটলাম। বাসায় ঢুকলাম ১০.১৩ মিনিটে। গুগল ম্যাপে দেখলাম প্রায় ৯ কিলোমিটার হাঁটা হয়েছে।

আজকে হাঁটার রুট,
গ্রীন রোড(ঢাকা টাওয়ার) -> পান্থপথ -> ফার্মগেট -> ইন্দিরা রোড -> খামার বাড়ি গোল চত্বর -> মানিক মিয়া এভিনিউ -> আসাদ গেট -> কলেজ গেট -> শ্যামলী -> কল্যানপুর -> দারুস সালাম -> টেকনিক্যাল -> বাংলা কলেজ -> বাংলা কলেজ থেকে কল্যানপুর নতুন বাজার রোড -> মধ্য পাইকপাড়া -> হাবুলের পুকুর পাড় -> বাসা

রোজ শনিবার
২১ নভেম্বর, ২০১৫

Feature Image by FLICKR USER ANDERS ERIKSSON

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-৩ঃ আফতাবনগর টু মিরপুর-১

হন্টন প্রোজেক্ট শুরু করার পর থেকে ইচ্ছা ছিলো আমার ভার্সিটি(ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, রামপুরা) থেকে হেঁটে বাসায় আসবো। কিন্তু গত কয়েকদিন এক্সাম থাকায় তা আর হয় নি। আজকে এক্সাম শেষ করার পর বাসায় আসার সময় প্রথমেই মাথায় আসে, আজ হেঁটে বাসায় যাবো।

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেছি তখন সানি ভাই আমাকে দেখে বললো, কিরে হেঁটে বাসায় যাবি নাকি! উনি ফেসবুকে আমার হন্টন প্রোজেক্ট নোট পড়তো। তাই মজা করে বলছে। বললাম, হা ভাই হেঁটে যাবো। আমার হা শুনে বলে চল তাহলে আমিও যাবো তোর সাথে।

৬.০৮ মিনিটে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। দুইজন থাকায় আমাদের হাঁটার গতি কম ছিলো। আয়েশ করে হাটঁতেছিলাম। গল্প করতে করতে হাতিরঝিল দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একসময় এক অচেনা গলির কাছে আসলাম। সানি ভাই বললো, কিরে এক্সপ্লোর করবি? চল এই গলি দিয়ে ঢুকে দেখি কোথা দিয়ে বের হয়। আমি বললাম চল যাই, হাঁটতেই তো আছি।

আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো আহসানউল্লাহ ভার্সিটির সামনে দিয়ে বের হওয়া। ওই গলি দিয়া ঢোকার কারনে আমরা শর্টকার্টে তেজগাঁও ফ্লাইওভারের কাছে চলে আসি। তেজগাঁও ফ্লাইওভারের ফুটপাতটা জঘন্য। পাশাপাশি দুইজনও হাঁটা যায় না। একজনের হাঁটতেও কষ্ট হয়ে যায়।

নভোথিয়েটারের সামনে এসে পাঁচ মিনিটের ব্রেক নেই। ওয়ান টাইম কাপে চা খেতে খেতে ঘড়িতে সময় দেখি ৭.১৩ মিনিট। চা খাওয়া শেষে আগারগাঁও রোড হয়ে একটানে তালতলা চলে আসি। সময় তখন ৮.১৭ মিনিট। তালতলায় এসে আমাদের দুইজনের রাস্তা দুই দিকে। ওখানে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে, পানি খেয়ে যে যার পথে চলে যাই।

আমি যখন বাসার জন্য হাঁটা শুরু করি তখন সময় ৮.৩২ মিনিট। এতক্ষন আস্তে হাঁটার কারনে যে সময়টুকু বেশি লেগেছে তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য পুরোদমে হাঁটা শুরু করি। শ্যাওড়াপাড়া, ৬০ ফিট রাস্তা, পীরেরবাগ, জোনাকি রোড হয়ে যখন বাসায় আসি তখন ঘড়িতে সময় ৯.১০ মিনিট। বাসায় এসে গুগল ম্যাপে চেক করে দেখলাম হাঁটা হয়েছে প্রায় ১৩ কিলোমিটারের মত।

আজকের হাঁটার রুট,
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি -> হাতিরঝিল -> হাতিরঝিল সংলগ্ন গলি দিয়ে তেজগাঁও -> তেজগাঁও ফ্লাইওভার -> বিজয় সরনী -> নভোথিয়েটার -> সামরিক জাদুঘর -> চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -> শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের রাস্তা -> আগারগাঁও -> তালতলা -> শ্যাওড়া পাড়া -> শ্যাওড়া পাড়ার ভিতরের রাস্তা দিয়ে ৬০ ফিট পাকা মসজিদ -> ৬০ ফিট থেকে ভিতরের রাস্তা দিয়ে মধ্য পীরের বাগ -> জোনাকি রোড -> মামা স্টোর -> বাসা

রোজ বুধবার
১৮ নভেম্বর, ২০১৫

Feature Image: হিমু ফেসবুক পেজ

মাত্র ৫০০ টাকায় রাঙ্গামাটি লেকের পাশে রাত্রিযাপন (ব্রেকফাস্ট সহ)!!!

বিভিন্ন ট্রাভেল ডেসটিনেশনে হোটেল/রিসোর্টের ভাড়া নিয়ে যখন অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ, তখন বিন্দাস ট্রাভেল গ্রুপ চেস্টা করছে পুরো দেশে কিভাবে কম খরচে আবাসন ব্যবস্থা করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটিতে বিন্দাসের পথ চলা শুরু ডিঙ্গি হোম স্টে দিয়ে।

হোটেল বা রিসোর্ট ভাড়া করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সোলো ট্রাভেলারদের জন্য তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। একা হলেও দেখা যায় ২/৪ জনের বিশাল রুম ভাড়া করতে হয়। এতে করে ট্যুরের খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু ডিঙ্গি হোম স্টে তে সুবিধা হচ্ছে কেউ একা থাকতে চাইলে এখানে পুরো রুম নিতে হবে না। একজনের খরচ দিয়ে রুম শেয়ার করে থাকা যাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিঙ্গিতে আরো কি কি সুযোগ সুবিধা থাকছে।

ডিঙ্গি হোম স্টে তে কাদের জন্য,

  • ব্যাচেলর, বন্ধু বা পরিবার সবার জন্যই। (নিজেরা রান্নার সুবিধা থাকছে)
  • যারা কোলাহলমুক্ত নির্জনে সময় কাটাতে চান।
  • যারা ঘন্টার পর ঘন্টা পানি আর পাহাড় দেখে সময় পাড় করে দিতে পারবেন।

ডিঙ্গি হোম স্টে তে যেসব সার্ভিস পাবেন,

  • উডেন কটেজে চাকমা স্টাইলে বানানো রুমে থাকার ব্যবস্থা।
  • পোর্টেবল সুইমিং পুল। নিজেরা ফুলিয়ে নিতে পারবেন।
  • বাতাসে ফুলানো কায়াক টাইপের বোট।
  • নিজেরা রান্না করার ব্যবস্থা। অথবা বাজার করে দিলে রান্না করে দেওয়া হবে।
  • বাচ্চাদের খাবার গরম করার ব্যবস্থা।
  • ফ্রিজ ব্যবহারের সুযোগ।
  • অনপেমেন্ট বাঙ্গালী ও পাহাড়ী উভয় ধরনের খাবার ব্যবস্থা। তবে খরচ কোন ভাবেই বাইরের হোটেলের চেয়ে বেশি হবে না।
  • কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট। ডিনারও কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে যুক্ত করার কাজ চলছে।
  • বাইক ও কার পার্কিং।
  • স্পিডবোট সার্ভিস বা যেকোন বোট সার্ভিস।
  • চট্টগ্রামের যেকোন জায়গা থেকে পিক এবং ড্রপ।
  • লোকাল ট্যুরের জন্য গাড়ি ও সিএনজি সার্ভিস।

ডিঙ্গি হোম স্টে বৈশিষ্ট্য সমুহ,

  • লোকেশন রাঙ্গামাটি শহরে পৌরসভার ভেতরে লিচু বাগান।
  • গুগল লোকেশন
  • এটি পুরোপুরিভাবে হোম স্টে। আপনি স্থানীয় (বাঙ্গালী মুসলিম) সম্ভ্রান্ত পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ পাবেন সাথে প্রাইভেসিও থাকছে।
  • সারাদিন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজের মত একান্ত কিছু সময় কাটাতে পারবেন।
  • ডিঙ্গি অন্ধকার উপভোগের জায়গা। রাতে আলো যতটা কম রাখা যায় সে চেষ্টা করা হয়।
  • নির্জনতাকে উপভোগ করার জন্য ডিঙ্গি হোম স্টে তৈরি করা হয়েছে। তাই রাতে উচ্চমাত্রার শব্দ করা যাবে না।

খরচ ও রুম ক্যাটাগরি

  • ডিঙ্গিতে দুইটি রুম।
  • কেউ যদি পুরো রুম নিতে চায় তাহলে রুমের ভাড়া,
    • রুম ১ – ৩০০০ টাকা। দুই বেডে ৩ জন থাকতে পারবে।
    • রুম ২ – ২০০০ টাকা। এক বেডে ২ জন থাকতে পারবে।
    • কেউ পুরো ডিঙ্গি ভাড়া নিতে চাইলে খরচ পড়বে ৫০০০ টাকা। তখন ৫ জনের কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট পাবে।
  • সলো ট্রাভেলারদের জন্য,
    • জনপ্রতি ৫০০ টাকায় রুম শেয়ার করে থাকতে পারবে।
    • এক রুমে ৬-৮ জন রাখা হতে পারে।
    • বেড ক্যাপাসিটি শেষ হয়ে গেলে যারা ফ্লোরিং করে থাকতে চান তারা ৩০০ টাকায় থাকতে পারবেন।

যোগাযোগ

বি.দ্র. ইনশাআল্লাহ কোন সার্ভিস এ্যাড না হলে, কোন বড় বন্ধেও এই রেট পরিবর্তন হবে না।

আরো পড়ুন

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-২ঃ রাজারবাগ টু মিরপুর-১

ধানমন্ডি থেকে মিরপুর বাসায় হেঁটে যাওয়ার পরদিন মোমেনবাগ যাওয়া হইছিলো। বাসায় ফেরার সময় ভাবলাম ধানমন্ডি থেকে যদি হেঁটে যেতে পারি তাহলে এখন থেকে কেন নয়!

বিকাল ৩.৫২ মিনিট। মোমেনবাগ থেকে হাঁটা শুরু করলাম। মৌচাক, মগবাজার, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ফার্মেগেট হয়ে যখন বিজয় সরনী এসে পৌছালাম ততক্ষনে এক ঘন্টা হেঁটে ফেলেছি। নভোথিয়েটারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আমড়া, পেয়ারা, জাম্বুরা ভর্তা খেয়ে শরীরটাকে কিছুটা চাঙ্গা করে নিলাম। এরপর আবার হাঁটতে হাঁটতে যখন সামরিক জাদুঘরের মাঠ দেখলাম শরীর জানান দিলো একটু জিরিয়ে নিলে মন্দ হয় না।

সূর্যের শেষ আলোটুকুও মিলিয়ে যাবার পর পুনরায় হাঁটা শুরু করলাম। আগাঁরগাও রোড ধরে এগোতে থাকলাম। অন্ধকারের মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এক ইলেক্টিক পোলের মাঝখান দিয়ে যেতে গিয়ে নাকে সেই এক বাড়ি খেলাম। কে যেন স্টিলের তার দিয়ে বাঁশ বেঁধে রেখেছিলো। মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। মনে হলো যেন মাথা ঘাড় থেকে আলাদা হয়ে পরে যাবে(নাকে এখনো ব্যাথা আছে)।

শ্যাওড়াপাড়া আসার পর রিকশা আর সিএনজির এক্সিডেন্ট দেখলাম। আল্লাহর রহমতে তেমন কোন দুর্ঘটনা ঘটে নাই। যেভাবে হইছিলো রিকশার যাত্রীরা মারা যেতে পারতো। পিছে কোন বাস না থাকায় বেঁচে গেছে।

বিশ্রাম নেবার পর থেকে হাঁটার গতি তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গিয়েছিলো। শ্যাওড়াপাড়ায় এক ভেলপুরি মামা কে দেখে হাঁটা একেবারেই থামিয়ে দিলাম। গুনে গুনে ১০ টা ভেলপুরি খেয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। মনে মনে হিসাব করতেছিলাম। এখান থেকে বাসায় যেতে আর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগবে। শ্যাওড়াপাড়ার মেইন রাস্তা ছেড়ে গলির ভিতর দিয়ে যেয়ে ৬০ ফিট রাস্তায় উঠলাম। সেখান থেকে আবার আরেক গলিতে ঢুকে পীরেরবাগ, কাশেমের দোকান হয়ে যখন বাসায় আসলাম তখন ঘড়িতে ৭.১২ মিনিট। হাঁটা হয়েছে প্রায় ১১ কিলোমিটার।

আজকের হাঁটার রুট,
মোমেনবাগ-> রাজারবাগ মোড় -> মৌচাক মোড় -> মগবাজার মোড় -> বাংলা মোটর মোড় -> কাওরানবাজার মোড় -> ফার্মগেট মোড় -> বিজয় সরনী -> নভোথিয়েটার -> সামরিক জাদুঘর -> চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -> শের বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পিছনের রোড -> আগারগাঁও -> তালতলা -> শ্যাওড়া পাড়া -> শ্যাওড়াপাড়া ভিতরের রাস্তা দিয়ে ৬০ ফিট পাকা মসজিদ -> ৬০ ফিট রাস্তা থেকে মধ্য পীরেরবাগ ভিতরের রাস্তা -> কাশেমের দোকান -> জোনাকি রোড -> বাসা

রোজ শনিবার
১৪ নভেম্বর, ২০১৫

Feature Image: mtnews

হন্টন প্রজেক্ট । দিন-১ঃ ধানমন্ডি-২৭ টু মিরপুর-১

গতমাসে ফেসবুকে একটা দুর্ধর্ষ নোট হঠাৎ চোখে পড়লো নাম, “হেল দ্য হাইওয়ে।” ঢাকা থেকে একা পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম(২৫০ কি.মি.), বাংলাবান্ধা(৫০০ কি.মি.), সিলেট(২৪০ কি.মি.), খুলনা (৩০০ কি.মি.) যান এনামুল হাসান ভাই। হন্টন প্রোজেক্টের অনুপ্রেরণা তার কাছ থেকেই পাওয়া।

গতকাল(১৩ নভেম্বর,২০১৫) ধানমন্ডি ২৮(পুরাতন) নজরুল ইন্সটিটিউটে কাজ শেষ করার পর নিজেকে বললাম, “আজ চল পায়ে হেঁটে বাড়ি যাই । এতটুকু রাস্তা যদি পায়ে হেঁটে যেতে না পারি তাহলে মাইলের পর মাইল হাঁটবো কিভাবে!”

ধানমন্ডি ২৭ থেকে কল্যানপুর পর্যন্ত মিরপুর রোড ধরে হাঁটলাম। কল্যানপুর বাস স্ট্যান্ড এসে মেইন রোড ছেড়ে কল্যানপুর গার্লস স্কুলের গলিতে ঢুকলাম। (এই রাস্তা দিয়ে আমার বাসায় তাড়াতাড়ি পৌঁছানো যায়)।

পাক্কা ১ ঘন্টা হাঁটার পর বাসায় এসে পৌছালাম। গুগল ম্যাপে চেক করে দেখলাম প্রায় ৬ কিলোমিটারের মত হাঁটা হইছে। মজার ব্যাপার হলো এত হাঁটার পরও কোন ক্লান্তি ভাব ছিলো না।

আম্মুকে যখন বললাম ধানমন্ডি থেকে হেঁটে আসছি আম্মু তো পুরাই থ। যেই ছেলে ৫ মিনিটের রাস্তা রিকশা দিয়ে যায় সেই ছেলে ধানমন্ডি থেকে হেঁটে আসলো কিভাবে!

আজকের হাঁটার রুট,
নজরুল ইন্সটিটিউট -> ধানমন্ডি ২৭ -> আসাদ গেট -> কলেজ গেট -> শ্যামলী -> কল্যানপুর -> কল্যানপুর স্কুল -> নতুন বাজার -> মধ্য পাইকপাড়া -> হাবুলের পুকুর পাড় -> বাসা

রোজ শুক্রবার
১৩ নভেম্বর, ২০১৫

Feature Image: TMZ Photography

মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্রমণ – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-১১.১)

মেঘের রাজ্য সাজেক নিয়ে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেছে। কিন্তু আমার এখনো সাজেক যাওয়া হয় নাই। ঠিক মানতে পারছিলাম না। সাজেক যাওয়ার সুযোগ পাওয়া মাত্র তাই দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে রাজি হয়ে গেলাম।

সাজেকে কিভাবে যাবো, কই থাকবো, কি কি দেখবো তা নিয়ে বিস্তারিত প্ল্যান করা শুরু করলাম। ফেসবুকে সাজেক নিয়ে লেখা প্রচুর পোস্ট পড়লাম। ঠিক করলাম, সাজেকে দুই রাত থেকে লংগদু থেকে পানি পথে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে রাঙ্গামাটি শহরে যাবো। সেখানে দুই রাত থেকে এরপর ঢাকা ফিরবো।

ঢাকা থেকে সাজেক যাওয়ার সময় বেশিরভাগ মানুষ খাগড়াছড়ি নেমে এরপর জীপে উঠে। কিন্তু আমাদের জীপ দিঘীনালার হওয়ায় আমরা সরাসরি দিঘীনালার বাস ঠিক করলাম।

২১ আগস্ট, ২০১৬। সারাদিন বৃষ্টি পড়েছে। আমাদের বাস শান্তি পরিবহন রাত ৯টায় কলাবাগান থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়তে ছাড়তে ১০টা বেজে গেলো। সারাদিন চোখে ঘুমের রেশ থাকলেও বাসে উঠার পর ঘুম চলে গেল। বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা আর মোবাইলে গান শুনতে শুনতে সময় পার হয়ে যাচ্ছিলো। বাসে মোট যাত্রী সংখ্যা ২৪ যার মধ্যে আমরাই ১৪ জন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড চার লেন হওয়ার পর জ্যাম নেই বললেই চলে। রাতের অন্ধকারে সাঁই সাঁই করে বাস ছুটে চলছে, সাথে আমরাও। রাত দু’টোয় খাবার বিরতি দেওয়া হলো। ফেনীর পার হয়ে বাস ঢাকা-চট্রগ্রাম রুট ছেড়ে বামে ঢুকে গেলো। এই রুটে আগে কখনো যাওয়া হয় নাই, বেশ আগ্রহ নিয়ে নড়েচড়ে বসলাম। যদিও কিছু সময় পরই ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ টের পেলাম বাস পাহাড়ী রাস্তায় টার্ন নিচ্ছে। ঘুম ভেঙে গেল। ঘটনা কি জানতে ড্রাইভারের কাছে গেলাম। জানতে পারলাম এই রাস্তা নাকি শুধু শান্তি ও ইকোনো পরিবহন ব্যবহার করে।

চোখ থেকে ঘুম চলে যাওয়ায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখছিলাম। বাস এত টার্ন নিচ্ছিলো দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। বাধ্য হয়ে পিছে জাপান সিটের মাঝ বরাবর বসে পড়লাম। সামনে তাকিয়ে মনে হচ্ছিলো রোলার কোস্টারে অ্যাঁছি। ড্রাইভারের সিটের পিছনে ছোট বসার জায়গা ছিলো। একটু পর ওই সিট খালি হলো। বাকি পথ সেখানেই বসে ছিলাম। বাস জার্নির এটাই বেস্ট পার্ট।

ভোরবেলা দিঘীনালা নেমে দেখি তখনো চারিদিকে কুয়াশা। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা জীপ ড্রাইভার শিবু ভাই আমাদের বনবিহারের গেট থেকে রিসিভ করলো। নাস্তা করার জন্য বাসষ্ট্যান্ডের দিকে রওনা হলাম।

হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে যাই

নাস্তা করে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে রওনা হলাম। দিঘীনালা বাসষ্ট্যান্ড থেকে ২০ মিনিটের পথ। বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পের কিছুটা আগে মূল রাস্তা থেকে নেমে ঝিরি পথ ধরে ১০-১৫ মিনিট হাঁটতে হয়। সমতল এবং সহজ রাস্তা হওয়ায় সবাই যেতে পারে।

অনেকদিন পর ঝিরি পথ দেখে মন খুশি হয়ে গেল। আমাদের সাথে থাকা গাইড হিসেবে জীপের হেল্পার ছিলো। ওকে জিজ্ঞাসা করলাম ঝিরি পথ দিয়ে ঝর্নায় যাওয়া যাবে না? বললো, যাবে কিন্তু সময় বেশি লাগবে। ঝিরিপথ বাদ দিয়ে আমরা শর্টকাট পথ ধরলাম।

কিছুদূর হাঁটার পর দূর থেকে পানি পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। পায়ের গতি বেড়ে গেলো। গাছে ঢাকা একটা মোড় ঘুরে দেখি সামনে বিশাল ঝর্ণা। অনেক উঁচু থেকে পানি পড়ায়, অনেক দূর থেকেও শোনা যাচ্ছিলো। গতকাল রাতে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক পানি ছিলো। ঝর্নাটির আরেক নাম ‘শুকনাছড়া ঝর্ণা’ শীতকালে যার প্রমাণ মিলে। আমাদের ভাগ্য বেশ ভালো ছিলো। একে তো প্রচুর পানি পেয়েছি বাড়তি হিসেবে রংধনুর দেখা পেলাম।

হাজাছড়ায় রংধনু
হাজাছড়ায় রংধনু

পানি দেখে আমি নিজেকে সংবরন করতে পারলাম না। ঝর্ণায় নেমে পড়লাম। বন্ধুরা অবশ্য কেউ নামলো না। এমন পানি দেখে গোসল না করে কিভাবে থাকে বুঝলাম না।

https://youtu.be/zxMQt7in-1I
হাজাছড়া ঝর্ণার ভিডিও

পাহাড় বেয়ে হাজাছড়া ঝর্নার উপরে যাওয়া যায়। তবে যাওয়ার পথ বেশ দুর্গম। সহজে উঠা গেলেও নামার সময় ধরার কিছু থাকে না। বেশ কিছু দুর্ঘটনাও নাকি ঘটেছে। মনের স্বাধ মিটিয়ে গোসল করে, ছবি তুলে, ঝর্ণা দেখে আমরা আবার জীপের কাছে চলে এলাম।

সাজেক যাত্রা শুরু

অপেক্ষার পালা শুরু হলো। আর্মিদের সাথে ১০.৩০ টার এসকোর্টে যেতে হবে। আগে দিনের যেকোন সময় জীপ নিয়ে যাওয়া যেত। শান্তি বাহিনী আর্মির বিগ্রেডিয়ারের জীপে আগুন দেওয়ার পর নতুন নিয়ম হয়েছে। আর্মি এসকোর্ট ছাড়া কোন ট্যুরিস্ট জীপ যেতে পারে না।

সকাল ১০ টায় আর্মি ক্যাম্পে খাতায় সই করে বাঘাইহাট বাজারে গেলাম। পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলার দোকান দেখে সবাই হামলে পড়লো। ১ টাকার পেঁয়াজু, ৩ টাকার আলুর চপ-বেগুনি খেয়ে চোখ পড়লো ডাবের দোকানে। ৪০ টাকায় ডাব কিনলাম নাকি পানি তা অবশ্য বোঝা গেলো না। কোন স্বাদ নাই।

আর্মির এসকোর্ট গাড়ি আসলে এক লাইনে সব জীপ চলা শুরু করলো। এসকোর্টের একটা জীপ থাকে সবার সামনে, আরেকটা সবার পিছে। কয়েকজন জীপের ছাদে চলে গেলো। কথিত আছে, সাজেক যেতে জীপের ছাদে না বসলে নাকি জার্নির আসল মজা পাওয়া যায় না। তবু দুপুরের তপ্ত রোদে ছাদে গেলাম না। তাছাড়া সারারাত জেগে থাকায় বেশ ঘুম পাচ্ছিলো।

ফেসবুকে সাজেকের রাস্তার ছবি দেখেই সাজেক আসার জন্য ইচ্ছা বেড়ে গেছিলো। কিন্তু জীপে উঠার পর তেমন কোন উত্তেজনা কাজ করে নাই। বান্দরবানের পাহাড়ী পথে জীপে চলতে চলতে পাহাড়ী পথের মজা গায়ে সয়ে গেছে। কিছু সময় পরই ঘুমিয়ে গেলাম।

অনেকটা সময় ঘুমানোর পর জেগে উঠার সাথে সাথেই অঘটন ঘটলো। পাহাড়ী এক খাড়া ঢালে জীপের গিয়ার আটকে গেলো। এই জীপগুলোর ব্রেক হয় মারাত্মক। জীপ থেমে গেলো, নিচের দিকে নামলো না। আমাদের জীপে জ্যাম না থাকায় পিছের জীপ থেকে জ্যাম (মোটা কাঠের গুড়িঁর মত যা চাকায় দিলে ব্রেকের কাজ করে) এনে চাকায় দেওয়া হলো। হঠাৎ এমন ঘটনায় হৃৎপিন্ড যেন বন্ধ হয়ে গেলো।

ড্রাইভার কয়েকজনকে নামতে বললো। একেবারে খাড়া ঢালে নামতে গিয়ে এক বন্ধু প্রায় পরে যাবে এমন অবস্থা। সাবধানে না নামার জন্য বকা দিতে দিতে নামতে গিয়ে দেখি আসলেই তাল সামলানো কঠিন। গিয়ার ঠিক হয়ে গেলে আবার চলা শুরু হলো। ড্রাইভার বললো, পাঁচ বছর হলো সাজেক রুটে গাড়ি চালাই। কখনো এমন হয় নাই!

আমার তখন কলিজা শুকিয়ে গেছে। এমন ভয়ের মধ্যেও একটা সিএনজিকে আমাদের জীপ ওভারটেক করতে দেখে না হেসে পারলাম না। মাত্র চলা শুরু হওয়ায় জীপ তখনো স্পিড পাচ্ছিলো না। যাই হোক জীপ চলা শুরু করায় স্বস্তি নিয়ে বসলাম। আর সাথে সাথেই আমার অঘটন। জীপের গ্রিলের সাথে বাধা এক্সটা টায়ার বিকট শব্দে ব্রাস্ট হলো। আত্মা বের হয়ে যাবে এমন এক অবস্থা। বাকি রাস্তা আমার বেশ ভয়েই কাটলো। খাড়া ঢাল দেখলেই ভয় লাগছিলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে আর কোন অঘটন ছাড়া সুস্থভাবে সাজেক পৌঁছালাম।

সাজেকে আমাদের রিসোর্টটি রুইলুই পাড়ায় মারুয়াতি কটেজ(আসল নাম জানা নেই, এইনাম আমার নিজের দেওয়া)। কটেজ দেখে আমরা খুব খুশি। দোতলা কটেজ। দোতলায় তিনটা রুম, নিচতলায় ২ টা রুম। উপরের একটা রুম থেকে লুসাই পাহাড়ের দারুন ভিউ পাওয়া যায়। রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা যাবে। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে আগামী দুইদিন এই পুরো রিসোর্টটি আমাদের!

রুমে ব্যাগ রেখে রিসোর্টের মালিককে ধরলাম আশেপাশে কোন পুকুর বা ঝর্ণা আছে নাকি। আমরা সেখানে গোসল করবো। কটেজের প্রতিটা রুমে এটাচাড বাথ থাকলেও পাহাড়ে এসে কলের পানিতে গোসল করার মানে নেই। জানা গেলো ঝর্ণা আছে তবে তা দুই-আড়াই ঘন্টার হাঁটা পথ। কিন্তু কাছেই একটা কুয়া আছে। সেখানে গোসল করা যাবে। আমরা তো মহাখুশি। কুয়াতে যেতেও নাকি মিনিট পাঁচেক লাগবে। সবাই উনার পিছে পিছে হাঁটা ধরলাম।

পাঁচ মিনিটের পথ দশ মিনিট পরেও শেষ হয় না দেখে এক বন্ধু কটেজে ফিরে গেলে। আমি মনে মনে ভাবছিলাম, যেই গরম, গোসল করে কটেজ যেতে যেতে দুই দফা গোসল হয়ে যাবে। পিচঢালা রাস্তা ছেড়ে মাটির রাস্তা। তারপর পাহাড়ী ঢাল বেয়ে নামার পর কুয়ার দেখা মিললো। কুয়া দেখে সবাই বললাম হেঁটে আসা সার্থক।

কুয়ার সৃষ্টি ঝর্ণার পানি থেকে। খাবার পানি ও গোসলের জন্য দুটো আলাদা কুয়া রয়েছে। খাবার পানির কুয়াটা অগভীর এবং ছোট। গোসলের কুয়াটা বেশ গভীর। কুয়া থেকে এক মগ পানি গায়ে ঢালতেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। পানি অসম্ভব ঠান্ডা। ইচ্ছামত গোসল করে কটেজের পথ ধরলাম। যাওয়ার পথ শুধু নামার ছিলো। এখন ফিরতে পথে ঢাল বেয়ে উঠতে হবে। তবে এমন পানিতে গোসল করার জন্য এতটুকু কষ্ট মেনে নেওয়াই যায়।

কুয়ার পানিতে গোসল করে রিসোর্টে আসতে আসতে সবাই ঘেমে গেলাম। ফলাফল রিসোর্টে ঢুকে আবার গোসল করতে হলো। সবার পেটে ততক্ষনে ছুঁচো দৌড়াচ্ছে। খাবার খেতে রিসোর্টের পাশে এক রেস্টুরেন্টে বসলাম। খাবারের অর্ডার আগেই দেওয়া ছিলো। আমরা বসতেই গরম গরম ধোঁয়া উঠা ভাত, ঝাল মুরগি, পাহাড়ী সবজি আর ডাল চলে আসলো। মুরগিতে অসম্ভব ঝাল ছিলো। পাহাড়ী মরিচের ঝাল অনেক বেশি। আমার সমস্যা না হলেও বাকিদের খেতে বেশ কষ্ট হলো। খাওয়া শেষে লম্বা একটা ঘুম দিতে কটেজে ঢুকলাম। সাজেকে যেহেতু দুই রাত থাকবো আজ ঘুম দেওয়াই যায়।

আমার ঘুম ভাঙ্গলো সূর্যাস্তের সময়। ঘুম এত আরামের ছিলো যে উঠতেই ইচ্ছা করছিলো না। আমাদের কটেজের বিপরীতে বিশাল এক গাছ। গাছের নিচে বসার ব্যবস্থা আছে। সেখানে বসে কিছু সময় পাহাড়ী বাতাস খেলাম। ১৮০০ ফুট উঁচুতে মৃদু মন্দ পাহাড়ী বাতাসে দারুন লাগছিলো।

সাজেকের রাস্তাগুলোতে স্ট্রিট লাইট আছে। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকারের দেখা পাওয়া তাই দুষ্কর। তবে হেলিপ্যাডের দিকে যেতে থাকলে কিছু জায়গায় অন্ধকার পাওয়া যায়। আর সেখানেই আসল মজা। আকাশ পরিষ্কার থাকায় অসংখ্য তারা চোখে পড়লো এবং দেখা মিললো মিল্কিওয়ের। এতটাই স্পষ্ট প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিলো না। আমরা সাজেকে যে দুই রাত ছিলাম। দুই রাতই স্পষ্ট মিল্কিওয়ের দেখা পেয়েছি।

রুইলুই পাড়া থেকে হেলিপ্যাড বেশ দূরে। আমরা যেদিন যাই তখন জোছনা ছিলো। জোছনা বিলাস করবো বলে হেলিপ্যাডে উঠে আমার থ! আকাশে থালার মত বিশাল এক চাঁদ! চাঁদের আলোয় পুরো হেলিপ্যাড আলোকিত! হেলিপ্যাডে থেকে চাঁদটাকে খুব কাছে এবং বড় মনে হচ্ছিলো। আমরা লাইন ধরে চাঁদের মুখোমুখি বসে পড়লাম। এখন হবে চন্দ্রস্নান!

রাতের খাবার না খেয়ে বের হওয়ায় বেশি সময় চন্দ্রস্নান করা গেলো না। রাতের খাবার খেয়ে রিসোর্টে চলে গেলাম। রিসোর্টের বারান্দা থেকে চাঁদের আলো দেখতে দেখতে গল্প, আড্ডা-গান চলতে লাগলো। শেষ হলো সাজেকে প্রথম রাত।

কটেজের রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা
কটেজের রুম থেকে সূর্যোদয় দেখা

ভোরে এল্যার্মের শব্দে ৪.৩০টায় ঘুম ভাঙলো। রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়ায় ভোরে আর উঠতে ইচ্ছে করলো না। আমার রুমের জানালা থেকে সূর্যোদয় দেখা যায়। ঘুম ঘুম চোখে কিছুক্ষন সূর্যোদয় দেখলাম। কয়েকটা ছবি তুললাম। এরপর আবার ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে সবাই যখন নাস্তা করতে গেলো আমি তখন হাঁটতে বের হলাম। সাজেকে বিনোদনের অনেক ব্যবস্থা আছে। রাস্তার দুই পাশে দোলনা, তীর নিক্ষেপ, বসার সুন্দর ব্যবস্থা, পিকনিক স্পট। সহজ যাতায়াত, বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকায় সাজেক এতটা জনপ্রিয়।

একা হাঁটতে হাঁটতে সাজেক “জিরো কিলোমিটার’ মাইলফলকের কাছে চলে গেলাম। সেখানে সেলফি তুললাম। হেলিপ্যাড থেকে রুন্ময় রিসোর্টের ছবি তুললাম। ২০১৬ সালের দিকে সাজেক রুন্ময় রিসোর্টের ছবি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়তো। 

ঘুরাঘুরি শেষে রিসোর্টে আসার পথে বিজিবি ক্যাম্পে গেলাম। গার্ডরত দুই বিজিবির সাথে কথা বলে জানলাম দূরে সবচেয়ে বড় যে পাহাড়, যার আড়াল থেকে সূর্য বের হয়, তার নাম ‘লুসাই পাহাড়।’ পাহাড়টা ভারতের। বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারের নাম, মিজোরাম বর্ডার। রাতে নাকি দূরে ভারত বর্ডারের ক্যাম্পের আলো দেখা যায় (যদি ঠিকভাবে লক্ষ্য করা যায়)। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যেকার পতাকা বৈঠকে সাজেক থেকে দুর্গম পথ ধরে যেতে আসতে মোট তিনদিন সময় লাগে।

মিশন কংলাক পাড়া

কংলাক পাড়ায় সবাই সূর্যোদয় দেখতে যায়। আর আমরা রওনা হলাম সকালের নাস্তা করে। সাজেক থেকে হাঁটা পথে কংলাক যেতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। জীপ দিয়ে কংলাক পাড়ার একদম নিচ পর্যন্ত যাওয়া যায়। আমরা জীপ দিয়ে গেলাম। জীপ থেকে নেমে ১০ মিনিটের বেশ ঢালু একটা পথ বেয়ে উঠেই পেয়ে গেলাম, কংলাক পাড়া।

https://youtu.be/7IR0TL0LsOY
কংলাক পাহাড়ে উঠার ভিডিও

সাজেকের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় সিপ্পু পাহাড়ে কংলাক পাড়া অবস্থিত। সিপ্পু পাহাড় সাজেক তো বটেই পুরো রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়, উচ্চতা ২৮০০ ফুট। কংলাকের চূড়া থেকে পুরো সাজেকের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। 

কংলাকে পাংখো আদিবাসিরা থাকে। পাড়ার অনেকে বাংলায় কথা বলতে না পারলেও ইংরেজিতে বেশ দক্ষ। আমাদের সাথেই একজন ইংরেজি বেশ স্বতর্ফূতভাবে কথা বলছিলো। ভারতের মিজোরাম রাজ্য এখান থেকে বেশ কাছে। হাঁটা পথে ২ ঘন্টা লাগে। আদিবাসীদের অনেকেই ভারতের মিজোরাম রাজ্যে গিয়ে পড়াশুনা করে।

পাহাড়ী কলা, পেয়ারা, জাম্বুরা ভর্তা খেলাম। পাহাড়ী মরিচ যে কত ঝাল হতে পারে টের পেলাম। খেতে বেশ মজা আবার ঝালও সহ্য করার মত না। কংলাকে একটা রিসোর্ট আছে, রক প্যারাডাইস। সেখানে গিয়ে দেখি কোন মানুষ নেই। চারিদিকে সুনসান নিরবতা। শুধু দূরে নাম না জানা এক পোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে। পাহাড়ের নিরবতায় সে শব্দ বড্ড কানে বাজে। রিসোর্টের বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে পড়লাম। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে রইলাম। কেমন যেন মোহ হচ্ছিলো। উঠতে ইচ্ছা হচ্ছিলো না।

সাজেকের রাস্তা ধরে হাঁটলে মজা হচ্ছে একপাশে বাংলাদেশ, অন্যপাশে ভারত। ভারতের লুসাই পাহাড়ের তুলনায় বাংলাদেশের পাহাড়গুলো খুবই ছোট। সাজেকের রাস্তায় হেঁটে, বিকেলে চা খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখে, পাহাড়ের মানুষদের সাথে গল্প করতে করতে কিভাবে যে দুইরাত কেটে গেলো টেরও পাই নাই। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে, সাজেক থেকে মিল্কিওয়ে দেখতে পারলেও মেঘ দেখতে পারি নাই। তবু যা দেখেছি আলহামদুলিল্লাহ।

তৃতীয় দিন সকাল ১১টার এসকোর্টে সবাই জীপে উঠলাম। এবার রাস্তার আসল আনন্দ উপভোগ করতে জীপের ছাদে বসলাম। পাহাড়ী রাস্তায় আঁকাবাঁকা টার্নগুলোতে মজা যেমন লাগছিলো, তেমন ভয় লাগছিলো। নিচে পড়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না!

সাজেক ঘুরে সবাই খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে যায়। কিন্তু আমরা যাবো লংগদু। সেখান থেকে ট্রলারে করে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে যাবো লাল পাহাড়ের দেশ রাঙ্গামাটি।

সাজেক ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনে ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে

সেন্টমার্টিন – ৯টি সেরা রিসোর্ট (২০২২)

সেন্টমার্টিন – সমুদ্রের বুকে এক টুকরো নীল ভালোবাসা। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। নভেম্বর থেকে মার্চ সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়। এসময় টেকনাফ থেকে সরাসরি জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। অবশ্য এবছর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সেন্টমার্টিনের হোটেল এবং রিসোর্ট সম্পর্কে অনেকের সঠিক ধারণা নেই। সেন্টমার্টিনের জনপ্রিয় ১০টি রিসোর্টের তথ্য বর্ণণা করা হলো।

বি.দ্র. রিসোর্টের নামে ক্লিক করলে রিসোর্টের বিস্তারিত অংশে নিয়ে যাবে।

রিসোর্ট নাম ভাড়া
দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট ৫৫০০-৭৫০০/-
আটলান্টিক রিসোর্ট ৬০০০-১২,৫০০/-
জ্যোৎস্নালয় বিচ রিসোর্ট ২০০০-৫৫০০/-
ব্লু মেরিন রিসোর্ট ৬০০০ এবং ১০,০০০/-
ফ্যান্টাসি হোটেল এন্ড রিসোর্ট ৬০০০-১৩০০০/-
কিংশুক ইকো রিসোর্ট ২৫০০-৪৫০০/-
মিউজিক ইকো রিসোর্ট ৩০০০-৬০০০/-
নীল দিগন্ত রিসোর্ট ২৫০০-৪৫০০/-
দ্যা বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট ২৫০০-৫০০০/-
সময়ভেদে ভাড়া যেকোন সময় কম-বেশি করতে পারে

দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (Dwipantor Beach Resort)

Dwipantor Beach Resort

দীপান্তর রিসোর্টটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম বিচে অবস্থিত। রিসোর্টের চারিদিকে রয়েছে প্রচুর নারিকেল গাছ। রিসোর্টের ঠিক সামনেই সমুদ্র সৈকত। জোয়ারের সময় রিসোর্টের দোরগোড়ায় পানি আছড়ে পড়ে। রিসোর্টটিতে সিঙ্গেল এবং ডুপ্লেক্স দুই ধরনের কটেজ রয়েছে।

অবস্থানঃ পশ্চিম বিচে
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।

রুমঃ রিসোর্টটিতে ৫টি কটেজ এবং ৩টি তাঁবু রয়েছে।

  • স্ট্যাটার্ড ওয়েতে, একইদিনে সর্বমোট ২০ জন থাকতে পারবে।
  • এক্সট্রা বেড সহ একই দিনে সর্বোচ্চ ৩২ জন থাকতে পারবে।

রিসোর্ট ভাড়া

  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম সিঙ্গেল কটেজঃ ২টি (এক রুমে ২ জন থাকতে পারবে)
  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম ডুপেক্স কটেজঃ ৩টি (স্ট্যান্ডার্ড-৪ জন। এক্সট্রা বেডসহ সর্বোচ্চ ৬ জন থাকতে পারবে)
  • তাঁবুঃ ৩টি (স্ট্যান্ডার্ড-৪ জন। এক্সট্রা বেডসহ সর্বোচ্চ ৬ জন থাকতে পারবে)

ভাড়ার তালিকা নিচে দিয়ে দিলাম,

  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম সিঙ্গেল কটেজঃ ৫৫০০ টাকা
  • বিচ ভিউ প্রিমিয়াম ডুপেক্স কটেজঃ ৭৫০০ টাকা
  • তাঁবুঃ ৩৫০০ টাকা
  • এক্সট্রা বেডঃ
    • সিঙ্গেলঃ ৫০০ টাকা
    • ডুপেক্সঃ ৭৫০ টাকা
    • তাঁবুঃ ৫০০ টাকা
  • এক্সট্রা বেডসহ সবার জন্য কমপ্লিমেন্টারি নাস্তার ব্যবস্থা থাকবে।

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ

  • ব্র্যান্ডের টয়লেটারিজ
  • সি-ভিউ রুম
  • রিসোর্টের সামনের বিচ থেকে নৈসর্গিক সূর্যাস্ত দেখা
  • নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ‘Charcoal’

ফেসবুক পেজঃ দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (Dwipantor Beach Resort)


আটলান্টিক (লাবিবা) রিসোর্ট (Atlantic/Labiba Bilash Resort)

দ্বীপের পশ্চিম বিচে সাগরের কোল ঘেঁষে আটলান্টিক রিসোর্ট। জোয়ারের সময় রিসোর্টের দাঁড়প্রান্ত পর্যন্ত সমুদ্রের পানি চলে আসে। রিসোর্টের দোতলার রুম থেকে সাগর দেখা যায়।

অবস্থানঃ পশ্চিম বিচে
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।

রিসোর্ট ভাড়াঃ ৬০০০ থেকে ১২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রুমঃ ৪৩টি

ওয়েবসাইটঃ http://www.atlanticresortsaintmartin.com

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ কোন রিভিউ নেই
গুগলঃ ৩.৭ (৮২টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। রিসোর্টে খাবারের সুব্যবস্থা
২। লন্ড্রি সার্ভিস
৩। লবিতে স্যাটেলাইট টিভি
৪। ISD & NWD ফোন কানেকশন
৫। বিচ ভিউ রুম
৬। বিচের সামনে সমুদ্র

ফেসবুক পেজঃ আটলান্টিক (লাবিবা) রিসোর্ট (Atlantic/Labiba Bilash Resort)


জ্যোৎস্নালয় বিচ রিসোর্ট (Josnaloy Beach Resort)

জ্যোৎস্নালয় রিসোর্টটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম বিচে অবস্থিত। রিসোর্টের চারিদিকে রয়েছে প্রচুর নারিকেল গাছ। রিসোর্টের ঠিক সামনেই সমুদ্র সৈকত। রিসোর্টের উঠোনে আড্ডা দেওয়ার জন্য ছাউনি দেওয়া মাচা তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে আড্ডা জমবে বেশ।

অবস্থানঃ পশ্চিম বিচে
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।

রুমঃ রিসোর্টটিতে ১১টি রুম রয়েছে। একই দিনে ৪৬জন একসাথে থাকতে পারবে।

রিসোর্ট ভাড়াঃ ২০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা পর্যন্ত

ফেসবুক পেজঃ  জ্যোৎস্নালয় বিচ রিসোর্ট (Josnaloy Beach Resort)


ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort)

জেটিঘাট থেকে খুব কাছেই ব্লু মেরিন রিসোর্টটি অবস্থিত। দ্বীপের অন্যতম লাক্সারিয়াস রিসোর্ট।

অবস্থানঃ জেটিঘাটের কাছে

রিসোর্ট ভাড়াঃ ৬০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত

রুম সংখ্যাঃ ৪১টি

ওয়েবসাইটঃ http://www.bluemarineholidays.com

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ ৩.৭ (১৮টি রিভিউ)
গুগলঃ ৪.৪ (১৭টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। ভিআইপি এসি রুম (কাপল বেড/ডাবল বেড)
২। নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
৩। বিচ ভিউ রুম

ফেসবুক পেজঃ ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort)


ফ্যান্টাসি হোটেল এবং রিসোর্ট (Fantasy Hotel & Resort)

ফ্যান্টাসি হোটেল এবং রিসোর্টটি ২০২০ সালে উদ্ভোধন করা হয়েছে। থ্রিস্টার মানের লাক্সারিয়াস রিসোর্ট।

অবস্থানঃ জেটিঘাটের কাছে

রিসোর্ট ভাড়াঃ ৬০০০ থেকে ১৩০০০ টাকা পর্যন্ত

রুম সংখ্যাঃ ১০০+

ওয়েবসাইটঃ https://www.hotelfantasy.com.bd

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ ৪.৪ (৩৯টি রিভিউ)
গুগলঃ ৩.৭ (১৪৪টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। প্রতিটি হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধা
২। ল্যাপটপের জন্য ডেডিকেটেড পোর্ট
৩। স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল
৪। প্রাইভেট ভিআইপি লাউঞ্জ
৫। সিসি ক্যামেরা
৬। নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
৭। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট
৮। এসি রুম
৯। বিচ ভিউ রুম
১০। তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থা

ফেসবুক পেজঃ ফ্যান্টাসি হোটেল এবং রিসোর্ট (Fantasy Hotel & Resort)


কিংশুক ইকো রিসোর্ট (Kingshuk Eco Resort)

কিংশুক ইকো রিসোর্ট বিচের একাবারে পাশে অবস্থিত নিরিবিলি একটি ইকো রিসোর্ট।

অবস্থানঃ গলাচিপা
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ৩০০-৪০০ টাকা।

রিসোর্ট ভাড়াঃ ২৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ ৪.৭ (১৫টি রিভিউ)
গুগলঃ ৩.৮ (১৮৩টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
২। বাঁশের কটেজ
৩। বিচ ভিউ রুম
৪। তাঁবু

ফেসবুক পেজঃ কিংশুক ইকো রিসোর্ট (Kingshuk Eco Resort)


মিউজিক ইকো রিসোর্ট (Music Eco Resort)

দ্বীপের শেষ সীমানায় দক্ষিন-পশ্চিম বিচে মিউজিক ইকো রিসোর্ট অবস্থিত। এর পরেই ছেঁড়াদ্বীপ শুরু। রিসোর্টে থাকার ব্যবস্থা কিছুটা ভিন্ন। কন্টেইনার এবং তাঁবুতে থাকতে হবে। সেন্টমার্টিনের রক বিচের কাছে হওয়ায় দ্বীপের ভিন্ন সৌন্দর্য দেখা যাবে। রিসোর্ট থেকেই প্রচারনা চালানো হয়, এই রিসোর্ট সবার জন্য নয়। রিসোর্টে যেতে যে কষ্ট হয়, সেখানে থাকার পর তা নিয়ে কোন অভিযোগ থাকবে না।

অবস্থানঃ দ্বীপের দক্ষিন-পশ্চিমে রক বিচের কাছে
রিসোর্টে যাওয়ার কয়েকটি উপায় রয়েছে পায়ে হেঁটে দেড় ঘন্টার মত সময় লাগবে, বাইক বা সাইকেল নিয়ে, রিসোর্টের স্পিডবোট সার্ভিস নিয়ে। স্পিডবোট সার্ভিস নিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

রিসোর্ট ভাড়াঃ তাঁবু ৩০০০/৪০০০/৬০০০ টাকা, কন্টেইনার ৪০০০/৫০০০ টাকা।

রুম সংখ্যাঃ ৫টি কন্টেইনার, ৭টি তাঁবু

ওয়েবসাইটঃ https://musicecoresort.com

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ কোন রিভিউ নেই
গুগলঃ ৪.৩ (১৩৫টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
২। রক বিচ
৩। তাঁবু
৪। শব্দহীন শান্ত পরিবেশ
৫। ১৫ মিনিট পায়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ
৬। রিসোর্টের কাছেই ম্যানগ্রোভ বন
৭। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুবিধা

ফেসবুক পেজঃ মিউজিক ইকো রিসোর্ট (Music Eco Resort)


নীল দিগন্ত রিসোর্ট (Nil Digante Resort)

দ্বীপের দক্ষিন-পশ্চিমে বিচের পাশে নীল দিগন্ত রিসোর্টটি অবস্থিত।

অবস্থানঃ দক্ষিন-পশ্চিমে কোনাপাড়ায়
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।

রিসোর্ট ভাড়াঃ ২৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রুমঃ ৩৮ টি

ওয়েবসাইটঃ www.neeldiganteresort.com

রেটিং,
ফেসবুক পেজঃ ৪.৩ (১২টি রিভিউ)
গুগলঃ ৪.১ (৬১০টি রিভিউ)

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ
১। রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট
২। হ্যামক

ফেসবুক পেজঃ নীল দিগন্ত রিসোর্ট (Nil Digante Resort)


দ্যা বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট (The Beach Camp Resort)

সেন্টমার্টিনের পশ্চিম বিচে সবচেয়ে বড় বীচ ভিউ রিসোর্ট। এটি সম্পূর্ণ একটি ইকো রিসোর্ট। বাঁশ, কাঠ, টিন ও ছনে সাজানো এই রিসোর্টটি। যারা মূলত নির্জন ও নীরবতা পছন্দ করেন তাদের কাছে রিসোর্টটি পছন্দ হবে।

অবস্থানঃ পশ্চিম বিচে
ভ্যান নিয়ে জেটিঘাট রিসোর্টের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া নিবে আনুমানিক ২০০-২৫০ টাকা।

রিসোর্ট ভাড়াঃ ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

রুমঃ ৪টি, তাঁবু ৩টি

রিসোর্টের সুবিধা সমূহঃ

  • রিসোর্টে খাবারের সুব্যবস্থা
  • হ্যামক
  • রিসোর্টের সামনে সমুদ্র
  • দোলনা

ফেসবুক পেজঃ The Beach Camp Resort

সেন্টমার্টিন রিসোর্ট বুকিং সংক্রান্ত পরামর্শ

  • সময়ভেদে প্রতিটি রিসোর্টের রুম ভাড়া উঠানামা করে। প্রতিমাসের শুক্র-শনিবারের রুম ভাড়া তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
  • রিসোর্ট বুকিং করার সময় তার অবস্থান ভালোভাবে জেনে নিবেন। প্রতিটি রিসোর্টের অবস্থান সম্পর্কে আমি ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
  • রিসোর্ট বুকিং এর সময় অগ্রিম পেমেন্ট করতে হয়ে সেক্ষেত্রে ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন।

ফেসবুকে যোগাযোগ করতে ক্লিক করুন

ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে নক দিন

আরো পড়ুন

ভাসমান চাল বাজার ও বরিশাল ভ্রমণ – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৯.২)

ভীমরুলি থেকে আবার কুড়িয়ানা যাচ্ছি। দুপুরে খাবার ব্যবস্থা ওখানে করা হয়েছে। ট্রলারের ছাদে বসার সুবিধা হচ্ছে পেয়ারা বা আমড়া গাছ থেকে পেড়ে খাওয়া যায়। আমরাও টপাটপ কয়েকটা পেড়ে খেলাম। বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রলার থামিয়ে বাগানেও ঢুকলো কয়েকজন। বড় ট্রলারের একটা অসুবিধা হচ্ছে সব জায়গায় যাওয়া যায় না। এজন্য কষা নৌকা হলে সুবিধা। (সতর্কতা, বাগান মালিকের অনুমতি ব্যতিত পেয়ারা বা আমড়া ছিঁড়ে খাবেন না)

আগের পর্বঃ ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমন

মাঠ পেরিয়ে দূরে যে স্কুল ঘরটা দেখা যাচ্ছে সেখানেই আমরা রাতে ছিলাম
মাঠ পেরিয়ে দূরে যে স্কুল ঘরটা দেখা যাচ্ছে সেখানেই আমরা রাতে ছিলাম

আমরা রাতে যেখানে থাকবো সেখানে চলে আসলাম। বড় এক মাঠ। মাঠের সাথেই খাল। খাবারের আগে গোসল করে নিতে হবে। আর এত বড় খাল থাকতে কে কল বা টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করতে চায়? সব খালে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সাঁতার না জানার শাস্তিস্বরূপ আমিসহ আরো কয়েকজন এক গাছের গুঁড়ি ধরে ভাসতে থাকলাম। সবাই যখন ঝাঁপাঝাপি করছে আমাদের তখন পাড়ের গাছই ভরসা। দীর্ঘসময় ধরে গোসল চললো। আমাদের সামনে দিয়ে ট্রলার যায়, কষা নৌকা যায়। আমরা মনের আনন্দে গোসল করি। শহরে বড় হওয়া আমার জন্য এ এক দারুন অভিজ্ঞতা।

গোসল শেষে সবাই খেতে বসলাম। বিশাল প্যান্ডেল টানিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই কিছুটা বিশ্রাম নিলো। আমরা কয়েকজন এক ব্রিজের উপর গিয়ে বসলাম। দুপুরের পর খাল নিরব হয়ে পড়ে। দিনে দিনে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভীড় কমে যায়। তখন শুধু স্থানীয়দের নৌকার আনোগোনা দেখা যায়।

আকাশ জুড়ে ধূসর-কালো মেঘেদের আনাগোনা
আকাশ জুড়ে ধূসর-কালো মেঘেদের আনাগোনা

বিকালে ট্রলার নিয়ে আবার ঘুরতে বের হলাম। আঁকাবাঁকা খাল বেয়ে আমরা চললাম স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাটের দিকে। আকাশ জুড়ে ধূসর-কালো মেঘেদের আনাগোনা। খালের দু’পাশ জুড়ে সবুজের ছড়াছড়ি। নাম না জানা পাখির ডাক। শান্ত স্নায়ু আরো শান্ত হয়ে আসে। পৃথিবীর সব ব্যস্ততাকে ঠেলে দিয়ে নিজেকে সঁপে দিতে ইচ্ছে হয় বাংলা মায়ের কোলে। মনে মনে জীবনানন্দ দাশের কবিতা আড়য়াই,

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে ব’সে আছে
ভোরের দোয়েল পাখি- চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশ্বত্থের ক’রে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে;
মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে
এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ

স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাট আসাতে আবার সন্ধ্যা নদীর সাথে সাক্ষাত হলো। নদীতে ঢেউ এখনো কমে নি। তবে এবার আর তেমন ভয় লাগলো না। লঞ্চঘাটে নেমে কিছুক্ষন এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করা হলো। চা খাওয়া হলো। তারপর ঠিক সন্ধ্যার মরা আলোতে ট্রলারে চেপে বসলাম।

সন্ধ্যার মরা আলোয় আমরা আবার ছুটলাম
সন্ধ্যার মরা আলোয় আমরা আবার ছুটলাম…
স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাট
স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাট
স্বরূপকাঠি বাস স্টেশন
স্বরূপকাঠি বাস স্টেশন
স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাট
স্বরূপকাঠি লঞ্চ ঘাট

নদী ছেড়ে আমরা যখন খালে পড়লাম তখন চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেছে। দু’হাত দূরের কিছু স্পষ্ট দেখা যায় না। তবু এই অস্পষ্ট পথ বেয়ে চলছে আমাদের দক্ষ মাঝি ভাই। আকাশে ততক্ষনে তারাদের মেলা বসেছে। মেঘের আড়াল থেকে ক্ষনিক পর পর উঁকি দিচ্ছে স্পতর্ষী। ট্রলারের ছাদে শুয়ে সেই আকাশ দেখতে দেখতে বাঁচতে ইচ্ছে হয় আরো বহু বহু বছর।

কুড়িয়ানা বাজার ছোট হলেও দুপুরে একরূপ, সন্ধ্যেতে আরেক রূপ। বাজারের ঋতুপর্ণা দোকানের রসগোল্লা না খেলেই যেন নয়, আহা অমৃত। গরম গরম মিষ্টির স্বাদই আলাদা। রাতে খাবার খেতে হবে জানি তবু বৌদির দোকানে ভাত খাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। গরম গরম মাছ ভাজা দিয়ে ভাত খেয়ে নিলাম। পরের টা পরে দেখা যাবে।

রাতে শোবার ব্যবস্থা হয়েছে স্কুল ঘরে। বিশাল বড় ঘরে চাদর বিছিয়ে ঘুমাতে হবে। অনেকে শুয়ে পড়লেও আমার ঘুম আসছিলো না। খালের পাড়ে বসে আমরা কয়েকজন অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করলাম। নিশুতি রাতে তারাদের মেলা বসেছে। নিস্তব্ধ রাতের আধাঁরে দূষণ মুক্ত আকাশে তারাগুলো কেমন জ্বল জ্বল করছিলো। হঠাৎ হঠাৎ দূরে কোথাও নাম না জানা কোন পাখি ডাক দেয়। গা ছম ছম করে উঠে। পানি থেকে মাছেরাও ক্ষনিক পর পর লাফিয়ে উঠে জানান দেয় আমরাও আছি।

ঘুমাতে গিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেলো। একেক জনের নাকের গর্জনে রুম কাঁপছিলো। ঘুমাবো কিভাবে চিন্তায় পড়ে গেলাম। তবে শরীর ক্লান্ত থাকায় দ্রুতই ঘুম চলে আসলো।

খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলে রুম থেকে বের হয়ে দেখি আরো কয়েকজন ইতিমধ্যে উঠে গেছে। বাকিরা এখনো ঘুম। হাঁটতে বের হলাম। চারপাশ যত দেখছিলাম, ততই মুগ্ধ হচ্ছিলাম। একজনকে দেখলাম ছোট ডোবার মধ্যে মাছ ধরছে। জোয়ারের পানি যখন বাড়ে তখন ডোবা ঢুবে যায়। ভাটার সময় পানি নেমে যায়, তখন মাছ আটকা পড়ে। সেই মাছ ধরার চেষ্টা। মিললে মিললো, না মিললেও ক্ষতি নাই। ঘন্টাখানেক চেষ্টা চলবে। যে সময় আমাদের ফেসবুকের স্ক্রলেই চলে যায়!

ভাসমান চাল বাজার
ভাসমান চাল বাজার
চলছে চাল কেনা-বেচা
চলছে চাল কেনা-বেচা
নৌকা ভর্তি চাল
নৌকা ভর্তি চাল

সকালে নাস্তা করে বের হলাম ভাসমান চালের বাজার দেখতে। বাজারটা বেশ মজার। চাল ভর্তি নৌকাগুলো একসাথে জড়ো হয়ে থাকে। ক্রেতারা নৌকা বা ট্রলারে করে আসে। নৌকাতেই দরদাম হয়, ওজন হয় এরপর কিনে আবার নৌকাতে করেই নিয়ে যায়। আমাদের সাথের কয়েকজনও চাল কিনলো।

ভাসমান বাজার ঘোরা শেষ। ব্যাকওয়াটার আর সন্ধ্যা নদীকে বিদায় জানিয়ে আবার রিজার্ভ বাসে উঠে পড়লাম। এবার আর নিচে না বসে বাসের ছাদে বসলাম। ছাদ থেকে দু’পাশের যে দৃশ্য দেখা যায় এক কথায় অসাধারন। তবে ছাদের বসার কিছু যন্ত্রণাও আছে। রাস্তার দু’পাশের গাছের ডালের দিকে সবসময় নজর রাখতে হয়। নাহলে কখন যে গালে, মাথায় বাড়ি বসিয়ে দিবে বোঝা দায়। দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর
চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর
চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর
চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর

আমরা প্রথমে গেলাম চাখার শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে জাদুঘর দেখে চলে গেলাম বাইতুল আমান জামে মসজিদ বা গুঠিয়া মসজিদ। মসজিদটা অনেক সুন্দর। রাতে নাকি আরো সুন্দর লাগে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর অবস্থান। মসজিদের পিছে মুক্ত বিশাল আকাশ। দেখতে বড্ড ভালো লাগে। আমরা মসজিদের থাকা অবস্থায় বৃষ্টি শুরু হয়। মসজিদের লাগোয়া পুকুরে অনেকে গোসল করতে নেমে পড়ে। আমিও আর বাদ থাকবো কেন? আমিও নেমে পড়ি। উপরে হিম শীতল বৃষ্টির ফোঁঁটা আর নিচে পুকুরের গরম পানি। অল্প কিছু সময় গোসল করেই উঠে পড়ি। গুঠিয়ার সন্দেশ বেশ বিখ্যাত। মসজিদের সামনের দোকান থেকে সন্দেশ খেলাম। এবার যাবো দুর্গা সাগর দীঘি।

বাইতুল আমান জামে মসজিদ
বাইতুল আমান জামে মসজিদ

দুর্গাসাগর থেকে গুঠিয়া মসজিদের দূরত্ব বেশি না। দুর্গাসাগরে টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হয়। ভিতরে রয়েছে বিশাল এক দীঘি, দীঘির চারপাশে ১.৬ কিলোমিটার হাঁটার ট্রেইল। দীঘির মাঝখানে ছোট্ট একটা দ্বীপও আছে। শুনলাম সেখানে নাকি সাপেদের আস্তানা।

প্রবেশ মুখেই বিশাল এই গাছ
প্রবেশ মুখেই বিশাল এই গাছ
বৃষ্টির মাঝে চলছে দীঘির পানিতে গোসল। দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট দ্বীপ
বৃষ্টির মাঝে চলছে দীঘির পানিতে গোসল। দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট দ্বীপ

দুর্গাসাগরে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়ার আগে প্রায় দুই ঘন্টা গোসল করলাম। সাঁতার শেখার ব্যর্থ চেষ্টা চালালাম। সিঁড়ি ধরে দুই পা ভাসিয়ে রাখা ছাড়া কিন্তু তেমন লাভ হলো না। তবে শরীর চাঙ্গা হয়ে গেলো। গোসলের পর পুরো ট্রেইলে চক্কর দিলাম।

ব্রজমোহন কলেজ
ব্রজমোহন কলেজ
ব্রজমোহন কলেজ
ব্রজমোহন কলেজ

বিকেল নাগাদ আমরা বরিশাল শহরের দিকে রওনা হলাম। বরিশাল শহর মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। হক মিষ্টান্ন, শশী মিষ্টি, নিতাই বেশ জনপ্রিয়। আমরা প্রথমে গেলাম হক মিষ্টান্নতে। সেখানে রসগোল্লা, রসমালাই খেয়ে গেলাম শশী মিষ্টান্নতে। শশীর মিষ্টি খেয়ে চলে গেলাম বি.এম কলেজে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বি.এম কলেজের পুকুর পাড়ে বসে সময় কাটালাম।

বিবির পুকুর পাড়
বিবির পুকুর পাড়
দধি ঘরে চলছে দই উৎসব
দধি ঘরে চলছে দই উৎসব

সন্ধ্যায় বিবির পুকুর পাড়ে আড্ডা বসলো। এরমধ্যে খবর পাওয়া গেলো মাহমুদ ভাই সবাইকে দধি ঘরে দই খাওয়াচ্ছে। দলে দলে সবাই হানা দিলো। দই খেয়ে সবাই লঞ্চে চলে গেলাম।

লঞ্চের ডেকে যে যার মত করে ঘাটি গেড়ে নিলো। ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর তবু ভীষণ চাঙ্গা মন। এই ভ্রমণের আগ পর্যন্ত সমুদ্র, পাহাড়, ঝর্ণা দেখা আমার, কোন ধারনাও ছিলো না এমন সৌন্দর্যও আছে…

ভাসমান পেয়ারা বাজার ভ্রমণ – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৯.১)

থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের মত আমাদের দেশেও ভাসমান বাজার রয়েছে। আমরা অনেকেই তা জানি না। পিরোজপুর জেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ও ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলীতে এই বাজার বসে। ভাসমান বাজার সারা বছর থাকলেও পেয়ারার মৌসুমে তা জমজমাট হয়ে উঠে।

২১ জুলাই, ২০১৬। বেড়াই বাংলাদেশের সাথে দেখতে গিয়েছিলাম ভাসমান পেয়ারা বাজার। আরো অনেক অনলাইন গ্রুপ পেয়ারা বাজার গেলেও বেড়াই বাংলাদেশের সাথে যাওয়ার কারন ছিলো কারন তাদের ২ দিনের ভ্রমণ ছিলো। সাধারনত পেয়ারা বাজার গেলে সবাই দিনে দিনে ঘুরে চলে আসে। একরাত খালের পাড়ে থাকতে পারবো এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছিলাম না।

রাত ৮টার মধ্যে গ্রুপের সবাই সুরভী-৭ লঞ্চে চলে আসি। লঞ্চের দোতলার ডেকে আমাদের জন্য জায়গা দখল করে রাখা হয়। লঞ্চের ডেকে নির্দিষ্ট জায়গা বলতে কিছু নেই। চাদর দিয়ে বা যেভাবে পারে চর দখলের মত ব্যাপার স্যাপার। লঞ্চের ডেকে করে আগে কখনো যাওয়া হয় নি। বেশ মজা লাগলো বিষয়টা।

সুরভী-৭ এ উঠার সময় সেসময়কার দৈত্যকার পারাবাত-১২ লঞ্চ দেখি। আগে সেভাবে সদরঘাট আসে হয় নাই, লঞ্চেও উঠা হয় নাই। লঞ্চ বলতে জানতাম ছোট লঞ্চ যেগুলো কয়েকদিন পর পর নদীতে ডুবে। পারাবাত-১২ দেখে চক্ষু চড়কগাছ। লঞ্চটা ঘুরে দেখার লোভ সামলাতে পারলাম না। লঞ্চে উঠে একটা চক্কর দিলাম। অনেক অনেক ছবি তুলে আবার আমাদের লঞ্চে চলে আসলাম।

রাত ৯টায় লঞ্চ ছেড়ে দিলো। সবাই নিজেদের মত করে আড্ডায় মেতে উঠলো। কেউ কার্ড খেলছে, কেউ গল্প করছে, কেউ লঞ্চের ছাদে চলে গেছে। আমি ঘুরে ঘুরে সবার কর্মকান্ড দেখছিলাম। আড়াইহাজার ট্রিপের মত এইখানেও আমার পরিচিত কেউ নেই। একদল অপরিচিত মানুষের সাথে যাচ্ছি ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখতে। এরচেয়ে রোমাঞ্চকর আর কি হতে পারে?

লঞ্চ থেকে কীর্তনখোলা নদীতে সূর্যোদয় দেখা
লঞ্চ থেকে কীর্তনখোলা নদীতে সূর্যোদয় দেখা

খুব ভোরে লঞ্চ বরিশাল থামলো। সাত সকালে ক্ষুধা না থাকলেও নাস্তা করে নিতে হলো কারন পথিমধ্যে দুপুরের আগে খাওয়ার সুযোগ হবে না। লঞ্চে আমাদের জন্য রান্না করা হয়েছে। গরম গরম খিচুড়ী খেয়ে লঞ্চ থেকে নামলাম।

প্রয়াত মাহমুদ ভাই আমাদের সাথে লঞ্চ ঘাটে যোগ দিলেন। মাহমুদ ভাই বরিশালেই ছিলেন। স্বরূপকাঠি যাওয়ার জন্য দুইটা বাস রিজার্ভ করা ছিলো। সবাই বাসে উঠে পড়লাম। এই বাসগুলোর সিট অনেক ছোট। বসে আরাম নেই। অনেকেই বাসের ছাদে গিয়ে বসলো। ফিরতি পথে আমিও ছাদে বসছিলাম। সে গল্প সময়মত করবো।

বাস আমাদেরকে সন্ধ্যা নদীর তীরে নামিয়ে দিলো। সেখানে দুটো ট্রলার রিজার্ভ করা ছিলো। সন্ধ্যা নদী হয়ে আমরা যাবো ব্যাকওয়াটারে যেখানে মূলত ভাসমান বাজার বসে।

ব্যাকওয়াটার কি তা ছোট করে জেনে নেওয়া যাক। ব্যাকওয়াটার হচ্ছে নদীর একটা অংশ যেখানে স্রোত তুলনামূলকভাবে অনেক কম বা নেই। ব্যাকওয়াটার প্রধান নদীর শাখা নদী হিসেবে বের হয়ে এর পাশাপাশি আলাদাভাবে বয়ে চলে পরে আবার মূল নদীর সাথে মিলে।

যদি কোন নদী উৎপত্তির সময় একাধিক গতিপথ তৈরি হয় তাহলে একটা চ্যানেল(প্রনালী) কে বলা হয় প্রধান নদী আর অন্যটিকে ব্যাকওয়াটার। প্রধান নদীর স্রোত অনেক বেশি থাকে এবং নেভিগেশন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অপরদিকে ব্যাকওয়াটারে তুলনামূলকভাবে স্রোত অনেক কম থাকে এবং অগভীর হয়।
আমাদের দেশের ব্যাকওয়াটারের বরিশালের সন্ধ্যা নদী থেকে উৎপত্তি হয়। পরবর্তীতে খাল হিসেবে স্বরূপকাঠি, কুড়িয়ানা-আটঘর, ভীমরুলী, ঝালকাঠিতে বয়ে চলেছে।

ট্রলারে উঠছে সবাই
ট্রলারে উঠছে সবাই
অনেকেই লাইফ জ্যাকেট পড়ে আছে। আমি সাঁতারও পারি না। লাইফ জ্যাকেটও পড়ি নাই।

গল্পে ফিরে আসি। নদীতে সেদিন ভালোই ঢেউ ছিলো। ট্রলার বেশ দুলছিলো। সবাই দেখলাম লাইফ জ্যাকেট পড়ছে। আমি এদিকে না পারি সাঁতার, না আছে লাইফ জ্যাকেট। কিছুটা ভয় পেলাম। মনে মনে আল্লাহর নাম জপতে জপতে ট্রলারের ছাদে বসলাম। মরতেই যদি হয় তাহলে আরাম করে চারপাশ দেখতে দেখতে মরি। নদী থেকে ট্রলার যখন খালে পড়লো তখন মনে স্বস্তি ফিরে আসলো। এখানে কোন ঢেউ নেই, লঞ্চের দুলনিও নেই।

ভাসমান হাসপাতাল
ভাসমান হাসপাতাল
নৌকায় করে চারা নিয়ে যাচ্ছে
নৌকায় করে চারা নিয়ে যাচ্ছে
খালের সাথেই স্কুল
খালের সাথেই স্কুল
খালের সাথেই রাস্তা। বাড়ি-ঘর।
খালের সাথেই রাস্তা। বাড়ি-ঘর।
খালের সাথে লাগোয়া স্কুল
খালের সাথে লাগোয়া স্কুল
মন চাইলেই দে পানিতে লাফ
মন চাইলেই দে পানিতে লাফ

ট্রলার থেকে চারিদিকের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে গেলাম। কোথাও ট্রলার বা ছোট লঞ্চ বানানো হচ্ছে। নৌকা ভর্তি করে বিভিন্ন চারাগাছ নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে সিঁড়ি করে সরাসরি খালে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেন এক মস্ত বড় পুকুর! ভাসমান হাসপাতাল, টিভিতে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে এবার সামনা সামনি দেখলাম। খালের সাথে লাগোয়া স্কুল। স্কুল মাঠে ছেলেপেলে খেলতেছে, হুটহাট মন চাইলেই খালের পানিতে ঝাপিয়ে পড়ছে। নদী,খাল,মানুষ অদ্ভুত এই রসায়ন নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আর এসব না দেখলে তো বাংলাদেশই দেখা হলো না!

খাল ধরে আমাদের বয়ে চলা
খাল ধরে আমাদের বয়ে চলা
হঠাৎ হঠাৎ মনে হচ্ছিলো এনাকোন্ডা মুভির কোন দৃশ্যে আছি
হঠাৎ হঠাৎ মনে হচ্ছিলো এনাকোন্ডা মুভির কোন দৃশ্যে আছি

খালের বাঁকে বাঁকে ভাসতে ভাসতে আমরা পেয়ারা বাজারের দিকে যাচ্ছি। আমাদের ভ্রমণের আনন্দকে বহুগুনে বাড়িয়ে দিতেই যেন বৃষ্টির আগমন ঘটলো। চারপাশে সবুজের ছড়াছড়ির মাঝে সাপের মত আঁকাবাকা খালে ভেসে আমরা যেন হারিয়ে যাচ্ছিলাম। ছোট বেলায় দেখে এনাকোন্ডা মুভির কোন দৃশ্যে আছি মনে হচ্ছিলো।

এমন অসংখ্য ব্রিজ রয়েছে পুরো খাল জুড়ে
এমন অসংখ্য ব্রিজ রয়েছে পুরো খাল জুড়ে
এমন অসংখ্য ব্রিজ রয়েছে পুরো খাল জুড়ে
এমন অসংখ্য ব্রিজ রয়েছে পুরো খাল জুড়ে

আরেকটা বিষয় খুব নজর কাড়লো। খালের পানি প্রবাহে এবং মানুষের যোগযোগ ব্যবস্থা কোনটাতেই যেন সমস্যা না হয় সেজন্য অসংখ্য ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে।

খালের পাড়ের মানুষের জীবন ব্যবস্থা প্রধানত পেয়ারা, আমড়া, সুপারি, সবজী ইত্যাদির নার্সারী করে চারা গাছ বিক্রির উপর নির্ভরশীল। পুরো ক্যানেল জুড়ে তাই পেয়ারা বাগান, আমড়া বাগান এবং চারা গাছের দেখা পাওয়া যায়। পেয়ারা, আমড়ার গাছগুলো এত কাছে চাইলে ট্রলার থেকেই পেড়ে খাওয়া যায়।

কষা নৌকা
কষা নৌকা

ফলের বাগানগুলোতে ঢোকার জন্য পরিখা আছে । কষা নৌকা নিয়ে ঢুকে পেয়ারা পাড়া হয়। খালের সাথে যাদের আবাসস্থল তাদের প্রায় সবার কাছে অনন্ত একটা ডিংগি নৌকা রয়েছে। লোকাল ভাষায় এগুলোকে কষা নৌকা বলে। নৌকা দিয়ে বাজার, যাতায়াত সবকিছু হয়।

পেয়ারার মৌসুম হচ্ছে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যায় মাঝে মাঝে। আগস্ট মাস ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখার সবচেয়ে উপযোগী সময়। বাজার দেখতে সকাল ১১ টার মধ্যে বাজারে যেতে হবে। দিন যত বাড়ে, ভীড় তত কমতে থাকে।

আমরা ভাসমান পেয়ারা বাজারে প্রবেশ করলাম সকাল ১০টার দিকে। পেয়ারা ভর্তি করে নৌকাগুলো পানিতে ভেসে আছে। রাস্তায় ক্রেট ভর্তি পেয়ারা, ট্রাকে উঠানো হচ্ছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু পেয়ারা আর পেয়ারা। এ এক দেখার মত দৃশ্য। একদল অপরিচিত মানুষের সাথে এতদূর পেয়ারা বাজার দেখতে আসাটা বৃথা যায় নাই।

আটঘর-কুড়িয়ানা বাজার ঘুরে আমরা ভীমরুলী চলে গেলাম। ভীমরুলীতে খালের মোহনায় বাজার বসে। চারদিক থেকে নৌকা এসে মোহনায় জড়ো হয়। ব্রিজের উপর থেকে পেয়ারা বাজারের দারুন ছবি পাওয়া যায়। ঢাকায় বসে এতদিন পেয়ারা বাজারের এমন অনেক ছবি দেখতাম। আজ নিজে তুললাম।

খালের পাশের বাজার থেকে গরম গরম মিষ্টি খেলাম। কষা নৌকায় করে ঘোরার ইচ্ছা থাকলেও উঠলাম না। সাঁতার না জানায় সাহস করতে পারি নাই। অনেকেই কষা নৌকা ভাড়া নিয়ে ঘুরলো।

বাজার ঘুরাঘুরি শেষ। এখন গোসল করে খাওয়া দাওয়ার পালা। যেহেতু আমরা আজকে রাতে এখানেই থাকবো। তাই আমাদের হাতে অফুরন্ত সময়।

পর্ব-২ঃ ভাসমান চাল বাজার, গুঠিয়া মসজিদ, দুর্গাসাগর ঘুরে দেখা

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড (২০২৩) [খরচ, থাকা, খাওয়া, যাতায়াত সব তথ্য]

কক্সবাজারে সুগন্ধা, লাবনী, কলাতলী বিচের বালুময় অস্বচ্ছ পানি দেখে অনেকে নীল পানির খোঁজে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ করতে আসে। কেউবা আসে দেশের সর্ব দক্ষিনের শেষ প্রবালটিতে বসে ছবি তুলতে, সমুদ্রের গর্জন শুনতে। কেউ আসে নদী-সাগর পেরিয়ে দ্বীপটিতে কি রহস্য আছে তার সন্ধান করতে।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের বিস্তারিত সব তথ্য আজ আমরা এই পোস্ট থেকে জেনে নিবো।

  • কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর
  • ভ্রমণ প্ল্যান
    • দিনে দিনে ঘুরে আসা
    • এক বা একাধিক রাত থাকা
  • যাওয়ার উপায়
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার
    • ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন
    • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন
    • চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন
  • পরিবহন ব্যবস্থা
    • বাস
      • ঢাকা থেকে টেকনাফ
      • চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ
      • কক্সবাজার থেকে টেকনাফ
      • বাস সম্পর্কিত তথ্য
    • জাহাজ
      • টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন
      • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন
      • চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন
      • জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য
  • হোটেল ও রিসোর্ট
  • খাবার
    • খরচ
    • খাবার সম্পর্কিত পরামর্শ
  • দ্বীপের দর্শনীয় স্থান
  • দ্বীপে যা যা করা যায়
  • ছেঁড়াদ্বীপ
    • যাওয়ার উপায়
    • পায়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ
  • ভ্রমণ সংক্রান্ত পরামর্শ

কমন কিছু প্রশ্ন-উত্তর

  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময় কখন?
    • নভেম্বের থেকে মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়। তখন টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল করে। এছাড়া সারাবছরই লোকাল ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়।
  • সেন্টমার্টিনে কি আগে থেকে হোটেল বুকিং করে যেতে হয়?
    • টানা বন্ধের দিন এবং শুক্র-শনিবার ছাড়া আগে থেকে বুকিং করার প্রয়োজন নেই। তবে ভালো রিসোর্টগুলোতে থাকতে চাইলে বুকিং করা যাওয়াটাই শ্রেয়। পরিবার বা বড় গ্রুপ নিয়ে গেলে অবশ্যই আগে বুকিং করে যাবেন।
  • কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়?
    • কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করে। এছাড়া বাসে টেকনাফ এসে এরপর জাহাজে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়।
  • চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়?
    • চট্টগ্রাম থেকে বে-ওয়ান জাহাজে করে সরাসরি সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। এছাড়া বাসে যেতে চাইলে কক্সবাজার বা টেকনাফ হয়ে যেতে হবে।

ভ্রমণ প্ল্যান

দিনে দিনে ঘুরে আসা

  • টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন নামবেন আনুমানিক ১২.৩০ টার দিকে।
  • যেহেতু আপনি বিকালের জাহাজে চলে যাবেন তাই সময় নষ্ট না করে জেটি থেকে নেমে ডান পাশের বিচ ধরে হাঁটা শুরু করুন অথবা অটো নিয়ে প্রিন্স হ্যাভেন হোটেলে চলে যান। গোসল করবেন প্রিন্স হ্যাভেন বা ব্লু মেরিন হোটেলের সামনের বিচে। এইদিকে সমুদ্রে ঢেউ তুলনামূলক বেশি থাকে তাই এখানে গোসল করে মজা।
  • গোসল করতে না চাইলে একটা ভ্যান রিজার্ভ নিয়ে নিন। ভ্যানে করে পুরো দ্বীপ ঘুরবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই পশ্চিম বিচে যাবেন। চাইলে হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাস ঘুরে আসতে পারেন।

মনে রাখবেন,

যাই করেন না কেনো ২টার মধ্যে করতে হবে। এরপর খাওয়া-দাওয়া করে জাহাজে উঠে যাবেন। জাহাজ ঠিক ৩টার সময় ছেড়ে দেয় তাই দেরি করলে বিপদে পড়বেন। এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এক বা অধিক রাত থাকা

টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন নামবেন। যেহেতু আপনি এক বা একাধিক রাত থাকবেন আপনার তাড়াহুড়ো নেই। প্রথমে হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন। এরপর গোসল করতে সমুদ্রে নেমে পড়ুন। বিকালে ছেঁড়াদ্বীপ চলে যেতে পারেন তাহলে সূযার্স্ত দেখে আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন বিকাল ৪টার মধ্যে রওনা দিতে। রাতে জেটিঘাটে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনুন।

পরদিন সকালে খুব ভোরে বের হয়ে পশ্চিম বিচ ধরে হাঁটতে থাকুন। যত দূর যাবেন ততই নানা সৌন্দর্য দেখা দিবে। সাইকেল নিয়েও ঘুরতে পারেন। এরপর দুপুরের খাবার খেয়ে ৩ টার জাহাজে উঠে পড়ুন।

প্রথমদিন ছেঁড়াদ্বীপ যেতে না চাইলে দ্বিতীয় দিন খুব সকালে সূর্যোদয়ের পর পর চলে যাবেন। তাহলে ঘুরে মজা পাবেন। রোদের তেজ বেড়ে গেলে ঘুরে মজা পাওয়া যায় না।

টিপসঃ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ভীড় থেকে বাঁচতে জাহাজে ২টা ১০ এর মধ্যে উঠে পড়বেন। নাহলে দীর্ঘ সময় লাইন দিয়ে জাহাজে উঠতে হবে।

সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার ট্যুর প্যাকেজ এবং সকল ধরনের সার্ভিস আমি দিয়ে থাকি। ফ্যামিলি, কর্পোরেট, বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ প্যাকেজের জন্য ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে

ফেসবুকে যোগাযোগ করতে ক্লিক করুন

ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে নক দিন

টেকনাফ থেকে এখনো জাহাজ চলাচল শুরু হয় নাই। কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী জাহাজ চলাচল করছে এবং ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম থেকে বে-ওয়ান জাহাজ চলবে।

সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায়

সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে যাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। টেকনাফ থেকে জাহাজ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকলেও তখন গরম পড়ে যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়। এছাড়া ট্রলারে করে সারাবছরই টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ সার্ভিস চালু হওয়ায় সারা বছরই সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে।

কয়েকভাবে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। কেউ শুধু সেন্টমার্টিন যায়, কেউ সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার দুই জায়গাতে ঘুরতে যায়। সবগুলো উপায়ই বলছি।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০ টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনে যতদিন ইচ্ছা থেকে অথবা দিনে দিনেই বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে পরবর্তী গন্তব্যস্থল।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে সেন্টমার্টিন হয়ে কক্সবাজার

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০টার জাহাজে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাস/রিজার্ভ মাইক্রোতে করে কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে পরবর্তী গন্তব্যস্থল।

ঢাকা বা দেশের যেকোন জেলা থেকে কক্সবাজার হয়ে সেন্টমার্টিন

ঢাকা বা দেশের যেকোন স্থান থেকে প্রথমে কক্সবাজার। কক্সবাজার যতদিন ইচ্ছা থেকে খুব ভোরে টেকনাফের বাস, রিজার্ভ মাইক্রো/জীপে করে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে সকাল ৯.৩০টার বাসে করে সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন যতদিন ইচ্ছা থেকে আবার বিকাল ৩টার জাহাজে চড়ে টেকনাফ। টেকনাফ থেকে বাসে করে পরবর্তী গন্তব্যস্থল।

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন

কক্সবাজার থেকে বর্তমানে সেন্টমার্টিনের শীপ চালু রয়েছে। তাই টেকনাফ হয়ে জাহাজ না উঠে সরাসরি কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজে উঠতে পারবেন। বর্তমানে কর্ণফুলী শীপ নিয়মিত কক্সবাজার জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিন চলাচল করছে।

চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন

চট্টগ্রামের সিনেমা প্যালেস, দামপাড়া থেকে কিছু বাস রাত ১২/১ টায় চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া এখন বে-ওয়ান জাহাজে করে সরাসরি চট্রগাম থেকে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ বা কক্সবাজার হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ঢাকা থেকে টেকনাফের বাস

হানিফ, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন পরিবহন, সেন্টমার্টিন ট্রাভলস, গ্রীন সেন্টমার্টিন, রিলাক্স, রয়েল কোচ, হেরিটেজ সহ আরো বেশ কিছু বাস।

বাস ভাড়া

  • নন-এসিঃ ১০০০-১০৫০ টাকা
  • নন-এসিঃ ১১০০ টাকা (শ্যামলী বিজনেস ক্লাস)
  • এসিঃ ১২০০-১৮০০ টাকা (ইকোনমি ক্লাস)
  • সেন্টমার্টিন হুন্দাই (রবি এক্সপ্রেস): ১৮০০ টাকা (ইকোনমি ক্লাস)
  • সেন্টমার্টিন হুন্দাই (রবি এক্সপ্রেস): ২২০০ টাকা (বিজনেস ক্লাস)

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া (এখনো শুরু হয় নাই)

জাহাজের নাম নিচতলা দোতলা বিজনেস ক্লাস
কেয়ারী সিন্দবাদ ৮৫০/- ১০০০/- ১১০০/-
কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন ১১০০/- ১৩০০/- ১৬০০/-
এম ভি ফারহান ২ ১০০০/- ১৩০০/-
সুকান্ত বাবু ৮০০/- ৯০০/-
গ্রীণ লাইন (এসি) ১৭০০/- ২২০০/-
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ২৫০০-২৫,০০০ টাকা    
বে-ওয়ান ৪০০০-৬০,০০০ টাকা    

জাহাজ টিকেট বুকিং

জাহাজের টিকেট বুকিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে সেন্টমার্টিন জাহাজ ভাড়া ও বুকিং পোস্টটি পড়ুন।

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • আমার ব্যক্তিগত পছন্দ কেয়ারী সিন্দাবাদ, এমভি ফারহানের ওপেন ডেক।
  • কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন, বে ক্রুজ, গ্রীন লাইন এসি জাহাজ।
  • ছুটি বা অতিরিক্ত ভীড়ের দিন ব্যতীত জাহাজের টিকেট ঘাটে গিয়েই নিতে পারবেন। ভীড়ের দিনে আগে থেকে টিকেট করে রাখতে হবে। নাহলে ঘাটে গিয়ে টিকেট নাও পেতে পারেন।
  • পরিবার না থাকলে জাহাজের স্ট্যান্ডিং টিকেটে সমস্যা হয় না। ২.৩০ ঘন্টার জার্নি নদী, সমুদ্র দেখতে দেখতে কেটে যায়। তবে পরিবার থাকলে অবশ্যই সিট আছে এমন টিকেট কাটবেন।
  • কেয়ারী সিন্দাবাদ ও এমভি ফারহান সিট নাম – মেইন ডেক, ওপেন ডেক, বিজনেস ডেক।
  • কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন সিট নাম – কোরাল লাউঞ্জ(নিচতলা), এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জ, পার্ল লাউঞ্জ।
  • বে ক্রুজ সিট নাম – রজনীগন্ধা, হাসনাহেনা, কৃষ্ণচূড়া।
  • দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ সিট নাম – ইকোনমি ডেক, ওপেন ডেক, রয়েল লাউঞ্জ, লাক্সারি লাউঞ্জ।

কক্সবাজার থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ক্রুজ শিপ কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া (এয়ারপোর্ট রোড) বি আই ডব্লিও টিএ ঘাট থেকে প্রতিদিন ছেড়ে যায়।
  • কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল জোন থেকে নুনিয়ার ছড়া বিআইডব্লিউটিসি ঘাট দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। পৌঁছাতে মোটামুটি ৩০ মিনিট সময় লাগে।
  • সময় সুচী:
    • কক্সবাজার বি আই ডব্লিও টি এ ঘাট থেকে ছাড়ে সকাল ৭টায়। এই সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল। জোয়ারের সময়ের উপর নির্ভর করে ভোর ৫টা থেকে ৯.৩০টার মধ্যে জাহাজ ছাড়ে।
    • সেন্টমারটিন থেকে ছাড়ে বিকাল ৩.৩০ থেকে ৪.৩০ টার মধ্যে
    • উভয় দিক থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে আনুমানিক ৫ ঘন্টা (+/-)
  • কক্সবাজার থেকে যেদিন যাবেন তার আগের দিন ফোন করে জেনে নিবেন জাহাজ কয়টার সময় ছাড়বে।
  • সেন্টমার্টিন পৌঁছে জাহাজ জেটি ঘাট পর্যন্ত যেতে পারে না। ট্রলার দিয়ে জাহাজ থেকে মূল জেটি ঘাটে যাত্রী নেওয়া হয়।
  • সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সময় বিকালে মূল জেটি ঘাট থেকেই জাহাজে উঠা যায়।
  • সিঙ্গেল কেবিন ব্যতীত, প্রতিটি টুইন বেড, ভি আই পি ও ভি আই পি কেবিন দুই (২) জন এর জন্য প্রযোজ্য। অতিরিক্ত জনপ্রতি আলাদা টিকেট কেটে নিতে হবে।
  • ছোট বাচ্চা ৫ বছরের নিচে ফ্রি।
  • আপনার ফেরার (রিটার্ন) তারিখ টিকেট করার সময় উল্লেখ করতে হবে। নাহলে সিট পাবেন না।
  • প্রতিবার যাত্রায় এম ভি কর্নফুলী এক্সপ্রেস এর পক্ষ থেকে থাকছে হালকা স্ন্যাকস/ নাস্তা।
  • সমুদ্র যাত্রা পথে ছোট বাচ্চাদের সব সময় সাবধানে ও কাছে রাখুন।
  • নাস্তার খালি প্যাকেট, চিপস / জুস এর খালি প্যাকেট, কফি/ চা এর ওয়ান টাইপ কাপ সহ সকল ময়লা আবর্জনা পানিতে ও জাহাজের যেখানে সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন। প্রতিটি ফ্লোরেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন দেয়া আছে।

চট্টগ্রাম থেকে বে-ওয়ান জাহাজ

জাহাজ সম্পর্কিত কিছু তথ্য,

  • এম ভি বে ওয়ান চট্টগ্রাম পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট, পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট নিকট থেকে ছাড়ে।
  • জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে রাত ১০ টায় সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে। সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৭/৮ টায়।
  • সেন্টমার্টিন থেকে সকাল ৯টায় জাহাজ ছাড়ে। চট্টগ্রাম পৌঁছাবে একই দিন রাত ৭/৮ টায়।
  • পরিবারের সাথে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু ফ্রি থাকতে পারবে।

*এমভি কর্ণফুলী এবং বে-ওয়ান জাহাজের বিভিন্ন তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই আপটুডেট তথ্য জেনে যাবেন।

হোটেল ও রিসোর্ট

সেন্টমার্টিন জেটি ঘাটের সাথে বাজারে অনেক হোটেল আছে। দামাদামি করে সেখান থাকতে পারেন। ছুটির দিন, অতিরিক্ত ভীড়ের দিন গেলে অবশ্যই আগে বুকিং দিয়ে যাবেন।

নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে পশ্চিম বিচের দিকে চলে যেতে হবে। সেখানে বেশ কিছু বিচ ভিউ রিসোর্ট আছে। সমুদ্রের পানি রিসোর্টের উঠানে এসে বাড়ি খায়। ভাড়া সময়ভেদে ২৫০০-১৩০০০ পর্যন্ত।

পশ্চিম বিচের কিছু রিসোর্ট

  • দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (Dwipantor Beach Resort)
  • আটলান্টিক রিসোর্ট (পূর্ব নাম-লাবিবা বিলাস) (Atlantic Resort)
  • জ্যোৎস্নালয় বিচ রিসোর্ট (Josnaloy Beach Resort)
  • ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort)
  • ফ্যান্টাসি হোটেল এন্ড রিসোর্ট (Fantasy Hotel and Resort)
  • কিংশুক ইকো রিসোর্ট (Kingshuk Resort)
  • মিউজিক ইকো রিসোর্ট (Music Eco Resort)
  • নীল দিগন্ত রিসোর্ট (Nil Digante Resort)
  • দ্যা বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট (The Beach Camp Resort)

সেন্টমার্টিনের রিসোর্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে, সেন্টমার্টিনের সেরা ৯টি রিসোর্ট আর্টিকেলটি পড়ুন।

কি খাবেন

  • ডাব
  • মাছের বারবিকিউ (বাজারে সব হোটেলেই মাছ সাজিয়ে রাখা হয় যেটা বলবেন বারবিকিউ করে দিবে)
  • জেটি থেকে বাজারের রাস্তা ধরে শেষ মাথায় হাতের বামে পেয়াজু,সিঙ্গারা, সমুচার দোকান আছে। ওদের পেয়াজু। সন্ধ্যা ৭.৩০ মধ্যেই শেষ হয়ে যায় তাই আগে আগে যাবেন।
  • চিংড়ি, ক্র্যাব ফ্রাই

খাবার খরচ

  • সকালের নাস্তা – ৫০-১০০ টাকা
  • দুপুরের খাবার প্যাকেজ – ২০০-২৫০ টাকা
  • রাতের বারবিকিউ প্যাকেজ – ৩০০-৪৫০ টাকা

খাবার সংক্রান্ত পরামর্শ

  • খাবার পূর্বে দাম জেনে নিবেন
  • জেটি ঘাটের কাছে অনেক হোটেল আছে। সেখানে লাইভ ফিশ কিনে বারবিকিউ খেতে পারেন। মাছ কেনার সময় দামাদামি করে কিনবেন।
  • পশ্চিম বিচের রিসোর্টে থাকলে রিসোর্টের হোটেলে খাবার খেতে হবে। নাহলে প্রতিবার খাবার জন্য জেটিঘাটের কাছে আসতে হবে। রিসোর্টের হোটেলের খাবার খেতে ভালো হয় তাই চিন্তার কোন কারন নেই। আর দামও তুলনমূলকভাবে বেশি না।

দ্বীপের দর্শনীয় স্থান 

  • দ্বীপের উত্তর পাশের নারিকেল জিঞ্জিরা (জেটি থেকে বাম পাশের বিচ ধরে হাঁটলেই পাবেন)
  • পশ্চিম পাশের কোরাল দ্বীপ
  • জেটি ঘাট (সকালে সমুদ্রের পানির রঙ দেখে অবাক হয়ে যাবেন। আর রাতে জেটির সিঁড়িতে বসে সমুদ্রের গর্জন শুনে)
  • গলাচিপা (দ্বীপের সবচেয়ে সরু অংশ)
  • ছেঁড়াদ্বীপ (বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের শেষ স্থলভাগ)
  • পশ্চিম বিচে বসে সূর্যাস্ত
  • জেটিঘাটে বসে সূর্যোদয়
  • রাতের পরিষ্কার আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা অথবা ভরা পূর্ণিমা
  • বিকালে জেটির বাম পাশের বিচে জেলেদের সাথে জাল টেনে মাছ ধরা
  • বাজার থেকে পাকা রাস্তা ধরে হেঁটে অবকাশ হোটেল পর্যন্ত স্থানীয়দের বাসস্থান, জীবন ধারা
  • সন্ধ্যা/রাতে বাজার

সেন্টমার্টিনে যা যা করা যায়

  • সাইকেল চালানো
  • হেঁটে/স্পিডবোট/মাছ ধরার ট্রলার/লাইফবোটে ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া
  • নানা ধরনের মাছের বার বি কিউ খাওয়া
  • খুব ভোরে উঠে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনা
  • বিকেলে জেলেদের সাথে জাল টেনে মাছ ধরা (ভাগ্য ভালো হলে ফ্রি মাছও পেয়ে যেতে পারেন)
  • ক্যাম্প ফায়ার
  • স্কুবা ড্রাইভিং করা

ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়ার উপায়

  • ভাটার সময় হেঁটে/সাইকেলে। সাইকেল ভাড়া প্রতি ঘন্টা ৪০/৫০ টাকা।
  • জেটি ঘাট থেকে প্যাকেজে (২০০ টাকা)। যেতে ৩০ মিনিট, আসতে ৩০ মিনিট আর ঘোরার সময় ১ ঘন্টা
  • মাছ ধরার ট্রলার রিজার্ভ করে। লোক ভেদে ভাড়া ১৫০০-২৫০০ নিবে। যতক্ষন ইচ্ছা থাকবেন।

পায়ে হেঁটে ছেঁড়াদ্বীপ

  • হেঁটে যেতে দেড়-দুই ঘন্টা লাগে যদি পশ্চিম বিচ ধরে যান। আমি এটাই সাজেস্ট করবো। এপাশ দিয়ে যাওয়াটা একটু কষ্টকর কিন্তু যাওয়াটা বৃথা হবে না।
  • আরামে এবং দ্রুত যেতে চাইলে পূর্ব বিচ ধরে যাবেন।
  • জোয়ারের সময় পরিবর্তন হয়। তাই যেদিন যাবেন স্থানীয় লোক বা রিসোর্টের ম্যানেজারের জাছে জিজ্ঞাসা করে নিবেন।
  • আসার সময় ট্রলার পাওয়া যাবে না। সবাই রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে যায়। যদি কাউকে অনুরোধ করে উঠতে পারেন তাহলে হয়তো পেতে পারেন।
  • হেঁটে যেতে, পশ্চিম বিচ দিয়ে যাবেন এবং পূর্ব বিচ দিয়ে আসবেন তাহলে ভালো মত দেখতে পারবেন।

কিছু সতর্কতা

  • টেকনাফ জাহাজ ৯.৩০ টার সময় সব একসাথে ছেড়ে যায়। শুধু গ্রীন লাইন ১০ টায় ছাড়ে। তাই জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না।
  • টেকনাফে জাহাজ মিস করলে ট্রলারে যেতে পারেন। ঘাটের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেই তারা ট্রলার ঘাট কোথায় দেখিয়ে দিবে।
  • সেন্টমার্টিন থেকে সব জাহাজ বিকাল ৩টায় ছেড়ে দেয়। শুধু গ্রীন লাইন কিছুটা দেরি করে। তাই এখানেও জাহাজ মিস করলে ঐদিন আর জাহাজ পাবেন না। এবং ট্রলারও পাবেন না। সেদিন সেন্টমার্টিনেই থাকতে হবে।

কিছু পরামর্শ

  • হেঁটে বা সাইকেলে গেলে স্থানীয়/রিসোর্ট থেকে জেনে যাবেন ভাটার সময় কখন।
  • পশ্চিম বিচ থেকে বিকালে ট্রলার রিজার্ভ করে গেলে আসার সময় সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আসতে পারবেন।
  • চেষ্টা করবেন ২টার মধ্যে ছেঁড়াদ্বীপের উদ্দ্যেশ্য ট্রলারে রওণা দিতে তাহলে বেশি সময় কাটাতে পারবেন।
  • প্যাকেজ ট্রলারে করে গেলে সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।
  • ছেঁড়াদ্বীপ যাওয়া সবচেয়ে ভালো হয় যদি ভোরবেলা সূর্য উঠার পর পর যেতে পারেন। সূর্যের তেজ বাড়ার আগে আগে ঘুরে চলে আসতে পারবেন। তখন মানুষও কম থাকে।

বিশেষ অনুরোধ

  • প্রবাল নিয়ে আসবেন না। ১ জন মানূষ ১টা করে প্রবাল আনলেও ১ লাখ মানুষ ১ লাখ প্রবাল নিয়ে আসবে। সিজনে কয়েক লাখ মানুষ সেন্টমার্টিনে যায়!
  • যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। দ্বীপটি আমাদের। ময়লা ফেলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।
  • স্থানীয়দের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে আমার কিছু কথা

২০১০-২০২০ দীর্ঘ ৮ বছরে অনেকবার দ্বীপটিতে যাওয়া হয়েছে। কখনো ১ রাত, কখনো ২ রাত থেকেছি। কিন্তু এখনো মনের তৃপ্তি মিটে নি। অফুরন্ত প্রাণের ভান্ডার এই দারুচিনি দ্বীপ। দ্বীপের আয়তন ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার। হেঁটে পুরো দ্বীপ ঘুরতে চাইলে হাঁটতে হবে প্রায় ১১/১২ কিলোমিটার। পুরো দ্বীপটি হেঁটে না ঘুরলে প্রকৃত অর্থে সেন্টমার্টিনের আসল সৌন্দর্যই দেখা সম্ভব হয় না।

দ্বীপের উত্তর পাশে নারিকেল জিঞ্জিরা। মাঝে দ্বীপের সবচেয়ে সরু স্থান গলাচিপ যেখানে পূর্ব এবং পশ্চিম দুই পাশের সমুদ্রের গর্জন শোনা যায়। এবং সর্ব দক্ষিনে ছেড়াদিয়া বা ছেঁড়াদ্বীপ।

জেটি থেকে নেমে হাতের বামে বিচ ধরে হেঁটে গেলে দেখা যাবে সমুদ্রের এক ধরনের রূপ। এপাশ দিয়ে ভাটার সময় হাঁটতে থাকলে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়। সাগর তুলনামূলক শান্ত পূর্বপাশের এদিকটাতে।

জেটির ডান পাশের বিচে মূলত সবাই গোসল করতে নামে। বাজারের আশেপাশের রিসোর্টে যারা থাকে তারাও এই বিচের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে। এই বিচ ধরে পশ্চিম দিকে যেতে থাকলে কেন দ্বীপের নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ তার সত্যতা মিলবে।

কোরাল দ্বীপ নামের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে পশ্চিম বিচে। ভাটার সময় পশ্চিম বিচ ধরে যত ছেঁড়াদ্বীপের দিকে হাঁটা যায় তত বাহারী কোরালের দেখা মিলবে। বিশালাকার, ক্ষুদ্রাকৃতি, অদ্ভুতাকার কি নেই এখানে।

গলাচিপা সেন্টমার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে সরু অংশ। পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকের বিচ ধরেই যান গলাচিপায় আসলে আপনি অবাক হতে বাধ্য। কেন তা নিজে ভ্রমণ করেই আবিষ্কার করুন!

ছেঁড়াদ্বীপ হেঁটে বা সাইকেলে গেলে যে অংশটা জোয়ারের সময় ডুবে যায় তার ঠিক আগে আগে ম্যানগ্রোভ বনের দেখা মিলবে যেন। দ্বীপের কি রূপ দেখলেন আর এখানে এসে কি দেখতেছেন! নিজের চোখকে বিশ্বাস হতে চাইবে না।

ছেঁড়াদ্বীপ অংশটুকু আরেক বিস্ময়। এখানের প্রবালগুলোকে আমার কাছে বেশি প্রানবন্ত মনে হয়। ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিম পাশের বিচ দেখা পাবেন প্রাকৃতিক একুরিয়ামের। অদ্ভুত এক গাছ রয়েছে কেওড়ার বনে। খুঁজে দেখবেন অবশ্যই। দিনের বেলাতেও গাঁ গাঁ ছম ছম অনুভূতি হয় সেখানে।

ছেঁড়াদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, শেষ মাথায় বসে সমুদ্রের ঢেঊ দেখতে দেখতে ঢেঊয়ের গর্জন শুনতে। মূল দ্বীপ থেকে যা সম্পূর্ণ আলাদা। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়। যারা ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাদের জন্যও ছেঁড়াদ্বীপ স্বর্গ।

আরো পড়ুন

 

বর্ষণমুখর দিনে আড়াইহাজার – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৫)

২০১৬ সালে ঠিক করি বাংলাদেশ দেখতে হবে। কিন্তু বন্ধুরা জনপ্রিয় স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ঘুরতে যায় না। বান্দরবান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট একই জায়গা বার বার। নতুন জায়গা দেখতে হলে হয় একা যেতে হবে অথবা অপরিচিত কারো সাথে যেতে হবে। সেই থেকেই পথচলা শুরু…

ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল গ্রুপ তখন বর্তমানের মত এতটা প্রসারিত হয় নি। অল্প কিছু গ্রুপ ছিলো। এর মধ্যে বেড়াই বাংলাদেশ গ্রুপকে ফলো করতাম। একদিন দেখলাম, বেড়াই বাংলাদেশ থেকে নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় ডে ট্যুরে যাবে। বিস্তারিত পড়ে ভালো লাগলো। প্রয়াত মাহমুদ ভাইয়ের সাথে কথা বলে সিট বুকিং দিলাম।

১৩ মে সকাল। ৬.১০ মিনিটে এল্যার্ম বেজে উঠলো। মনে মনে চিন্তা করলাম এই সাত সকালে স্বাদের ঘুম ভেঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার আসলেই কি কোন দরকার আছে? তাও আবার কাউকে চিনি?

চরম সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যেই বের হলাম। আরিয়ান ভাই মিরপুর থেকে আমাকে মাইক্রোবাসে উঠালেন। মাহমুদ ভাইয়ের যাওয়ার কথা থাকলেও জরুরী কাজ পড়ে যাওয়ায় তিনি যাবেন না। আরিয়ান ভাই ট্যুর পরিচালনা করবেন।

মিরপুর-১১ নাম্বার রাব্বানী হোটেলে সকালের নাস্তা করে নিলাম। ৩০০ ফিট থেকে আরেকটা প্রাইভেট কার আমাদের সাথে যোগ দিলো। কাঞ্চনব্রিজ পার হয়ে আমরা আড়াইহাজার প্রবেশ করলাম।

শাহিনুর ভাইয়ের বাসায় সেলফি

প্রথমে গেলাম এন্টিক শাহিনুর ভাইয়ের বাসায়। সেখানে মাইক্রো সিঙ্গারা, এন্টিক চা খেতে খেতে আড্ডা জমে উঠলো। শাহিনুর ভাইয়ের পোষা টিয়া পাখি ছিলো, নাম রকি। ভাইয়ের বাসায় গেলে সবাই রকিকে কাঁধে নিয়ে সেলফি তোলে। আমরাও তুললাম।শাহিনুর ভাই আমাদেরকে তার নিজ হাতে করা বাগান, পাখিশালা ঘুরিয়ে দেখালেন।

শাহিনুর ভাইয়ের বাসা থেকে চলে গেলাম মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা চৌদ্দার চরে। মেঘনা নদীতে গোসল করার জন্যই এখানে আসা। নদী পাড়ে বালু দেখে সমুদ্রের সৈকতের মত লাগে। দিনটাও ছিলো মেঘলা। সবমিলিয়ে গোসল করার জন্য সেরা পরিবেশ।

দেরি না করি আমরাও পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এখানে বালু পানির অনেক নিচ পর্যন্ত সমতল। তাই ডুবে যাওয়ার বা কোন অঘটন ঘটার সম্ভাবনা নেই। গোসল করতে করতেই বৃষ্টি শুরু হলো। এখানেও নতুন এক জিনিস দেখলাম। নদীর পানি গরম হয়ে আছে। শরীরের যতটুকু অংশ পানির উপরে আছে তা জমে যাওয়ার মত অবস্থা আর নিচের অংশ আরামদায়ক গরম।

বৃষ্টিতে গোসলের আনন্দ দ্বিগুন হয়ে গেলো। কিন্তু ব্রজপাত শুরু হলো। চোখের সামনেই নদীতে বাজ পড়তে দেখে আমরা নৌকায় আশ্রয় নিলাম। জড়োসড়ো হয়ে বসে বাজ পড়ার শব্দ শুনছিলাম আর মনে হচ্ছিলো এই বুঝি নৌকার উপর বাজ পড়ে। আল্লাহ রহমতে তেমন কিছু হয় নাই। ব্রজপাত থেমে যেতেই আবার সব নদীতে। মনের স্বাদ মিটিয়ে গোসল করলাম।

বৃষ্টিতে নদীতে গোসল করে সবাই খুশি

নদী থেকে যখন উঠলাম ততক্ষনে পেটে ক্ষুধার আগুন জ্বলছে। দুপুরের খাবারও হলো জম্পেশ। খাওয়া শেষে কাছেই এক জমিদার বাড়ি ঘুরতে গেলাম। জমিদার বাড়িতে বর্তমানে মানুষ বসবাস করে। আমরা চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। ছবি তুললাম।

জমিদার বাড়ি

হঠাৎ করে আশরাফ ভাই ফোন দিয়ে তার বাগান বাড়িতে যেতে বললো। আমরাও গাড়ি নিয়ে ছুটলাম। বিশাল খোলা মাঠের মাঝে ঘর। চারপাশে মাঠ ছাড়া কিছু নেই। আশরাফ ভাই মুড়ি বানালেন। অসাধারন এক চা বানিয়ে খাওয়ালেন। সাথে ছিলো এন্টিক আলু পুরি। বারান্দায় বসে চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখেও মজা। ইচ্ছে হচ্ছিলো রাতটা থেকে যাই…

তবে রাত থাকা হয় নাই। ঘন্টাখানেক আড্ডা দিয়ে আমরা ঢাকার পথ ধরি…

পরের পর্বঃ লিচু বাগান দেখতে ঈশ্বরদী সাথে বোনাস লালন শাহ মাজার

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ Foridi Numan ভাই

সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.৩)

আজ রাতের বাসে আমরা ঢাকা রওনা হবো। গতকাল রাতে স্যার বলেছিলো, সকাল সকাল উঠে যেন সবাইকে ঘুম থেকে উঠাই। বাকিদের ঘুম থেকে উঠাবো কি আমি নিজেই ঘুমাতে গেছি ভোরবেলা।

আনিস স্যার ফোনে আমাকে না পেয়ে বাকিদের নাস্তা খেতে যেতে বলেন। আমি যখন স্যারকে ফোন দিলাম বললেন, ব্যাগ গুছিয়ে নাস্তা করতে আসো। আমার তখনো ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, ভাবলাম আরেকটু ঘুমিয়ে নেই। কিন্তু ঘুম কি আর আসে!

আনিস স্যার আমাদের রুমের সবাই বের হইছি কিনা দেখতে এসে দেখে আমরা এখনো কেউ ফ্রেশ হই নাই, আড্ডা দিতেছি। স্যারকে দেখে তাড়াতাড়ি নিচে নামলাম। খিচুড়ী দিয়ে সবাই ততক্ষনে নাস্তা করা শুরু করে দিয়েছে। নাস্তা শেষে বাসে উঠে পড়লাম, আজ যাবো কাপ্তাই।

কাপ্তাই যাবার পথে একটা ব্রিজ ভেঙ্গে গেছে তাই আমাদের দুইটা বাস রিজার্ভ করতে হয়। একটা ব্রিজ পর্যন্ত নিয়ে যাবে এরপর হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে আরেকটা বাসে উঠতে হবে।

বাসে উঠেও আমার ঘুম কাটে না। কেউ যাতে না বুঝে সেজন্য সানগ্লাস পড়ে ঘুমানোর ট্রাই করতেছি তখন আনিস স্যার বলে ঠিকমত বসে ঘুমাও নাহলে পড়ে যাবা। সানগ্লাসের ভিতর দিয়ে চোখ দেখা যায় বুঝতে পেরে ঘুমানোর সেখানেই সম্পাতি।

মিনিট বিশের মধ্যেই আমরা ভাঙ্গা ব্রিজের কাছে চলে যাই। ব্রিজ পার হয়ে অন্য বাসে উঠি। বাস প্রথমে থামে জল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। কিন্তু অনুমতি না থাকায় আমরা ভিতরে ঢুকতে পারি নাই। ড্যাম দেখার জন্য আমরা তখন সেখান থেকে আরেকটু দূরে যাই। সেখানে আনারস আর ডাব দেখে সবাই বাস থেকে নেমে পড়ি। শুরু হয় আনারস খাওয়ার প্রতিযোগিতা। ডাবের সংখ্যা কম থাকায় সবাই পায় না। অবশ্য ডাবের অভাব আনারস দিয়ে পূরন করে নেয়।

আমাদের প্রধান লক্ষ্য ইকোপার্কে যাওয়ার পথে একটা সুন্দর জায়গা দেখে আমরা আবার নেমে পড়ি। পিচঢালা ঢালু এক পথ নেমে গেছে একেবারে লেকের কাছের। প্রথমে আমরা কয়েকজন লেকের পাড়ে যাই। বাকিরা তখনও রাস্তার উপর থেকেই লেক দেখতেছিলো। পরে আমাদের ডাকাডাকিতে নিচে নেমে আসে।

আমাদের ডাকাডাকি নিচে নামার পর একটা গ্রুপ ছবি
আমাদের ডাকাডাকি নিচে নামার পর একটা গ্রুপ ছবি

বাঁধের গেট দেখা যাচ্ছিলো। সবাই ছবি তুলে উপরে আসবো তখন আবার প্রতিযোগিতা কে সবার আগে উঠতে পারে। আমরা কয়েকজন এক দৌড়ে উপরে চলে আসলাম। রাঙ্গামাটি শহরটা আসলেই অনেক বেশি সুন্দর। পাহাড়ের সাথে লেক মিশে শহরটার সৌন্দর্য আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইকোপার্কে আসার পর জানা গেলো ক্যাবল কার পরিচালনাকারী দুপুরের খাবার খেতে গেছেন। আমাদের ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে। আমি এখানে আসার প্ল্যান করি ক্যাবল কারে চড়ার জন্য।

পার্কে প্রবেশের জন্য টিকেট কাটাতেছি সে সময় সময় রাহাত ভাই পার্কের গেটের সামনে রুমাল বিছিয়ে বসে পড়ে। যদি কিছু উপার্জন করা যায়। কিন্তু বিধিবাম ১ টাকার একটা কয়েন ছাড়া আর কিছুই সে পায় নি।

পার্কের পুরো নাম, শেখ রাসেল এভিয়ারী এন্ড ইকো পার্ক। প্রচন্ড রোদ থাকা সত্ত্বেও সবাই পার্ক ঘুরতে বেড়িয়ে পড়ি। আমরা কয়েকজন দোলনা দেখে সেখানেই থেমে যাই। পুরো পার্ক দেখার জন্য ক্যাবল কারে তো উঠবোই শুধু শুধু গরমে হেঁটে বেড়ানোর চেয়ে দোলনায় দোল খাওয়া ভালো।

দোলনা একটা কিন্তু মানুষ আমরা প্রায় ১২-১৫ জন। শুরু হয় কে আগে দোলনা দখল করতে পারে তার প্রতিযোগিতা। আবার দুইজন বসার পর বেশিক্ষন বসে থাকতেও দেওয়া যাবে না। এরপর শুরু হয় দোলনা কত উঁচুতে উঠানো যায় সে খেলা। দোলনা উঁচুতে উঠানোর খেলায় আপন বেশ ভয় পেলো। বার বার বলতেছে, “দোলনা থামা, দোলনা থামা।” এই খেলা শুরু হওয়ার পর আর কেউ দোলনায় উঠে না।

আমি আনিস স্যারকে জোড় করে নিয়ে দোলনায় বসলাম। আমাদেরকেও উঁচুতে উঠানো হলো। কিন্ত সাহসী আমরা কোন ভয়ই পাই নি। দোলনায় বসে অনেক ছবি তোলা হলো।

ক্যাবল কারে উঠার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকলাম। পরিচালনাকারী আসার পর ছয়জন করে একটা কারে উঠে বসলাম। আমি অনেক হিসাব করে বসার পরও ক্যাবল কার উপরে উঠা দেখতে পারলাম না।

ক্যাবল কার ১.১৫ কিলোমিটার লম্বা। আপ-ডাউন ২.৫ কিলোমিটার। কারে উঠার পর এটি অন্যপ্রান্তে একটা টিলার মত জায়গায় থামে। সেখান থেকে পার্কের অনেকাংশ দেখা যায়। আমরা সেখানে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে আবার কারে উঠে বসি।

ক্যাবল কারে থেকে নিচে দেখতে বেশ মজা লাগলেও অনেকের উচ্চতাভীতি থাকায় তারা বেশ ভয় পেয়েছিলো। তাদের জন্য ক্যাবল কার জার্নিটা মোটেও সুখকর ছিলো না। কিন্তু সবার জন্যই এটা অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা ছিলো।

ক্যাবল কার রাইড
ক্যাবল কার রাইড

ক্যাবল কারে চড়া শেষ। এখন দুপুরের খাবার খেয়ে ফিরতি পথ ধরতে হবে। প্যারাডাইজ হোটেলে আগেই খাবার অর্ডার করে যাওয়া হয়েছিলো। ক্ষুধার্ত সবাই হোটেলে নেমেই খেতে বসে পড়ি। হোটেল থেকে লেকের দৃশ্য অসাধারন। জানালার পাশে বসে বড় বড় গলদা চিংড়ি দিয়ে খাবার খেতে আর লেকের দৃশ্য দেখতে অসাধারনই লাগছিলো।

তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে পানির বোতল নিয়ে হোটেলের বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসলাম। শান্ত, চুপচাপ লেকের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থাকলে ভ্রম হয়। মনে হয় এখানেই কোথাও টিলার উপর বাসা বানিয়ে থেকে যাই। কি হবে, ইট পাথরের শহরটায় আবার ফিরে গিয়ে!

খাবার শেষে এবার হোটেলে ফেরার পালা। যারা গতকাল শপিং করে নি তারা শপিং করবে। যারা শহর ঘুরে দেখে নাই, তারা শহর ঘুরবে। আর আমি ঘুমাবো। যতটুকু সময় পারা যায় ঘুমাবো।

বেশ কিছু সময় ঘুমানোর পর ব্যাগ গুছানোর কথা মনে হতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। এছাড়াও আরো অনেক কাজ বাকি। ব্যাগ গুছিয়ে নিচে নামলাম। কিছু শপিং করা বাকি ছিলো শপিং করলাম।

গতরাতের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে কিছু গিফট দেওয়া হবে। কিছু গিফট কিনলাম। রাঙ্গামাটি থেকে সব বাস রাত ৯ টার মধ্যে ছেড়ে চলে যায় কিন্তু রাতের খাবার খেয়ে আমাদের বাসে উঠতে উঠতে ১১ টা বেজে গেল।

বাসে উঠে স্যাররা ট্যুর নিয়ে বেশ কিছু কথা বললো। এরপর পুরস্কার বিতরনী হলো। ইচ্ছা ছিলো আজ রাতেও কাউকে ঘুমাতে দিবো না। এই জার্নির পরই তো ট্যুর শেষ। কিন্তু সবার ক্লান্ত ভাব দেখে আর বিরক্ত করলাম না। আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম। সমাপ্তি ঘটলো দুই রাত, তিন দিনের অসাধারন এক ট্যুরের…

প্রথম পর্বঃ সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.১)
দ্বিতীয় পর্বঃ সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.২)

সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.২)

রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো পানি পথে যাওয়া যায় বিধায় অন্যান্য পাহাড়ী এলাকার মত এখানে চান্দের গাড়ি নেই। এখানে ঘুরতে হয় ট্রলারে করে। গতকালকে আমরা ট্রলার ঠিক করে রেখেছিলাম। সকালের নাস্তা করে ঠিক করে রাখা ট্রলারে উঠলাম।

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আমার স্বাধের হ্যাট উড়ে যাওয়ার আগে একটা সেলফি তুলে নিয়েছিলাম
আমার স্বাধের হ্যাট উড়ে যাওয়ার আগে একটা সেলফি তুলে নিয়েছিলাম

ট্রলারে উঠার আগে বাজার থেকে একটা হ্যাট কিনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর বন্ধুদের কু-নজরে ট্রলার ছাড়ার কিছুক্ষন পরেই হ্যাটটি বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। ইউসুফ স্যার সাথে সাথে মজা করে বলে, ‘চলো ট্রলার ঘুরিয়ে হ্যাটটা নিয়ে আসি।’

হ্যাট গেছে কিন্তু সানগ্লাস তো আছে এই ভেবে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনকে বুঝ দিয়ে সেলফি তোলা শুরু করলাম। আমরা প্রথমে ঝুলন্ত ব্রিজে যাই। ট্রলার যতই ঝুলন্ত ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলো পানিতে ঢেউ ততই বাড়ছিলো। ঢেউয়ের কারনে মনে হচ্ছিলো যেন সমুদ্রে আছি!

ঝুলন্ত ব্রিজে আনিস স্যারের সাথে সেলফি
ঝুলন্ত ব্রিজে আনিস স্যারের সাথে সেলফি

দূর থেকে ঝুলন্ত ব্রিজ দেখে রাহাত ভাই চিৎকার দিয়ে উঠে ওই যে,“ঝুলন্ত ব্রিজ, ঝুলন্ত ব্রিজ।” এই ঝুলন্ত ব্রিজের ছবি কত দেখেছি। দীর্ঘদিনের ইচ্ছে এখানে আসবো। আজ সে ইচ্ছা পূরন হলো।

পর্যটন মোটেলের কাছে আড্ডা চলছে
পর্যটন মোটেলের কাছে আড্ডা চলছে

ব্রিজে উঠেই সবার ছবি তোলা শুরু করে। ব্রিজের এক মাথায় পর্যটন মোটেল। পর্যটন মোটেল দেখে আফসোস হচ্ছিলো যদি এখানে থাকতাম তাহলে ঝুলন্ত ব্রিজের রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম। ব্রিজে পা দুলিয়ে বসে গানের আসর জমানো যেত। মোটেল থেকে লেকের দৃশ্য ভয়াবহ সুন্দর। সবাই ট্রলারে উঠে পড়ার পরও আমার সেখান থেকে উঠতে ইচ্ছে করছিলো না। এত সুন্দর জায়গা ছেড়ে কিভাবে এত তাড়াতাড়ি উঠি!

ঝুলন্ত ব্রিজ দেখা শেষ এখন যাবো শুভলং ঝর্না দেখতে। যাওয়ার পথে পেদা টিং টিং-এ নেমে বিখ্যাত ব্যাম্বো চিকেনসহ দুপুরের খাবারের অর্ডার দিলাম। পথে বৌদ্ধমন্দির পড়লো। আমরা দূর থেকে দেখলাম। ঝর্নায় বেশি সময় কাটাবো ভেবে এখানে নামলাম না।

শুভলং ঝর্ণায় পানি নাই
শুভলং ঝর্ণায় পানি নাই

শুভলং ঝরনায় গিয়ে আমরা হতাশ। পানির ছিটে ফোঁটাও নেই। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে কোন ঝর্না আছে। শুভলং ঝর্ণার একদম কাছে যেতে টিকেট কাটতে হয়। ঝর্ণায় পানি নেই দেখে আমরা আর টিকেট কাটলাম না। বাইরে থেকে গ্রুপ ছবি তুলে আবার ট্রলারে উঠে পড়ি। শুভলং ঝর্না দেখার ইচ্ছাকে আপতত দমন করে আবার রাঙ্গামাটি আসবো প্রতিজ্ঞা করি। (শুভলং ঝর্ণাতে যাওয়া হয়েছিলো, ইচ্ছে মত গোসলও করা হয়েছিলো। সে গল্প অন্য আরেকদিন করা যাবে)

শুভলং ঝর্না ঘুরে আমরা দুপুরের খাবারের জন্য পেদা টিং টিং-এ রওনা হলাম। হঠাৎ মাঝি ভাই এক পাহাড়ের নিচে ট্রলার থামালো। পাহাড় দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। বেয়ে উঠা শুরু করলাম। আমার সাথে আরো বেশ কয়েকজন ছিলো। কিছুদূর উঠার পর দেখি আরো অনেক দূর উঠা যাবে। আনিস স্যার বলতেছিলো আর উঠার দরকার নেই। উঠার হয়ত কোন শেষ নেই। দেখা যাবে উঠতে আছে তো উঠতেই আছে। আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। এটার চূড়া আমি দেখবো। দেখি না কতদূর উঠা যায়।

 

আমরা কয়েকজন তবু উপরে উঠতে থাকলাম। বাকিরা আনিস স্যারের সাথে সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলো। কিছুদূর উঠার পর খাড়া ঢালের দেখা মিললো। খাড়া ঢাল দেখে ভেবেছিলাম এখন আর বাকিরা নাও উঠতে পারে কিন্তু কিসের কি সবাই ঢাল বেয়ে উঠা শুরু করলো। আমরা ১২ জন শেষ পর্যন্ত চূড়ায় পৌঁছাই।

পাহাড় জয়ের পর ছবি না তুললে হয়
পাহাড় জয়ের পর ছবি না তুললে হয়

চূড়া উপর থেকে কাপ্তাই হৃদের দৃশ্য অসাধারন। চারপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। আমাদের পাহারা দেওয়ার জন্য ইউসুফ স্যারও চূড়ায় উঠে আসেন। স্যার বলতেছিলেন, “আমি অনেক দেশ ঘুরেছি। কিন্তু বাংলাদেশের মত এতসুন্দর আর বৈচিত্র্যপূর্ণ অন্য কোন দেশ হয় না। শুধু শুধু মানুষ এত খরচ করে দেশের বাইরে যায়। দেশের এই জায়গাগুলোতে আসুক। দেখুক কত সুন্দর আমাদের দেশ।”

সবাই গ্রুপ ছবি তুলে পাহাড় থেকে নেমে আসলাম। নেমে শুনলাম আরেক কাহিনী। মাঝি ট্রলার রেখে কোথায় যেন গিয়েছিলো। এরমধ্যে ট্রলারের খুটি খুলে ট্রলার অনেক দূরে চলে যায়। পরে আরেক ট্রলারে করে গিয়ে মাঝ লেক থেকে আমাদের ট্রলার উদ্ধার করে নিয়ে আসতে হয়!

পেদা টিং টিং-এ পৌঁছে এবার খাবার পালা। পাহাড় বেয়ে সবারই অনেক ক্ষুধা পেয়েছে। ব্যাম্বো চিকেন দিয়ে সবাই পেট ভরে খেলাম। আমাদেরকে দেখানো হলো কিভাবে ব্যাম্বো চিকেন রান্না করা হয়। রান্না করাও হয় বাঁশে, পরিবেশনও বাঁশে।

পেদা টিং টিং রেস্টুরেন্টটি একটা দ্বীপের মধ্যে। কাপ্তাই লেকে এরকম অসংখ্য ছোট বড় দ্বীপ রয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলো সব বিভিন্ন দ্বীপে হয়ে থাকে। খাবার খাওয়াও হয় আবার ছোট ছোট দ্বীপও ঘুরে দেখা হয়। এ এক ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা।

খাবার শেষে সবাই পানির দিকে ছুটলো। তুষার আর রনি ভাই স্যারদের অগোচরে গোসল করতে নেমে গেল। বাকিরাও গোসল করতে চাইলে স্যাররা দেখে ফেলায় আর পারে নাই। কয়েকজন দেখলাম পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। আমিও চা নিয়ে তাদের সাথে যোগ দিলাম। পানিতে পা ডুবিয়ে লেকের দৃশ্য দেখতে দেখতে গরম চা খাওয়ার অনুভূতি, “আহা! মধু! মধু!”

পানিতে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি এই স্মৃতি মোবাইলে তুলে রাখতে গিয়েই অঘটন ঘটলো। মোবাইল পানিতে পড়ে গেল। ভাগ্যভালো ছিলো বেশি গভীর পানিতে ছিলাম না। সাথে সাথেই মোবাইল তুলে ফেললাম। ওইদিনের জন্য আমার সেলফি তোলার সমাপ্তি।

সারাদিনের ট্রলার জার্নিটাই ছিলো সবচেয়ে আনন্দের
সারাদিনের ট্রলার জার্নিটাই ছিলো সবচেয়ে আনন্দের

এখন আমরা রাজবন বিহারে যাবো। হঠাৎ করেই লেক মনে হলো যেন সমুদ্রের রুপ ধারন করেছে। বাতাস ও স্রোতের বিপরীতে চলায় ট্রলার অনেক দুলতেছিলো। ট্রলারের সামনে যারা ছিলাম তাদের ঝর্নায় গোসল করার শখ পূরন হয়ে গেলো। সবাই ভিজে একাকার। ট্রলারের ছাদে যারা বসা ছিলো তারাও অনেকে নিচে চলে আসলো। সবার জন্য বেশ ভালো একটা অভিজ্ঞতা ছিলো।

রাজবনের কাছাকাছি এসে পানি শান্ত হয়ে আসলো। আমরা রাজার বাড়ি দেখতে নেমে জানলাম গেটে তালা দেওয়া। ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। তবে ব্রিটিশ আমলের কামান দেখলাম। কাছেই মেলা চলতেছিলো। বিকেলের শেষ আলোয় সবাই কেনাকেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। সবাই শাল, পাঞ্জাবী, ফতুয়া, বিছানার চাদরসহ বাহারি পন্য কেনাকাটা করলো। আমার কোন কেনাকাটা নাই তাই আমি সহ আরো কয়েকজন পিচঢালা পথ দেখে সে পথ দিয়ে কোথায় যাওয়া যায় তার সন্ধানে বের হলাম।

সন্ধ্যা হয়ে আসছে। দিনের আলো কমে চারিদিকে দ্রুতই অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিলো। পাহাড়ে সন্ধ্যা নামেও হুট করে। আমরা কয়েকজন তখনো পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটছি। ছোট ছোট বাঁক নিয়ে সাপের মত রাস্তা এগিয়ে চলছে। ছোটবেলা থেকে তিন গোয়েন্দা পড়ে বড় হয়েছি। কিশোর, মুসা, রবিনের সাথে কোন এক মিশনে যাচ্ছি মনে হচ্ছিলো।

রাস্তার শেষ কোথায় তা জানি না। রাস্তা অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে জানি তবু কেনো জানি হাঁটতেই থাকলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর আমি আর তুষার ছাড়া বাকি সবাই চলে গেল। আমরা আরো কিছুক্ষন হাঁটার পর বুঝতে পারলাম ঘোর কাটানো দরকার অনেক দূর চলে আসছি। ফিরতি পথ ধরলাম। সন্ধ্যার ঝাপসা আলোয় হাঁটতে গা ছমছম করতেছিলো। যদি গ্রুপের সাথে না আসতাম তাহলে হয়ত আরো দূর পর্যন্ত যেতাম। জীবনের শেষে কি আছে তা তো জানি না, পথের শেষটাই নাও খুঁজে দেখতাম…

মেলায় এসে দেখলাম তখনো সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত। যাদের কেনাকাটা নেই তারা চা-কফি খাচ্ছে। সবার কেনাকাটা শেষে ট্রলারে উঠতে উঠতে রাত হয়ে গেলো। মাঝি ভাই বলে দিলো কেউ ট্রলারের সামনে বসতে পারবে না। রাত হয়ে গেছে সামনে বসলে ঠিকমত দেখা যায় না। ট্রলার ছাড়ার কিছুক্ষন পর আমরা এক অপরূপ দৃশ্যের স্বাক্ষী হলাম।

আজ পূর্নিমা। আকাশ জুড়ে বিশাল এক চাঁদ উঠেছে। সেই চাঁদের আলো লেকের পানিতে পড়ে চারিদিক উজ্জ্বল হয়ে আছে। চাঁদের আলোয় লেকের এই রূপ দেখে পাগল হয়ে গেলাম যেন। মনে হচ্ছিলো বেঁচে থাকার এইতো মানে। এই দৃশ্য দেখার জন্যে হলেও হাজার বছর বেঁচে থাকা যায়। বার বার মনে হচ্ছিলো এ যাত্রা যেন শেষ না হয়।

জন্ম নিলে, মৃত্যু যেমন সত্য। তেমনি প্রতিটা যাত্রার শুরু যেমন আছে তেমনি শেষও আছে। আমাদের যাত্রাও শেষ হলো। আমরা ঘাটে নেমে পড়লাম। আমাদের কয়েকজনের টুকটাক শপিং বাকি ছিলো। আমরা শপিং এ বের হলাম। বাকিরা হোটেলে চলে গেলো। এখানেও কেনার মত কিছু না হয়ে কিছুক্ষন এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে হোটেলে চলে গেলাম।

রাতের খাবারের পর আবার ছাদে আসর বসলো। কেউ গান গাইলো, কেউ কবিতা আবৃতি করলো, কেউ কৌতুক বললো, কেউবা হকার সেজে অভিনয় করে দেখালো। এরপর শুরু হলো মুড়ি পার্টি।

আপন ১২ টা বোম্বাই মরিচ দিয়ে মুড়ি মাখানী বানালো। সেই মুড়ি খেয়ে সবার অবস্থাই খারাপ। পানির খোঁজে সবাই রুমে চলে গেল। হোটেলের লবিতে এরপর আপন নাটক করে দেখালো। ক্লান্ত থাকায় আর কেউ ছাদে গেল না। আমি ১২ টার পর আবার ছাদে উঠলাম। এই পূর্নিমার রাত ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যায় না।

একটা চেয়ার নিয়ে লেকের দিকে মুখ করে বসে পড়লাম। দূরে লেকের মাঝে জেগে দ্বীপে পানি বাড়ি খেয়ে স্বর্গীয় এক শব্দের সৃষ্টি হচ্ছিলো। পানিতে প্রতিফলিত চাঁদের আলো আর ক্ষনে ক্ষনে বেজে উঠা ঢেউয়ের শব্দ। রাত কখন ভোর হলো টের পেলাম না।

সুবহে সাদেক হতে দেখলাম। ঘুমে তখন চোখ টলমল। তবু ভোরের প্রথম সূর্য দেখার অপেক্ষায় বসে রইলাম। বসে থেকে ভুল করি নি। পুব আকাশ থেকে ধীরে ধীরে উদিত হওয়া সূর্য দেখার জন্য এতটুকু কষ্ট করাই যায়।

রুমে এসেই ঘুম দিলাম। যদিও ঘুমানোর সময় পেলাম মাত্র ১ ঘন্টা…

শেষ পর্বঃ সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.৩)

সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.১)

সিএসই ডিপার্টমেন্ট থেকে ট্যুরে যাবে। রাঙ্গামাটি যাওয়া হবে ঠিক হলো। প্রথমে ইচ্ছা ছিলো আয়োজনের সাথে থাকবো না। রিলাক্স মুডে যাবো, চিল করবো। কিন্তু ট্যুরের ডিটেইলস শুনে আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। আনিস স্যারের সাথে কথা বলে ট্যুরের প্ল্যানিং চেঞ্জ করে নিলাম। ডিপার্টমেন্ট থেকে শেষ ট্যুর। এটা মনের মত না হলে হয়?

বাসে উঠে একটা সেলফি না তুললে হয়!
বাসে উঠে একটা সেলফি না তুললে হয়!

২০ এপ্রিল, ২০১৬। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আকাংখিত সেই দিন। সারাদিন পুরো সেমিস্টারের আমলনামা নিয়ে হা-হুতাশ করে রাত ১০.৩০ মিনিটে ইস্ট ওয়েস্টের সামনে থেকে ৩৬ জনের দল নিয়ে বাসে চড়ে বসলাম। বাস ছাড়ার কিছুক্ষন পরেই গানের আসর বসলো। রাত যত গভীর হয়, আসর তত জমে উঠে. . .

আপন রে. . .আপন ন ন ন বলে চিল্লানো। রাহাত ভাইয়ের রেডিও ঢোল। মিলু আর ইমরান ভাইয়ের একের পর এক গেয়ে যাওয়া গান। রাত যে কখন ভোর হয়ে গেলো খেয়াল করে উঠা হয় নাই। হঠাৎ টের পেলাম বাস বিপদজনক সব টার্ন নিচ্ছে, আমরা পাহাড়ী রাস্তায় চলে এসেছি। এ যেন অন্য এক রাজ্য। ইট-পাথরের শহরে বসে কল্পনা করা যায় না।

আমার বান্দরবনের কথা মনে পড়ে যায়। আমি চোখ বন্ধ করে বাসের টার্নগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করি। সেই চেষ্টার ফল হয়, ঘুম! সবাই তখন ব্যস্ত নতুন এক খেলায়. . .

চট্টগ্রামে বাস বিরতি নিয়েছিলো। সাথে সাথে সেলফি!
চট্টগ্রামে বাস বিরতি নিয়েছিলো। সাথে সাথে সেলফি!

সকালে হোটেল নাদিশায় পৌঁছে সারারাতের নির্ঘুম চোখ, ক্লান্ত শরীর সবকিছু ছাপিয়ে নতুন উদ্যমে চাঙ্গা হয়ে উঠলাম সবাই। হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে চলে গেলাম। এবার আমরা যাবো বেতবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্র।

বেতবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্রের সামনে
বেতবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্রের সামনে

আমাদের ট্যুরের টি-শার্টের রঙ ছিলো কমলা। এই রঙ নিয়ে সবাই বিভিন্ন কথা বললেও আনিস স্যার এব্যাপারে ভীষণ কড়া ছিলেন। বেতবুনিয়া যাওয়ার পথে রাস্তায় বাস থামিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে এই রঙের মহত্ব বোঝা গেলো। ৩৬ জনের দলটাকে দেখতেও ভালো লাগছে আর ছবিও খারাপ আসছিলো না।

ফাঁকা রাস্তা পেয়ে সব ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে গেছে
ফাঁকা রাস্তা পেয়ে সব ছবি তুলতে দাঁড়িয়ে গেছে

উপকেন্দ্রের সামনে সুন্দর রাস্তা পেয়ে সবাই ক্যামেরা বের করে একের পর এক ছবি তোলা শুরু করলো। কারো প্রোফাইল ছবি, কারো কাভার ছবি, কখনোবা গ্রুপ ছবি। ছবি তোলার কোন শেষ নেই। পিছে থেকে হয়ত কোন গাড়ি বা সিএনজি আসে সবাই দৌড়ে রাস্তা থেকে সরে যায়। গাড়ি চলে গেলে আবার রাস্তার মাঝখানে সবাই।

ভূ-উপকেন্দ্রের ভিতরে ঘুরাঘুরি শেষে বাসের কাছে এসে জানা গেল ড্রাইভার নেই। সে শহরে চলে গেছে, আসতে দেরি হবে। সময় পেয়ে এবার স্যারদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠলাম সবাই। রাস্তার পাশে ছাউনি তে বসে পাহাড়ী বাতাস খেতে খেতে আড্ডা বেশ জমে উঠলো।

বাসের ড্রাইভারের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে আড্ডা চলছে
বাসের ড্রাইভারের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে আড্ডা চলছে

হঠাৎ সবার চোখ পড়ে ভূ-উপকেন্দ্রের ভিতরে থাকা আম গাছের দিকে। থোকায় থোকায় আম ঝুলে থাকতে দেখে কয়েকজনের শখ হয় আম খাবে। শুরু হয় ঢিল ছোঁড়া। আপন একটি আম পাড়তে সফল হয়। ঝরে পড়া আরো একটা আম কুড়িয়ে পায় তুষার। আরো আম পাড়ার ইচ্ছা থাকলেও স্যাররা দেখে ফেলায় আর কেউ ঢিল ছোড়ার সাহস করে নাই। ততক্ষনে ড্রাইভার চলে আসলে আমরা আবার হোটেলের দিকে রওনা হই।

দুপুরের খাবার খাওয়ার পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সবাই রুমে চলে যায়। দুই স্যার সহ আমরা কয়েকজন তখন হোটেলের সামনে ভ্যান থেকে আনারাস খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি…

আনারস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে
আনারস খাওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে

হোটেল থেকে আমাদেরকে আনারস খেতে দেখে আনারসের ভাগ নিতে আসছে
হোটেল থেকে আমাদেরকে আনারস খেতে দেখে আনারসের ভাগ নিতে আসছে

বিকেলে শহর ঘুরতে যাওয়ার কথা থাকলেও হোটেলের ছাদে উঠে আমাদের সে ইচ্ছা চলে যায়। ছাদ থেকে রাঙ্গামাটির শহরের পুরোটাই বলতে গেলে চোখে পড়ছিলো। হোটেলের দুই পাশে দুই ধরনের দৃশ্য। পশ্চিমে শহুরে ঘর বাড়ি, অনেক দূরে লেক আর পাহাড়। পূর্বে একটা স্কুল তার পরেই লেক আর দূরে পাহাড়। উত্তর-দক্ষিনেও পাহাড়, নদী, ঘর বাড়ি। আর সে কি বাতাস। এমন ছাদ ছেড়ে নিচে যাবো তা হতেই পারে না। এরমধ্যে আবার আইসক্রিম পার্টি মজাটা আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।

হোটেল নাদিশার ছাদে একটি অসাধারন বিকেল
হোটেল নাদিশার ছাদে একটি অসাধারন বিকেল

সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখতে দেখতে পাহাড়ী সন্ধ্যা নেমে আসে। পূর্নিমার আগের রাত হওয়ার আকাশে চাঁদও উঠে বিশাল। সে চাঁদের আলো লেকের পানিতে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি হয় এক অতিপ্রাকৃত দৃশ্যের, বসে গানের আসর। আসর চলে রাতের খাবারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। চাঁদ, গান আর সাথে লেকের সৌন্দর্য…ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

নবাব ইউসুফ আলি স্যার আমাদের বলছিলেন, “তোমরা এখন যেই মুহূর্তটা কাটাচ্ছো। এই মুহুর্তটা এমনভাবে দ্বিতীয়বার আর কোনদিন পাবে না।” তখন উনার কথার ভাবার্থ সেভাবে না বুঝলেও এখন মনে হয় আসলেই তো সেই মুহূর্ত আর তো কোনদিন এমনিভাবে পাবো না…

দ্বিতীয় পর্বঃ সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.২)

শেষ পর্বঃ সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরে রাঙ্গামাটি – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৪.৩)

কুয়া দেখতে কুয়াকাটায় – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-৩)

 

ইকোনমিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে কুয়াকাটা ভ্রমণে যাবে। সিএসই ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হলেও ইকোনমিক্সে বন্ধু, বড় ভাই, ছোট ভাইয়ের সংখ্যা নেহায়েত কম না। তাই আগের বছর কুয়াকাটা ঘুরে আসলেও ঠিক হলো আবার যাবো। তাছাড়া জানেন-ই তো ঘুরতে যেতে আমার কখনো না থাকে না।

একটা তথ্য জানিয়ে রাখি ২০১৫ সালে কুয়াকাটাতে গিয়েই জীবনে প্রথম মারাত্মক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হই। সে গল্প অন্য আরেকদিন করবো…

২৩ মার্চ রাতে পটুয়াখালীগামী কুয়াকাটা-১ লঞ্চে চড়ে বসি। আমরা প্রায় ৭০-৮০ জনের বিশাল এক দল ছিলাম। সবাই সময়মত চলে আসলেও রনি ভাইয়ের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ফোনের পর ফোন দিয়ে একসময় জানা গেলো ভাই গুলিস্তানে জ্যামে আটকা পড়ে আছেন। এদিকে লঞ্চ ছাড়ি ছাড়ি করছে। উপায় না দেখে কয়েকজন গিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করার অনুরোধ জানালো। প্রায় ৪০ মিনিট পর রনি ভাইয়ের আগমন ঘটলো। আমরা সবাই হই হুল্লোড় করে উঠলাম…

লঞ্চের ডেক থেকে জোছনাবিলাস
লঞ্চের ডেক থেকে জোছনাবিলাস

সেদিন সম্ভবত পূর্ণিমা ছিলো। জোছনা দেখতে সবাই লঞ্চের ছাদে চলে গেলাম। বুড়িগঙ্গা থেকে জোছনা দেখে মজা নেই, জোছনার আসল রুপ দেখা যায় মেঘনায়। যেখানে দুই পাড় দেখা যায় না, কোন কৃত্রিম আলো নেই। উপরে জোছনা আর নিচে অবারিত জলরাশি…

জোছনাবিলাশ করে আমরা লঞ্চের উপরতলার সামনের ডেকে থিতু হলাম। শুরু হলো গানের আসর। রাতের খাবারের জন্য ডাক পড়লে খেয়েদেয়ে আবারও সেই একই জায়গায়। এবার অবশ্য গান না আড্ডা শুরু হলো।

যত রাত বাড়তে থাকলো তত মানুষ কমতে শুরু করলো। তিনটার দিকে আমিও আড্ডা ছেড়ে কেবিনে চলে গেলাম কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। সকালে উঠে শুনি কয়েকজন ডেকে শুয়ে ছিলো। ঘুম এত গাঢ়ো ছিলো যে কুয়াশায় ভিজে একাকার হয়েছে টেরও পাই নাই।

সকালের পটুয়াখালী
সকালের পটুয়াখালী

পটুয়াখালীতে সকালের নাস্তা
পটুয়াখালীতে সকালের নাস্তা

সকালে পটুয়াখালী নেমে সবাই নাস্তা করে নিলাম। বাকিপথ বাসে করে যেতে হবে। আনুমানিক ১০-১১ টার দিকে আমরা কুয়াকাটা পৌঁছালাম। আমরা উঠেছি পর্যটন মোটেলে। ৪ জনের গ্রুপ করে সবাইকে রুমের চাবি দিয়ে দেওয়া হলো।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত

দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে বিকালে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গেলাম। প্রচুর ছবি তোলা হলো। বাইক নিয়ে চলে লেবুর চর গেলাম সূর্যাস্ত দেখতে। সন্ধ্যাটা সৈকতে ঘুরাঘুরি করেই কাটালাম…

লেবুর চরে সূর্যাস্ত
লেবুর চরে সূর্যাস্ত

পরদিন সূর্যোদয় দেখতে গঙ্গামতির চরে যাওয়ার কথা থাকলেও ঘুম থেকে উঠতে পারি নাই। অবশ্য না গিয়ে ভালোই হয়েছে যারা গেছে তারাও নাকি দেখতে পায় নাই।

আজ ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন। আজ আমরা ফাতরার চরে যাবো ট্রলারে করে। প্রচন্ড গরম থাকায় কেউ মাথায় ক্যাপ দিলো, কেউ গামছা, কেউবা ছাতা। রোদের কারনে ট্রলার জার্নি তেমন উপভোগ্য না হলেও বঙ্গোপসাগর ও আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় ট্রলার যখন অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করলো তখন কিছুটা এডভেঞ্চারের স্বাদ পাওয়া গেলো।

ফাতরার চরে প্রবেশের খাল
ফাতরার চরে প্রবেশের খাল

ফাতরার চর সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চলের একটি অংশ। এখানে কোন হিংস্র বন্যপ্রাণী নেই। সুন্দরবনের মত এখানেও দিনে দুইবার জোয়ার ভাটায় বন ডুবে যায়। ফাতরার বনের সবুজ অরণ্যের মাঝ দিয়ে হেঁটে গেলে ছোট একটা সমুদ্র সৈকত পাওয়া যায়। সেখানে দীর্ঘসময় ছবি তুলে আবার মোটেলে চলে আসলাম।

ফাতরার চরের সমুদ্র সৈকত
ফাতরার চরের সমুদ্র সৈকত

বিকেলে কুয়াকাটার কুয়া, ১৭-১৮ শতকের প্রাচীন জাহাজের ধ্বাংসাবশেষ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। আজ রাতের খাবারে গ্র্যান্ড পার্টি ছিলো। রাতের খাবারের পর আবার সমুদ্র সৈকতে চলে গেলাম। সমুদ্র পাড়ে এসে সমুদ্রের সাথে সময় না কাটেলে হয়…

আজ ভ্রমণের তৃতীয় দিন। আজ আমরা ঢাকা চলে যাবো। প্রথমে কথা ছিলো পটুয়াখালী থেকে লঞ্চে করে ঢাকা যাওয়ার। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে ঠিক হলো বাসে করে বরিশাল গিয়ে দুপুরে গ্রীন লাইন ওয়াটার বাসে করে রাতের মধ্যে ঢাকা চলে যাবো।

গ্রীনলাইন ওয়াটার বাসে করে ঢাকা ফিরে যাচ্ছি

সকালের নাস্তা করে তাই ব্যাগ গুছিয়ে বের হয়ে পড়তে হলো। কুয়াকাটা-বরিশালের বাস জার্নি মোটেই সুখকর হলো না। অনেক গরম ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই সবাই ক্লান্ত ছিলো। গ্রীন লাইনে উঠে বেশিরভাগই চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়লো। গ্রীন লাইনে সেবারই প্রথম উঠেছিলাম কিন্তু এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে ঘুরে ঘুরে দেখার মত শক্তিও ছিলো না।

রাত ১১টায় ঢাকা পৌঁছে সম্পাতি ঘটে কুয়াকাটা ভ্রমণের…

ভ্রমণকালঃ ২৩-২৬ মার্চ, ২০১৬

পরবর্তী গল্পঃ
সিএসই ডিপার্টমেন্টাল ট্যুর – রাঙ্গামাটি

আগের গল্পসমূহঃ

কাঞ্চনজঙ্ঘার খোঁজে পঞ্চগড় – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-১)

মাতৃভান্ডারের রসমালাইয়ের খোঁজে কুমিল্লা – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-২)

 

প্রথম সমুদ্র দর্শন – পতেঙ্গা সমুদ সৈকত

স্কুল জীবন পর্যন্ত আমাকে বাসা থেকে একা কোথাও যেতে দেওয়া হতো না। বাসা থেকে নানা বাড়ি, নানা বাড়ি থেকে বাসা এতটুকুই ছিলো গন্ডি। সেই নানাবাড়িও পায়ে হেঁটে ১০ মিনিটের পথ। গন্ডি ছোট হলেও যতটুকু সময় পারতাম বাসার চারপাশে ঘুরে সময় কাটাতাম। রাস্তার অলি-গলি, ধুলোবালিদের সাথেই সখ্যতা ছিলো বেশি।

২০০৯ সালে এস.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার পর তাহের মামা বললো আমার সাথে চট্টগ্রাম চল। কয়েকদিন ঘুরে আসবি। মামা সরকারী চাকরি করেন সেসময় চট্টগ্রামে পোস্টিং ছিলো। আমারও পড়াশোনা নেই বিধায় বাসা থেকে যেতে দিলো।

ঢাকা থেকে এর আগে এত দূরে কখনো জার্নি করা হয় নি। ভিতরে ভিতরে খুব উত্তেজিত ছিলাম। বাসে উঠার পর একটুও ঘুমায় নি। আর এখন বাসে উঠার কিছু সময় পরেই ঘুমিয়ে পড়ি। যাই হোক বাস চলছে।

কুমিল্লা পার হওয়ার পর থেকে মামা বিভিন্ন স্থানের বর্ণণা দেওয়া শুরু করলো। একটা নাম এখনো মনে আছে, লোহাগড়া। চোখেমুখে বিস্ময় নিয়ে চারপাশ দেখছিলাম, এখনো নতুন কোথাও গেলে বিস্ময় নিয়েই চারপাশ দেখি। এই বিস্ময় যেদিন ফুরিয়ে যাবে সেদিনই বোধহয় ভ্রমণ শেষ হবে!

চট্টগ্রামে সেবার ৬দিন ছিলাম। রেললাইনের কাছেই মামার বাসা। মামার অফিসে এত ব্যস্ততা ছিলো যে আমাকে নিয়ে বের হওয়ার সময় পাচ্ছিলো না। আমার অবশ্য তাতে সমস্যা হচ্ছিলো না। আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের মত করে এদিক-সেদিক ঘুরতাম, কখনো বই পড়েই দিন কাটিয়ে দিতাম। আমার এখনো মনে আছে লোডশেডিং খুব বিরক্ত করতো। সারাদিনই বিদ্যুৎ থাকতো না এমন একটা অবস্থা। গরমও ছিলো প্রচুর।

অবশেষে একদিন মামার সময় হলো। আজ আমরা পতেঙ্গায় সমুদ্র দেখতে যাবো। কাঠগড় নামক এক জায়গায় এসে মামা বললো, মামার আগের বাসা এখানে ছিলো। এই বাসা থেকে সমুদ্র খুব কাছে। মামারা এখানে থাকলে আমি একাই আসতে পারতাম, মামার জন্য অপেক্ষা করা লাগতো না।

সেই মাহেন্দ্রক্ষন…

পতেঙ্গা বিচে যাওয়ার ঢালের কাছে এসে কিছুটা বিরক্ত হলাম। মামাকে সমুদ্র কই জিজ্ঞাসা করতেই মামা মুচকি মুচকি হাসলো। বললো, ঢাল বেয়ে উঠতে থাক।

তখন কি ছিলো? শৈশব? কৈশোর? কিশোর, মুসা, রবিনের সাথে সখ্যতা ছিলো। হিমুর সাথে সখ্যতা ছিলো। ওদের সাথে কত জায়গাতে যাওয়া হয়েছে। ঢাল বেয়ে উপরে উঠার প্রতিটি পদক্ষেপে সেই গল্পগুলো বাস্তবে পরিনত হচ্ছিলো যেন। সেসময়ে মনে কি চলচ্ছিলো এখন মনে নেই, কিন্তু এখন লিখতে বসে ঠিক এটাই অনুভব হচ্ছে।

ঢালের শেষ মাথায় আসতেই সমুদ্র উঁকি দেওয়া শুরু করলো। দিগন্ত বিস্তৃত খোলা প্রান্তর আর অথৈ জলের সাগর। ছোট্ট আমার ছোট্ট মনে যে ধাক্কার সৃষ্টি করলো সেই ধাক্কা কখনো ভুলার নয়। কতটা খুশি হয়েছিলাম, কতটা খুশি হয়েছিলাম তা শুধু আমিই জানি…

তখন ভাটা চলছিলো। বিচে মানুষ ঘোরাঘুরি করছে। একপাশে পেঁয়াজু ভাজা হচ্ছে। একজন দেখলাম ঘোড়া নিয়ে ঘুরছে যদি কেউ ঘোড়ায় চড়তে চায়। এখন এগুলো সাধারন হয়ে গেলেও সেসময় সমুদ্র পাড়ে এত আয়োজন দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।

আমি আর মামা পেঁয়াজু খেলাম, সমুদ্রে পা ভিজালাম, বিচে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। ঘন্টাখানেকের মত ছিলাম হয়তো। আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমুদ্রের সাথে সময় কাটানোর মুহূর্ত।

সমুদ্র দেখা শেষ। তারপর দিন আমি ঢাকায় ফিরে আসি। তবে ঢাকায় ফিরে আসাটা ছিলো আবারো ছুটে যাওয়ার জন্য সাগরে,
পাহাড়ে, প্রকৃতিতে…

বি.দ্র. ভ্রমণে গেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলুন। কোথাও ফেলার স্থান না ফেলে নিজের সাথে করে নিয়ে আসুন। সবাই সুন্দর পরিবেশ দেখতে ভ্রমণে বের হয় আপনার ফেলে যাওয়া আবর্জনা নয়। নিজে সচেতন হোন, আশেপাশের মানুষকে যতটুকু পারেন সচেতন করুন।

মাতৃভান্ডারের রসমালাইয়ের খোঁজে কুমিল্লা – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-২)

হুট করেই মন চাইলো রসমালাই খেতে হবে। যেন তেন রসমালাই না, কুমিল্লার মাতৃভান্ডারের রসমালাই। সখের তোলা আশি। ১৮ মার্চ, ২০১৬ তারিখ সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইনের বাসে করে রসমালাই খেতে চললাম…

কুমিল্লা মনোহরপুরের আসল মাতৃভান্ডারের রসমালাই
কুমিল্লা মনোহরপুরের আসল মাতৃভান্ডারের রসমালাই

আমার জন্ম ঢাকায়। দাদাবাড়ি, নানাবাড়ি দুটোই কুমিল্লায়। তবে দাদাবাড়ি গিয়েছি হাতে গোনা ৮-১০ বার আর নানাবাড়ি মোটে ২ বার। গ্রামের মাটির সাথে তাই আমার কোন পরিচয় নেই। আমার বেড়ে উঠা শহরের ইট-পাথর-বালুকে ঘিরে।

ঢাকার বাসা থেকে প্রথম দূরে কোথাও যাওয়া হয় দাদাবাড়ি কুমিল্লাতে। তখন থেকেই ঢাকা-কুমিল্লা বাসের ভ্রমণ আমার খুব পছন্দ। কখনো নদী, কখনো মাঠের পর মাঠ, কখনো দু’পাশ জুড়ে সারি সারি গাছ। ছোট্ট মনে যে দাগ কেটেছিলো, সেই দাগ যত বড় হয়েছি ততই গাঢ়ো হয়েছে।

এস.এস.সি পরীক্ষার পর নানুর সাথে তার বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। তখন নতুন নতুন এমপিথ্রি কিনেছি। আমার এখনো মনে আছে দুপাশ জুড়ে সবুজ আর কানে বাজছে পারভেজের যাবি যদি উড়ে দূরে গান। সেই থেকে কুমিল্লা যাওয়ার সময় বাসে এই গান আমার মাথায় ঘুরবেই…

যাবি যদি উড়ে দুরে নীল অজানাতে
মনে করে আমায় মনে রেখে
কখনো ফুরাবে না সে গতিহীন পথে

শাসনগাছা নেমে রিকশা নিয়ে ছোট মামার বাসায় চলে গেলাম। আমার হঠাৎ এই আগমনের কারন জানতে চাইলে বললাম, রসমালাই খেতে আসছি! আমার এইরকম উদ্ভট পাগলামী সম্পর্কে মামার ধারনা আছে তাই কিছু বললো না।

বিকেলে গেলাম গোমতী নদীর পাড়ে। কুমিল্লা গেলে আর সময় থাকলে আমি সবসময় গোমতী নদীতে যাই। সেখানে আমার পছন্দের একটা জায়গা আছে। ছোট একটা ঘাটের মত, একটা ছোট নৌকা থাকে। আমি চুপচাপ সেই ঘাটের কাছে বসে থাকি। মানুষের পারাপার দেখি। গোমতী নদীকে দেখতে শান্ত মনে হলেও এ এক স্রোতস্বিনী নদী।

আমাদের জীবনও তো এমনই। দুইপাশে দুই পাড় আর মাঝখানে স্রোতস্বিনী নদী। নদী পারাপার হওয়ার জন্য আছে ছোট নৌকা। একটু ভুল হলেই নৌকা উলটে যাবে, স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে দূরে, বহুদূরে। তবু ওপাড়েতে যাওয়ার তাড়না। থেমে থাকার, পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই…

পরদিন সকাল সকাল রসমালাই কিনতে মাতৃভান্ডার চলে গেলাম। মাতৃভান্ডারের সবসময়ই ভীড় লেগে থাকে। ৩০ মিনিট অপেক্ষা না করে কোনদিন রসমালাই কিনতে পারি নি। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। রসমালাই যুদ্ধে জয়ী হয়ে মামাকে ফোন দিলাম, মামা রসমালাই পাইছি।

বাসায় গিয়ে আচ্ছামত রসমালাই খেয়ে উপকূল বাসে চড়ে বসলাম। এবার অবশ্য একা না। মামাও সাথে আছে…

ভ্রমণকালঃ ১৮-১৯ মার্চ, ২০১৬

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ sondesh24.com, localguidesconnet.com

ভ্রমণের স্মৃতিকথা পর্বসমূহ,

কাঞ্চনজঙ্ঘার খোঁজে পঞ্চগড় – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-১)

কাঞ্চনজঙ্ঘার খোঁজে পঞ্চগড় – ভ্রমণের স্মৃতিকথা (পর্ব-১)

সন্ধ্যায় হঠাৎ রাকিন ফোন দিয়ে বললো,

– পঞ্চগড় যাবি? কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যাবো।

ফেব্রুয়ারি মাসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার কথা শুনে কিছুটা অবাক হলেও না করলাম না। ঘুরতে যাওয়াতে আমার কখনোই না থাকে না।

আমি যাবো শুনে বললো, তাহলে গাবতলী চলে যা। নাবিল পরিবহনে তিনটা টিকেট কেটে রাখ। আমি আসতেছি! যাহ বাব্বা। আমি না গেলে ওর টিকেট কাটতো কে তাহলে? আমার বাসা মিরপুর-১। আর রাকিনের মিরপুর-১১।

ব্যাগ গুছিয়ে গাবতলী চলে গেলাম। শেষ মুহূর্তে টিকেট পাওয়া নিয়ে আশংকা থাকলেও সমস্যা হলো না। রাকিন আর সুপ্ত আসলো বাস ছাড়ার অল্প কিছু সময় আগে। ২০১৬ সালের প্রথম ভ্রমণ শুরু হলো ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলা দিয়ে…

নাবিল পরিবহনে করে যাত্রা শুরু
নাবিল পরিবহনে করে যাত্রা শুরু

ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় তেমন শীত নেই কিন্তু শীতের রাজ্যে যাবো দেখে সেরকম প্রস্তুতি নিয়ে বের হয়েছিলাম। তবু বাস ঢাকা থেকে বের হওয়ার পরই জমে যাওয়ার মত অবস্থা হলো। ঘুমের চেষ্টা করলেও হাঁড় কাঁপানো শীতে ঘুম পাচ্ছিলো না। বাড়তি হিসেবে ছিলো বাসের স্পিকারে একটানা গান।

ঘোর লাগা তন্দ্রাচ্ছন অবস্থায় হঠাৎ হঠাৎ চোখ খুলে দেখি কুয়াশায় রাস্তার কিছুই দেখা যায় না। ড্রাইভার বেটা কিভাবে দেখছিলো সে এক রহস্য!

খুব সকালে বাস আমাদেরকে যেখানে নামিয়ে দিয়ে গেলো সেখানে জনমানবের কোন চিহ্ন নেই। ঘন কুয়াশায় কয়েক হাত দূরে কিছু দেখা যায় না। এরমধ্যে আমি স্যান্ডেল পড়ে আছি। পায়ের তালুতে লাগা ঠান্ডা মাথায় বাড়ি দিচ্ছিলো যেন।

তিন রাস্তার মোড়ে কিছু সময় দাঁড়াতে ব্যাটারি চালিত ভ্যান আসলো। আমরা পা ঝুলিয়ে বসলাম। যতই ভ্যান জোরে চলে, ততই আমি বরফের মমি হচ্ছিলাম। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি পুরোপুরি মমি হওয়ার আগেই বাসায় পৌঁছে যাই।

পঞ্চগড় রাকিনের দাদাবাড়ি। হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা করে আমরা আশপাশ ঘুরে দেখতে বের হলাম। রাকিন কোথা থেকে এক বাইক নিয়ে আসলো। রাকিনের বাইক চালানোর উপর ভরসা না থাকায় প্রথমে সুপ্তকে নিয়ে বের হলো। মিনিট বিশেক পরে সুপ্ত এসে রিপোর্ট দিলো কয়েকবার রাস্তা ছেড়ে নেমে যাওয়া আর একবার পুকুরে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা ছাড়া ভয়ংকর কিছু করে নাই। ড্রাইভার হিসেবে ভালোই। সুপ্ত’র কথায় আশ্বস্ত হয়ে এবার আমিও বাইকে উঠলাম। তিনজন মিলে শুরু হলো গ্রাম ঘুরে বেড়ানো।

দুপুরে গোসল করলাম স্যালো মেশিনের পানিতে। এই পানিতে গোসল করার যে কি আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। যারা গোসল করেছে তারাই জানে।

দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ঘুরতে বের হলাম। বিভিন্ন আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছি আর পেট ভরে খাচ্ছি। ২ রাত, ৩ দিন পর বাসায় গিয়ে দেখি ওজন ৪ কেজি বেড়ে গেছে। দিনে গড়পরতায় ৬-৮ বার খাওয়া হতো আর প্রতিবারই হালকা নাস্তার নামে বেশ ভারী খাবার!

রাতে গেলাম স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখতে। বড় বড় ফার্মের মুরগী যে গরু/ছাগলের মত কেটে আলাদা বিক্রি হয় সেবারই প্রথম জানতে পারি। পরে অবশ্য মিরপুর-১ কাঁচা বাজারেও এই জিনিস দেখি।

দ্বিতীয় দিন আমরা যাই বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। লেগুনা রিজার্ভ করে এশিয়ান হাইওয়ের ঝাঁ চকচকে রাস্তায় দুপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে প্রথমে থামি সমতল চা বাগানে। সিলেটের চা বাগান আগে দেখা হয়েছে। এবার দেখলাম পঞ্চগড়ের সমতলের চা বাগান।

সমচল চা বাগান

চা বাগানে এসে মজার এক জিনিস দেখলাম। বাংলাদেশ-ভারত সীমানা। এবং ভারতীয়রা চা বাগানে কাজ করছে। চা বাগানের ভিতরে সীমানা পিলারা দেখা সেখানে সেলফি তুলে রওনা হলাম বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে।

কত কাছে তবু
নাহি যায় ছোঁয়া
দূর দর্শনে, নাহি মেটে
প্রাণের তৃষা

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত এক সুখানুভূতি হয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিন ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশের সর্ব উত্তর বাংলাবান্ধাকেও দেখা হলো।

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট

জিরো পয়েন্টে বেশকিছু ছবি তুলে চলে গেলাম তেঁতুলিয়া ডাক বাংলোতে। সেখানে দেখা মিললো মহানন্দা নদীর। দুঃখজনক হলেও সে নদীতে পানির চেয়ে বালু ছিলো বেশি। আমরা নদীর বুক জুড়ে বেশকিছু সময় হেঁটে বেড়ালাম। ফিরতিপথে রাকিনের এক আত্মীয়ের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেলাম বিকালে।

তারপরের সময়টুকু রাকিনের বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়ি আর আশেপাশে ঘুরে বেড়িয়েই কাটলো। আমরা ঢাকার পথ ধরলাম ১৩ তারিখ রাতে হানিফ বাসে করে…

১৮ মার্চে কুমিল্লায় কেনো গিয়েছিলাম জানতে চোখ রাখুন ওয়েবসাইটের পর্দায়…

ভ্রমণ নিয়ে লাইভ আড্ডা

96.4 Spice FM রেডিওতে Bindu365 Presents TRAVELOG অনুষ্ঠানে গেস্ট হিসেবে গিয়েছিলাম ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে। ভ্রমণ নিয়ে গল্প হয়, আড্ডা হয়। ১ ঘন্টার পুরো প্রোগ্রামটি ফেসবুকে লাইভ করা হয়েছিলো। ভাবলাম ওয়েবসাইটে তুলে রাখি। কেউ চাইলে দেখতে পারেন।

ভ্রমণ নিয়ে হবে আড্ডা, আজ থেকে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টা

শেয়ার করুন আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, কারণ ভ্রমণ নিয়ে হবে আড্ডা, আজ থেকে প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টা থেকে- Bindu365 Presents TRAVELOG

Posted by 96.4 SPICE FM on Friday, October 11, 2019

রক্ত দিন, জীবন বাঁচান

২০১২ সালে বন্ধুর সাথে রক্তদান করতে গিয়ে প্রথম রক্তদানের সূচনা হয়। সেবার হঠাৎ করে রক্ত দিলেও ধারাবাহিকভাবে রক্তদান করা শুরু করি ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সুস্থ থাকলে প্রতি চার মাস পর পর সেচ্ছায় রক্তদান করে আসছি।

রক্তদানের শুরু থেকে আমি তথ্য সংরক্ষন করি। কবে দিচ্ছে, কাকে দিচ্ছি, কোথায় দিচ্ছি। টুকিটাকি সব তথ্যই আমার কাছে আছে। ভাবলাম সেই তথ্যগুলো নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখে ফেলি। যদি আমার এই আর্টিকেল পড়ে একজন মানুষও রক্তদানে উতসাহিত হয় তাহলেই আমি সাথর্ক।

ধীরে ধীরে এইখানে আরো অনেক তথ্য যোগ করার ইচ্ছা আছে। হয়তোবা একটা সিরিজ লেখাও শুরু করতে পারি…

রক্তদানের সব তথ্য ভান্ডার

১ম রক্তদান

তারিখঃ ০৬ আগস্ট, ২০১২ (06.08.2012)
সময়ঃ রাত ৯.৫৫
স্থানঃ হার্ট ফাউন্ডেশন, মিরপুর-২
রোগীঃ ইস্ট ওয়েস্ট ভার্সিটির হিল্লোল ভাইয়ের আন্টি
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ হার্টের সমস্যা
কিভাবে যাওয়া হলোঃ কলেজ বন্ধু রাকিনের সাথে।

সারসংক্ষেপঃ রাকিন আর আমার বাসা মিরপুর হওয়ায় একসাথেই ভার্সিটি থেকে আসছিলাম। হঠাৎ হিল্লোল ভাইয়ের ফোন যে রক্ত লাগবে। রাকিন বললো চল যাই। মিরপুর -২ নাম্বার হার্ট ফাউন্ডেশনে গেলাম। আমার রক্তদানের ইচ্ছা ছিলো না। সেসময় রক্ত দিতে ভয় পেতাম। আরো কয়েক ব্যাগ রক্ত লাগবে বিধায় যখন জানলো আমার রক্তের গ্রুপ এ+ তখন আমাকেও রক্ত দিতে বললো। সবাই সাহস দেওয়ায় জীবনের প্রথম রক্ত দান করা হলো।

২য় রক্তদান

তারিখঃ ১৪ জুন, ২০১৪ (14.06.2014)
সময়ঃ রাত ১০.৩০
স্থানঃ ল্যাব এইড, ধানমন্ডি
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ হার্টের সমস্যা
কিভাবে যাওয়া হলোঃ donatebloodbd.com ওয়েবসাইট থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন দিয়েছিলো

সারসংক্ষেপঃ ২০১৪ সালে প্রথম নিয়মিত রক্তদান করার জন্য উৎসাহিত হয় সুব্রত দেব ভাইয়ের পোস্ট দেখে। স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে অনুপ্রাণিত করার জন্য উনি বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। উনার তৈরি করা ওয়েবসাইট নিজের সব তথ্য দিয়ে রাখি যেন প্রয়োজনের সময় মানুষ ফোন দিতে পারে। সেখান থেকে ফোন পেয়েই রক্তদান করতে যাওয়া।

৩য় রক্তদান

তারিখঃ ০৩ অক্টোবর, ২০১৪ (03.10.2014)
সময়ঃ সন্ধ্যা ৭.৩০
স্থানঃ রেড ক্রিসেন্ট, মোহাম্মদপুর
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ ক্যান্সার
কিভাবে যাওয়া হলোঃ donatebloodbd.com ওয়েবসাইট থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন দিয়েছিলো

৪র্থ রক্তদান

তারিখঃ ০৭ মার্চ, ২০১৫ (07.03.2015)
স্থানঃ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কলেজ গেট
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ রক্তশূন্যতা
কিভাবে যাওয়া হলোঃ donatebloodbd.com ওয়েবসাইট থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন দিয়েছিলো

৫ম রক্তদান

তারিখঃ ২৫ জুলাই, ২০১৫ (25.07.2015)
সময়ঃ রাত ২.৩০
স্থানঃ আদ-দ্বীন হাসপাতাল, মগবাজার
রোগীঃ আশরাফ ভাইয়ের কাজিন
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ গর্ভবতী
কিভাবে যাওয়া হলোঃ আশরাফ ভাই নিয়ে গিয়েছিলো

৬ষ্ঠ রক্তদান

তারিখঃ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ (26.12.2015)
সময়ঃ দুপুর ২.১৫
স্থানঃ গ্রীন লাইফ মেডিকেল নার্সিং ইন্সটিটিউট, থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল – গ্রীন রোড
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ থ্যালাসেমিয়া রোগী
কিভাবে যাওয়া হলোঃ রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে দেখে।

৭ম রক্তদান

তারিখঃ ০৭ মে, ২০১৬ (07.05.2016)
সময়ঃ রাত ৮.১৫
স্থানঃ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল-২ (নতুন ভবন)
রোগীঃ অচেনা (মধ্য বয়স্ক লোক)
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ কিডনী সমস্যা
কিভাবে যাওয়া হলোঃ ফেসবুক বা ওয়েবসাইট থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন কল পেয়ে।

৮ম রক্তদান

তারিখঃ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ (15.09.2016)
সময়ঃ বিকাল ৪.২০
স্থানঃ কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ গর্ভবতী
কিভাবে যাওয়া হলোঃ রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ গ্রুপের ঈদ স্পেশাল পোস্ট থেকে।

৯ম রক্তদান

তারিখঃ ০৬ জানুয়ারি, ২০১৭ (06.01.2017)
সময়ঃ বিকাল ৪.৫৫
স্থানঃ ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ, কল্যানপুর
রোগীঃ টিংকু ভাইয়ের পরিচিত
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ রক্তশূন্যতা
কিভাবে যাওয়া হলোঃ টিংকু ভাইয়ের মাধ্যমে

১০ম রক্তদান

তারিখঃ ০২ জুলাই, ২০১৭ (02.07.2017)
সময়ঃ আনুমানিক রাত ১০.১০
স্থানঃ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল-২ (নতুন ভবন)
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ পা ফুলে গেছিলো। পায়ের অপারেশন হবে।
কিভাবে যাওয়া হলোঃ অপরিচিত মাধ্যম থেকে ফোন পেয়ে

১১তম রক্তদান

তারিখঃ ২১ অক্টোবর, ২০১৭ (21.10.2017)
সময়ঃ আনুমানিক দুপুর ১২.০০
স্থানঃ ট্রমা সেন্টার, মিরপুর রোড(শ্যামলী)
রোগীঃ নানু
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ সিড়ি থেকে পড়ে হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় অপারেশনের জন্য।

১২তম রক্তদান

তারিখঃ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ (14.02.2018)
সময়ঃ আনুমানিক সকাল ০৯.০০
স্থানঃ প্যান প্যাসিফিক হাসপাতাল, শাজাহানপুর
রোগীঃ মুজাহিদ জুয়েল ভাইয়ের আম্মু
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ ক্যান্সার
কিভাবে যাওয়া হলোঃ ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে দেখে

১৩তম রক্তদান

তারিখঃ ১৭ জুন, ২০১৮ (17.06.2018)
সময়ঃ আনুমানিক দুপুর ০২.০০ (রোযার ঈদের দ্বিতীয় দিন)
স্থানঃ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, শান্তিনগর
রোগীঃ অচেনা
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ ব্লাড ক্যান্সার
কিভাবে যাওয়া হলোঃ রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ ফেসবুক গ্রুপ

১৪তম রক্তদান

তারিখঃ ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ (15.10.2018)
সময়ঃ আনুমানিক সন্ধ্যা ০৬.৩০
স্থানঃ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, শান্তিনগর
রোগীঃ যার প্রয়োজন হবে দিবে
কিভাবে যাওয়া হলোঃ কোয়ান্টাম থেকে ফোন দিয়েছিলো

১৫তম রক্তদান

তারিখঃ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ (21.02.2019)
সময়ঃ আনুমানিক দুপুর ০২.০০
স্থানঃ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, শান্তিনগর
রোগীঃ যার প্রয়োজন হবে দিবে
কিভাবে যাওয়া হলোঃ নিজে থেকেই কোয়ান্টামে গিয়েছিলাম

১৬তম রক্তদান

তারিখঃ ২৮ জুন, ২০১৯ (28.06.2019)
সময়ঃ রাত ৩.৩০টা
স্থানঃ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল-২ (নতুন ভবন)
রোগীঃ কলেজ বন্ধু রিমনের পরিচিত
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ রক্তচাপ কমে গিয়ে ইন্টারনাল ব্লিডিং শুরু হয় এবং প্রায় ৫/৬ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়
কিভাবে যাওয়া হলোঃ ফেসবুকে রক্তদান করতে ইচ্ছুক পোস্ট দেখে রিমন ফোন দেয়

১৭তম রক্তদান

তারিখঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ (14.11.2019)
সময়ঃ ~দুপুর ৩.৩০টা
স্থানঃ ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতাল, শ্যামলী
রোগীঃ অপরিচিত
রক্তের প্রয়োজনের কারনঃ ডায়ালাইসিস
কিভাবে যাওয়া হলোঃ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে নক পেয়ে

১৮তম রক্তদান

তারিখঃ ৪ মার্চ, ২০২০ (04.03.2020)
সময়ঃ ~দুপুর ১২.২৮
স্থানঃ ট্রমা সেন্টার, শ্যামলী
রোগীঃ আম্মু (BIHS হাসপাতালের খাট থেকে পড়ে ডান হাত ভেঙ্গে ফেলছে)

১৯তম রক্তদান

তারিখঃ ১২ অক্টোবর, ২০২০ (12.10.2020)
সময়ঃ ~সকাল ১১.০০
স্থানঃ পঙ্গু হাসপাতাল, শ্যামলী
রোগীঃ সিএনজি এক্সিডেন্ট করে পা ভেঙ্গে ফেলছে
কিভাবে যাওয়া হলোঃ রক্তদানের অপেক্ষায় গ্রুপ থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে নক পেয়ে

২০তম রক্তদান

তারিখঃ ২ মার্চ, ২০২১ (02.03.2021)
সময়ঃ ~সকাল ১১.০০
স্থানঃ জাতীয় ক্যান্সার রিসার্চ ইন্সটিটিউট, মহাখালী
রোগীঃ ক্যান্সার রোগী
কিভাবে যাওয়া হলোঃ রক্তদানের কোন গ্রুপ/ওয়েবসাইট থেকে খুঁজে পেয়ে নক করে

১ম প্লাটিলেট দান

তারিখঃ ৫ জুলাই, ২০২১ (05.07.2021)
সময়ঃ ~বিকাল ৫.০০
স্থানঃ নিউ লাইফ হাসপাতাল/থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল, গ্রীন রোড
রোগীঃ ক্যান্সার রোগী (শিশু)
কিভাবে যাওয়া হলোঃ আমার স্ট্যাটাস থেকে দেখে

২য় প্লাটিলেট দান

তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০২১ (16.08.2021)
সময়ঃ ~বিকাল ৫.০০
স্থানঃ নিউ লাইফ হাসপাতাল/থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল, গ্রীন রোড
রোগীঃ ক্যান্সার রোগী
কিভাবে যাওয়া হলোঃ আগের বার প্লাটিলেট দিতে গিয়ে পেশেন্টের আত্মীয় নাম্বার নিয়েছিলো

শেরপুর-জামালপুর এক্সপ্রেস

শেরপুর-জামালপুর ভ্রমণের প্রথম প্ল্যান করি ২০১৬ সালে। ঢাকার খুব কাছে এবং কম খরচেই ঘুরে আসা যাবে ভেবে যাবো যাবো করেও এতদিন যাওয়া হচ্ছিলো না। অবশেষে ২৬ এপ্রিল, ২০১৯ তারিখ সব দ্বিধা-দ্বন্দ দূরে ঠেলে ঘুরে আসলাম যমুনা নদীর পাড়ের জামালপুর ও আকাঁবাকাঁ টিলার জেলা শেরপুর থেকে।

ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই যদি কোন ভ্রমণসঙ্গী পাওয়া যায়! আমার ইচ্ছা ছিলো একসাথে দুই জেলা ঘুরে দেখার। একা হলে খরচ বেড়ে যাবে, সেজন্য ভ্রমণ সঙ্গী খোঁজা। বেশ কয়েকজন আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত স্কুল বন্ধু সজীব আর ভার্সিটির ছোট ভাই মুশফিকুলকে নিয়ে রওনা হই।

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ তারিখ সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। শেরপুর-জামালপুর-ময়মনসিংহ যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তারা খুব ভালোভাবেই জানেন ওই রুটে ট্রেনের টিকেট পাওয়া সোনার হরিনের মত। সেখানে টিকেট না কেটেই রেলস্টেশন পৌঁছাই ট্রেন ছাড়ার ১০ মিনিট আগে। সাথের দুইজনকে আশ্বাস দেই একটা ব্যবস্থা হবে তোরা ট্রেনের কাছে গিয়ে দাঁড়া। ব্যবস্থা হয়েছিলো!

যাত্রা শুরু

সকাল ৭.৪৩ মিনিটে তিস্তা এক্সপ্রেস ছেড়ে দিলো। দুপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে চলতে থাকলাম। বৃষ্টি না হওয়ার প্রখর রোদে চারপাশ ছিলো ধুলোময়। বাংলার সব ধূলো যেন জানালা দিয়ে শরীরে মাখামাখি করছিলো। দুপুর ১.০৭ মিনিটে যখন দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন পৌঁছালাম তখন সেলফি তুলতে গিয়ে দেখি চুল-দাঁড়ি সব সাদা হয়ে গেছে।

এই ট্যুরে আমরা দুই দিনে দুটো জেলা ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছি। প্রথমদিন জামালপুর এবং দ্বিতীয় দিন শেরপুর।

জামালপুর জেলা ভ্রমণ

জিল বাংলা সুগার মিল

Jamalpur Sugar Mills
জিল বাংলা সুগার মিলস

দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে অটোতে করে প্রথমেই চলে যাই সুগার মিলে। অফ সিজন হওয়ায় সুগার মিল বন্ধ ছিলো। গার্ডের দায়িত্বরত আব্বাস ভাইয়ের সাথে বেশ খাতির হয়ে যায় অল্প সময়েই। চিনিকল যখন খোলা থাকে তখন যাওয়ার দাওয়াত দিলেন। ফোন নাম্বার নিয়ে চলে আসলাম।

যমুনা নদীর পাড়ে বসে দুপুরের খাবার

Jamuna River Jamalpur
বাহাদুরাবাদ ঘাট (যমুনা নদী)

চিনিকলের চারপাশ ঘুরে চলে গেলাম যমুনা নদীর পাড়ে। দূর থেকে দেখতে শান্ত মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায় বিপদজনক সব ঘূর্ণি নদীর পাড় জুড়ে! নদীর এই অংশের নাম বাহাদুরাবাদ। ওপাড়ে গাইবান্ধা জেলা।

নদীরপাড় ধরে অনেকদূর পর্যন্ত ঘুরাঘুরি করে পেট ক্ষুধার কথা জানান দিতে ঘাটের কাছে এক ছাপড়া দোকানে খেতে বসলাম। ব্র্যাকেট মাছ(সিলভার কার্প), লালশাক, ভাত দিয়ে দুপুরের খাবার হলো। যতটা মজা হবে ভেবেছিলাম স্বাদ তেমন ভালো ছিলো না। অবশ্য এব্যাপারে সুগার মিলের আব্বাস ভাই আগেই সর্তক করেছিলেন। তবু নতুন খাবারের স্বাদ নেওয়া।

নদীর এখানে দুপুরে না এসে বিকেলের দিকে আসলে সবচেয়ে ভালো হত। আবার হয়তো কোন একদিন আশা হবে এইভেবে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হলাম।

ইসলামপুর বাজারে তৃপ্তি পান

Tripti Paan Store
পান বানানো দেখে সজীবের মুখ হা হয়ে গেছে

দেওয়ানগঞ্জ থেকে সরাসরি জামালপুর শহরে না গিয়ে প্রথমে গেলাম ইসলামপুর বাজারে। তুষার ভাই বলে দিয়েছিলো যেন এখানকার পান খেয়ে যাই। আমার পান খাওয়ার অভ্যাস নেই, অনেকে শখ করে মিষ্টি পান খায়, আমি সেটাও খাই না। শুধু দেখার জন্যই আসা। মুশফিকুল বললো পান খাবে। ২০ টাকার পানে যে পরিমান মশলা দিলো এবং বানানোর স্টাইল দেখে পছন্দ হয়ে গেলো। আমিও একটা নিলাম। ঢাকায় এই সাইজের একটা পানের দাম হবে কমপক্ষে ৬০-৮০ টাকা। স্বাদ আসলেই ভালো।

শাহ জামালের মাজার

Shah Jamal Mazar
শাহ জামাল মাজার

ইসলামপুর বাজার থেকে লোকাল সিএনজিতে করে চলে আসলাম জামালপুর শহরের কাছেই শাহ জামালের মাজারে। বড়ই অদ্ভুত এক জায়গা। আমরা যখন পৌঁছাই তখন মুসলমানের চেয়ে হিন্দু নারীর সংখ্যাই ছিলো বেশি। তারা পরম ভক্তিতে মাজারে সেজদা দিচ্ছে।

মাজারের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে গিয়ে এক বাঁধের সন্ধান পাই। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিলো ওইপাড়ে নদী আছে। নদী দেখার লোভে প্রধান রাস্তা থেকে মিনিট দশেকের বেশি সময় ধরে হেঁটে এসে দেখি কোন নদী নাই। যারপরনাই হতাশ হই।

দয়াময়ী মন্দির

Doyamoyi Mandir
দয়াময়ী মন্দির

মাজার ঘুরে জামালপুর শহর পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সন্ধ্যার আধোঁ আলোয় দেখা মিলে দয়াময়ী মন্দিরের। আহসান মঞ্জিলে নতুন যে রঙ করা হয়েছে এখানেও সেই একই রঙ করা। এটাই কি আদি রঙ নাকি নতুনভাবে করা হয়েছে বোঝা গেলো না।

বাহির থেকে মন্দির দেখে এরপর গেলাম পাশেই এক পুরির দোকানে। পুরি, টিকা, পেঁয়াজু দিয়ে ভরপেট নাস্তা করলাম। কেউ জামালপুর গেলে অবশ্যই এই দোকানে যাওয়ার পরামর্শ থাকবে। মন্দিরের অপজিটে ছোট্ট একটা দোকান। দেখলেই চিনতে পারবেন।

সারাদিন জামালপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে এবার রওনা হলাম শেরপুর শহরের দিকে। আগামীকাল সারাদিন শেরপুরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবো।

শেরপুরে রাত কাটানো

রাতে শেরপুর পৌঁছে প্রথমেই হোটেল ঠিক করলাম। প্রথমে গেলাম হোটেল সম্পদে। বেশ পুরনো একটা হোটেল। দামে সস্তা হলেও আমাদের পছন্দ হলো না। আয়শার ইন নতুন হোটেল বিধায় রুম, টয়লেট সবই নতুন। এটা বেশ পছন্দ হলো। কিন্তু এখানে ভাড়া তুলনামূলক বেশি। এছাড়া দুইজনের রুমে আমরা ৩ জন থাকবো জানালাম। সব মিলিয়ে অনেকক্ষন দামাদামি করার পর তারা রাজি হলো। এই দামাদামি আমার বেশ পছন্দ হলেও ছোট ভাই অবাক হইছে আর আমার বন্ধু বিরক্ত হইছে।

Hotel Shahjahan Sherpur
হোটেল শাহজাহান

রাতে থাকার ব্যবস্থা করে বের হলাম পেটের ব্যবস্থা করতে। তুষার ভাই বলে দিয়েছিলো হোটেল শাহজাহানের খাসির মাংস অনেক ভালো। উনার কথা আসলেই সত্যি। খাবার আসলেই অনেক ভালো। ডালটাও অনেক ভালো ছিলো।

পেট শান্তি করে গেলাম মিষ্টি মুখ করতে। নিউমার্কেটের অনুরাধা হোটেলে ছানার পায়েশ খাওয়ার কথা বলে দিয়েছিলো। গরম গরম ছানার পায়েশ পরোটা দিয়ে নাকি অসাধারন স্বাদ। পেট ভরা থাকায় পরোটা না নিয়ে শুধু মিষ্টি নিলাম। অনেকটা রসমালাইয়ের মত তবে স্বাদ ভালো। মিষ্টি খেতে খেতে ক্যাশে বসে থাকা ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলো আমরা কি তুষার ভাইয়ের পরিচিত নাকি? সম্মতি জানাতেই নিজে উঠে গিয়ে মালাই চপ নিয়ে আসলো। বললো, এটা আমার পক্ষ থেকে। উনার আতিথিয়েতায় বেশ অবাক হলাম। খাওয়ার পাট চুকিয়ে রুমে চলে আসলাম। শহরটা ঘুরে দেখার ইচ্ছা থাকলে, গায়ে জোর ছিলো না।

শেরপুর ঘুরে দেখা

আমরা যখন ঘুরতে যাই তখন অনেকেই বলেছিলো এই গরমে ঘুরতে যাওয়াটা বোকামি। ঢাকায় তখন ৩৫-৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা। আমাদের ভ্রমণকে আরামদায়ক করতেই যেন বৃষ্টির আগমন। কারন আজ যেসব জায়গায় যাবো সবগুলোতেই অনেক হাঁটতে হবে আর গরম থাকলে অবস্থা খারাপ হয়ে যেত।

সারাদিনে গজনী অবকাশ কেন্দ্র, মধুটিলা ইকো পার্ক, নকুগাঁও স্থল বন্দর, নালিতাবাড়ী বাজার ঘুরে শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সিএনজি রিজার্ভ করলাম। ১৫০০-২০০০ টাকার নিচে কেউ যাবেই না। তুষার ভাই বলে দিয়েছিলো ১০০০ টাকার মধ্যে ঠিক করতে। অনেক কথা বলার পর ১২০০ টাকায় একজন রাজি হলো। শুরু হলো শেরপুর ভ্রমণ।

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

প্রথমেই গেলাম গজনী অবকাশ কেন্দ্র। যাওয়ার রাস্তা খুবই সুন্দর। আকাবাঁকা রাস্তার দুইপাশে টিলা। সকালে বৃষ্টি হওয়ার সতেজ একটা পরিবেশ চারিদিকে। গজনী বেশ বড় এরিয়া নিয়ে বিস্তৃত। পুরোটা ঘুরে দেখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমরা স্বল্প সময়ে যতটুকু পেরেছি ঘুরে দেখেছি।

Watch Tower, Gajni Obokash Kendra, Sherpur
ওয়াচ টাওয়ার, গজনী অবকাশ কেন্দ্র

প্রথমেই গেলাম ওয়াচ টাওয়ার। এখান থেকে অদূরেই ভারত সীমান্ত। টাওয়ারটা আরো উঁচু হলে ভালোভাবে দেখা যেত। অবকাশ কেন্দ্রে একটা ঝর্ণা ও পার্কও রয়েছে। তেমন আহামরি কিছু না। মানুষের তৈরি জিনিস থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই আমাকে বেশি টানে। যা বুঝলাম শীতকালে ঘুরেই বেশি মজা পাওয়া যাবে।

মধুটিলা ইকো পার্ক

Modhutila Eco Park, Sherpur
মধুটিলা ইকো পার্ক

গজনী অবকাশ কেন্দ্রের মতই আরেকটি ইকো পার্ক। এটাও বেশ বড়। লোকমুখে শুনলাম রাতে এখানে হাতি আসে।

এখানে শুধু ওয়াচ টাওয়ারেই উঠলাম, আশেপাশে আর কোথাও গেলাম না। ওয়াচ টাওয়ারে একজন দূরবীন নিয়ে বসে থাকেন। কমদামী দূরবীনে কিছুই দেখা যায় না। আমি দূরবীন দেখেই সেটা বুঝে দেখার আগ্রহ করলাম না। কিন্তু আমার সাথের দুইজন খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতে গিয়ে হতাশ হলো। আমি কেনো নেই নাই, বুঝতে পারলো 😜

ওয়াচ টাওয়ার থেকে নেমে দেখলাম দুইটা দোকান আছে। ফুচকা, শসা, পেয়ারা, আচার এগুলো বিক্রি করতেছে। বাকিটা সময় সেখানে বসে কাটিয়ে দিলাম। ফুচকা, আচার খেয়ে বের হলার নকুগাঁও স্থল বন্দর দেখার উদ্দ্যশ্যে।

নাকুগাঁও স্থল বন্দর

Nakugao Border, Sherpurশেরপুরে যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দিয়ে মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে তা জানতে পারি তুষার ভাইয়ের কাছ থেকে। বর্ডারের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা থাকায় চলে গেলাম। ছোট একটা সীমান্ত। তেমন কোন কড়াকড়ি নেই। মানুষই নেই। শুধু ভারতের কিছু ট্রাক দুইপাশে দাঁড়িয়ে আছে।

আমরা বিজিবি চেক পোস্টে অনুমতি নিয়ে সীমানা পিলারের কাছে চলে গেলাম। তুষার ভাই বার বার করে বলে দিয়েছিলো। কেউ না থাকলেও অবশ্যই যেন বিজিবির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এরপর বর্ডারের কাছে যাই। কিছু সময় ঘুরাঘুরি করে চলে আসি।

তুষার ভাই বেশ আক্ষেপ করে বলতেছিলো, ঢাকা থেকে এতকাছে একটা বর্ডার কিন্তু তেমন জনপ্রিয় না।

পানিহাটা বাজার

স্থল বন্দর ঘুরে পানিহাটা চলে আসলাম। এখানে ঠিক কি দেখতে এসেছি তা জানা ছিলো না। তবে আসার রাস্তাটা অনেক সুন্দর। অবশ্য বাজারের কাছের অংশটুকু ছাড়া, এজায়গাটা কাঁচা রাস্তা।

ছোট্ট একটা বাজার। সাথেই একটা নদী রয়েছে। জঙ্গলের মত দেখে আমি সেদিকে হাঁটা দিলাম। আমার সাথে দুই সঙ্গী; সজীব আর মুশফিকুলও হাঁটা দিলো।

সজীব কিছু সময় পর বিরক্ত হয়ে ফিরে গেলেও মুশফিকুল ছিলো। হাঁটতে হাঁটতে বেশ দারুন একটা জায়গা আবিষ্কার করলাম। বন্ধুদের সাথে বিকেলে আড্ডা দেওয়ার জন্য পারফেক্ট একটা জায়গা।

হোটেল সেহের

Hotel Sheher Mollik, Sherpur
হোটেল সেহের মল্লিক

তুষার ভাই বলে দিয়েছিলো, স্থল বন্দর থেকে নালিতাবাড়ী মধ্য বাজার তেমন দূরে না আর সেখানকার হোটেল সেহেরের মোগলাইয়ের স্বাদ নাকি অসাধারন। আমিও শুধু মোগলাই খাবার জন্য ৩০-৪০ কিলো রাস্তা বেশি গিয়ে হোটেল সেহের খুঁজে পাই। এইখানে আসা নিয়ে আমার সফরসঙ্গীদের সাথে কিছুটা মন কষাকষিও হয়ে যায়। তবে খাবার খেয়ে মনে হয় এত কষ্ট করে আসাটা বৃথা হয় নাই।

বাড়ি ফেরা

আমরা নালিতাবাড়ীর যেখানে আছি সেখান থেকে ঢাকা যাওয়ার কয়েকটা উপায় আছে।

১।রিজার্ভ করে নিয়ে আসা সিএনজিতে করে শেরপুর শহরে গিয়ে রাতের বাসে উঠা। এতে করে বাকি সময় এদিক ওদিক ঘুরতে হবে আর শেরপুর থেকে তেমন ভালো বাস নেই। এসি বাস যেটা আছে সেটাও রাত ১২ টায়!

২।নালিতাবাড়ী থেকে ঢাকার বাসে করে ঢাকা যাওয়া। কিন্তু এই বাসগুলো লোকাল। সারারাস্তা যাত্রী তুলবে।

৩।নালিতাবাড়ী থেকে ময়মনসিংহ যাওয়া। সেখান থেকে ট্রেনে বা বাসে করে ঢাকা।

আমাদের কাছে তিন নাম্বার অপশনটাই বেশি পছন্দ হলো। নালিতাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে উঠে পড়লাম। আমাদের ভাগ্য ভালো ছিলো। দুপুরের প্রথম ট্রিপটা আমরা পেয়ে গিয়েছিলাম। তার আগে কোন বাস ছিলো না। এটা না পেলে আমাদের শেরপুরেই যেতে হত।

ময়মনসিংহ পৌঁছে রেলস্টেশন চলে গেলাম। ঠিক করলাম দাঁড়িয়ে হলেও ট্রেনেই যাবো। গাজীপুরের জ্যাম পার হওয়ার ইচ্ছা আমাদের কারোরই ছিলো না। এবং এই সিদ্ধান্তটা বেস্ট সিদ্ধান্ত ছিলো। কোন রকম জ্যাম ছাড়া। ট্রেনের এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে ১০.৩০ টার মধ্যেই ঢাকা চলে আসলাম। আর সমাপ্তি ঘটলো আরো একটি ভ্রমণের।

এবারের ভ্রমণে যা যা দেখেছি,

জামালপুর
১/দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন
২/সুগার মিল
৩/বাহাদুরাবাদ ঘাট, যমুনা নদী (নদীর ওইপাড়েই গাইবান্ধা রেল ফেরি ঘাট)
৪/ইসলামপুর বাজার
৫/শাহ জামালের মাজার
৬/দয়াময়ী মন্দির

শেরপুর
১/গজনী অবকাশ কেন্দ্র
২/মধুটিলা ইকো পার্ক
৩/নাকুগাঁও স্থলবন্দর
৪/পানিহাটা বাজার
৫/পানিহাটা পাহাড়
৬/নালিতাবাড়ী মধ্য বাজার

যাতায়াত

  • কমলাপুর থেকে তিস্তা ট্রেনে দেওয়ানগঞ্জ ৩৪৭ টাকা (ব্ল্যাকে কিনছি, এমনিতে ১৯০ টাকা করে জামালপুর)
  • দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে অটোতে সুগার মিলস ৫ টাকা
  • সুগার মিল থেকে অটোতে বাহাদুরাবাদ ঘাট যমুনা নদীর পাড় ১০ টাকা
  • বাহাদুরাবাদ থেকে অটোতে ইসলামপুর বাজার ২৫ টাকা
  • ইসলামপুর বাজার থেকে হেঁটে মধুর হোটেল
  • মধুর হোটেল থেকে হেঁটে তৃপ্তি পানের দোকান
  • তৃপ্তি পানের দোকান থেকে হেঁটে জামালপুর যাওয়ার সিএনজি স্টেশন
  • সিএনজি স্টেশন থেকে সিএনজিতে শাহ জামাল মাজার ৬০ টাকা
  • শাহ জামাল মাজার থেকে অটোতে দয়াময়ী মন্দির ৫ টাকা
  • দয়াময়ী মন্দির থেকে অটোতে ব্রিজ পাড় ৫ টাকা
  • ব্রিজ থেকে সিএনজিতে শেরপুর শহর, থানার মোড় ৩৫ টাকা
  • থানার মোড় থেকে অটোতে খোয়ারপাড় মোড় ৫ টাকা
  • খোয়ারপাড় মোড় থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে গজনী অবকাশ কেন্দ্র
  • গজনী থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে মধুটিলা ইকো পার্ক
  • মধুটিলা থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে নাকুগাঁও স্থলবন্দর
  • নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে পানিহাটা বাজার
  • পানিহাটা থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে নালিতাবাড়ী মধ্যবাজার
  • নালিতাবাড়ী মধ্যবাজার থেকে হেঁটে হোটেল শেহের
  • হোটেল শেহের থেকে রিজার্ভ সিএনজিতে নালিতাবাড়ী ঢাকা বাস স্টেশন
  • রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া ১৩০০ টাকা
  • নালিতাবাড়ী থেকে বাসে ময়মনসিংহ ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড ১০০ টাকা
  • ব্রিজ থেকে রিকশায় রেলস্টেশন ৩৫ টাকা
  • ময়মনসিংহ থেকে অগ্নিবীণা ট্রেনে বিমান বন্দর রেলস্টেশন ১০০ টাকা (এমনিতে ১২৫ টাকা টিকেট, স্ট্যান্ডিং যাওয়ার টিটিকে ১০০ টাকা দিয়ে দেই)

বাজেট (৩ জন)

  • যাতায়াতঃ ১১৪৭ টাকা
  • খাবারঃ ৫৪৬ টাকা
  • হোটেল ভাড়াঃ ৩৪৭ টাকা
  • সিএনজি নিয়ে গজনী প্রবেশঃ ৫০ টাকা
  • ওয়াচ টাওয়ার টিকেটঃ ১০ টাকা
  • মধুটিলা প্রবেশ টিকেটঃ ২০ টাকা
  • ওয়াচ টাওয়ার টিকেটঃ ১০ টাকা
  • টোটাল ট্যুর খরচঃ ৬৬৪৫ টাকা

শেরপুর ভ্রমণে কিছু পরামর্শ

১/শেরপুর ঘুরে দেখার জন্য সিএনজি রিজার্ভ করে নেওয়াই ভালো। কারন লোকাল সিএনজি তেমন পাওয়া যায় না। এতে করে অনেক সময় নষ্ট হবে।
২/যেখানে যাবেন বা খাবেন আগে দাম জেনে নিবেন।
৩/বর্ডারে গেলে বিজিবির অনুমতি ছাড়া সীমানা পিলারের কাছে যাবেন না।
৪/রাতে হোটেলে থাকতে জাতীয় পরিচয়পত্র চাইতে পারে তাই এককপি পরিচয় পত্র সাথে রাখবেন।

পরিশেষে, অসংখ্য ধন্যবাদ Asif Shahneoaz Tushar ভাইকে। যার কারনে ট্যুরে যাওয়ার আগেই পুরো রুট সম্পর্কে পুরো ধারনা পেয়ে গিয়েছিলাম। এছাড়াও বিভিন্ন সময় যেকোন প্রয়োজনে ফোন দিয়ে উনার সাহায্য নিয়েছি।

error: Content is protected !!