৩টি টুলস যা আমি নিয়মিত ব্যবহার করি

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে গেলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন টুলসের সাহায্য নিতে হয়। ছোট ছোট টুলস আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে দেয়, তেমনি ৩টি টুলস নিয়ে কথা আজ লিখবো যেগুলো আমি নিয়মিত ব্যবহার করি।

Lightshot

দৈনন্দিন কাজ করার সময় আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন স্ক্রিনশট নেওয়ার প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্ক্রিনশট অন্য কারো সাথে শেয়ার করারও প্রয়োজন হয়। স্ক্রিনশট নেওয়া এবং শেয়ার করার এই কাজটি অনেক সহজ করে দিয়েছি লাইটশট টুলসটি। ব্যক্তিগতভাবে টুলসটি আপনার খুবই প্রিয়।

টুলসটির উন্ডোজ এবং ম্যাক দুইটি ভার্সনই রয়েছে। ২.৬ মেগাবাইটের ছোট একটি পাওয়ারফুল টুলস।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই টুলস দিয়ে কি কি করা যায়,

  • কিবোর্ডের prtsc বাটন ক্লিক করলেই স্ক্রিনশট নেওয়ার অপশন চলে আসবে। আপনি আপনার সুবিধামত যেকোন এরিয়া সিলেক্ট করে স্ক্রিনশট নিতে পারবেন।
  • স্ক্রিনশট নেওয়া পর টুলসের মাধ্যমেই আপনি যেকোন অংশ হাইলাইট করতে পারবেন, টেক্সট লিখতে পারবেন, মার্ক করতে পারবেন। ছবি কোয়ালিটি প্রোফেশনাল না হলেও ছোটখাটো কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট।
  • স্ক্রিনশট নিয়ে সরাসরি prntscr.com এই সাইটে হোস্ট করতে পারবেন এবং লিংক শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যের সাথে ছবি শেয়ার করতে পারবেন।
  • স্ক্রিনশট নিয়ে সরাসরি সোশ্যাল শেয়ার করতে পারবেন। চারটি সাইট ওরা সাপোর্ট করে, Facebook, Twitter, VK, Pinterest.
  • স্ক্রিনশট নিয়ে সরাসরি প্রিন্ট করার কমান্ড করতে পারবেন। আলাদা করে পিসি/ল্যাপটপে সেভ করে প্রিন্ট করতে হবে না।
  • স্ক্রিনশট নিয়ে কপি করে অন্য কারো সাথে সরাসরি শেয়ার করতে পারবেন। পিসি/ল্যাপটপে ছবি সেভ করতে হবে না। এজন্য Crtl+C চেপে ছবি কপি করে যেখানে শেয়ার করতে চান সেখানে গিয়ে Crtl+V চাপলেই হবে। এই পদ্ধতি অনেক জায়গায় কাজ করে না। তবে আমি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কারো সাথে ছবি শেয়ার করার সময় সবসময় এটি ব্যবহার করি। এতে করে আমার ল্যাপটপে বাড়তি ছবি জমে না।
  • সবশেষে স্ক্রিনশট পিসি/ল্যাপটপে সেভ করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুক এড ম্যানেজার দিয়ে যেভাবে বুস্টিং করবেন (ভিডিওসহ)

Canva

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের সবারই টুকটাক গ্রাফিক্সের কাজ করার প্রয়োজন হয়। যাদের ফটোশপ আয়ত্ত্বে নেই তাদের জন্য ছোটখাটো এইসব কাজের জন্য চমৎকার একটি সাইট হচ্ছে ক্যানভা।

ক্যানভাতে অসংখ্য টেমপ্লেট রয়েছে শুধু লেখা বা ডিজাইন চেঞ্জ করে নিলেই হয়। ক্যানভাতে এডিটের কাজ ফটোশপের মত অত জটিল নয় এবং আউটপুট ভালো।

ছবি তৈরি করার পাশাপাশি আইডিয়া জেনারেট করার জন্যও ক্যানভা বেশ কার্যকরী। ক্যানভার অসংখ্য টেমপ্লেট দেখে আইডিয়া নিয়ে নিজের মত করে ফটোশপে ছবি বানানো যায়।

গুগল এবং ইউটিউবে ক্যানভার বেশ ভালো ভালো টিউটোরিয়াল রয়েছে, সেগুলো দেখে নিতে পারেন।

Pixie

১১ কিলোবাইটের ছোট্ট এই সফটওয়্যারটি গ্রাফিক্সের কাজ করার সময় প্রয়োজন হয়। যেকোন কালারের এইচটিএমএল কোড এই টুলসের সাহায্য বের করা যায়। উদাহরন দেই তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।

ধরুন, আপনি চাচ্ছেন ফেসবুকের লোগো কালার আপনার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে দিবেন। তখন পিক্সি ওপেন করে মাউসের কারসর ফেসবুকের লোগোর উপর রাখলেই এইচটিএমএল কোড পেয়ে যাবেন। কোড কপি খুব সহজেই ছবিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

Pixie তে ৫ ধরনের কালার কোড পাওয়া যায়। আপনার যা দরকার তা ব্যবহার করতে পারবেন।

  • HEX
  • HTML
  • RGB
  • CMYK
  • HSV

আরো পড়ুনঃ কিভাবে টুলসের মাধ্যমে টুইটার ফলোয়ার বাড়াবেন (ভিডিওসহ)

Facebook Text Overlay Tools ছাড়া বাকি তিনটি টুলস সরাসরি ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে সম্পৃক্ত না হলেও টুলসগুলোর ব্যবহার জানলে কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

ইচ্ছা আছে বিভিন্ন টুলস নিয়ে আরো আর্টিকেল লেখার। ধন্যবাদ।

যেকোন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন অথবা ফেসবুকে নক করতে পারেন।

Feature Image Source: komarketing.com

আপনার মতামত জানান
SHARE